ডার্ক সাইকোলজির খেলা: যেভাবে অ্যালগরিদম আমাদের আবেগ ও দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে

গণিতবিদ আল-খোয়ারিজমি কেন অ্যালগরিদম তৈরি করেছিলেন? জানুন NLP, ডার্ক সাইকোলজি ও অ্যালগরিদম কীভাবে টিন্ডারের মতো অ্যাপে আসক্তি তৈরি করে এবং আমাদের আবেগ নিয়ে খেলে।

নভেম্বর 23, 2025 - 22:45
নভেম্বর 23, 2025 - 22:57
 0  4
ডার্ক সাইকোলজির খেলা: যেভাবে অ্যালগরিদম আমাদের আবেগ ও দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে
ডার্ক সাইকোলজির খেলা: যেভাবে অ্যালগরিদম আমাদের আবেগ ও দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে

অ্যালগরিদম’ জিনিসটা এত ভয়ানক কেন? এই ‘অ্যালগরিদম’ তৈরির প্রধান বা অন্যতম উদ্দেশ্য কি ছিলো? এবং বর্তমানে এই ‘অ্যালগরিদম’ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে? মানে হলো, উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের মধ্যে বিশাল অমিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কেন? বিশেষ করে একটু সচেতন মানুষ ‘অ্যালগরিদম’ শব্দ শুনলেই ভয় পান। প্রশ্ন হলো, কি আছে এই ‘অ্যালগরিদম’-এ?

 

প্রথম ‘অ্যালগরিদম’ ধারণাটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করেন ৯ম শতকের পার্সিয়ান-মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি (৭৮০–৮৫০ খ্রি.)। তাঁর নাম থেকেই লাতিন ‘Algoritmi’ হয়ে আজকের ‘Algorithm’ শব্দটির জন্ম।

 

কিন্তু তিনি অ্যালগরিদম নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন যাতে মানুষের জীবন সহজ হয়। বিশেষ করে ঐ সময়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বাণিজ্যিক হিসাব, জমির খাজনা নির্ধারণ ও জ্যোতির্বিদ্যার গণনার কাজে। ‘জ্যোতির্বিদ্যা’ শব্দ শুনে আঁতকে ওঠার কোনো কারণ নাই। কারণ ঐ সময় মুসলিম গণিতবিদরা ভারতীয় হিন্দু গণিতবিদদের (প্রধানত হিন্দু ও বৌদ্ধ) দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছিলেন

 

প্রশ্ন হলো, ইসলামে জ্যোতির্বিদ্যার কাজ কি? জ্যোতির্বিদ্যার দিয়ে তো শুভ-অশুভ দিন, রাশিফল বা ভাগ্য নির্ধারণের মত কাজ করা হয়!

 

কাজ আছে। বর্তমানে একজন মুসলিম যিনি চাঁদ দেখে রোজা ধরছেন এবং ছাড়ছেন অথবা মসজিদে বা বাড়িতেই হোক, তিনি নামাজের জন্য কিবলা নির্ণয় করবেন কীভাবে? এসবের জন্য জ্যোতির্বিদ্যার প্রয়োজন পড়তো। ধর্মীয় এই সব বিষয়ের বাইরেও ফসল উৎপাদনে ঋতু জ্ঞান না থাকলে কিন্তু চলে না। কারণ আপনি বর্ষাকালের বৃষ্টি না পেলে আপনার ফসল মরে যাবে। ফলে এই যে গ্রহ-নক্ষত্রের গণনা বা জ্যোতির্বিদ্যা মুসলিমদের জন্যেও ছিলো অপরিহার্য

 

