দত্ত পরিবার | পর্ব ০২: ষষ্ঠ প্রতিকৃতির মানুষ

দত্ত ভবনে ছয় মাস কাটানোর পর একটি পুরোনো পারিবারিক প্রতিকৃতিতে হাসান আবার নিজের মুখ দেখতে পায়। দেশভাগ, পূর্ববঙ্গে থেকে যাওয়া দত্ত পরিবার এবং মুছে দেওয়া একটি নাম রহস্যকে আরও গভীর করে।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ৫
দত্ত পরিবার | পর্ব ০২: ষষ্ঠ প্রতিকৃতির মানুষ
দত্ত ভবনের পুরোনো সংরক্ষণকক্ষে নিজের মতো দেখতে ষষ্ঠ পূর্বপুরুষের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান

অভিযাত্রী ধারাবাহিক উপন্যাস

দত্ত পরিবার

পর্ব ০২: ষষ্ঠ প্রতিকৃতির মানুষ

লেখক: মোঃ মেহেদি হাসান

দত্ত পরিবার ধারাবাহিক

১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগে বিচ্ছিন্ন একটি পরিবার, ১৯৭১ সালের রহস্যময় ছবি এবং বর্তমান সময়ে ফিরে আসা একটি পরিচিত মুখকে কেন্দ্র করে ইতিহাস, রহস্য, হরর, পারিবারিক নাটক ও ভালোবাসার দীর্ঘ আখ্যান।

একটা বিষয়ে সহমত না হয়ে পারছি না। আর তা হলো, মানুষ অনেক কিছু ছাড়া বাঁচতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া নয়।

কথাটা হয়তো সত্য।

স্মৃতি দত্ত আমাকে বড় বোনের মতো দেখভাল করছেন। আমি কখন ঘুম থেকে উঠছি, দুপুরে খেয়েছি কি না, রাতে কাশি হচ্ছে কেন, চাকরির খোঁজে কোথায় যাচ্ছি, সবকিছুরই হিসাব রাখছেন। কখনো খাবারের থালা পাঠিয়ে দিচ্ছেন, কখনো নতুন জামা এনে বিছানার ওপর রেখে যাচ্ছেন।

তাঁর চোখে এক অদ্ভুত মায়া আছে। এক অদ্ভুত ভালোবাসা আছে। সেই মায়া মানুষকে খুব কাছে টানে।

তবে মাঝে মাঝে মনে হয়, মায়াটা ঠিক আমার জন্য নয়। আমার মুখের আড়ালে তিনি অন্য কাউকে দেখছেন। বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া এমন কাউকে, যার নাম তিনি আমার সামনে উচ্চারণ করতে চান না।

আলমারির নিচ দিয়ে বেরিয়ে আসা সেই পুরোনো ছবিটি এখনো আমাকে পিছু ছাড়েনি।

ছবিটির নিচে লেখা ছিল, “দত্ত পরিবার, ১৯৭১।”

হলুদ হয়ে যাওয়া পারিবারিক ছবিটির ডান পাশে কোট ও টাই পরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটির মুখ ছিল অবিকল আমার।

সেদিন স্মৃতি দত্ত ছবিটি দেখে বিস্মিত হননি। বরং এমন একটি কথা বলেছিলেন, যা এত দিনেও আমার মাথা থেকে বের হয়নি।

“ছবিটা শেষ পর্যন্ত ওর হাতে পৌঁছেই গেল?”

কথাটির অর্থ একটাই হতে পারে। তিনি ছবিটি চিনতেন। ছবির যুবকটির পরিচয়ও সম্ভবত জানতেন। সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হলো, ছবিটি একদিন আমার হাতে পৌঁছাবে, সেটিও যেন তাঁর আগে থেকেই জানা ছিল।

সেই ঘটনার পর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে দত্ত ভবনে আমার ছয় মাস পূর্ণ হতে চলেছে।

এই কয়েক মাসে ছবিটির ব্যাখ্যা জানতে বহুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু স্মৃতি দত্ত কখনো বলেন, পৃথিবীতে একই রকম দেখতে মানুষ থাকতেই পারে। কখনো বলেন, সব প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে পেলে মানুষের বেঁচে থাকার আগ্রহ কমে যায়।

স্নেহাকে প্রশ্ন করেও বিশেষ লাভ হয়নি। ছবিটির প্রসঙ্গ তুললেই সে আমার মুখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। তারপর দেয়ালে সাড়ে বারোটায় থেমে থাকা ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে থাকে।

