চট্টগ্রামের সাগরিকায় শুরুতেই বিপর্যয়, পরিকল্পনায় ব্যর্থ বাংলাদেশ দল
চট্টগ্রামের সাগরিকায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৬ রানে পরাজিত হয়েছে। প্রথমে ব্যাট করে উইন্ডিজ সাই হোপ ও রভম্যান পাওয়েলের ব্যাটে ৩ উইকেটে ১৬৫ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দুই বল বাকি থাকতে ১৪৯ রানে অল-আউট হয়। লেখক মনে করেন, হারের মূল কারণ মাঠে নয়, বরং স্কোয়াড নির্বাচনে ও পরিকল্পনায় ভুল ছিল। মাত্র পাঁচজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নিয়ে নামা, শামীম হোসেনকে সুযোগ দেওয়া এবং স্পিন-সহায়ক পিচে তিনজন পেসার নামানো—এইসব সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত করেছে। লেখকের মতে, এই হার আসলে পরিকল্পনা ও পিচ রিডিং-এর ব্যর্থতা।
চট্টগ্রামের সাগরিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আবারও হারের ছায়ায় শুরু করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজের ইনিংস ছিল নিয়ন্ত্রিত অথচ আক্রমণাত্মক। সাই হোপ ও রভম্যান পাওয়েল ১৫০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়ে দলকে নিয়ে যান ১৬৫ রানে—মাত্র ৩টি উইকেট হারিয়ে। তাদের ব্যাটিংয়ে ছিল শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের বোলিংয়ে ছিল ছন্দহীনতা।
বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হয় ঝড়ো কিন্তু অস্থির ভঙ্গিতে। ওপেনার তানজিদ তামিম ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ১৫ রানের ছোট্ট ক্যামিও খেলেও এক লুজ ডেলিভারিতে ক্যাচ তুলে দেন লং অফে। ক্যাপ্টেন লিটন দাস দারুণ এক রিভার্স সুইপে চার মারলেও পরের বলেই আখিল হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। সেই আখিলই পরে পাখির মতো উড়ে অনবদ্য ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সূচনা করেন।
সাইফ, শামীম দ্রুত ফিরলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন হৃদয়। সোহান যখন ছয় নম্বরে নামেন, তখনও পাওয়ারপ্লে’র দুই বল বাকি ছিল। শেষ দিকে তানজিম সাকিবের ২৭ বলে ৩৩ ও নাসুম আহমেদের ১১ বলে ২০ রানের ইনিংস কেবল ব্যবধান কমিয়েছে, জয়ের আশা নয়।
বাংলাদেশ অল-আউট হয় ১৪৯ রানে, ২ বল বাকি থাকতেই—ফলাফল, ষোল রানের হার। এই ম্যাচে হারের সূচনা হয়েছিল মাঠে নয়, স্কোয়াড ঘোষণার সময়েই। মাত্র পাঁচজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নিয়ে দল সাজানোটা ছিল প্রথম ও সবচেয়ে বড় ভুল।
সামীমের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—তার উইকেট কার্যত ‘ফ্রি উইকেট’ বলেই ধরা হচ্ছে। স্কোয়াড দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, বাংলাদেশ ‘স্লগার স্ট্রাটেজি’ নিয়ে নেমেছে। রিশাদ মাঝে মাঝে ভালো ব্যাট চালাতে পারে বলেই তাকে অলরাউন্ডার হিসেবে সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু তাহলে তাকে ৯ নম্বরে নামানো হলো কেন?
তানজিম সাকিব ৭ নম্বরে নেমে ৩৩ করলেই কি প্রতিদিন এমন ইনিংসের আশা করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তরই বলে দেয়—এই পরিকল্পনায় আত্মবিশ্বাসের চেয়ে বেশি ছিল ‘জুয়া’।
উইন্ডিজ কোচ ড্যারেন সামি আগেই বুঝে নিয়েছিলেন, সাগরিকার পিচে স্লো বলই হবে গেমচেঞ্জার। স্পিনারদের জন্য ছিল আদর্শ পরিবেশ—টার্ন, গ্রিপ, ভ্যারিয়েশন—সবই তাদের পক্ষে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে তিনজন পেসার নিয়ে মাঠে নামে!
মুস্তাফিজ ছিলেন উইকেটশূন্য, রিশাদ নেন ১ উইকেট ৪০ রান খরচে, তাসকিন নেন ২ উইকেট। বাকি বোলারদের কেউই প্রভাব ফেলতে পারেননি—যা স্পষ্ট করে দেয়, পিচ রিডিং-এ বাংলাদেশ আবারও ব্যর্থ।
অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো
১. বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং ব্যর্থতার ইতিহাসে ভুগছে, তখন মাত্র পাঁচ ব্যাটসম্যান নিয়ে নামার যুক্তি কী?
২. শামীমের বদলে দলে কি আর কোনো মিডলঅর্ডার ব্যাটার নেই?
৩. জাকের, অংকন, সৌম্য, শান্ত, মিরাজ—এরা কি সবাই শামীমের চেয়ে খারাপ?
৪. স্পিন সহায়ক উইকেটে তিন পেসার নেওয়া মানে কি ম্যানেজমেন্ট পিচই পড়তে পারেনি?
বাংলাদেশ আজ ষোল রানে হেরেছে, কিন্তু আসলে হেরেছে অনেক আগেই। হেরেছে নির্বাচনে, পরিকল্পনায়, আর নিজের ভুল বোঝাবুঝিতে।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
1
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখজনক
0
চমৎকার
0