‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’: নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক সুখ ও স্বাধীনতা বর্জনের ভবিষ্যদ্বাণী

অল্ডাস হাক্সলির ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ কীভাবে রাষ্ট্র, বিজ্ঞান ও বিনোদনের মাধ্যমে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে? জানুন কেন ইতিহাস, ধর্ম, পরিবার ও সাহিত্যকে অপ্রাসঙ্গিক করা হয় এবং ‘সোমা’ ট্যাবলেট কেন সুখের নামে স্বাধীনতা কেড়ে নেয়।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ১১
‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’: নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক সুখ ও স্বাধীনতা বর্জনের ভবিষ্যদ্বাণী
‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’: নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক সুখ ও স্বাধীনতা বর্জনের ভবিষ্যদ্বাণী

রাষ্ট্র কেন ইতিহাস, ধর্ম, পরিবার ও সাহিত্য কে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে? কারণ যদি মানুষ জানে অতীতে কি কি অন্যায় হয়েছে তাহলে তারা বর্তমান রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করবে। তাই রাষ্ট্র ঐ ইতিহাস মুছে দেয় যাতে করে এই প্রশ্নই আর না ওঠে। ধর্ম বলে, তুমি শুধু নিজের সুখের জন্য জন্মাও নাই, বড় উদ্দেশ্যের জন্য এসেছো। ফলে ধর্ম মানলে, জানলে বা ধর্মের কথা শুনলে মানুষ শুধুমাত্র নিজের সন্তুষ্টি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে না। সে জীবনের বড় উত্তর খুঁজবে।

 

আবার পরিবারে মা-বাবা-ভাইবোন যখন থাকে, মানুষ তাদের জন্য আলাদা দায়িত্বের অর্থ খুঁজে পায়। কিন্তু এই ধরণের রাষ্ট্র চায়, সবাই সবার জন্য দায়িত্ব নিক, নির্দিষ্ট বা বিশেষ কারো জন্য নয়। তাই পরিবার ভাঙলে ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিভে যায় এবং একইসাথে সমাজও ভেঙ্গে পড়ে। চারপাশে একবার তাকিয়ে দেখুন, পরিবারের ভাঙনের ফলে বিপর্যয়ের উত্থান।

 

পুনরায় সাহিত্য মানুষকে কাঁদায়, রাগায়, ভাবায়। সাহিত্যের জটিল অনুভূতি আমাদের বর্তমান দুনিয়ার সহজ সুখে বিশাল ব্যাঘাত ঘটায়। তাই সাহিত্যকে দূর করে রাখা হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্র চায় মানুষ শুধু বর্তমানে মানে এই মুহুর্তে সুখী থাকুক কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। তার জন্য তাকে বিনোদন হিসেবে খাবার, যৌনতা ও চিন্তার দুয়ার বন্ধ করে দেয় এমন ট্যাবলেট দেওয়া যেতে পারে।

 

লিখছিলাম ১৯৩২ সালে লেখক ‘অল্ডাস হাক্সলি (Aldous Huxley)’ রচিত উপন্যাস ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড (Brave New World)’ নিয়ে। তিনি এই উপন্যাসে দেখান, উত্তরণ নয়, নিয়ন্ত্রণ-ই আমাদের ভবিষ্যৎ হতে যাচ্ছে। সে সময়ের কমিউনিস্ট চীন, ফ্যাসিস্ট ইতালি, নাৎসি জার্মানি সবই দেখাচ্ছিল কীভাবে রাষ্ট্র, বিজ্ঞান ও বিনোদন একসঙ্গে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

 

তিনি এই উপন্যাসে হেনরি ফোর্ডের গাড়ি-কারখানার অ্যাসেম্বলি লাইনকে মানুষ-তৈরির কল্প-কারখানায় রূপান্তর করেন।

 