ঘড়িটি এখনো সাড়ে বারোটায় থেমে আছে।

একজন কারিগর এসে সেটি ঠিক করেছিল। ঘণ্টাখানেক চলার পর ঘড়িটি আবার সাড়ে বারোটায় এসে বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার আর কাউকে ডাকা হয়নি।

দত্ত ভবনে এমন অনেক কিছু আছে, যার ব্যাখ্যা কেউ দেয় না। এখানে বেশি দিন থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা চাওয়ার অভ্যাসও হারিয়ে ফেলে।

হয়তো বৃদ্ধ হলে মানুষের হাত থেকে বন্ধুরা একে একে ফসকে যায়। কেউ দূরে সরে যায়, কেউ ভুলে যায়, আর কেউ ওপারে চলে যায়। তখন জীবনের বাকি সময় একাই কাটাতে হয়।

হোক সে জমিদারের উত্তরসূরি কিংবা কোনো প্রতিপত্তিশালী মানুষ। একাকিত্বের কাছে এসব পরিচয়ের কিচ্ছু আসে-যায় না।

তবে স্মৃতি দত্তকে পুরোপুরি একা মনে হয় না।

মাঝেমধ্যে মনে হয়, এই বাড়ির প্রতিটি দেয়াল তাঁর পরিচিত। প্রত্যেকটি বন্ধ দরজার ওপারে তাঁর জন্য কোনো না কোনো স্মৃতি অপেক্ষা করছে। তিনি কখনো করিডরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন, যেন দূর থেকে কারও পায়ের শব্দ শুনছেন। কখনো পুরোনো ছবির ধুলো মুছতে মুছতে তাদের সঙ্গে খুব নিচু স্বরে কথা বলেন।

একদিন কী যেন দরকারে মিসেস দত্ত আমাকে ডেকে পাঠান।

তাঁর ঘরে গিয়ে দেখি, তিনি জানালার পাশে বসে আছেন। বাইরের আকাশ মেঘলা। বাগানের শুকনো পাতাগুলো বাতাসে উড়ছে। তাঁর ডান হাতের অনামিকায় সেই নীল পাথরের আংটি।

ছবিটি হাতে পাওয়ার দিন আংটিটি তাঁর আঙুলে ছিল না। তখন আংটির জায়গায় একটি গভীর কাটা দাগ দেখেছিলাম। এখন আংটিটি আবার সেই দাগ ঢেকে রেখেছে।

কাছে যেতেই তিনি প্রশ্ন করেন, “চাকরি পেলে কোথাও?”

“না, দিদি।”

কবে থেকে তাঁকে দিদি বলতে শুরু করেছি, মনে নেই। সম্ভবত মানুষ যখন কারও বাড়িতে ছয় মাস বিনা ভাড়ায় থাকে, তখন সম্পর্কটির একটি সম্মানজনক নাম দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

তিনি আবার প্রশ্ন করেন, “এখন কী করবে ভাবছ?”

“সত্যি বলতে, গত ছয় মাস এখানেই শুয়ে-বসে কেটে গেল। চাকরির চেষ্টা করছি, কিন্তু আমার যোগ্যতা আর চাকরিদাতাদের প্রয়োজনের মধ্যে একটা ঐতিহাসিক দূরত্ব আছে। বাকি কিছুদিন যদি একটু সময় দিতেন!”

“সময় নিয়ে ভাবতে হবে না। তুমি তোমার চেষ্টা অব্যাহত রাখো।”

আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে যাব, এমন সময় তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে বলেন, “খালি হাতে তো আমি আমার মেয়েটাকে তোমাকে দিতে পারি না।”

“খালি হাতে তো আমি আমার মেয়েটাকে তোমাকে দিতে পারি না।”

শেষের বাক্যটি শুনে ধাতস্থ হতে আমার একটু সময় লাগে।

তিনি কথাটা এমনভাবে বলেন, যেন বাইরে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

“কী বললেন?”

“কোন কথাটা?”

“আপনার মেয়েকে আমাকে দেওয়ার কথা।”

“আমার তো একটাই মেয়ে।”

“সেটা জানি। কিন্তু স্নেহাকে আমার হাতে দেওয়ার প্রসঙ্গ এল কোথা থেকে?”