অবশ্য নবম শতকে ‘Algorithm’ শব্দটাই ছিল না, ধারণাটাও আজকের মতো সুসংজ্ঞায়িত ছিল না। আল-খোয়ারিজমি যা লিখেছেন, তা ছিল ‘কিতাব আল-মুখতাসার ফি হিসাব আল-জাবর ওয়া আল-মুকাবালা’ বা ‘হিন্দু-গণনার পদ্ধতি’। এই বইগুলোতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ধাপে ধাপে সমীকরণ মেলানো যায় বা দশমিক সংখ্যা দিয়ে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করা যায়। তিনি কখনো বলেননি যে, “এই নাও অ্যালগরিদম, এখন গুগলে বা ফেসবুকে এটা যুক্ত করে দাও”; বরং তিনি লিখেছিলেন, “এই হলো ‘আল-জাবর’-এর পদ্ধতি” বা “হিন্দুগণনার নিয়ম”

 

এই নিয়ে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানে সাংস্কৃতিক রাজনীতি পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। ভারতে ‘শূন্য-আবিষ্কার’ প্রচারকে জাতীয় গর্বের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়; অন্যদিকে পাকিস্তান/ইরানে ‘আল-খোয়ারিজমি দিবস’ পালন করা হয় ‘মুসলিম বিজ্ঞান-স্বর্ণযুগ’ দেখাতে

 

প্রশ্ন হলো, এই রাজনৈতিক চাপের মধ্যে বাংলাদেশ কোনদিকে যাবে? আমার মতে, সঠিক ও নিরপেক্ষ দিকে যাওয়া উচিত। কিন্তু সঠিক ও নিরপেক্ষ দিক কোনটি?

 

দশমিক স্থান-মান, শূন্য, ট্রিগোনোমেট্রিক সাইন-টেবিল, গ্রহ-সূত্র এগুলো নিঃসন্দেহে হিন্দু আবিষ্কার। অন্যদিকে প্রতীকী বীজগণিত, সাধারণ সমাধান-ছক, প্রমাণ-কাঠামো, ইউরোপে ছড়িয়ে দেওয়া, এবং পরে নিজস্ব উদ্ভাবন (যেমন: ক্যামেরা অবসকিউরা, অ্যালকেমি, অ্যালগরিদমিক পদ্ধতি) ইত্যাদি মুসলিমদের অবদান।

 

সবচেয়ে বড় কথা হলো, দু’পক্ষই একে অপরের ধারক ও বাহক; বিজ্ঞান কখনো ‘একক-সম্প্রদায়ের’ সম্পত্তি নয়, বরং ধারাবাহিক ‘অনুবাদ-সংস্কার-পুনঃঅনুবাদ’-এর শৃঙ্খল। বস্তুত আল-খোয়ারিজমির কাজে ভারতীয় কাঁচামাল আছে, কিন্তু নিজস্ব কাঁচামালও আছে; বিজ্ঞানের ইতিহাস হলো ধারাবাহিক ‘সংলাপ’, কারো একক জয়-পরাজয় নয়

 

কিন্তু আমার আজকের আলোচনা মোটেই অ্যালগরিদমের ইতিহাস কেন্দ্রীয় নয়। আমি বর্তমান অ্যালগরিদম + NLP + ডার্ক সাইকোলজি এই ত্রয়ী জোট কীভাবে আমাদের প্রতারিত ও প্রভাবিত করে সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। এবং এই আর্টিকেল মূলত আমার ডার্ক সাইকোলজি সিরিজের নতুন সংযোজন

 

প্রবন্ধের শুরুর দিকে আমি অ্যালগরিদমের প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছি। এখন প্রশ্ন হলো, একটি যান্ত্রিক সিস্টেম বা অ্যালগরিদম কীভাবে মানুষের গভীর মনস্তত্ত্বকে এতটা নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ‘ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP)’ বা ‘ভাষাগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ’ প্রযুক্তির মধ্যে। সহজ কথায়, NLP হলো, এমন এক প্রযুক্তি যা কম্পিউটারকে মানুষের ভাষা (লেখা বা কথা) বুঝতে, ব্যাখ্যা করতে এবং এমনকি অনুকরণ করতে সাহায্য করে। অ্যালগরিদম হলো ‘মস্তিষ্ক’ আর NLP হলো তার ‘কান’ এবং ‘চোখ’, যা দিয়ে সে আমাদের প্রতিটি কথা, প্রতিটি মন্তব্য, প্রতিটি সার্চ কোয়েরি বিশ্লেষণ করে

