আমাদের গল্প

এআই (AI) ঝড়ের পরেও কেন ফিরে এলাম? আমার নতুন ব্লগ ‘Oviyatri’র নেপথ্য গল্প




২৫ আগস্ট
, ২০২১ সালে আমি অন্তর্জালের দুনিয়ায় প্রথম প্রকাশক হিসেবে পা রাখি। প্রথম ডটকম ডোমেইন ছিলো, ‘backspace-journal.com’; বেশ দীর্ঘ, উচ্চারণ জটিলতা, মনে রাখা একটু কঠিন ছিলো। মাঝের ড্যাশ চিহ্ন (-) ছিলো সবচেয়ে বেশি বিরুক্তিকর। এতবড় নামের লোগো থেকে শুরু করে এসইও (SEO) করতে বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হই

 

তারপর ব্রান্ড নাম শুধু ‘BackSpace’ থেকে পরিবর্তিত ব্রান্ড নাম ‘The BackSpace’ বেছে নিই। কারণ ‘BackSpace’ নামে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে পরিচিত প্রকাশনী ও কোম্পানি রয়েছে। এই নামে সোশ্যাল হ্যান্ডেলও পাচ্ছিলাম না। এরপর ব্রান্ড নাম ঠিক রেখে নতুন ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে শুরু করি।

 

যে দুই নাম পরবর্তীতে বেছে নিয়েছিলাম,

 

১. TBJworld.com

২. TheBackSpaceJournal.com

 

শুধুমাত্র ব্রান্ড নাম ঠিক রাখতে গিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব ডোমেইন নাম নির্বাচন করি। যদিও এই দুটো নাম-ই আমার পছন্দের হয় নাই। তার বড় কারণ হলো, ‘অর্থহীনতা’। অন্যদিকে অনলাইনে খুব সহজেই একটি নাম খুঁজে পাই, ‘ovizatri.com’এই নাম আমার নিজের বাছাইকৃত নাম ছিলো না। আমি একজনের পুরো ওয়েবসাইট ক্রয় করে নিয়েছিলাম। সাথে শুধু নামের সুবিধা পেয়েছিলাম, কিছু অসুবিধাও

 

সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো, ‘অভিযাত্রী’ প্রকাশনীর সাথে ধাক্কা খাওয়া। কেউ কেউ আমার ঐ ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে আমাকেই ফোন করতো/হোয়াটসঅ্যাপ করতো। বলতো, “অমুক বই কবে বা কোথায় পাওয়া যাবে, স্যার?” আমি কাউকেই মিস-লিড করতাম না, বেশিরভাগ সময় অনুরোধ করতাম কাছের কোনো লাইব্রেরিতে যোগাযোগ করতে

 

সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালের ‘এআই (AI)’ ঝড়ে আমাকে প্রায় পুরোপুরি হাত ধুতে হয় অনলাইন দুনিয়া থেকে। এমনকি টিকে থাকা সর্বশেষ ডোমেইন ‘ovizatri.com’ আমি নামমাত্র দামে বাজারে বিক্রি করে দিই। আমার পুরো টিম কে বলার মত বিশেষ কোনো শব্দ আমার কাছে ছিলো না; শুধুমাত্র নিশ্চুপ প্রস্থান করা ছাড়া

 

আজ ২০ অক্টোবর, ২০২৫, AI বন্যায় প্লাবিত প্রায় অনলাইন দুনিয়ার সবটুকু। আমি এই ঝড়ের মধ্যে, ডুবন্ত মানসিক অবস্থা নিয়ে পুনরায় অনলাইন প্রকাশনী নিয়ে হোমওয়ার্ক করতে শুরু করে দিই। যাকে সংক্ষেপে আমরা ‘ব্লগিং (Blogging)’ বলে থাকি

 

আমি নিজেকে গত কয়েকমাসে অন্তত হাজারবার প্রশ্ন করেছি, “আমার কেন একটি ওয়েবসাইট পুনরায় প্রয়োজন?”

 

আমি গত প্রায় দু’সপ্তাহ বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম সেই ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালের রাতে। যেখানে অল্পকিছু টাকা দিয়ে একটি ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করেছিলাম। আবার ঐ অল্প কিছু টাকাও আমার সাহায্য হিসেবে নিতে হয়েছিলো। আমার স্বপ্নের কথা ভেবে একজন সাহায্যও করেছিলো।

 

পয়েন্ট অবশ্য এইটা নয়, “কে সাহায্য করেছিলো?” পয়েন্ট হলো, “কেন সাহায্য করেছিলো?” অথবা, আমি কেন-ই-বা এই অনলাইন দুনিয়ায় পা রাখতে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম! কারণ আমি যদি একটা গোছানো গল্প নিজেকেই বলতে না পারি তবে কাছের মানুষদের কীভাবে বুঝাবো?

