‘হম রহে ইয়া না রহে কাল’: কেকের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতজগৎ

কলকাতার নজরুল মঞ্চে শেষবার গান গাওয়ার পর কেকের আকস্মিক প্রয়াণ, সংগীতজীবন, জনপ্রিয় গান ও শ্রোতাদের স্মৃতিতে তাঁর অমলিন উপস্থিতি।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ১
‘হম রহে ইয়া না রহে কাল’: কেকের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতজগৎ
মঞ্চের আলোয় কালো পোশাক পরে মাইক্রোফোন হাতে গান পরিবেশনরত সংগীতশিল্পী কেকে

সংগীত • স্মৃতিচারণ • শ্রদ্ধাঞ্জলি

‘হম রহে ইয়া না রহে কাল’: কেকের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতজগৎ

মঞ্চে তখনো তাঁর কণ্ঠ, সামনে অসংখ্য শ্রোতা। কে জানত, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পরিবেশনা হয়ে উঠবে কেকের জীবনের শেষ মঞ্চস্মৃতি?

সম্পাদকীয় নোট: শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত রচিত নিবন্ধটি পুরোনো অভিযাত্রীর আর্কাইভ থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। লেখিকার নির্বাচিত শিরোনাম, শোক, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত বয়ান সংরক্ষণ করে বানান, ঘটনাক্রম এবং কয়েকটি তথ্যগত অসংগতি সংশোধন করা হয়েছে। কপিরাইটের প্রতি সম্মান রেখে গানের পঙক্তির পরিবর্তে কেবল প্রাসঙ্গিক গানের শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

কেকে, পুরো নাম কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। গোটা সংগীতজগৎ তাঁকে কেকে নামেই চেনে, জানে এবং ভালোবাসে। তাঁর গান কতবার যে মানুষের প্রেম, বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদ ও বিদায়ের সঙ্গী হয়েছে, তার হিসাব হয়তো কোনো তালিকায় ধরা সম্ভব নয়।

২০২২ সালের ৩১ মে কলকাতার নজরুল মঞ্চে একটি কলেজের অনুষ্ঠানে গান গাইছিলেন তিনি। হাতে মাইক্রোফোন, সামনে বিপুলসংখ্যক শ্রোতা। মঞ্চের ওপর নিজের স্বভাবসুলভ প্রাণশক্তি নিয়ে একের পর এক পরিচিত গান পরিবেশন করছিলেন কেকে। দর্শকেরাও তাঁর সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিলেন।

মঞ্চে উঠলে কেকে যেন তাঁর চারপাশের সম্পূর্ণ পরিসরকে নিজের কণ্ঠের ভেতর টেনে নিতেন। দর্শককে মাতিয়ে দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হতো না। তাঁর কণ্ঠের বিস্তার, গানের সঙ্গে শরীরের সহজ চলন এবং শ্রোতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তুলত।

কিন্তু কে জানত, নজরুল মঞ্চে দর্শকদের মন জয় করে ফিরে যাওয়ার পরপরই তিনি চলে যাবেন এমন এক পথে, যেখান থেকে আর কোনো শিল্পী মঞ্চে ফিরে আসেন না?

তাঁর জনপ্রিয় গান পল-এর একটি পরিচিত অনুভব সেই রাতে যেন বাস্তব হয়ে উঠেছিল। মানুষটি পরদিন থাকবেন কি না, তা কেউ জানত না; কিন্তু তাঁর তৈরি মুহূর্তগুলো যে স্মৃতিতে থেকে যাবে, সেটিই যেন শেষ মঞ্চের সবচেয়ে বেদনাময় সত্য।

কেকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তখনো শেষ অনুষ্ঠানের দৃশ্যগুলো জীবন্ত ছিল। কিছু সময় আগের পরিবেশনায় শিল্পীকে মঞ্চজুড়ে দেখা যাচ্ছে, অথচ বাস্তব পৃথিবীতে মানুষটি আর নেই। প্রযুক্তি কখনো কখনো সময়কে কী নির্মমভাবে আটকে রাখে! পর্দার মানুষটি তখনো গাইছেন, অথচ সেই কণ্ঠের মালিক চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

শেষ অনুষ্ঠান, তারপর আকস্মিক বিদায়

শেষ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে কেকেকে কয়েকবার ঘাম মুছতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। অনুষ্ঠান শেষ করার পর তাঁকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

পরে তাঁকে কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে থেমে যায় ভারতীয় সংগীতের অত্যন্ত পরিচিত একটি কণ্ঠ।

খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সংগীতজগৎ ও শ্রোতাদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক। মাত্র কিছু সময় আগেও যাঁকে হাজারো মানুষের সামনে গান গাইতে দেখা গেছে, তাঁর মৃত্যুসংবাদকে সত্য বলে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। একটি জীবন্ত মঞ্চের স্মৃতি মুহূর্তের মধ্যে শেষ পরিবেশনার ঐতিহাসিক দৃশ্যে পরিণত হলো।