 

আবার আপনি যেন দীর্ঘ এই প্রবন্ধ পড়তে গিয়ে বিরুক্ত হয়ে না পড়েন এজন্য আমি একটি জনপ্রিয় ডেটিং এপ্লিকেশনের উদাহরণ টানছি। নাম হলো: টিন্ডার (Tinder)

 

‘Tinder’ শুধু একটি ডেটিং অ্যাপ নয়; এটি একটি নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা মনস্তাত্ত্বিক সিস্টেম, যা NLP এবং ডার্ক সাইকোলজির নীতিগুলোকে ব্যবহার করা তার মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ ইউজার এনগেজমেন্ট যত সম্ভব বেশি করা এবং লাভ হাসিল করা। আসুন, Tinder-এর অ্যালগরিদম কীভাবে এই কাজটি করে তা ধাপে ধাপে ভেঙে দেখি

 

Tinder-এর মূলমন্ত্র হলো ‘জুয়া’। আর প্রতিটি জুয়ার মতোই, এর নির্দিষ্ট নিয়ম ও কৌশল আছে, যা প্লেয়ারকে (ইউজারকে) আটকে রাখার জন্য তৈরি

 

১. মূল অস্ত্র: ‘ভ্যারিয়েবল রিইনফোর্সমেন্ট’ (জুয়া খেলার আসক্তি)

ডার্ক সাইকোলজির সবচেয়ে শক্তিশালী নীতি এটি। একটি স্লট মেশিন (জুয়া খেলার যন্ত্র) যেভাবে কাজ করে, Tinder-এর সোয়াইপ ফিচারটিও ঠিক সেভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। আপনি লিভার টানেন। আপনি জানেন না কখন জিতবেন, কিন্তু জানেন যে মাঝে মাঝে জেতা সম্ভব। এই যে “মাঝে মাঝে” জেতার আকস্মিক আনন্দ (ডোপামিন রিলিজ) আপনাকে আসক্ত করে তোলে

 

প্রতিটি সোয়াইপ (ডান বা বাম) একটি বাজি। আপনি জানেন না কোন সোয়াইপটি “It's a Match!” স্ক্রিনটি আনবে। যখন এটি আসে, আপনি সেই একই ডোপামিন হিট পান। অ্যালগরিদম ইচ্ছে করেই আপনাকে সব ভালো ম্যাচ একসাথে দেখায় না। এটি আপনাকে ঠিক ততটুকুই ‘পুরস্কার (ম্যাচ)’ দেয় যাতে আপনি হতাশ হয়ে অ্যাপ ছেড়ে না দেন, কিন্তু পুরোপুরি সন্তুষ্টও না হোন

 

২. NLP-এর ভূমিকা: আপনার ‘চাহিদা’ এবং ‘দুর্বলতা’ খুঁজে বের করা

অ্যালগরিদম কীভাবে বুঝবে আপনাকে কখন ‘পুরস্কার’ দিতে হবে? এখানেই NLP কাজ শুরু করে। NLP আপনার প্রোফাইল বায়ো স্ক্যান করে। আপনি কি ‘lonely’, ‘looking for serious relationship’, ‘just for fun’, ‘new in town’ -এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছেন?

 

যদি ‘Lonely’ বা ‘Serious’ লেখেন তাহলে অ্যালগরিদম বুঝতে পারে আপনি বেশি আবেগপ্রবণ এবং একটি ‘ম্যাচ’ আপনার কাছে বেশি মূল্যবান। অ্যালগরিদম আপনাকে ম্যাচ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও ‘কৃপণ’ হতে পারে, যাতে একটি ম্যাচ পেলে আপনি অনেক বেশি আনন্দিত হোন এবং অ্যাপটির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকেন

 

যদি ‘Fun’ বা ‘Casual’ লেখেন তখন অ্যালগরিদম বুঝতে পারে আপনি কম ‘ডেডিকেটেড’। আপনাকে ধরে রাখার জন্য এটি আপনাকে ঘন ঘন ম্যাচ দেখাতে পারে

 

NLP আপনার মেসেজ আদান-প্রদান বিশ্লেষণ করে। আপনি কি দ্রুত রিপ্লাই দেন? আপনি কি প্রথম মেসেজ দেন? আপনার মেসেজে কি “সরি” বা, “আশা করি আমি আপনাকে বিরক্ত করছি না” - এই ধরনের আত্মবিশ্বাসের অভাবসূচক শব্দ আছে?

 

অ্যালগরিদম যদি দেখে যে আপনি খুব ‘আগ্রহী’ (যেমন, দ্রুত রিপ্লাই দিচ্ছেন কিন্তু ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসছে দেরিতে), এটি আপনাকে ‘কম আত্মবিশ্বাসী’ বা ‘ডেসপারেট’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে

 

৩. ডার্ক সাইকোলজি প্রয়োগ: হতাশা তৈরি এবং সমাধান বিক্রি

এখন অ্যালগরিদম আপনার দুর্বলতা (NLP দ্বারা চিহ্নিত) এবং আপনার সোয়াইপিং প্যাটার্ন (আচরণগত ডেটা) জানে। এটি এখন এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনাকে দিয়ে টাকা খরচ করাবে

 

প্রথম ধাপে, অ্যালগরিদম ইচ্ছে করেই আপনার প্রোফাইলের ‘রিচ (reach)’ কমিয়ে দেয়। আপনি হয়তো প্রতিদিন ১০০টি রাইট সোয়াইপ করছেন, কিন্তু কোনো ম্যাচ পাচ্ছেন না। আপনার মনে হতে থাকে, “সমস্যাটা কি আমার?” অথবা, “আমার প্রোফাইল কি যথেষ্ট ভালো নয়?”

 

দ্বিতীয় ধাপে, নিরাপত্তাহীনতাকে টার্গেট করা (Targeting Insecurity)ঠিক যখন আপনি এই হীনমন্যতায় ভুগছেন, Tinder আপনাকে একটি নোটিফিকেশন পাঠায়, “আপনার প্রোফাইল এই সপ্তাহে মাত্র ১০ জন দেখেছে। একটি ‘Boost’ কিনুন এবং ৩০ মিনিটের জন্য আপনার এলাকার টপ প্রোফাইল হয়ে যান! ম্যাচ পান ১০ গুণ বেশি”

 

তৃতীয় ধাপে, সমাধান বিক্রি (Monetization)NLP-এর মাধ্যমে অ্যালগরিদম আগেই আপনার একাকীত্ব বা আগ্রহ চিহ্নিত করেছিল। এখন এটি সেই একাকীত্বকে ব্যবহার করে আপনার কাছে একটি সমাধান বিক্রি করছে। আপনি ভাবছেন, “মাত্র ৩০০ টাকা! এই হতাশা থেকে মুক্তি পেলে মন্দ কী?” তাই আপনি ‘বুস্ট’ কিনলেন

 

অ্যালগরিদম ইচ্ছে করেই একটি সমস্যা তৈরি করে (আপনাকে অদৃশ্য করে দিয়ে) এবং তারপর সেই সমস্যার সমাধান আপনার কাছেই বিক্রি করে

 

৪. FOMO (Fear of Missing Out) এবং ‘Tinder Gold’

Tinder-এর অন্যতম লাভজনক ফিচার হলো ‘Tinder Gold’, যা আপনাকে দেখতে দেয় কারা আপনাকে আগেই লাইক করেছে। অ্যালগরিদম আপনাকে একটি ঝাপসা (blurred) ছবি দেখায় এবং বলে, “৯৯+ জন আপনাকে লাইক করেছে। তারা কারা দেখতে Gold সাবস্ক্রাইব করুন”

 

