সাতোশি নাকামোটো থেকে জ্যাক দ্য রিপার, ইতিহাসের ১০ রহস্যমানব

বিটকয়েনের উদ্ভাবক সাতোশি নাকামোটো থেকে জ্যাক দ্য রিপার এবং ডি.বি. কুপার। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ১০টি অজ্ঞাত পরিচয়ের রহস্য এবং তাদের অমীমাংসিত গল্পের গভীরে প্রবেশ করুন।

নভেম্বর 23, 2025 - 13:00
নভেম্বর 23, 2025 - 13:03
 0  5
সাতোশি নাকামোটো থেকে জ্যাক দ্য রিপার, ইতিহাসের ১০ রহস্যমানব
সাতোশি নাকামোটো থেকে জ্যাক দ্য রিপার, ইতিহাসের ১০ রহস্যমানব

১. সাতোশি নাকামোটো

বিটকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সির উদ্ভাবক হিসেবে খ্যাত সাতোশি নাকামোটো হলেন একজন রহস্যময় ব্যক্তি। অক্টোবর ২০০৮ সালে বিটকয়েনের সাদা কাগজ (পেপার) প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী দুই বছর ধরে ব্লকচেইন উন্নয়নের কাজে সক্রিয় থাকার পর ২০১০ সালে আচমকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। বর্তমানে বিটকয়েন কমিউনিটির সবচেয়ে বড় রহস্য হলো সাতোশির প্রকৃত পরিচয় কী। তার আসল নাম, জাতীয়তা এবং ঠিকানা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি

 

২. জ্যাক দ্য রিপার

উনিশ শতকের শেষভাগে লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় ‘জ্যাক দ্য রিপার’ নামে পরিচিত একটি অজ্ঞাত সিরিয়াল খুনি সক্রিয় ছিলেন। পাঁচজন সম্ভ্রমহীন নারী খুনের এই ঘটনাটি তাকে অতি ভয়ংকর করে তুলেছিল। পরবর্তী তদন্তে পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে পারেনি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে

 

৩. জোডিয়াক খুনি

জোডিয়াক খুনি হলেন ১৯৬৮–১৯৬৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো উপকূলে সক্রিয় এক অজ্ঞাত সিরিয়াল কিলার। পাঁচজন হত্যাকাণ্ড নিশ্চিতভাবে তার নামে প্রত্যয়ন করা হলেও তার আসল পরিচয় ধরা পড়েনি। অপরাধ স্বীকার করে সংবাদপত্রে ধাঁধা-সম্বলিত চিঠি পাঠানোর কারণে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে, এবং আজও এটি আমেরিকার অন্যতম বিখ্যাত অসমাধিত হত্যার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত

 

৪. ডি.বি. কুপার

ডি.বি. কুপার (ড্যানিয়েল কুপার) ১৯৭১ সালের নভেম্বরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট ফ্লাইট ৩০৫ বিমানের একজন পরিচিতবিহীন অপহরণকারী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন। তিনি ২ লক্ষ মার্কিন ডলারের মুক্তিপণের বিনিময়ে সিয়াটল থেকে যাত্রী-কর্মীদের ছেড়ে দিয়ে বিমানের পেছন দরজা খুলে রাতে একটি প্যারাশুটে লাফ দিয়েছিলেন। এরপর থেকে কুপারের অস্তিত্ব-অবস্থান-পরিণতি রহস্যেই রয়েছে; FBI ২০১৬ সাল পর্যন্ত অনুসন্ধান চালালেও তার আসল পরিচয় বা অবস্থানের ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য বের করতে পারেনি

 

৫. সোমার্টন ম্যান

সোমার্টন ম্যান (Tamam Shud মামলার ব্যক্তি) ১৯৪৮ সালের ১ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের সোমার্টন বিচে পাওয়া অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ ছিল। তার পকেটে পাওয়া ‘তমাম শুদ’ (ফার্সি: ‘It is finished’) লেখা একটি খসড়া টুকরো রহস্যের সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী তদন্তে এই ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গভীর রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ লাশের ব্যক্তিত্ব, মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সূত্রপাত আজও ঠিকমতো জানা যায়নি

 