তিনি দেখান প্রযুক্তির তিনটি মূল স্তম্ভ: (ক) গণ-উৎপাদন, (খ) রাসায়নিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ও (গ) ঘুমন্ত-মনে এক ধরণের প্রোগ্রামিং

 

এসব ব্যবহার করে রাষ্ট্র ‘Alpha’ থেকে ‘Epsilon’ পর্যন্ত শ্রেণি তৈরি করে। মানে হলো মানুষের মধ্যে এক ধরণের কৃত্রিম শ্রেণি বৈষম্য। ‘সোমা’ নামের একটি সুখের ট্যাবলেট দিয়ে মানুষের মধ্যে দুঃখ, কষ্ট, হতাশা, বেদনা কে বিতাড়িত করা। এবং, ইতিহাস-ধর্ম-সাহিত্যকে অপ্রয়োজনীয় করে তোলা, যাতে মানুষ শুধু বর্তমানে সুখী থাকে, ভবিষ্যতের কোনো চিন্তা আর না করে।

 

প্রথমেই ‘সোমা (Soma)’ নামক ট্যাবলেট সম্পর্কে জানা যাক। এই ট্যাবলেট দেখতে ছোট ও নীল-সাদা রঙের ট্যাবলেট। সাধারণত এই কাল্পনিক রাষ্ট্রের সবাই খুব সহজেই এই ট্যাবলেট পেয়ে যায়। এই ট্যাবলেট খাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষ তার সকল দুঃখ, ক্ষোভ, বিরুক্তি ও একাকীত্ব পুরোপুরি মুছে যায় এবং নিজেকে সুখী অনুভব করতে শুরু করে।

 

মজার বিষয় হচ্ছে, এই ট্যাবলেটের কোনো প্বার্শ প্রতিক্রিয়া নাই। সোমা ট্যাবলেট নিয়ে একটি বিখ্যাত উক্তি পাওয়া যায়,

 

“A gramme is better than a damn.”

ভাবার্থ: সোমা নাও আর সব ভুলে যাও।

 

উপন্যাসে দেখানো এই ট্যাবলেট মূলত বেশকিছু প্রতীকী অর্থ আমাদের সামনে আনে। রাষ্ট্র নয় রাষ্ট্রের নেতাদের প্রতি অন্ধভক্তির মাধ্যমে আমরা নিজেই নিজেদের গোলাম/দাস বানিয়ে ফেলি। আমরা প্রকৃত ভালোবাসায় সুখী হতে না পেরে একধরণের রাসায়নিক আলিঙ্গন বা ভালোবাসার বিকল্প বেছে নিই।

 

অস্তিত্ববাদী প্রশ্ন যেমন: “আমি কে?”, “কোথা থেকে এখানে এসেছি?”, “কি আমার জীবনের উদ্দেশ্য?” - এসব প্রশ্ন উঠলেই সোমা ট্যাবলেট খাবার পরামর্শ থাকে ফলে মানুষ আর প্রশ্নই করে না। ঠিক যেন মানুষ সুখের নামে স্বাধীনতা কে বিক্রি করে দেয়।

 

এই উপন্যাসের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ‘সলিডারিটি সার্ভিস (Solidarity Service)’। এটা হচ্ছে সরকারি আয়োজিত, সবার জন্য বাধ্যতামূলক ও সম্মিলিত একটি আনন্দ-অনুষ্ঠান। এখানে ১২ জন অ্যালফা-বেটা নারী-পুরুষ একসঙ্গে সোমা ট্যাবলেট নিয়ে নৃত্য, গান ও যৌনতায় মিলিত হয়। এখানে নামমাত্র ‘ঐক্য’ বা ‘সংহতি’ শব্দগুলো থাকলেও আসল উদ্দেশ্য হলো, একাকীত্ব ধ্বংস করা এবং ব্যক্তিগত আবেগকে ব্যাপক-সম্মিলিত বিনোদনে ঢেকে ফেলা।

 