একদিকে পর্দায় তখনো তাঁর সাম্প্রতিক পরিবেশনা জ্বলজ্বল করছে, অন্যদিকে বাস্তব পৃথিবী জানাচ্ছে, মানুষটি আর কোথাও নতুন করে মঞ্চে উঠবেন না।

কলকাতার সুরের শহরে শেষ সফর

কলকাতার সঙ্গে কেকের সম্পর্ক শুধু একটি অনুষ্ঠানের ছিল না। এই শহরের শ্রোতা, সংগীতশিল্পী ও সুরকারদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। প্রীতম ও জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বাঙালি সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে তিনি বহু জনপ্রিয় গানে কাজ করেছেন।

তাঁর চলে যাওয়ার পর অনেক সহশিল্পী ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলেন। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কেকের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে কাজ এবং বাঙালি খাবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। সংগীতের পেশাগত সম্পর্কের বাইরে তাঁরা যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিসর ভাগ করতেন, সেই স্মৃতিও কেকের আকস্মিক বিদায়ে নতুন অর্থ পেয়েছিল।

চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও মৃত্যুর কিছুদিন আগে কেকের কাজ হয়েছিল। সৃজিতের চলচ্চিত্র শেরদিল: দ্য পিলিভিট সাগা-এর জন্য কেকে গান রেকর্ড করেছিলেন। মৃত্যুর পর সৃজিত তাঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিচয় এবং অল্প সময়ের সেই স্মৃতি আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন।

শেষ কনসার্টের আগে ও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেক সংগীতশিল্পীর মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কেকের মৃত্যুর পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নেয়। তবে একজন শিল্পীর জীবন ও মূল্যায়নকে কোনো ব্যক্তিগত মন্তব্য বা ক্ষণস্থায়ী বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। কেকের হয়ে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী উত্তর দিয়ে যাচ্ছে তাঁর গান।

প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই তৈরি স্বতন্ত্র কণ্ঠ

কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ১৯৬৮ সালের ২৩ আগস্ট দিল্লিতে একটি মালয়ালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বেড়ে ওঠাও দিল্লিতে। সংগীতে দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও নিজের স্বাভাবিক প্রতিভা, শ্রবণক্ষমতা, অনুশীলন এবং দীর্ঘ রেকর্ডিং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি স্বতন্ত্র গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

চলচ্চিত্রের নেপথ্য সংগীতে পরিচিত হওয়ার আগে তিনি বিপুলসংখ্যক বিজ্ঞাপনী জিঙ্গলে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। সেই মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুর, ভাষা ও আবেগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ তাঁর কণ্ঠকে আরও বহুমাত্রিক করে তোলে।

১৯৯৬ সালের মাচিস চলচ্চিত্রের একটি গানের অংশে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়। তবে ১৯৯৯ সালে হম দিল দে চুকে সনম চলচ্চিত্রের ‘তড়প তড়প’ গানটি তাঁকে হিন্দি চলচ্চিত্রের বিপুলসংখ্যক শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেয়। একই বছর প্রকাশিত তাঁর স্বাধীন অ্যালবাম পল তাঁকে চলচ্চিত্রের বাইরেও স্বতন্ত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

একটি প্রজন্মের প্রেম, বন্ধুত্ব ও বিচ্ছেদের কণ্ঠ

কেকের গানে আবেগ ছিল, কিন্তু সেই আবেগ সব সময় উচ্চকিত ছিল না। প্রেমের গানে তাঁর কণ্ঠে যেমন উচ্ছ্বাস পাওয়া যায়, তেমনি বিচ্ছেদের গানে পাওয়া যায় চাপা কষ্ট। বন্ধুত্বের গানে তিনি ফিরিয়ে আনতে পারতেন বিদ্যালয় ও কলেজজীবনের পরিচিত মুখগুলোকে।

পল অ্যালবামের গানগুলো বহু মানুষের কাছে বিদায় অনুষ্ঠান, বন্ধুত্ব এবং পুরোনো দিনের স্মৃতির অংশ। হম দিল দে চুকে সনম, গ্যাংস্টার, লাইফ ইন আ মেট্রো, ওম শান্তি ওম, জান্নাত, বচনা অ্যায় হাসিনো, ওহ লমহেকাইটস-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠ প্রেম ও বিরহের ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।

কেকের স্মরণীয় কয়েকটি গান

১. Pal • অ্যালবাম: Pal

২. Yaaron • অ্যালবাম: Pal

৩. Tadap Tadap • চলচ্চিত্র: Hum Dil De Chuke Sanam

৪. Tu Hi Meri Shab Hai • চলচ্চিত্র: Gangster

৫. Alvida • চলচ্চিত্র: Life in a Metro

৬. Aankhon Mein Teri • চলচ্চিত্র: Om Shanti Om

৭. Zara Sa • চলচ্চিত্র: Jannat

৮. Khuda Jaane • চলচ্চিত্র: Bachna Ae Haseeno

৯. Kya Mujhe Pyaar Hai • চলচ্চিত্র: Woh Lamhe

১০. Awarapan Banjarapan • চলচ্চিত্র: Jism

১১. Dil Kyun Yeh Mera • চলচ্চিত্র: Kites

মৃত্যুর কারণ এবং অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে প্রশ্ন

শেষ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভিড়, তাপমাত্রা ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানস্থলের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন কি না এবং ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এই অভিযোগগুলো বড় জনসমাগমে শিল্পী ও দর্শকের নিরাপত্তার গুরুত্ব সামনে এনেছিল। তবে অনুষ্ঠানস্থলের পরিস্থিতিকেই কেকের মৃত্যুর প্রমাণিত একমাত্র কারণ বলা যায় না। চিকিৎসা ও ময়নাতদন্তসংক্রান্ত প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