 

আস্তে-ধীরে আমার কাছে এই ধারণা আমার কাছে পরিষ্কার হতে শুরু করে। আমি বেশকিছু পয়েন্ট খুঁজে পাই,

 

(ক) ওয়েবসাইট আমার দরকার এজন্য নয় যে, আমি এখান থেকে অবশ্যই টাকা উপার্জন করবো; যেটা আমি করেছি। বরং টাকা উপার্জন (অন্তত এই খাত থেকে) সবসময় আমার কাছে গৌণ বিষয় ছিলো, মূখ্য নয়। আমি চেয়েছিলাম একটা ‘পরিচয়’

 

(খ) আমি প্রায় নিয়মিত লিখি। নিয়মিত বিভিন্ন ব্লগে বা ফেসবুক গ্রুপে আমি আমার লেখা প্রকাশ করে থাকি। এমনকি পত্রিকাতেও বেশ কিছু লেখা প্রকাশ করেছি বা করার চেষ্টা করছি। আমি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করলেও বাংলা ভাষা চর্চা ও বাংলা ভাষায় লিখতে পছন্দ করি।

 

শুধুমাত্র এই একটা কারণে আমার ইংরেজিতে দখল অনেক কমে গেছে। কিন্তু এমন অনেক লেখা আছে যা আমাদের দেশের পত্রিকার ফরম্যাটে যায় না বা সম্পাদক একবার শিরোনাম দেখেই ই-মেইল পর্যন্ত খোলেন না

 

এখানে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘লেখক’ পরিচয়ের বিনাশ ঘটছে। আমি লিখি একান্তভাবে আমার জন্য। কারো ভালো লাগলে ‘ভালো’, যদি না ভালো লাগে! তবুও আমার কাছে আমার লেখা ভালো ও খুবই পছন্দের। আমার প্রায় ৮০% লেখা কারো মনোরঞ্জনের জন্য নয়, না কোনো কমার্শিয়াল উদ্দেশ্য থাকে। বরং কিছু কথা আমি বলতে চাই, শেয়ার করতে চাই

 

ফলে এই-যে দুটো পরিচয় ‘লেখক’ ও ‘সম্পাদক’ একেবারে নন-কমার্শিয়াল ও স্বতঃস্ফূর্ত হবার কথা ছিলো। তবে, যদি পথিমধ্যে কিছু টাকা-পয়সা আসে তবে মন্দ কি! কিন্তু পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাস ‘দ্য আলকেমিস্ট’ -এর সান্তিয়াগোর মত চলতে চলতে ও হাঁটতে হাঁটতে মরুর মধ্যে ফাতেমার প্রেমে পড়ে নিজের স্বপ্ন ভুলে যাওয়া। অথবা, সান্তিয়াগোর এক মালিক, স্ফটিক বণিক, যিনি ব্যবসা করতেন, তিনি যেমন টাকা উপার্জন হলেও মক্কায় আর যেতে চাইছেন না! কারণ তার ভয় ও অভ্যাস। অথচ এটাই তার স্বপ্ন ছিলো

 

কোয়েলহো বলছেন, “তুমি যখনি কিছু সত্যিই চাও, তখনি সারা পৃথিবী তোমাকে সাহায্য করার জন্য কানাকানি শুরু করে দেয়।

 

(গ) ভয়। আমার ভয় ছিলো বা আছে যে, ‘এআই (AI)’ এর কাছে বাজেভাবে হেরে যাওয়া। বর্তমান সময়ে এই ভয় পাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু মূল চিন্তা বা স্বপ্ন যখন টিকে থাকার যুদ্ধ নয় তখন হারা-জেতার যে প্রশ্ন তা উহ্য হয়ে যাওয়া উচিত। আমি তো টিকে থাকার জন্য এসব করছি না! আমি এআই এর সাথে যুদ্ধ জিততেও এসব করছি না! আমি এসব করছি একান্ত নিজের জন্য

 

আমি লিখি, আমি প্রকাশ করি। আমার জন্য এতটুকুই সবচেয়ে বড় পাওনা হওয়া উচিত ছিলো। বিষয়টা এমন কেন হলো, “আমি শুধু লিখি না, আমি এআই এর চেয়েও ভালো লিখতে চাই?” কেন? দরকার নাই তো! আমি গড়পড়তা লিখি, আমি লিখি আমার জন্য এবং আমার লিখতে ভালো লাগে

 

অনেককিছু বিবেচনায় গত তিনদিনের হোমওয়ার্ক শেষে আমি একটি ডোমেইন বেছে নিয়েছি। এবার অনেক ভেবেচিন্তে নাম নির্বাচন করেছি, ‘oviyatri.com’এবার নিজ ব্রান্ড নিয়েও চিন্তা করেছি। ওয়েবসাইট যেটাই হোক, শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের ফুটারে ‘Team - The BackSpace’ দিলেই ব্রান্ড ভ্যালু বজায় থাকবে। অথবা, এক/একাধিম ডেডিকেটেড পেইজও ইশারা করতে পারে অনেককিছু

 

এখানে, ‘Oviyatri’ শব্দের অর্থ বেশ কৌশলে নেওয়া হয়েছে, Oviyatri = Oviya + Yatri

 

Oviya: চিত্র, রঙীন ছবি, চিত্রকর্ম ইত্যাদি বুঝায়

Yatri: যাত্রী, পথিক, ভ্রমণকারী ইত্যাদি বুঝায়

 

সুতরাং ‘Oviyatri’ শব্দ দিয়ে আমি প্রধানত বুঝাতে চাইছি, ‘দুঃসাহসিক পথিক। যদিও এই শব্দের নানান রকম অর্থ আছে। আমি অবশ্য সেসবও মাথায় রেখেছি অবশ্য, ‘Coming Soonবলে আমি বা আমার টিমের কাউকেই অপেক্ষায় রাখছি না। এই ওয়েবসাইট ইতিমধ্যেই লাইভ!

 

পরিশেষে, কাছের মানুষদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। যেতে হবে বহুদূর

এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ বা ব্রাউজ করা মানেই আপনি আমাদের কুকি ব্যবহারের নীতিতে সম্মতি দিয়েছেন। আমরা কুকি ব্যবহার করি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এবং সাইটের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে। বিস্তারিত জানতে আমাদের গোপনীয়তা নীতি পড়ুন।