“তুমি কি তাকে পছন্দ করো না?”

প্রশ্নটা শুনে মনে হলো, আদালতে সাক্ষী দিতে এসে নিজের বিরুদ্ধেই জবানবন্দি দিয়ে ফেলেছি।

“কে বলেছে?”

“সব কথা কি কাউকে বলতে হয়?”

“স্নেহা কিছু বলেছে?”

“সে তোমাকে স্নেহা বলে ডাকতে দিয়েছে?”

এবার বুঝলাম, নিজের অজান্তে ফাঁদে পা দিয়েছি।

“একই বাড়িতে ছয় মাস থাকার পরও যদি তাকে ‘মিস দত্ত’ বলি, তাহলে ব্যাপারটা সরকারি চিঠির মতো শোনাবে।”

স্মৃতি দত্ত মৃদু হাসেন।

“তাকে দেখলে তোমার কথার গতি বেড়ে যায়। সে চলে গেলে তুমি দরজার দিকে তাকিয়ে থাকো।”

“এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।”

“ভালোবাসা কবে থেকে বিজ্ঞান মেনে চলে?”

“তার মানে সত্যিই আমাকে জামাই বানানোর পরিকল্পনা করছেন?”

“আগে নিজের পায়ে দাঁড়াও। তারপর অন্য কাউকে নিয়ে দাঁড়ানোর কথা ভেবো।”

কথাটা শুনে হাসি থেমে যায়।

তিনি ঠিকই বলেছেন। স্নেহাকে আমার ভালো লাগে। খুব বেশি ভালো লাগে। সকালে তার হাতে তৈরি কফি না এলে দিনটি অসম্পূর্ণ মনে হয়। সে ঘরে ঢুকলে আমি নিজের অজান্তে শার্টের বোতাম পরীক্ষা করি। সে চলে গেলে কথোপকথনটি বারবার মনে করি।

কিন্তু ভালো লাগা আর জীবন এক জিনিস নয়।

স্নেহা একটি প্রাচীন ও সম্পদশালী পরিবারের সন্তান। আর আমি অন্যের কর্মস্থলে হাজিরা দিয়ে জীবিকা চালানো একজন আশ্রিত মানুষ। ছয় মাস ধরে চাকরি খুঁজছি। চাকরি আমাকে খুঁজছে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

তার ওপর আরও বড় একটি প্রশ্ন রয়েছে।

স্নেহা কি আমাকে আমার নিজের জন্য দেখছে? নাকি আমার মুখের মধ্যে ১৯৭১ সালের সেই অচেনা মানুষটিকে খুঁজছে?

কথার দিক ঘুরিয়ে আমি বলি, “মাফ করবেন, একটা প্রশ্ন করতে পারি?”

“নিশ্চয়ই, করতে পারো।”

“বাংলা ভাগের পর আপনাদের পরিবার পূর্ববঙ্গেই থেকে গেল কেন? কখনো মনে হয়নি কলকাতায় চলে যাওয়ার কথা?”

প্রশ্নটা শুনে তাঁর মুখের হাসি ধীরে ধীরে মুছে যায়।

তিনি কিছুক্ষণ জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকেন। বাগানের একটি শুকনো পাতা বাতাসে ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে পড়ে।

তারপর তিনি খুব নিচু স্বরে বলেন, “১৯৪৭ সালে আমার জন্ম হয়নি। কিন্তু সেই বছরের গল্প শুনে শুনেই বড় হয়েছি। আমাদের পরিবারের কেউ কেউ পশ্চিমবঙ্গে চলে যায়। কেউ কলকাতায়, কেউ আরও দূরে। যারা চলে যায়, তাদের সবার যাওয়ার কারণ এক ছিল না। আর যারা থেকে যায়, তাদেরও কোনো একটি কারণে থাকা হয়নি।”

“আপনাদের অংশটি থেকে গেল কেন?”

“বাড়ি ছিল। জমি ছিল। দায়িত্ব ছিল।”

“শুধু সম্পত্তির জন্য?”

“মানুষ শুধু সম্পত্তির জন্য থেকে যায় না, হাসান। কখনো কখনো মানুষ এমন কিছুর জন্য থেকে যায়, যাকে বাক্সে ভরে সঙ্গে নেওয়া যায় না।”

“কী ধরনের জিনিস?”