আকস্মিক মৃত্যুর পর নানা অনুমান ছড়িয়ে পড়লেও প্রমাণিত চিকিৎসাগত তথ্য এবং অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগকে আলাদা রাখা জরুরি। একটি বিষয় ময়নাতদন্তের ফল, অন্যটি জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে অনুসন্ধানের প্রশ্ন।

গানই তাঁর হয়ে কথা বলবে

কেকের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর সংগীত ও চলচ্চিত্রজগতের বহু মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সহশিল্পীদের স্মৃতিতে তিনি শুধু জনপ্রিয় গায়ক নন, ছিলেন বন্ধুবৎসল, বিনয়ী ও নিজের কাজের প্রতি নিবেদিত একজন মানুষ।

২০২২ সালের ২ জুন মুম্বাইয়ের ভারসোভায় পরিবার, বন্ধু ও সহশিল্পীদের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মানুষটি বিদায় নিলেন, কিন্তু তাঁর গান শ্রোতাদের কাছে থেকে গেল।

কেকের গান শুনলেই কত মানুষের জীবনে কত পুরোনো মুহূর্ত ফিরে আসে। কোনো বিদায় অনুষ্ঠান, কোনো বন্ধুর মুখ, কোনো অসমাপ্ত প্রেম অথবা একা পথ চলার কোনো সন্ধ্যা। এই স্মৃতিগুলোই একজন শিল্পীকে তাঁর শারীরিক অনুপস্থিতির পরও জীবিত রাখে।

হয়তো এ কারণেই তাঁর মৃত্যুর পর পল গানটির অনুভব এত অসহনীয়ভাবে সত্য মনে হয়েছিল। শিল্পী থাকুন বা না থাকুন, তাঁর তৈরি মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ফিরে আসে। একটি গানের কথা তখন আর শুধু গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা শিল্পীর জীবন এবং শ্রোতার ব্যক্তিগত স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

‘হম রহে ইয়া না রহে কাল’ কথাটি তাই কেবল একটি পরিচিত গানের অংশ নয়। কেকের শেষ মঞ্চের পর এটি হয়ে উঠেছে তাঁর শ্রোতাদের বেদনা ও স্মৃতির ভাষা। মানুষটি আর নতুন কোনো মঞ্চে উঠবেন না, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে তৈরি মুহূর্তগুলো বারবার ফিরে আসবে। তাঁর গানই তাঁর হয়ে কথা বলবে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

১. শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত, “‘হম রহে ইয়া না রহে কাল’: কেকের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতজগৎ”, পুরোনো অভিযাত্রীতে প্রকাশিত এবং ইন্টারনেট আর্কাইভে সংরক্ষিত সংস্করণ।

২. India Today, “What Happened at KK’s Last Concert in Kolkata?”, ১ জুন ২০২২।

৩. India Today, “KK’s Heart Couldn’t Pump Out Enough Oxygenated Blood, Says Autopsy Report”, ৫ জুন ২০২২।

৪. India Today, “KK Funeral Highlights: Singer Cremated at Versova Hindu Crematorium”, ২ জুন ২০২২।

৫. কেকের প্রকাশিত অ্যালবাম, চলচ্চিত্রসংগীত ও কর্মজীবনের স্বীকৃত সংগীততালিকা।

লেখিকা: শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত
সম্পাদনা ও তথ্য যাচাই: অভিযাত্রী সম্পাদকীয় বিভাগ

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত আমি স্মৃতি দত্ত। আদালতের পেশাগত জগৎ থেকে সাহিত্য ও সংগীতের সৃজনশীল পরিসর পর্যন্ত আমার পথচলা বিস্তৃত। পেশায় অ্যাডভোকেট হলেও লেখালেখিই আমার ভাবনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশের সবচেয়ে আপন মাধ্যম। ছোটগল্প, অণুগল্প, জীবনী, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ভ্রমণ নিয়ে লিখতে ভালোবাসি। কখনো একজন স্মরণীয় মানুষের জীবন আমাকে আকর্ষণ করে, কখনো একটি চলচ্চিত্র, আবার কখনো সংসারের খুব সাধারণ একটি সম্পর্কের মধ্যেই আমি গল্প খুঁজে পাই। আমি বঙ্গীয় সাহিত্যের সদস্য এবং কীবোর্ড বাজাতে ভালোবাসি। পাশাপাশি অ্যামওয়ে-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘কেমিস্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল ও টি.ভি শো’ এবং ‘লেনিন সাহেবের সাথে দেখা’। মানুষের জীবন, সময় ও স্মৃতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই।