দত্ত পরিবার | পর্ব ১৯: একটি গুলি, চারটি পরিকল্পনা

স্মৃতি দত্তের সন্ধানে ইকবাল, স্নেহা, অমিত ও সুবর্ণার চারটি পরিকল্পনা মুখোমুখি হয়। একটি গুলি উন্মোচন করে H Library ও সীমান্তের কালির নতুন সত্য।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ১
দত্ত পরিবার | পর্ব ১৯: একটি গুলি, চারটি পরিকল্পনা
রাতের হুগলি নদীতীরবর্তী পুরোনো গুদামে স্লিংয়ে আহত ডান হাতসহ একজন ব্যক্তি নথিভরা কাঠের টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে; মধ্যভাগে একজন আহত ব্যক্তির হাত পরীক্ষা করছেন আরেকজন, পাশে কাগজ হাতে একজন আলাদা দিকে তাকিয়ে আছেন এবং ডান পাশের পর্দায় ভিডিও কলে আরেক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে।

অভিযাত্রী ধারাবাহিক উপন্যাস

দত্ত পরিবার

পর্ব ১৯: একটি গুলি, চারটি পরিকল্পনা

লেখক: মোঃ মেহেদি হাসান

একটি ঘরে চারজন বুদ্ধিমান মানুষ থাকলে চারটি পরিকল্পনা তৈরি হয়। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন প্রত্যেকেই বিশ্বাস করে অন্য তিনজনকে বাঁচানোর দায়িত্ব শুধু তার।

সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও রিসিভারটি কানে ধরে রেখেছিলাম।

মৃত লাইনেরও একটি শব্দ থাকে। খুব নিচু, একটানা, প্রায় শ্বাসের মতো। আমরা যাকে নীরবতা ভাবি, সেটি আসলে সংযোগ হারানোর পর যন্ত্রের নিজের সঙ্গে কথা বলা।

“মা কোথায়?” স্নেহা আবার জিজ্ঞেস করল।

“জানি না।”

তার চোখ আমার মুখে স্থির রইল।

“এবারও সত্য?”

“এবার সত্য বলাটা সবচেয়ে অসুবিধাজনক। তাই ধরে নিতে পারো, সত্য।”

সুবর্ণা নদীর দিকের লোহার জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাইরে হুগলির কালো জলে একটা নৌকার আলো ছোট হতে হতে মিলিয়ে যাচ্ছে। সে জানালা থেকে না ফিরেই বলল, “লোকটা স্মৃতি দত্তকে অপহরণ করেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।”

স্নেহা তার দিকে ঘুরল।

“আমার মায়ের পাশে একজন অচেনা মানুষ দাঁড়িয়ে বলেছে, মানুষটি নিরাপদ, সভানেত্রী নিরাপদ নন। আপনার কাছে আর কী প্রমাণ দরকার?”

“ওঁকে আঘাত করার কথা বলা হয়নি। পদ থেকে সরানোর হুমকিও হতে পারে।”

“মা আর সভানেত্রীকে আলাদা করে দেখার মতো শান্তি আমার এখন নেই।”

সুবর্ণা এবার ফিরল।

“আর সেই কারণেই সিদ্ধান্তটা এখন আপনার একার নেওয়া উচিত নয়।”

স্নেহা কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে রইল।

“আপনারও নয়।”

মৈত্রেয়ী বসু টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা নথিগুলো একত্র করছিলেন। তাঁর আঙুল দ্রুত, কিন্তু অস্থির নয়। ১৯০৫ সালের নথি, ১৯১১ সালের খাম, ১০৭ নম্বর পাণ্ডুলিপির ছেঁড়া পৃষ্ঠা এবং নাথ দত্তের চারটি পরিচয় আলাদা জলরোধী ফোল্ডারে ঢুকিয়ে তিনি বললেন, “কে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা ঠিক করার আগে জায়গাটা ছাড়তে হবে। এই গুদামের অবস্থান আর গোপন নেই।”

“কত সময়?” জিজ্ঞেস করলাম।

“আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেন?”

“কারণ নথি আপনার।”

“নথি আমার নয়। আমার দায়িত্বে আছে। পার্থক্যটা মনে রাখবেন।”

স্নেহার দিকে না তাকিয়েও বুঝলাম, সে এই উত্তরটি পছন্দ করেছে।

মৈত্রেয়ী তাঁর স্মার্টফোনে সময় দেখলেন।

“দশ মিনিট। সর্বোচ্চ।”

সুবর্ণা টেবিল থেকে কোনো নথি নিল না। শুধু নিজের ফোনটি খুলে একটি encrypted storage drive, অর্থাৎ সংকেতায়িত তথ্যসংরক্ষণ যন্ত্র খুলে রাখল।

“এটা রেখে যাচ্ছি,” সে বলল।

“কেন?” স্নেহা জিজ্ঞেস করল।

“কারণ হাসান আমাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করবে।”

বললাম, “নিজেকে এত গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কারণ?”

“কারণ তুমি এখনও মনে করো, আমার প্রতিটি সিদ্ধান্ত তোমার বিরুদ্ধে।”

“তা নয়?”

“একটি ঘরে বসেছিলাম বলে ধরে নিও না, আমরা একই ভবিষ্যৎ চাই। নথি এক ছিল। উদ্দেশ্য নয়।”

“তুমি কী চাও?”

সুবর্ণা সিল করা ফোল্ডারের দিকে তাকাল।

“আজকের দুই বাংলাকে তাদের বর্তমান বাস্তবতায় এগোতে দিতে চাই। সহযোগিতা থাকবে, সীমান্তের মানুষ অধিকার পাবে, ইতিহাস প্রকাশ হবে। কিন্তু তোমার অসমাপ্ত রাজনৈতিক স্বপ্নের জন্য নতুন কেন্দ্র তৈরি হবে না।”

“আমি কোনো নতুন কেন্দ্রের কথা বলিনি।”

“তুমি কেন্দ্রের কথা বলো না, হাসান। তুমি শুধু এমনভাবে ব্যবস্থা সাজাও, শেষ সিদ্ধান্তটা তোমার কাছে ফিরে আসে।”

আমার উত্তর দেওয়ার আগেই সুবর্ণা পাশের দরজার দিকে এগোল।

“কোথায় যাচ্ছ?” স্নেহা জিজ্ঞেস করল।

“স্মৃতি দত্তের রাজনৈতিক পরিচয় কে সরাতে চাইছে, সেটা দেখতে।”

“তাঁকে খুঁজবেন না?”

সুবর্ণা থামল।

“একজন মানুষকে খুঁজতে গেলে আগে জানতে হয়, মানুষটি নিজে হারিয়েছেন, না তাঁর চারপাশের ব্যবস্থা তাঁকে হারানো ঘোষণা করেছে।”

সে আমার দিকে তাকাল।

“তুমি চাইলে আমার পেছনে আসতে পারো। তবে মনে রেখো, এবার পথটা তোমার জন্য রাখা হয়নি।”

দরজাটি বন্ধ হলো।

সুবর্ণা চলে যাওয়ার পর ঘর শান্ত হলো না। শুধু বিরোধিতার একটি দৃশ্যমান শরীর কমল।

যে মানুষটি পর্দায় ফিরল

মৈত্রেয়ীর ল্যাপটপটি নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।

পর্দায় প্রথমে কোনো মুখ দেখা গেল না। কালো পটভূমিতে একটি সাদা রেখা ঘুরে পুরোনো তালার আকৃতি তৈরি করল। তারপর একবার মিলিয়ে গিয়ে ফিরে এল।

মৈত্রেয়ী বললেন, “এটি আমার কোনো সফটওয়্যার নয়।”

আমি ল্যাপটপের দিকে এগোলাম।

“ছোঁবেন না,” স্নেহা বলল।

“যন্ত্রটি ইতিমধ্যে আক্রান্ত।”

“তাই বলে আপনি হাত দিলেই সুস্থ হয়ে যাবে?”

পর্দায় লেখা এল:

Secure channel restored.

তারপর মুখটি দেখা গেল।

অমিত।

শেষ দেখার তুলনায় মুখ শুকনো। দাড়ি ছোট করে কাটা। চোখের নিচে ঘুমহীনতার ছায়া। পেছনের জায়গাটি অন্ধকার, কিন্তু দেয়ালে ঝোলানো acoustic panel এবং ছোট আলো দেখে বোঝা যায়, সে কোনো অস্থায়ী যোগাযোগকক্ষে আছে।

অমিত প্রথমে আমাকে নয়, স্নেহাকে দেখল।

“তুমি ঠিক আছ?”

স্নেহা উত্তর দিল, “আমি ঠিক আছি। তুমি কোথায়?”

তাদের কথার প্রথম দুটি বাক্যে এমন একটি পরিচিতি ছিল, যার মধ্যে আমাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অমিত বলল, “এখন বলা যাবে না। গুদামের পশ্চিম পাশের গলিতে তিনজন ঢুকেছে। নদীর দিকেও একটি নৌকা আসছে। তোমাদের হাতে সাত মিনিট আছে।”

“তুমি আমাদের অবস্থান জানলে কীভাবে?” জিজ্ঞেস করলাম।

“তোমার ফোন থেকে নয়। ওটা বন্ধ রেখেই ভালো করেছ।”

“তার মানে?”

“স্নেহা সীমান্তের কালির পাতার ডিজিটাল হেফাজত-রেকর্ড আমাকে পাঠিয়েছিল। পরীক্ষাগারের যে নিরাপদ link ছিল, সেটার মাধ্যমে নথির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলাম।”

আমি স্নেহার দিকে তাকালাম।

“তুমি অমিতকে পাঠিয়েছিলে?”

সে শান্তভাবে বলল, “হ্যাঁ।”

“কেন?”

“কারণ সে Digital Chain of Custody, অর্থাৎ ডিজিটাল হেফাজতের ধারাবাহিকতা বোঝে। আর তুমি তখন আহত অবস্থায় শত্রুদের সংখ্যা গণনা করছিলে।”

অমিত বলল, “হাসান, রাগটা পরে কোরো। এখন নথি ভাগ করে সরাও।”

“তুমি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছ?”

“পুরোনো অভ্যাস শুধু তোমার নেই।”

“স্মৃতি দত্ত কোথায়?”

অমিত চুপ করল।

“জানো?” আবার জিজ্ঞেস করলাম।

“সম্ভাব্য অবস্থান জানি। কিন্তু আগে তোমার কাছ থেকে একটি সত্য দরকার।”

“দর কষাকষির সময় নয়।”

“আমিও একসময় এই কথাটা বিশ্বাস করতাম। তারপর দেখলাম, জরুরি অবস্থার অজুহাতেই তুমি সবচেয়ে বেশি সত্য লুকাও।”

স্নেহা পর্দার দিকে এগিয়ে গেল।

“কী জানতে চাও?”

অমিত তার দিকে তাকাল।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমি কেন আমার কাছে এসেছিলে, সেটা ওকে বলো।”

গুদামের টিনের ছাদে বাতাস লাগল। খুব সাধারণ শব্দ। তবু ঘরের ভেতর চাপ আরও ঘন হলো।

বললাম, “এখন?”

অমিত শান্তভাবে উত্তর দিল, “হ্যাঁ। কারণ একই ভুল আবার হতে যাচ্ছে।”

স্নেহা কেন অমিতকে বেছে নিয়েছিল

স্নেহা সঙ্গে সঙ্গে কথা বলল না।

ডান হাতের আঙুল দিয়ে কালো ব্যাগের বেল্ট স্পর্শ করছিল। আগে বিপদের সময় সে ব্যাগটি শক্ত করত। এখন বেল্টের ওপর আঙুল স্থির। সম্ভবত নিজের ভাষা বেছে নিচ্ছে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বাস্থ্যশিবির হওয়ার কথা ছিল,” সে বলল। “ছাত্রীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা, নিরাপদ পরামর্শ এবং জরুরি সহায়তা। কাগজে প্রকল্পটি ছিল। বাজেটও ছিল। কিন্তু বাস্তবে জায়গা দেওয়া হয়নি।”

স্মৃতির একটি অংশ জেগে উঠল।

পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়ি। হাতে কাগজ। সুবর্ণা বাইরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছে। অমিত গিটার রেখে হিসাবের খাতা দেখছে। আর স্নেহা আমার সামনে দাঁড়িয়ে।

সে বলেছিল, স্বাস্থ্যশিবিরটি ওই মাসেই করতে হবে।

আমি বলেছিলাম, সময় উপযুক্ত নয়।

তখন সময় উপযুক্ত ছিল না, কারণ একই সপ্তাহে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা চলছিল। প্রশাসনের নজর অন্যদিকে রাখতে স্বাস্থ্যশিবির পিছিয়ে দেওয়া আমার কাছে কার্যকর সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল।

স্নেহা বলল, “তুমি প্রকল্পটি বাতিল করোনি। শুধু এমনভাবে পিছিয়েছিলে, যেন কোনো দিনই শুরু না হয়।”

“নিরাপত্তার সমস্যা ছিল।”

“ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তটা আমার সঙ্গে আলোচনা করোনি।”

“অমিত কী করেছিল?”

স্নেহা পর্দার দিকে তাকাল।

“সে বলেছিল, ঝুঁকি আছে। তারপর জিজ্ঞেস করেছিল, আমি ঝুঁকিটা নিতে চাই কি না।”

অমিত কোনো গর্ব দেখাল না।

আমি বললাম, “ও তোমাকে সব সত্য বলেছিল?”

স্নেহা থামল।

“না।”

“তাহলে পার্থক্য কোথায়?”

এবার অমিত বলল, “পার্থক্য ছিল, আমি ওর ভবিষ্যৎ ঠিক করিনি।”

স্নেহা মাথা নাড়ল।

“আমি অমিতকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ সে আমাকে কোনো পরিকল্পনার মধ্যে বসায়নি। অন্তত তখন না।”

“পরে?”

“পরে বুঝেছি, সুরক্ষা দেওয়ার ভাষাতেও নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে।”

অমিতের মুখের পেশি সামান্য শক্ত হলো।

স্নেহা বলল, “তুমি আমার জন্য তথ্য বেছে দিয়েছিলে, অমিত। আর হাসান আমার জন্য ভবিষ্যৎ বেছে দিয়েছিল। দুটো এক নয়। কিন্তু কোনোটাই পুরো স্বাধীনতা নয়।”

তিনজনের মধ্যে কেউ উত্তর দিল না।

মৈত্রেয়ী নথির বাক্স বন্ধ করতে করতে বললেন, “এই আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাত মিনিটের মধ্যে চার মিনিট শেষ হয়েছে।”

বাস্তবতা কখনো দার্শনিক আলোচনাকে সম্পূর্ণ হতে দেয় না। সম্ভবত সে কারণেই মানুষ একই ভুল নতুন ভাষায় আবার করে।

অমিত বলল, “স্মৃতি দত্তের গাড়ি ভদ্রেশ্বরের নির্ধারিত পথ নেয়নি। শেষ নিবন্ধিত অবস্থান নদিয়া জেলার দিকে। কিন্তু তার আগে তোমাদের এখান থেকে বের করতে হবে।”

“H Library?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“পুরোনো কেন্দ্র।”

“H মানে Hasan?”

অমিতের ঠোঁটে ক্লান্ত হাসি এল।

“তুমি এখনও ভাবো, তোমার নামের আগে পৃথিবীর কিছু ছিল না?”

H Library-এর তিনটি মুখ

অমিত ল্যাপটপের পর্দায় তিনটি আলাদা ছবি খুলল।

প্রথম ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের একটি সাদামাটা দুইতলা ভবন। সামনে বইয়ের তালিকা, পাঠক নিবন্ধন এবং গবেষণার নোটিশ।

“এটি সবাই যে H Library চিনত,” অমিত বলল। “ব্যক্তিগত গবেষণাগার। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য সীমিত প্রবেশাধিকার ছিল।”

দ্বিতীয় ছবিতে জানালাহীন একটি নথিকক্ষ। ধাতব আলমারি, পুরোনো সংবাদপত্র, audio cassette, film reel এবং হাতে লেখা register।

“দ্বিতীয় স্তরে ছিল রাজনৈতিক archive। দেশভাগের মৌখিক সাক্ষ্য, উদ্বাস্তু নথি, হারানো নাম, শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনের গোপন ইতিহাস।”

তৃতীয় ছবিটি অস্পষ্ট। দেয়ালে sensor, ছোট speaker, projector এবং একাধিক দরজা।

“শেষ স্তর operational। নিরাপদ যোগাযোগ, পরিচয় প্রস্তুত, আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং স্মৃতি উদ্দীপনার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা।”

স্নেহা জিজ্ঞেস করল, “পরিচিত কণ্ঠ, গন্ধ আর পুরোনো দৃশ্য দেখানোর ব্যবস্থা ছিল?”

“ছিল। সংরক্ষিত audio, রাসায়নিক গন্ধের cartridge, adaptive projection। পরে সীমিত machine learning যুক্ত হয়েছিল। বর্তমান ভাষায় বললে, প্রাথমিক AI-assisted reconstruction।”

মৈত্রেয়ী বললেন, “তাহলে দ্বিতীয় কক্ষের সব ঘটনাই প্রযুক্তি?”

অমিত মাথা নাড়ল।

“না। প্রযুক্তি দিয়ে পরিচিত কণ্ঠ, আলো, গন্ধ বা পুরোনো দৃশ্যের অংশ তৈরি করা যেত। কিন্তু বন্ধ ব্যবস্থা নিজে থেকে সক্রিয় হওয়া, তালিকায় না থাকা মানুষের কণ্ঠ কিংবা প্রতিফলনের অস্বাভাবিকতা ব্যাখ্যা করতে পারিনি।”

“H-এর পূর্ণ অর্থ?”

“বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অর্থ ব্যবহার হয়েছে। History, Haven, Handover। পরে তোমার দল Hasan বলত। প্রতিষ্ঠানটি তোমার আগে ছিল, হাসান। তোমার পরে থাকতেও চেয়েছিল।”

“আর তুমি?”

“আমি চেয়েছিলাম, প্রতিষ্ঠানটি কোনো এক ব্যক্তির নামে না থাকুক। সেখানেই আমাদের বিরোধ শুরু।”

বাইরে প্রথমবার ধাতব কিছুর সঙ্গে জুতার ঘর্ষণের শব্দ হলো।

পশ্চিম পাশের গলি।

অমিত বলল, “তিন মিনিট।”

সীমান্তের কালির প্রতিবেদন

মৈত্রেয়ীর ফোনে encrypted report এসে পৌঁছাল। পর্দায় নথির কয়েকটি high-resolution image, উপাদানের তুলনামূলক রেখাচিত্র এবং সম্ভাব্য সময়স্তর দেখা যাচ্ছে।

স্নেহা দ্রুত প্রতিবেদন খুলল।

“পরীক্ষাটা কে করেছেন?” জিজ্ঞেস করলাম।

মৈত্রেয়ী বললেন, “নথি সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ ড. অর্পিতা মজুমদার। তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।”

প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি ছোট ভিডিও বার্তা ছিল। একজন নথি-সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ পরিষ্কার পশ্চিমবঙ্গীয় উচ্চারণে বললেন:

“দেখুন, বাদামি দাগটিকে একটি নির্দিষ্ট কালি বললে ভুল হবে। একই দৃশ্যমান রঙের নিচে অন্তত তিনটি আলাদা উপাদানস্তর আছে। সবচেয়ে পুরোনো স্তরটি বিংশ শতকের প্রথম দশকের কাছাকাছি। দ্বিতীয় পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে। তৃতীয় স্তর আরও নতুন। কেউ আলাদা সময়ে করা পরিবর্তনগুলোকে একই ঘটনার চিহ্ন বলে দেখাতে চেয়েছে।”

স্নেহা প্রতিবেদন বড় করে নাম মুছে দেওয়া অংশ দেখল।

“মূল লেখা ও নাম মোছার উপাদান একই সময়ের নয়,” সে বলল।

“কতবার বদলানো হয়েছে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“কমপক্ষে তিনবার। উনিশশো পাঁচের কাছাকাছি, এগারোর পরে এবং সাতচল্লিশের সময় অথবা তার পর।”

মৈত্রেয়ী বললেন, “তাহলে সীমান্তের কালি কোনো এক ধরনের বস্তু নয়।”

স্নেহা মাথা নাড়ল।

“বস্তু আছে। কিন্তু নামটি রাসায়নিক নয়। এটি নথি বদলের একটি পদ্ধতির নাম। একই বাদামি চিহ্ন বসিয়ে বিভিন্ন সময়ের পরিবর্তনকে একটি ঘটনার অংশ দেখানো হতো।”

নাথ দত্তের নাম একবার মুছে যায়নি।

প্রতিটি নতুন রাজনৈতিক প্রয়োজনের সময় তার পরিচয় আবার সম্পাদিত হয়েছে।

“পরীক্ষাগারে মূল পাতা নিরাপদ?” জিজ্ঞেস করলাম।

স্নেহা উত্তর দেওয়ার আগে এক সেকেন্ড থামল।

“মূল পাতা পরীক্ষাগারে নেই। পরীক্ষা শেষে অন্যত্র সরানো হয়েছে।”

“কোথায়?”

“যেখানে এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে সেটি আর বের করা যাবে না।”

“তুমি আমাকে বলবে না?”

“এখন নয়।”

নিজের ভাষা অন্যের মুখে শুনলে অস্বস্তি হয়। বিশেষ করে যখন বাক্যটির বিরুদ্ধে যুক্তি তৈরি করতে হয়।

অমিত পর্দা থেকে বলল, “তোমরা দুজন পরে একে অন্যের শব্দ ফেরত দিতে পারবে। এখন পশ্চিমের দরজাটা দেখো।”

একটি গুলি

গুলির শব্দ হওয়ার আগে আলো নিভেছিল।

পুরো গুদাম নয়। শুধু ছাদের মাঝখানের ধাতব আলোটি।

বিস্ফোরিত শব্দের সঙ্গে কাচ ও ধাতুর টুকরো টেবিলের এক পাশ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ল। অন্ধকার নামার আগের ক্ষুদ্র মুহূর্তে দেখলাম স্নেহা নিচু হচ্ছে না। সে মৈত্রেয়ীর নথির বাক্সের দিকে নয়, পশ্চিম দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ সহকারীটির দিকে যাচ্ছে।

তারপর অন্ধকার।

“মেঝেতে নামুন!” অমিতের কণ্ঠ ল্যাপটপ থেকে এল।

পর্দাটি নিজস্ব battery backup-এ ক্ষীণ আলো ছড়াচ্ছে।

আমি বাঁ পাশে সরে টেবিলের আড়াল নিলাম। ডান হাত স্লিংয়ে। বাঁ হাত দিয়ে মৈত্রেয়ীর ফোল্ডারটি নিচে নামাতে গিয়ে থেমে গেলাম।

গুলিটি টেবিল বা আমাদের কাউকে লক্ষ্য করেনি।

ওপরের surveillance camera, অর্থাৎ নজরদারি ক্যামেরার লাল আলো নিভে গেছে।

“ক্যামেরা,” বললাম।

অমিত উত্তর দিল, “শুধু ক্যামেরা নয়। আলো ভেঙে blind zone তৈরি করেছে।”

পশ্চিম দরজা খুলে যাওয়ার শব্দ হলো।

পদক্ষেপ নয়। শরীর টেনে নেওয়ার শব্দ।

আমি সেই দিকে এগোতে যাচ্ছিলাম।

স্নেহার কণ্ঠ এল, “এদিকে!”

তার কাছে পৌঁছে দেখি তরুণ সহকারীটির বাঁ কাঁধের পোশাকে রক্ত। গুলি তাকে সরাসরি আঘাত করেছে কি না বোঝা যাচ্ছে না। ভাঙা ধাতব টুকরোও হতে পারে। স্নেহা তার কাঁধ চেপে ধরে দ্রুত শ্বাস পরীক্ষা করছে।

“নথি নিয়ে বেরিয়েছে,” বললাম।

“এ মানুষটাকে আগে সরাতে হবে।”

“ওরা দূরে যায়নি।”

“তাহলে যাবে।”

“যে নথি নিয়েছে, সেখানে ১৯১১-এর মানচিত্র আছে।”

স্নেহা আমার দিকে তাকাল।

“এখন তুমি কাকে বেছে নেবে, হাসান? নথি, না মানুষ?”

প্রশ্নটি অন্য কোনো সময় হলে কৌশলগত উত্তর দিতাম। নথিটি হারালে কী ক্ষতি হবে, আহত মানুষটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কত, অন্যরা তাকে সরাতে পারবে কি না, সব হিসাব করতাম।

কিন্তু স্নেহা পরামর্শ চাইছে না।

দেখতে চাইছে, মানুষ বদলাতে পারে কি না।

বললাম, “তাকে কীভাবে সরাতে হবে?”

তার চোখের দৃষ্টি বদলাল।

“মৈত্রেয়ীদি, পরিষ্কার কাপড় দিন। হাসান, আলো ধরো। নথির পেছনে যেয়ো না।”

“ঠিক আছে।”

শব্দ দুটি উচ্চারণ করতে আমার অস্বাভাবিক কষ্ট হলো।

সম্ভবত সংগঠনের কোনো training manual-এ অন্যের পরিকল্পনা মেনে চলার অনুশীলন ছিল না।

অমিত বলল, “পশ্চিম দরজার electronic latch বন্ধ করছি।”

“নিয়ন্ত্রণ তোমার কাছে কীভাবে?” জিজ্ঞেস করলাম।

“এই গুদামের security system দশ বছর আগে H Library-এর পুরোনো network দিয়ে বসানো হয়েছিল। তুমি তখন অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলে।”

ধাতব দরজা বন্ধ হওয়ার ভারী শব্দ এল।

কিন্তু শরীর টেনে নেওয়ার শব্দ তার আগেই বাইরে চলে গেছে।

“কাকে নিয়ে গেছে?” মৈত্রেয়ী জিজ্ঞেস করলেন।

টেবিলের পাশে রাখা চারটি নথির বাক্স দেখলাম।

সব আছে।

তারপর বুঝলাম, দরজার কাছে যে তরুণ সহকারী দাঁড়িয়ে ছিল, তার সঙ্গে আরেকজন ছিল। গোপাল নস্কর।

মাঝি নেই।

লক্ষ্য নথি ছিল না।

লক্ষ্য ছিল মানুষ।

স্নেহা আহত সহকারীটির পোশাক কেটে ক্ষত পরীক্ষা করছিল। সে বলল, “গুলি ওকে ছোঁয়নি। ধাতব আলো ভেঙে টুকরো লেগেছে। গুলির লক্ষ্য ক্যামেরা ও আলো।”

অমিত বলল, “অন্ধকারে গোপাল নস্করকে নিয়ে গেছে।”

“একজন মাঝিকে কেন?” মৈত্রেয়ী জিজ্ঞেস করলেন।

আমি মনে করলাম, পর্ব ১৮-তে গোপালবাবু আমাদের গুদামঘাটে এনেছিলেন। তিনি কোনো প্রশ্ন করেননি। পথ চিনতেন। স্নেহার স্লিংয়ের দিকে নয়, আমার স্লিংয়ের দিকে তাকিয়েছিলেন। নদীর জল কখন শান্ত, কোথায় আলো কম, কোন গুদামঘাট ব্যবহার হয়, সব জানতেন।

“তিনি শুধু মাঝি নন,” বললাম।

মৈত্রেয়ী থমকে গেলেন।

“আপনি এখন বুঝলেন?”

প্রশ্নটিতে অভিযোগ ছিল।

সঠিক অভিযোগ।

চারটি পথ

গুদামের জরুরি আলো জ্বলে উঠল। লাল আলোয় মানুষের মুখ স্বাভাবিক থাকে না। প্রত্যেকে নিজের একটি বিপজ্জনক সংস্করণে পরিণত হয়।

আহত সহকারীটির নাম অর্ক দে। বয়স চব্বিশ। মৈত্রেয়ীর archive digitization team-এ কাজ করে। ক্ষত গভীর নয়, কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ করা দরকার।

স্নেহা বলল, “এখানে দীর্ঘ সময় রাখা যাবে না। কাছাকাছি কার্যকর চিকিৎসার জায়গা কোথায়?”

মৈত্রেয়ী বললেন, “ভদ্রেশ্বরে একটি ব্যক্তিগত কেন্দ্র আছে। তবে ওঁরা প্রশ্ন করবেন।”

“প্রশ্ন করুক। চিকিৎসার আগে উত্তর না দিলেও চলে।”

অমিত বলল, “গাড়ি পাঠাচ্ছি।”

স্নেহা পর্দার দিকে তাকাল।

“তোমার গাড়ি?”

“আমার কিছু নেই। মানুষের আস্থা আছে। মাঝে মাঝে সেটাকে ব্যবহার করি।”

“অনুমতি নিয়ে?”

অমিত কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকল।

“সব সময় না।”

স্নেহা কিছু বলল না। তার নীরবতাই অমিতের অংশের রায়।

মৈত্রেয়ী চারটি নথিকে চারটি আলাদা প্যাকেটে ভাগ করলেন।

“একজনের কাছে সব থাকবে না,” তিনি বললেন। “প্রতিটি প্যাকেটের scan encrypted cloud storage-এ যাবে। মূলগুলোর অবস্থান আলাদা থাকবে।”

“কার কাছে কোনটি?” জিজ্ঞেস করলাম।

“আপনাকে বলব না।”

“অন্তত আমার পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠাটি?”

“আপনার লেখা বলে সেটির ভেতরের মানুষের ইতিহাসও আপনার একক সম্পত্তি হয়ে যায় না।”

কথাটি পরিচিত।

সম্ভবত স্নেহা আগে থেকেই মৈত্রেয়ীর সঙ্গে কথা বলেছে।

ঠিক তখন ল্যাপটপে নতুন একটি folder খুলল।

শিরোনাম:

PUBLICATION MIRROR: 101 MANUSCRIPTS

আমার ১০১টি উপস্থিত পাণ্ডুলিপির ডিজিটাল catalogue।

প্রতিটি পাণ্ডুলিপির scan status, বিষয়, সম্ভাব্য প্রকাশঝুঁকি এবং দুটি প্রকাশমাধ্যমের ঘর।

একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রচলিত সংবাদপত্রের সাপ্তাহিক প্রকাশনা।

অনুমোদনের ঘরে দুটি নাম:

স্মৃতি দত্ত।

স্নেহা দত্ত।

আমি স্নেহার দিকে তাকালাম।

“আমার লেখা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছ?”

“মাকে প্রস্তাব দিয়েছি।”

“আমাকে না জানিয়ে?”

স্নেহা কয়েক মুহূর্ত কোনো উত্তর দিল না।

তারপর বলল, “এই বাক্যটা বারবার বললে তোমার নিজের কাছেও কি অস্বস্তি হয় না?”

“আমার লেখা।”

“তোমার লেখা। কিন্তু সেখানে অন্য মানুষের জীবন, সাক্ষ্য, ভয় আর পরিচয়ও আছে। তুমি যদি নিখোঁজ হও, তোমার সঙ্গে তাদের ইতিহাসও হারাতে পারবে না।”

অমিত বলল, “লেখা ছড়িয়ে গেলে আর একা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এটাই তোমার সমস্যা।”

“আর প্রকাশের নিয়ন্ত্রণ কার কাছে থাকবে?”

গুদামের পাশের দরজা আবার খুলল।

সুবর্ণা ফিরে এসেছে।

তার হাতে ছোট কালো storage pouch। পোশাকের ডান পাশে ধুলো। শ্বাস দ্রুত, কিন্তু কণ্ঠ স্বাভাবিক।

“এই প্রশ্নটাই করা উচিত,” সে বলল। “কোন লেখা আগে যাবে? শিরোনাম কে দেবে? কোন নাম আড়াল থাকবে? প্রকাশনাও ক্ষমতা।”

“তুমি কোথায় গিয়েছিলে?”

সুবর্ণা pouchটি টেবিলে রাখল।

“যে মানুষ গোপাল নস্করকে নিয়ে গেছে, তাকে অনুসরণ করতে।”

“পেয়েছ?”

“মানুষটাকে নয়। ওর ফেলে যাওয়া জিনিস পেয়েছি।”

pouch খুলে একটি আধুনিক satellite tracker বের করল। কাদায় মাখা। ছোট পর্দায় একটি অবস্থানবিন্দু উত্তর দিকে এগোচ্ছে।

“গোপাল নস্করের জামায় tracker বসিয়েছিলে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“না। নৌকায় বসিয়েছিলাম। গতকাল।”

“তুমি জানতেই, তাকে নেওয়া হবে?”

“সন্দেহ করেছিলাম, তিনি মাঝি নন।”

“আমাকে বলোনি।”

সুবর্ণা আমার দিকে তাকাল।

“তুমি কি সত্যিই এখন এই অভিযোগ করতে চাও?”

এই ঘরে আমাকে সমর্থন করার মতো কেউ নেই।

আরও অস্বস্তিকর বিষয়, এ মুহূর্তে আমি নিজেও নেই।

যে ক্লিনিক এখনো তৈরি হয়নি

অমিতের পাঠানো গাড়িটি আট মিনিটের মাথায় গুদামের পেছনের গলিতে পৌঁছাল। অর্ককে তোলা হলো। স্নেহা তার সঙ্গে যাবে বলে জানাল।

বললাম, “আমিও যাচ্ছি।”

“তোমার ডান হাতের অবস্থা নিয়ে দৌড়ানো বন্ধ করতে হবে।”

“আমি দৌড়াচ্ছি না।”

“তুমি দাঁড়িয়ে থাকলেও বিপদ তোমার চারপাশে দৌড়ায়।”

অর্ককে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রের সীমিত সামগ্রীর কথা উঠল। স্নেহা নিজের ব্যাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বের করছিল। আলো কম। পরিচ্ছন্ন জায়গা নেই। নথির বাক্স, গুদামের ধুলো আর চিকিৎসা একই টেবিলে।

দৃশ্যটি দেখে বললাম, “তোমার নিজের একটা ক্লিনিক দরকার।”

স্নেহা হাতের কাজ থামাল না।

“আমার?”

“যেখানে চিকিৎসা, নিরাপদ নথি আর সীমান্তবর্তী মানুষের সহায়তা একসঙ্গে থাকবে।”

“জায়গা ঠিক করে ফেলেছ?”

উত্তর আসতে চেয়েছিল।

যশোরের কাছে একটি পুরোনো ভবন। বেনাপোল সড়ক থেকে খুব দূরে নয়। ছোট উঠান। আলাদা নথিকক্ষ। সোলার backup-এর সম্ভাবনা। আমি ইতিমধ্যে দুবার জায়গাটির ছবি দেখেছি।

কিন্তু বললাম, “দুটি সম্ভাব্য জায়গা দেখেছি। সিদ্ধান্ত নিইনি।”

স্নেহা এবার আমার দিকে তাকাল।

“আমাকে না জানিয়ে?”

“তাই এখনো জায়গা নিইনি।”

তার মুখের কঠোরতা পুরো সরে গেল না। তবে আগের মতোও থাকল না।

“ক্লিনিক হলে নাম আমি ঠিক করব।”

“ঠিক আছে।”

“কর্মীও।”

“ঠিক আছে।”

“তোমার সংগঠনের কেউ রোগী সেজে সেখানে থাকবে না।”

“এই অংশে আলোচনা দরকার।”

স্নেহার চোখ সরু হলো।

“না।”

“ঠিক আছে।”

বাইরে দাঁড়িয়ে সুবর্ণা কথোপকথনটি শুনছিল।

সে বলল, “উন্নতি হয়েছে। এখন ও আদেশ দেওয়ার আগে দুইবার থামে।”

“তুমি কি সব কথোপকথনে উপস্থিত থাকবে?”

“না। শুধু যেখানে তোমার উন্নতির দাবি যাচাই করা দরকার।”

স্নেহা অর্কের পাশে গাড়িতে উঠল। দরজা বন্ধ করার আগে বলল, “স্মৃতি দত্তের অবস্থান বের করো। কিন্তু একা কোথাও যেয়ো না।”

“আদেশ?”

“না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সত্য। তুমি চাইলে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারো।”

গাড়ি চলে গেল।

কিছু মানুষের অনুপস্থিতি জায়গাকে ফাঁকা করে না। বরং তারা যেখানে দাঁড়িয়েছিল, সেই অংশটি বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

বর্তমান বাংলার পক্ষে সুবর্ণা

গুদামের বাইরে নদীর হাওয়া বেড়েছে। সুবর্ণার tracker-এর বিন্দু উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। আমি মানচিত্রে পথ মিলিয়ে দেখছিলাম।

“তুমি সত্যিই বাংলা ভাগ নিয়ে ভাবো না?” জিজ্ঞেস করলাম।

সুবর্ণা ভাঙা আলোটির দিকে তাকাল।

“ভাবি। ইতিহাস হিসেবে। ক্ষত হিসেবে। বর্তমানের একমাত্র রাজনৈতিক নির্দেশ হিসেবে নয়।”

“মানুষের পরিবার এখনো দুই পাশে বিভক্ত। নদী বিভক্ত। অর্থনীতি, ভাষা, স্মৃতি...”

“আর দুই পাশে নতুন প্রজন্মও জন্মেছে। আলাদা রাষ্ট্রে, আলাদা প্রতিষ্ঠান নিয়ে, আলাদা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায়। তুমি তাদের আবার নিজের অসমাপ্ত মানচিত্রে বসাতে পারো না।”

“আমি মানচিত্র জোড়া লাগাতে চাই না।”

“শব্দ বদলেছ। উদ্দেশ্য নয়।”

“তুমি বর্তমান ব্যবস্থাকে মেনে নিয়েছ বলে সেটি ন্যায়সংগত হয়ে যায় না।”

“আর তুমি ইতিহাসে পরাজিত হয়েছিলে বলে বর্তমানকে পরীক্ষাগার বানাতে পারো না।”

“তুমি আমাকে থামাতে চাও?”