৬. লোহার মুখোশ পরা মানুষ

১৭শ শতাব্দীর শেষভাগে ফ্রান্সের রাজা লুই চৌদ্দম্বরের শাসনের সময় একজন অজ্ঞাত বন্দী গোপনে আটক রাখা হয়, যিনি সবসময় একটি লোহার মুখোশ পরে থাকতেন। ১৭০৩ সালে Bastille’ জেলে তার মৃত্যু হয়, কিন্তু তার আসল পরিচয় আর প্রকাশ পায়নি। ইতিহাসে বহু তত্ত্ব উঠেছে – কেউ বলেছে তিনি রাজতন্ত্রের গোপন সদস্য, আবার কেউ বলেছে উচ্চপদস্থ সেনাপতি হতে পারেন – কিন্তু কোনো একটি নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার মধ্যে এই রহস্য টিকে রয়েছে

 

৭. কাউন্ট অ সেন্ট জার্মেইন

১৭০০–১৭৮৪ সালের মধ্যে ইউরোপের উচ্চবিত্ত মহলে সক্রিয় ছিলেন কাউন্ট অ সেন্ট জার্মেইন, যিনি নিজেকে এক অ্যালকেমিস্ট ও দার্শনিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার প্রকৃত নাম বা উৎস সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে কাজ করতেন এবং নিজেকে ৫০০ বছর বয়সী দাবি করতেন, এমনকি ভলতারে তাকে ‘বিস্ময়মানুষ’ আখ্যা দিতে হয়েছিল যিনি ‘মরে না’। এই অলৌকিক দাবির কারণেই কাউন্টের জীবন আজও রহস্যময়

 

৮. এজেন্ট ৩৫৫

কোডনাম এজেন্ট ৩৫৫ নামে পরিচিত ওই নারী আমেরিকান বিপ্লবযুদ্ধে (১৭৭৭–১৭৮০) গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি কুলপার গুপ্তবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রকৃত নাম কখনো জানা যায়নি। তাই শুধুমাত্র ‘৩৫৫’ হিসেবেই তিনি ইতিহাসে রয়ে গেছেন; তার প্রকৃত পরিচয় আজও অজানা

 

৯. জন টোয়েলভ হকস

জন টোয়েলভ হকস হলেন সেই লেখক যার আসল পরিচয় এখনও অজানা। তিনি ‘দ্য ট্রাভেলার’ নামের ডাইস্টোপিয়ান উপন্যাসের রচয়িতা, কিন্তু সবটাই ছদ্মনামে প্রকাশিত। জন টোয়েলভ হকস নিজে জনসম্মুখে প্রকাশ পেতে চাননি, তাই তার প্রকৃত পরিচয় আজও রহস্যময় অন্ধকারেই আড়াল আছে

 

১০. হোলের মানুষ

ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলে (রন্ডোনিয়া রাজ্যে) বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী এক আদিবাসীকে ‘হোলের মানুষ’ বলা হয়। ১৯৭০–৯০ দশকে তার গোত্রের বাকিরা নির্মমভাবে হত্যা করা হলে তিনি একাই বেঁচে ছিলেন, এবং ২০২২ সালে তিনি মারা যান। তার নাম, ভাষা বা গোত্রের নাম আজও অজানা আছে, এবং তার সম্পর্কে সংরক্ষিত তথ্যের অভাবে তিনি রয়ে গেছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি হিসেবে

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান আমার পুরো নাম: মোঃ মেহেদি হাসান। কলম নাম: মি. বিকেল। আমি ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। আমি পেশায় একজন লেখক ও ব্লগার। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ন করেছি। আমার লেখা প্রথম বই ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে (ছোট গল্প সংকলন)’ প্রকাশিত হয় গত ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ভারতে এবং ১ম জানুয়ারী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে। বইটি বর্তমানে রকমারি.কম -এ উপলব্ধ। বর্তমানে আমি একটি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছি। এছাড়াও আমি মাইক্রোসফটে ডেভেলপার প্রোগ্রামে গত ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি গত ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। বর্তমানে এই ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ প্রতিষ্ঠানের টিম কতৃক। আমার সম্পর্কে বা আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অথবা, আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করুন: [email protected] -এই ঠিকানায়। অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম! (License notice - applies to this profile photo only: This photo is licensed under the Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International (CC BY-SA 4.0). License: https://creativecommons.org/licenses/by-sa/4.0/, Attribution: MD Mehedi Hasan, Source: https://oviyatri.com/profile/mrbikel)