“স্মৃতি। প্রতিশ্রুতি। কখনো অপরাধবোধ।”

শেষের শব্দটি কানে আটকে যায়।

“অপরাধবোধ?”

“তুমি অনেক প্রশ্ন করো।”

“আমার পেশাই অন্যের জায়গায় উপস্থিত থাকা। তাই অন্যের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে কৌতূহল একটু বেশি।”

স্মৃতি দত্ত এবার হাসেন না।

আমি আবার বলি, “কখনো কলকাতায় চলে যাওয়ার ইচ্ছা হয়নি?”

“ইচ্ছা হয়নি, তা নয়। বহুবার হয়েছে। কিন্তু ইচ্ছার চেয়ে এই মাটির প্রতি ভালোবাসা বেশি ছিল।”

একটু থেমে তিনি বলেন, “আর এখানে আমার স্বামী ছিলেন। তাঁর হাঁটার শব্দ, তাঁর কণ্ঠ, তাঁর স্পর্শ এই বাড়ির দেয়ালের প্রতিটি অংশে লেগে আছে। আমি চলে গেলে সেগুলো কার কাছে থাকবে?”

কথাটা বলার সময় তাঁর চোখে এমন একটি শূন্যতা দেখি, যা দত্ত ভবনের বন্ধ ঘরগুলোর চেয়েও গভীর।

“আমি দুঃখিত, দিদি।”

“এই দেখো, তুমি আবার দুঃখিত কেন?”

“আপনার স্বামীর কথা মনে করিয়ে দিলাম।”

“যাকে কখনো ভুলিনি, তাকে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়া যায় না।”

তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান।

“চলো। সংরক্ষণকক্ষে যাই। তোমাকে কিছু দেখাব।”

আমরা করিডর পেরিয়ে বাড়ির শেষ মাথার দিকে এগিয়ে যাই।

দত্ত ভবনের এই অংশে দিনের আলোও পুরোপুরি পৌঁছায় না। উঁচু জানালা দিয়ে আলো ঢোকে, কিন্তু মেঝে পর্যন্ত আসার আগেই পুরোনো দেয়াল যেন তা শুষে নেয়। দুই পাশে ঝুলে থাকা প্রতিকৃতিগুলোর মানুষ আমাদের হেঁটে যাওয়া লক্ষ করছে বলে মনে হয়।

করিডরের শেষে পাশাপাশি দুটি দরজা।

বাঁ পাশের দরজাটি বড় ও ভারী। ডান পাশেরটি তুলনামূলক ছোট, কিন্তু তার ওপর মোটা লোহার বন্ধনী ও তালা ঝুলছে। বাড়িতে আসার পর যে নিষিদ্ধ পশ্চিমঘরের কথা জেনেছিলাম, সম্ভবত সেটিই ডান পাশের দরজা।

আমি সেদিকে তাকাতেই স্মৃতি দত্ত বলেন, “ওদিকে নয়।”

“ভেতরে কী আছে?”

“তোমাকে আজ যা দেখাতে এনেছি, তা বাঁ পাশের ঘরে।”

অর্থাৎ ডান পাশের দরজার প্রশ্নটি তিনি সচেতনভাবেই এড়িয়ে যান।

স্মৃতি দত্ত আঁচলের ভাঁজ থেকে একটি লম্বা পিতলের চাবি বের করেন। বাঁ পাশের দরজার তালা খুলতেই কবজা থেকে ভারী শব্দ বের হয়।

দরজার ভেতর থেকে স্যাঁতসেঁতে কাঠ, পুরোনো কাগজ, কর্পূর আর বহুদিন বন্ধ থাকা কাপড়ের মিশ্র গন্ধ আসে।

ভেতরে পা রেখেই আমি থেমে যাই।

এটি সাধারণ কোনো স্টোররুম নয়। বিশাল একটি পারিবারিক আর্কাইভ।

ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত অস্পষ্ট। ছাদ ছুঁয়ে থাকা কাঠের তাকগুলো পুরোনো বই, দলিল, ধাতব সিন্দুক, পিতলের বাসন, ভাঙা বাদ্যযন্ত্র, ঘড়ি, কাপড়ে মোড়ানো মূর্তি আর নামহীন অসংখ্য বস্তুতে পূর্ণ।

এক পাশে কয়েকটি পুরোনো ট্রাঙ্ক রাখা।

কলিকাতা, ১৯৪৭

পূর্ববঙ্গ

দুটি বাক্স পাশাপাশি রাখা। অথচ তাদের মাঝখানে এমনভাবে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে, যেন অদৃশ্য কোনো সীমান্ত এখনো তাদের আলাদা করে রেখেছে।

আমি চারদিকে তাকিয়ে বলে উঠি, “দিদি, এই স্টোররুম তো দেখছি বিশাল একটা আর্কাইভ। আমার ফোনের বত্রিশ গিগাবাইট স্টোরেজের চেয়েও বড় মনে হচ্ছে।”

স্মৃতি দত্ত হেসে ফেলেন।

“হাসালে। তুমি বরং পেইন্টিংগুলো দেখো।”

ঘরের উত্তর দেয়ালে পাশাপাশি দশটি বড় তৈলচিত্র ঝুলছে। প্রতিটির ফ্রেম ভারী কাঠের। কোথাও ফুল-লতার নকশা, কোথাও পাখি, কোথাও অচেনা জন্তুর মুখ খোদাই করা।

প্রথম প্রতিকৃতিতে ধুতি ও লম্বা পোশাক পরা একজন কঠোর মুখের মানুষ। দ্বিতীয়জনের হাতে বই। তৃতীয়জনের কোমরে তলোয়ার। চতুর্থজনের পেছনে নদী ও পালতোলা নৌকা। পঞ্চমজনের মুখের একটি অংশ অস্বাভাবিক ছায়ায় ঢাকা।

শেষ প্রতিকৃতিতে শান্ত মুখের একজন মানুষ। পরনে সাদা পাঞ্জাবি, গায়ে গাঢ় রঙের শাল।

আমি বলি, “এমা, এখানে তো দশজন মহামানবের ছবি! কারা এঁরা? সবগুলোই কি আপনার স্বামী ছিলেন?”

“বজ্জাত কোথাকার!”

“নিশ্চিত হতে চাইলাম। জমিদার পরিবারের ইতিহাসে সাধারণ পরিবারের চেয়ে বেশি ঘটনা থাকে।”

তিনি শেষ প্রতিকৃতিটির দিকে ইশারা করেন।

“শেষের এই প্রতিকৃতিটি আমার স্বামীর। বাকিরা তাঁর পূর্বপুরুষ।”

আমি তাঁর স্বামীর প্রতিকৃতির দিকে তাকাই। মুখটি শান্ত। কিন্তু চোখ দুটিতে এমন একটি অপেক্ষা আছে, যেন তিনি এমন কারও ফেরার অপেক্ষা করছিলেন, যে কখনো ফিরে আসেনি।

“অদ্ভুত তো! কেউ এসব ঐতিহ্য এখনো অনুসরণ করে?”

“অন্যরা করে কি না জানি না। তবে দত্ত পরিবার করে আসছে।”

আমি এক প্রতিকৃতি থেকে অন্যটিতে চোখ সরাতে সরাতে ষষ্ঠটির সামনে এসে থেমে যাই।

মুহূর্তের জন্য আমার বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে আসে।

লোকটির বয়স ত্রিশের বেশি নয়। পরনে রাজকীয় পোশাক, কাঁধে গাঢ় লাল চাদর, কোমরে খাপবন্দি ছুরি। মুখে ঘন দাড়ি ও গোঁফ।

তবু চোখ দুটি আমার।

ভ্রুর বাঁক আমার। নাক, ঠোঁট, চোয়ালের রেখা পর্যন্ত আমার মুখের সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি ঠোঁটের ডান পাশের সামান্য উঁচু অংশটিও একই।

আমি প্রতিকৃতিটির আরও কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি

“দিদি, ষষ্ঠ লোকটি কে?”

“একেবারে তোমার মতো দেখতে, তাই না?”

“ঠিক তাই! শুধু রাজকীয় এই পোশাকের বদলে শার্ট-প্যান্ট পরিয়ে দিন। দাড়ি-গোঁফ পরিষ্কার করে দিলে আমাদের মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে তদন্ত কমিটি লাগবে।”

“প্রতিকৃতির দাড়ি কামানো সম্ভব নয়।”

“নতুন করে আঁকা যায়।”

তিনি হাসেন না।

আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বলেন, “একটা কথা জানো? যেদিন তোমাকে প্রথম দেখি, সেদিন আমি একরকম চমকে উঠেছিলাম।”

“১৯৭১ সালের ছবির মানুষটির জন্য?”

তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন না।

তাঁর নীরবতাই আমার প্রশ্নের অর্ধেক উত্তর হয়ে দাঁড়ায়।

“তার মানে রেস্তোরাঁয় আমাকে দেখে শুধু ওই ছবিটির কথা মনে পড়েনি। এই প্রতিকৃতির কথাও মনে পড়েছিল?”

“হ্যাঁ।”

একটি ছোট শব্দ। কিন্তু শব্দটির ওজন যেন পুরো ঘরের চেয়েও বেশি।

স্মৃতি দত্ত বলেন, “মনে হয় তোমার পুনর্জন্ম হয়েছে।”

“আহা! আমি মুসলিম। এসব জন্মান্তরে বিশ্বাস করি না। একটাই জীবন। মরবও একবার।”

“সেটি তোমার বিশ্বাস। আমি তো সেখানে আঘাত করছি না।”

“কিন্তু আপনার বিশ্বাসের মধ্যে আমাকে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন।”

“আমি আমার বিশ্বাসে তোমাকে খুঁজে পেয়েছি।”

কথাটা শুনে সেই রাতটির কথা মনে পড়ে। স্মৃতি দত্ত আমাকে উদ্ধার করেননি। তিনি আমাকে খুঁজে পেয়েছিলেন।

আমি অস্বস্তি ঢাকতে বলি, “বুঝেছি। এবার আমার সঙ্গে মিশনারি কাণ্ড ঘটাবেন।”

“মানে?”

“আপনার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে আমাকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করবেন।”

“ধ্যাৎ, বুদ্ধু! সারাক্ষণ ফাজলামি।”

“ভয় লাগলে আমার ফাজলামি বেড়ে যায়।”

“তোমার ভয় লাগছে?”

“একই মুখের একজন মানুষকে ১৯৭১ সালের ছবিতে দেখেছি। এখন তারও বহু আগের একটি প্রতিকৃতিতে দেখছি। আনন্দে নেচে ওঠার মতো ঘটনা নয়।”

স্মৃতি দত্ত প্রতিকৃতিটির নিচের দিকে ইশারা করেন।

“তুমি ওই পেইন্টিংটা ভালো করে দেখো।”

প্রতিকৃতির মানুষটির ডান হাত একটি কাঠের চেয়ারের হাতলের ওপর রাখা। অনামিকায় নীল পাথরের একটি আংটি।

ঠিক স্মৃতি দত্তের আঙুলে থাকা আংটির মতো।

আমি তাঁর হাতের দিকে তাকাতেই তিনি আঁচলের ভাঁজে আঙুল ঢেকে ফেলেন।

“আংটিটা কি এই মানুষটির ছিল?”

“এটি দত্ত পরিবারের পুরোনো অলংকার।”

“তার মানে তাঁরই ছিল?”

“আংটি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচতে পারে।”

“সেটা উত্তর নয়।”

“সব সত্য উত্তর হয়ে আসে না।”

প্রতিকৃতির নিচে ধাতব একটি ফলক বসানো। সেখানে নাম ও সাল লেখা থাকার কথা। কিন্তু নামের মাঝখানটি ধারালো কিছু দিয়ে আঁচড়ে নষ্ট করা হয়েছে।

শুধু শেষাংশটি পড়া যায়।

...নাথ দত্ত

নিচে একটি সাল ছিল। সেটিও মুছে দেওয়া হয়েছে।

“নাম আর সাল কে নষ্ট করেছে?”

“জানি না।”

“দিদি, এই বাড়িতে এমন কোনো প্রশ্ন আছে, যার উত্তর আপনি সরাসরি দেন?”

“আছে।”

“একটি উদাহরণ দিন।”

তিনি আমার চোখের দিকে তাকান।

“আমি জানি, তোমাকে এখানে আনা ভুল হয়নি।”

“আমাকে এখানে কেন আনা হয়েছে?”

“সেটি এখনো তোমার জানার সময় হয়নি।”

আবার সময়।

এই বাড়ির সব গোপনীয়তার একমাত্র পাহারাদার যেন সময়। অথচ বাড়ির সবচেয়ে বড় ঘড়িটিই সাড়ে বারোটার পর যেতে পারে না।

আমি প্রতিকৃতির পেছনের দৃশ্যের দিকে তাকাই। সেখানে দত্ত ভবনের একটি পুরোনো রূপ আঁকা। বর্তমান বাড়িটির সঙ্গে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। পশ্চিম পাশে উঁচু একটি অংশ দেখা যাচ্ছে, যা এখন আর নেই। ছাদের ওপর ছোট একটি গম্বুজ বা পর্যবেক্ষণকক্ষের মতো স্থাপনা।

“প্রতিকৃতিটি কত পুরোনো?”

“দুই শতাব্দীর কাছাকাছি।”

“তাহলে তখন কার শাসন চলছিল? মুঘল আমল?”

“সঠিক সাল না জেনে অনুমান কোরো না।”

“সালটাও তো কেউ মুছে দিয়েছে।”

“হয়তো সে চেয়েছিল, মুখটি থাকুক কিন্তু সময়টি হারিয়ে যাক।”

কথাটা শুনে শরীরে হালকা কাঁপুনি জাগে।

সত্যিই কি প্রায় দুইশ বছর আগেও আমি ছিলাম?

তখন আমার ভূমিকা কী ছিল?

আমি কি দত্ত পরিবারের কেউ ছিলাম? কোনো কর্মচারী? কোনো শত্রু? না কি এমন একজন মানুষ, যার নাম মুছে দেওয়া প্রয়োজন হয়েছিল কিন্তু মুখটি সরিয়ে ফেলার সাহস কারও হয়নি?

মাথার ভেতর একটার পর একটা প্রশ্ন জমতে থাকে। একসময় মাথাব্যথা শুরু হয়।

স্মৃতি দত্তকে বলি, “দিদি, আজ বরং যাই। ইতিহাসের সঙ্গে এক দিনে অতিরিক্ত পরিচয় হলে বর্তমান জীবন বিপদে পড়ে।”

তিনি মাথা নাড়েন।

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আমি আবার দুটি ট্রাঙ্কের দিকে তাকাই।

একটিতে লেখা, কলিকাতা, ১৯৪৭

অন্যটিতে, পূর্ববঙ্গ

আমি জিজ্ঞেস করি, “কলকাতার ট্রাঙ্কে কী আছে?”

“যারা চলে গিয়েছিল, তাদের কিছু জিনিস।”

“আর পূর্ববঙ্গের বাক্সে?”

“যারা থেকে গিয়েছিল, তাদের হিসাব।”

“মানুষেরও কি বাক্সভেদে হিসাব রাখা হয়?”

স্মৃতি দত্ত কিছুক্ষণ চুপ থাকেন।

“দেশ ভাগ হলে শুধু জমি ভাগ হয় না, হাসান। বাড়ির চাবি, পারিবারিক নাম, মৃত মানুষের স্মৃতি, এমনকি অপরাধবোধও দুই পাশে ভাগ হয়ে যায়।”

“কিন্তু কোনো কিছু কি মাঝখানেও থেকে যায়?”

তিনি এবার সরাসরি আমার দিকে তাকান।

“থাকে। আর মাঝখানে থেকে যাওয়া জিনিসই সবচেয়ে বেশি দিন ফিরে আসার পথ খোঁজে।”

কথাটির অর্থ জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু মাথাব্যথা আরও বেড়েছে।

সংরক্ষণকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসি।

স্মৃতি দত্ত দরজায় তালা দেন। পাশের নিষিদ্ধ পশ্চিমঘরটি তখনো বন্ধ। দরজার নিচের অন্ধকার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এসে আমার পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে যায়।

ভেতর থেকে খুব নিচু স্বরে কারও কাশির শব্দ আসে।

আমি থেমে যাই।

“ওই ঘরে কেউ আছে?”

স্মৃতি দত্ত তালা থেকে হাত সরান না।

“পুরোনো বাড়িতে নানা রকম শব্দ হয়।”

বাড়িতে আসার রাতেও তিনি একই কথা বলেছিলেন।

আমি আর প্রশ্ন করি না।

নিজের ঘরে ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়াই। ষষ্ঠ প্রতিকৃতির মানুষটির মুখ মনে করার চেষ্টা করি। দাড়ি-গোঁফ বাদ দিলে সত্যিই আমি।

উঁহু, পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি না।

কিন্তু কোনো বিষয়ে বিশ্বাস না করলেই কি সেই বিষয়টির অস্তিত্বের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়?

নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করি, একই রকম দেখতে মানুষ পৃথিবীতে থাকতেই পারে। ১৯৭১ সালের মানুষটি আমার কোনো পূর্বপুরুষ হতে পারে। ষষ্ঠ প্রতিকৃতির মানুষটিও হয়তো একই বংশের আরও পুরোনো কেউ।

কিন্তু তাহলে তাঁদের দুজনের সঙ্গে দত্ত পরিবারের সম্পর্ক কী?

আর আমার পরিবার কেন কখনো এই সম্পর্কের কথা বলেনি?

মায়ের কথা মনে পড়ে।

গত ছয় মাসে অনেকবার ফোন করেছি। বাবার ওষুধের জন্য সামান্য কিছু টাকা পাঠাতেও পেরেছি। কিন্তু নিজের জন্ম, পূর্বপুরুষ বা পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে কখনো কিছু জানতে চাইনি।

মাকে কি প্রশ্ন করা উচিত?

আবার মনে হয়, একটি পুরোনো প্রতিকৃতি দেখে নিজের মাকে ফোন করে যদি বলি, “মা, আমাদের বংশে কোনো দত্ত ছিল?” তাহলে তিনি সম্ভবত আমার চাকরির আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

রাত ঘনিয়ে আসে।

দত্ত ভবনের করিডর ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। দূরের কোনো ঘড়ি বারোবার ঘণ্টা বাজায়। কিন্তু আমার দেয়ালের ঘড়িটি সাড়ে বারোটাতেই স্থির।

বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করি।

ঘুম আসে না।

১৯৪৭ সালের দুটি বাক্স মনে পড়ে।

একটি কলকাতার।

অন্যটি পূর্ববঙ্গের।

দুটি বাক্স পাশাপাশি থেকেও আলাদা।

একই পরিবারের মানুষের মতো।

তারপর ষষ্ঠ প্রতিকৃতির মানুষটির চোখ মনে পড়ে। ছবির চোখ হওয়া সত্ত্বেও কেমন জীবন্ত। মনে হচ্ছিল, আমি যখন তাকে দেখছিলাম, সেও আমাকে দেখছিল।

নিজেকে আরেকবার বলি, আমি দুইশ বছর আগে ছিলাম না।

আমার একটি জীবন।

একটি জন্ম।

একটি মৃত্যু।

ঘুমের ঠিক আগের মুহূর্তে অন্ধকার ঘরের কোথাও আমার নিজের কণ্ঠের মতো একটি স্বর শোনা যায়।

“তুমি আগেও এ কথা বলেছিলে।”

চোখ খুলে ফেলি।

ঘরে কেউ নেই।

দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালার পর্দা স্থির। আলমারিটিও তালাবদ্ধ।

শুধু দেয়ালের সাড়ে বারোটায় থেমে থাকা ঘড়িটির কাঁটা অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে।

আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি।

তারপর নিজেকে বোঝাই, মাথাব্যথা থেকে শব্দটি কল্পনা করেছি।

একসময় রাত আরও ঘন হয়।

আর আমি ধীরে ধীরে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়ি।

চলবে...

রচনা-সংক্রান্ত ঘোষণা

‘দত্ত পরিবার’ একটি মৌলিক কাল্পনিক সাহিত্যকর্ম। এর চরিত্র, পরিবার, বাড়ি ও কেন্দ্রীয় রহস্য সৃজনশীল নির্মাণ। বাস্তব ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ব্যবহৃত হলেও উপন্যাসের পারিবারিক ঘটনা ও ব্যক্তিগত চরিত্রসমূহ কাল্পনিক।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান আমার পুরো নাম: মোঃ মেহেদি হাসান। কলম নাম: মি. বিকেল। আমি ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। আমি পেশায় একজন লেখক ও ব্লগার। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ন করেছি। আমার লেখা প্রথম বই ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে (ছোট গল্প সংকলন)’ প্রকাশিত হয় গত ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ভারতে এবং ১ম জানুয়ারী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে। বইটি বর্তমানে রকমারি.কম -এ উপলব্ধ। বর্তমানে আমি একটি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছি। এছাড়াও আমি মাইক্রোসফটে ডেভেলপার প্রোগ্রামে গত ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি গত ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। বর্তমানে এই ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ প্রতিষ্ঠানের টিম কতৃক। আমার সম্পর্কে বা আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অথবা, আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করুন: [email protected] -এই ঠিকানায়। অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!