১২ জন পুরুষ-নারী যৌনতায় মিলিত হয়। এখানে ৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী, সবাই সম-মর্যাদার। যৌনতা শেষে সবাই সোমা ট্যাবলেট নেয়। এখানে কারো মধ্যেই ব্যক্তিগত প্রেম বা আবেগ থাকবে না। আর যদি থাকেও তবে সেটাকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়। মানে সবাই বহুগামী, কেউ মনোগামী নন।

 

মজার বিষয় হচ্ছে, এখানে মনোগামী হওয়াটা এক ধরণের ঘৃণার বিষয়। এই কাল্পনিক রাষ্ট্রের সাধারণ যৌন নীতি হলো,

 

“Everyone belongs to everyone else”

 

ব্যক্তিগত প্রেমকে বহু-সঙ্গীর সামূহিক আনন্দে রূপান্তর করে রাষ্ট্র। ফলে কেউ কাউকে ‘আমার’ বলতে পারে না। নকল-ধর্মের ধর্মীয় আদর্শ হলো, ক্রুশের জায়গায় ‘সোমা’, প্রার্থনার জায়গায় ‘Orgy-porgy’ ধ্বনি। ধর্মের আবেগকে রাষ্ট্র ব্যবহার করে নিজের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে।

 

রাষ্ট্র বিক্রি করে, নাগরিক কিনে নেয়। নিজের ট্যাবলেট দিয়ে নিজেই নিজেকে শৃঙ্খল পরানো। সংহতি নয়, একত্রীকরণ নামে ‘solidarity’, কাজে ‘sameness’। ব্যক্তিকে গোষ্ঠীর মধ্যে বা একটা ভীড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া, যাতে কেউ বিদ্রোহের বীজ মনের মধ্যে না রাখে। সংক্ষেপে, সলিডারিটি সার্ভিস হলো রাষ্ট্র-নির্মিত এক মিথ্যা উৎসব, যেখানে ‘ঐক্য’’ নামক শব্দ দিয়ে ব্যক্তিকে নিঃশেষ করে দেওয়া হয়।

 

এরপরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো কৃত্রিম শ্রেণি বিভাজন। গর্ভকাল থেকেই শ্রেণি তৈরি শুরু হয়। ফের্টিলাইজেশন সেন্টারে এক ডিমকে বক্সে রেখে অক্সিজেন মাত্রা কমালে ‘Epsilon’ খাটো ও কালো হয়, অক্সিজেন বাড়ালে ‘Alpha’ লম্বা ও সুদর্শন হয়। এই রাসায়নিক ফর্মুলা হলো রাষ্ট্রের প্রথম কৌশল।

 

মানুষের দেহকে মেশিনের পার্টসের মতো তৈরি করা। এরপর ঘুমন্ত শিশুদের কানে বারবার বাজে “I’m glad I’m a Delta”। ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং যেখানে শব্দ ও আবেগ একসাথে বেঁধে দেওয়া হয়, যেন শ্রেণি পরিচয় স্বাভাবিক মনে হয়।

 

শেষ ধাপে সোমা, যে ট্যাবলেট শ্রমিকের অসন্তোষকে ভুলিয়ে দেয়, Alpha-র অহংকারকে শান্ত করে। ফলে কেউ নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে না।

 

এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রতীকী অর্থ তিনটি। প্রথম, জৈব বৈচিত্র্যের বিলুপ্তি। মানুষের ভেতরে জন্মগত পার্থক্য মুছে ফেলে হরমোন ও গ্যাসের মিশ্রণে একই রকম পার্টস তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, মানসিক বিদ্রোহের আগাম কবর। কোনো শিশুই ভাবতে পারে না “আমি Beta হতে চাই না, Alpha হতে চাই”, কারণ ভাবার ভাষাটাই ঘুমের মধ্যে কেটে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, সাম্যবাদের উল্টো চিত্র। যেখানে সুখের মাত্রা ঠিক থাকে, কিন্তু সুযোগ ও অধিকার কখনোই সমান হয় না।

 

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলোর দিকে একবার চোখ বুলানো যাক,

 

১. বার্নার্ড মার্ক্স: অ্যালফা প্লাস সাইকোলজিস্ট, কিন্তু অ্যালকোহল রেসিডিউয়ালে খাটো ও মনে দুর্বল। তিনি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রথম ক্র্যাক। তিনি সংকোচন, প্রতিবাদের স্বপ্ন দেখেন। তার অস্বস্তি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি যতই নিখুঁত হোক, ব্যক্তিত্বের ভেতরে সামান্য খাঁজই বিদ্রোহের বীজ রাখে। তার প্রতীক হচ্ছে, সিস্টেমের ভেতরেও মানুষের অনন্যতা। তার গুরুত্বপূর্ণ উক্তি, “I’d rather be myself than be happy.”

 

২. লেনিনা ক্রাউন: অ্যালফা নার্স, সোমা ও যৌনবিনোদনে পারদর্শী, কিন্তু জনের কাছে প্রথমবার ঐতিহাসিক প্রেমের স্বাদ পায়। সে হলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত মনের ভেতর বেরিয়ে আসা মানসিক কৌতূহল। তার প্রতীক হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও আবেগের উদ্রেক। তার উক্তি, “I wonder what it would be like to feel something strongly.”

 

৩. জন দ্য সাভেজ: রিজার্ভেশনে জন্মায়, মা-বাবা, ধর্ম, শেক্সপিয়ার সব পেয়েও World State-এর সুখী বন্দিদের সামনে মানুষ হওয়ার জীবন্ত প্রতিবাদ। সে হলো অবিকৃত মানুষত্বের প্রতীক; তার পতন দেখায় সভ্যতা কীভাবে স্বাধীনতাকে গিলে ফেলে। তার উক্তি, “I don’t want comfort. I want God, I want poetry, I want real danger, I want freedom, I want goodness.”

 

৪. মুস্তাফা মন্ড: World Controller, পুরনো বিজ্ঞানী, গোপনে Shakespeare পড়ে, তবে সুখের জন্য ইতিহাস-বিজ্ঞান-ধর্ম সব নিষিদ্ধ করে। তিনি হলেন নৈতিক সংকটের উচ্চতম রূপ। মানে তিনি সব জানেন, তবু নীরব। তার চরিত্র আমাদের দেখায় যে, ক্ষমতা যেখানে জ্ঞানকে অপ্রয়োজনীয় করে। তার উক্তি, “Stability is the highest social virtue.”

 

৫. হেল্মহোল্টস ওয়াটসন: অ্যালফা ইংরেজি ইনস্ট্রাক্টর, প্রোপাগান্ডা rhyme-এর মাস্টার, কিন্তু ভেতরে তার কবিতার আগুন। তিনি হলেন সৃজনশীলতার প্রতীক যা রাষ্ট্র-বাক্সে ফিট হয় না; নির্বাসনে যাওয়া তার বিদ্রোহ। তার উক্তি, “Words can be like X-rays if you use them properly.”

 

৬. লিন্ডা: জনের মা, একসময় বেটা, রিজার্ভেশনে আটকে সোমা-অভ্যাসে ভোগে। ফিরে এসে সভ্যতার সুখের মধ্যেই অপমৃত্যু ঘটে। এই চরিত্র আমাদের দেখান, ফিরে আসার পরেও মুক্তি নেই; সুখও কারাগার হতে পারে। তার উক্তি, “I don’t understand them. They don’t understand me.”

 

৭. হেনরি ফস্টার: অ্যালফা এক্সিকিউটিভ, লেনিনার সঙ্গী, সুখী মডেল সিটিজেন। তিনি হলেন সিস্টেমের পুরোপুরি প্রোডাক্ট। নিখুঁত দাসত্ব কিন্তু তিনি নিজেকে নিজেকে মুক্ত ভাবেন। তার সেই বিখ্যাত উক্তি, “Everyone belongs to everyone else.”

 

৮. ফ্যানি ক্রাউন: লেনিনার বান্ধবী, নিয়ম মেনে চলা নার্ভাস নর্মাল। সমাজের গড় নাগরিক যে প্রশ্ন তোলে না। তার উক্তি, “Why ever not? It’s only four months.”

 

রাষ্ট্র যে ইতিহাস, ধর্ম, পরিবার ও সাহিত্যকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে, তার পেছনে কোনো উদারতা নেই বরং একটা নগ্ন দুঃসাহসিক দমননীতি। ইতিহাসকে মুছে ফেলার অর্থ হলো, অতীতের রক্তাক্ত রাতগুলোকে কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা, যাতে কেউ জিজ্ঞাসা না করে কারা খুন করেছে, কারা লাভ করেছে। ধর্মকে বদনাম করে দেওয়া মানে মানুষকে বলা, তোমার চেয়ে বড় কিছু নেই, তাই তুমি যা পাচ্ছ তাতেই সন্তুষ্ট থাকো। এই মিথ্যা সহজতা মানুষের আত্মিক উন্নতির পথ আটকায়, যাতে কেউ আর স্বর্গের দিকে না তাকায়, সরকারের দিকে মুখ তুলে না তাকায়।

 

পরিবারকে ভাঙার নীতি হলো সবচেয়ে নিষ্ঠুর সামাজিক অপারেশন। মা, বাবা, ভাইবোনের নাম মুছে ফেলার অর্থ হলো মানুষের সবচেয়ে গভীর দায়িত্ববোধের শিকড় কেটে দেওয়া। সন্তান যখন বুঝতে পারে না তার রক্তের কেউ আছে, তখন সে রাষ্ট্রের কাছে পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

 

সাহিত্যকে দূর করে রাখা মানে মানুষের ভেতরে শেষ আলোটুকু নিভিয়ে দেওয়া। কারণ কবিতা, উপন্যাস, নাটক মানুষকে কাঁদায়, রাগায়, প্রশ্ন করে। এই প্রশ্নগুলোই স্বৈরশাসনের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই কালো কালো কাভারে মুড়িয়ে রাখা হয় শেক্সপিয়ারকে, বাইবেলকে, মহাভারতকে যাতে কেউ আর দুঃখের গভীরতা বোঝার সাহস না পায়।

 

এই সব দমনকৌশলের চূড়ান্ত রূপ হলো ‘সোমা ট্যাবলেট’ এবং ‘সলিডারিটি সার্ভিস’। দুটি মিলে মানুষকে ভোজ্যপণ্যে পরিণত করে। সোমা মানুষের মস্তিষ্কে রাসায়নিক সুখ ঢালে, সলিডারিটি সার্ভিস সেই সুখকে সম্মিলিত যৌনতায় জাহির করে। ফলে ব্যক্তি আর নিজেকে মানুষ ভাবতে পারে না, সে হয়ে যায় একটা সুখী রোবট, যে নিজের শৃঙ্খল নিজেই পরে।

 

এই নগ্ন দমননীতিকে যখন বিজ্ঞান, বিনোদন ও ভালোবাসার নামে বিক্রি করা হয়, তখন স্বাধীনতা শুধু ক্ষীণ স্মৃতি হয়ে থাকে এবং সেই স্মৃতিটুকুও সোমার নীল ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান মোঃ মেহেদি হাসান (কলম নাম: মি. বিকেল)—লেখক, ব্লগার, শিক্ষক এবং ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। • শিক্ষা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। • প্রকাশনা: প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে’ (রকমারি.কম-এ উপলব্ধ)। • অন্যান্য: ‘দ্য ব্যাকস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৩ থেকে মাইক্রোসফট ডেভেলপার প্রোগ্রামে যুক্ত। যেকোনো প্রশ্ন বা যৌথ কাজের আগ্রহে যোগাযোগ করুন: admin@oviyatri.com অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!