এটি সরাসরি আপনার FOMO-তে আঘাত করে। আপনি ভাবতে শুরু করেন, “কে আমাকে লাইক করলো?”, “আমার কি কোনো ‘পারফেক্ট ম্যাচ’ মিস হয়ে যাচ্ছে?” এই না জানার অস্বস্তি দূর করার জন্য এবং তাৎক্ষণিক ‘ভ্যালিডেশন’ (কে আমাকে পছন্দ করলো তা দেখতে) পাওয়ার জন্য আপনি টাকা খরচ করতে বাধ্য হন

 

পুরো চক্রটি এক নজরে

(ক) আকর্ষণ (Hook): আপনি অ্যাপে ঢোকেন আশা নিয়ে। স্লট মেশিনের মতো সোয়াইপ করে ডোপামিন হিট পান

(খ) বিশ্লেষণ (Analyze): NLP আপনার বায়ো এবং চ্যাট পড়ে আপনার মানসিক অবস্থা, চাহিদা এবং নিরাপত্তাহীনতা (যেমন: একাকীত্ব, কম আত্মবিশ্বাস) নোট করে

(গ) সমস্যা তৈরি (Create Problem): অ্যালগরিদম আপনার রিচ কমিয়ে দেয়। আপনি ম্যাচ পাওয়া বন্ধ করে দেন। আপনি হতাশ ও নিরাপত্তাহীন বোধ করেন

(ঘ) টার্গেট (Target): আপনার এই দুর্বলতম মুহূর্তে, অ্যালগরিদম আপনাকে নোটিফিকেশন পাঠায় (FOMO, বুস্ট-এর অফার)

(ঙ) সমাধান বিক্রি (Sell Solution): আপনি সেই কৃত্রিম হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ‘Tinder Gold’ বা ‘Boost’-এর জন্য টাকা দেন

(চ) পুনরাবৃত্তি (Repeat): টাকা দেওয়ার পর আপনি কিছু ম্যাচ পান (পুরস্কার), আপনার ভালো লাগে। কিছুদিন পর অ্যালগরিদম আবার আপনার রিচ কমিয়ে দেয় এবং চক্রটি নতুন করে শুরু হয়

 

এভাবেই Tinder শুধু একটি ‘ডেটিং অ্যাপ’ থাকে না, এটি একটি আবেগ কেনা-বেচার বাজারে পরিণত হয়, যার চালিকাশক্তি হলো NLP দিয়ে চেনা আপনার গভীরতম দুর্বলতাগুলো

 

বর্তমান সময়ে অ্যালগরিদম শুধু আবেগ নিয়েই খেলছে না। সে গণহত্যা ঘটাচ্ছে (উদাহরণ: মায়ানমার), সে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর ঘৃণার সৃষ্টি করছে, আমাদের মধ্যে ‘Confirmation Bias’s তৈরি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম এই সমস্তই একেকটি সোর্চ অব ট্রমা

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান আমার পুরো নাম: মোঃ মেহেদি হাসান। কলম নাম: মি. বিকেল। আমি ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। আমি পেশায় একজন লেখক ও ব্লগার। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ন করেছি। আমার লেখা প্রথম বই ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে (ছোট গল্প সংকলন)’ প্রকাশিত হয় গত ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ভারতে এবং ১ম জানুয়ারী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে। বইটি বর্তমানে রকমারি.কম -এ উপলব্ধ। বর্তমানে আমি একটি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছি। এছাড়াও আমি মাইক্রোসফটে ডেভেলপার প্রোগ্রামে গত ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি গত ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। বর্তমানে এই ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ প্রতিষ্ঠানের টিম কতৃক। আমার সম্পর্কে বা আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অথবা, আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করুন: [email protected] -এই ঠিকানায়। অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম! (License notice - applies to this profile photo only: This photo is licensed under the Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International (CC BY-SA 4.0). License: https://creativecommons.org/licenses/by-sa/4.0/, Attribution: MD Mehedi Hasan, Source: https://oviyatri.com/profile/mrbikel)