কনস্পিরেসি থিওরি এবং সিলেক্টিভ হেয়ারিং: ডার্ক সাইকোলজির এক ভয়ংকর খেলা।

তথ্য বিস্ফোরণের যুগে আপনি কি শুধু সেটুকুই শুনছেন যা আপনি শুনতে চান? জানুন কীভাবে 'সিলেক্টিভ হেয়ারিং' এবং একপাক্ষিক মিডিয়া আপনাকে 'এক্সট্রিমিস্ট' বা চরমপন্থি করে তুলছে।

মার্চ 14, 2026 - 14:00
মার্চ 13, 2026 - 00:56
 0  1
কনস্পিরেসি থিওরি এবং সিলেক্টিভ হেয়ারিং: ডার্ক সাইকোলজির এক ভয়ংকর খেলা।
কনস্পিরেসি থিওরি এবং সিলেক্টিভ হেয়ারিং: ডার্ক সাইকোলজির এক ভয়ংকর খেলা।

ভীড়ের মাঝে বস্তুনিষ্ঠ খবর পাওয়ার জন্য আমরা নির্দিষ্ট কিছু চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে থাকি। আমরা সেটা শুনতে থাকি, দেখতে থাকি, এবং এভাবেই আমরা ভীড় থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। আমরা সবাই কমবেশি মনে করি যে, আমরা যে চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করেছি তার ‘Accuracy’ রেট শতভাগ না হলেও আপেক্ষিকভবে অন্য চ্যানেলগুলোর চেয়ে ভালো। অন্যান্য উপস্থাপকদের চেয়ে অন্তত এক কদম এগিয়ে।

এখানে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে আপনি তথ্যের ক্ষেত্রেও নির্বাচিত কিছু চ্যানেল বেছে নিচ্ছেন অথচ এরই অল্টারনেটিভ হাজারো মতান্তরে লাখো তথ্যের প্রবাহ বিদ্যমান আছে; যেসব আপনি আন-সাবস্ক্রাইব করেছেন অথবা, শুনছেন না। কারণ আপনি সেসব শুনতে বা দেখতে কমফোর্টেবল অনুভব করেন না। অথবা, সেসব তথ্যের সাথে আপনার দর্শন ফিট করে না।

যদি গুগলে সার্চ দেন, “I can do it!” দেখবেন, সার্চ ফলাফলে আপনাকে এই সংক্রান্ত গান, সিনেমা, ব্লগ, উক্তি দেখাচ্ছে; যা আপনাকে ইতিবাচক দিকে প্রভাবিত করবে। এখন এর উল্টো “I can't do it anymore!” সার্চ দিলে গুগল মামাও আপনাকে উল্টো পথে নিয়ে যাবে মানে নেতিবাচক দিকে প্রভাবিত করবে।

চারপাশে এখন অনেকগুলো টেলিভিশন চ্যানেল আছে। অনেক ইউটিউব চ্যানেল আছে। রেডিওর গুরুত্ব কিছুটা কমলেও ‘পডকাস্ট’ নামক নতুন জনরা আমাদের অনেককিছু রোজ রোজ জানাচ্ছে, শেখাচ্ছে। এছাড়াও তথ্যের বিশাল প্রবাহ আমাদের সোশ্যাল ফিডে ঘোরাঘুরি করছে। আর যত তথ্য আপনার কাছে আছে সে অনুপাতে আপনার হাতে ক্রসচেক করার সময় থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে গুজব ছড়াচ্ছে ভয়ানক ভাবে এবং অন্যদিকে অর্ধ-সত্যে বিষাক্ত হচ্ছেন।

নির্বাচিত তথ্য ক্রমান্বয়ে আপনাকে একচোখা করে তুলবে। আপনি এক কেন্দ্রিক চিন্তায় মগ্ন থাকবেন। আপনার দুনিয়াটা সীমাবদ্ধ হতে শুরু করবে। আপনি যা মানছেন বা দেখছেন বা যে ন্যারেটিভ কে মনে মনে গ্রহণ করেছেন তার উল্টো কিছু হলেই রেগে যাবেন, ক্ষোভে ফেটে পড়বেন। ‘Extremist’ কেউ রাতারাতি হয় না, এরাও গ্যাসলাইটিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন এবং একসময় আপনাকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করেন।

“২০১৮ সালে বাংলাদেশে ভালো নির্বাচন হয়নি।” অথবা, “২০১৮ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনই হয়নি!” – দেখুন এই দুটো ন্যারেটিভ ই মিথ্যে। এছাড়া ‘নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্র’ একটি ভুয়া শব্দ। মানে এরচেয়ে ননসেন্স কিছু আর হয় না। আমার একজন প্রিয় স্যার ‘সত্য’ নিয়ে একটি কথা বলেছিলেন যে, “Truth is very Narcissistic.”, যখন সত্য সামনে আসে তখন মিথ্যের আর কোনো জায়গা থাকে না।

নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে আমরা ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইন্ডেক্স’ ও ‘রিপোটার্স উইদ আউট বর্ডারস্’ এ আমাদের অবস্থান তলানিতে। তবুও আপনি ‘BTV’ -ও দেখুন এবং ‘BBC’ -ও দেখুন। জরুরী নয় আপনাকে ‘Euro-Centric’ হতেই হবে অথবা, বেগুণ চাষে ভালো ফলন – এর মধ্যে একটি চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে হবে। আপনার মুঠোফোনে অপশন আছে যে, কে আপনাকে কখন কি বলতে পারবেন! কোন চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবেন এবং কোনটা করবেন না! এই নোটিফিকেশন অন-অফ করতেও শিখুন।

একচোখা মানুষ শুধুমাত্র তর্কেই ভয়ানক নন, এরা জীবনের প্রায় বহুক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। এরাই সেই এক্সট্রিমিস্ট যারা বড় হতে হতে একদিন বটগাছে রুপান্তরিত হয়ে যান। মিথ্যের বটগাছ; যার প্রত্যেক শাখা-প্রশাখায় মিথ্যের জঞ্জাল।

ডার্ক সাইকোলজিতে সিলেক্টিভ হেয়ারিং ঠিক এভাবেই কাজ করে। মানে, উপরোক্ত ন্যারেটিভের মধ্যে আপনি যে দল ঘেষা সে দলের দিকে কোন মন্তব্য যাচ্ছে তা গ্রহণ করবেন এবং সেটা সত্য হওয়া জরুরী নয়। ওটা ক্রসচেক করার জন্য আপনি আরো দুটো ডকুমেন্টারি দেখবেন না। আপনি বাকি বক্তা/লেখক/ব্লগার বা একাডেমিক এর কথা শুনবেন না।

পুনরায়, প্রাক্তন সম্পর্কে কেউ ভালো কথা বলে? বা প্রাক্তন সম্পর্কে কেউ ভালো কথা শুনতে চায়? চায় না… কারণ তাকে ছেড়ে দেবার কিছু কারণ দরকার। এবং সেটা যদি একচোখা না হয় তাহলে একজন ব্যক্তি তার অন্যায় কে জাস্টিফাই করবে কি করে বলুন? সব সম্পর্কেই ভালো সময় বলেও কিছু থাকে। তাই নিজের জায়গা কে জাস্টিফাই করার জন্য তিনি নির্বাচিত কথা শুনবেন বা জানতে চাইবেন। ভুল খুঁজে বেড়াবেন।

একইভাবে একজন ব্যক্তি তার ‘Conspiracy Theory’ কে প্রতিষ্ঠা করার জন্যও এই একচোখ ব্যবহার করেন; যে চোখ তার দর্শন, রিসার্চ, বিশ্বাস, সন্দেহ, অভিযোগ, এজেন্ডা কে সাপোর্ট দেয়।

বলুন, বলতেও দিন তবে শোনার ক্ষেত্রে সাবধানে থাকুন।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান আমার পুরো নাম: মোঃ মেহেদি হাসান। কলম নাম: মি. বিকেল। আমি ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। আমি পেশায় একজন লেখক ও ব্লগার। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ন করেছি। আমার লেখা প্রথম বই ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে (ছোট গল্প সংকলন)’ প্রকাশিত হয় গত ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ভারতে এবং ১ম জানুয়ারী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে। বইটি বর্তমানে রকমারি.কম -এ উপলব্ধ। বর্তমানে আমি একটি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছি। এছাড়াও আমি মাইক্রোসফটে ডেভেলপার প্রোগ্রামে গত ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি গত ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। বর্তমানে এই ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ প্রতিষ্ঠানের টিম কতৃক। আমার সম্পর্কে বা আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অথবা, আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করুন: [email protected] -এই ঠিকানায়। অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম! (License notice - applies to this profile photo only: This photo is licensed under the Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International (CC BY-SA 4.0). License: https://creativecommons.org/licenses/by-sa/4.0/, Attribution: MD Mehedi Hasan, Source: https://oviyatri.com/profile/mrbikel)