সুবর্ণা একটু থামল।

“প্রয়োজনে। আগেও চেয়েছি।”

“পারোনি।”

“তাই তো এখনও চেষ্টা করছি।”

কৈশোরে আমরা প্রথম যে বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছিলাম, বিষয় ছিল স্বাধীনতা। আমি বলেছিলাম, শক্তিশালী কেন্দ্র ছাড়া দুর্বল মানুষ নিরাপদ থাকে না। সুবর্ণা বলেছিল, কেন্দ্র যত শক্তিশালী হয়, দুর্বল মানুষকে নিজের ভাষায় কথা বলাতে তত আগ্রহী হয়।

বিচারক আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন।

পরদিন স্কুলের দেয়ালপত্রিকায় সুবর্ণা আমার বক্তব্যের প্রতিটি অসংগতি লিখে দিয়েছিল।

পুরস্কার আমার ছিল।

শেষ কথা তার।

সম্পর্কটি সম্ভবত সেদিনই তৈরি হয়েছিল।

ভালোবাসা থেকে নয়।

পরাজয় মেনে নিতে না-পারা দুইজন মানুষের পারস্পরিক আসক্তি থেকে।

সুবর্ণা বলল, “স্নেহাকে সত্য বলেছ?”

“কোন সত্য?”

“এই প্রশ্নটাই তোমার সমস্যা।”

“সে জানে আমার স্মৃতি হারায়নি।”

“তোমার মিশন জানে?”

কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

সুবর্ণা কি জানে?

নাকি অনুমান করছে?

বললাম, “আমার বর্তমান মিশন সম্পর্কে তুমি কিছু জানো না।”

“বর্তমানের কথা বলিনি। তুমি কৈশোর থেকে একই জিনিস চেয়েছ। শুধু নাম বদলেছ।”

“তুমি জানো না।”

“ঠিক বলেছ। জানি না। কারণ তুমি কাউকে জানতে দাও না। তারপর অভিযোগ করো, কেউ তোমাকে বোঝে না।”

সেই মুহূর্তে tracker-এর বিন্দুটি থেমে গেল।

স্থান:

নদিয়া জেলা, চাকদহের উত্তর-পূর্বে

অমিত পর্দা থেকে বলল, “আমি যে সম্ভাব্য অবস্থান পেয়েছি, সেটাও একই অঞ্চলে।”

সুবর্ণা ল্যাপটপের দিকে ফিরল।

“তুমি এত দিন কোথায় ছিলে, অমিত?”

“তোমাদের দুজনের সিদ্ধান্তের ফল গুছাচ্ছিলাম।”

“এখনও নিজেকে মধ্যস্থতাকারী ভাবো?”

“না। এখন নিজের পক্ষেই আছি।”

“তোমার পক্ষ কোনটা?”

অমিত সরাসরি উত্তর দিল:

“যেখানে মানুষকে বাংলা, ইতিহাস বা নিরাপত্তার নামে কারও পরিকল্পনার উপকরণ বানানো হবে না। তোমারও না, হাসানেরও না, স্মৃতি দত্তেরও না।”

আমরা তিনজন একই পর্দার সামনে ছিলাম।

একই দলে নয়।

একটি ভবন, দুই অবস্থান

অমিত নতুন একটি satellite image খুলল। আধুনিক ছবির ওপর পুরোনো railway map-এর রেখা বসানো হয়েছে। AI-assisted matching সম্ভাব্য স্থাপনার কয়েকটি outline চিহ্নিত করেছে। পাশে স্পষ্ট সতর্কতা:

Probabilistic match only. Human verification required.

মৈত্রেয়ী ছবির ওপর ঝুঁকে বললেন, “এই অংশটা নদিয়ার পুরোনো নীলকুঠি বা জমিদারি ভবনের নকশার সঙ্গে মেলে।”

সুবর্ণা বলল, “প্রজা স্বরাজের পুরোনো বৈঠকখানার একটি উল্লেখ ছিল চাকদহের উত্তর দিকে। তবে সঠিক ঠিকানা কোনো নথিতে পাইনি।”

“স্মৃতি দত্ত সেখানে কেন যাবেন?” জিজ্ঞেস করলাম।

অমিত বলল, “কারণ ভবনটি H Library-এর পূর্বসূরি।”

পর্দায় পুরোনো একটি আলোকচিত্র উঠল।

দীর্ঘ বারান্দা। উঁচু স্তম্ভ। মাঝখানে পাথরের সিঁড়ি। ডান পাশে গোল জানালা। সামনে দুটি পুরোনো শিরীষগাছ।

জায়গাটি চিনলাম।

ছবির ভবন নয়।

তার ভেতরের corridor।

বহু বছর আগে সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। অন্তত আমার স্মৃতি তাই বলছে।

সমস্যা হলো, আমার স্মৃতিতে ভবনটি বাংলাদেশের ভেতরে ছিল।

“ভুল জায়গা,” বললাম।

অমিত বলল, “কোন দিক থেকে?”

“আমি এই ভবনে গিয়েছি। কিন্তু নদিয়ায় নয়।”

“কোথায়?”

“বাংলাদেশে। নদীর নাম মনে নেই। কাছাকাছি রেললাইন ছিল।”

মৈত্রেয়ী বললেন, “একই নকশায় দুটি ভবন?”

সুবর্ণা ধীরে মাথা নাড়ল।

“অথবা একই প্রতিষ্ঠান দুই পাশে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করেছিল। মানুষ সীমান্ত পার না হলেও ভবনের নকশা পার হতে পারে।”

অমিত বলল, “হাসান, ছবিটার ডান দিক দেখো।”

বড় করে দেখানো হলো বারান্দার দেয়াল।

সেখানে চারজন মানুষ দাঁড়িয়ে।

একজন স্মৃতি দত্ত।

সময় বর্তমান। ছবিটি কয়েক মিনিট আগে ধারণ করা।

তাঁর পাশে গোপাল নস্কর।

তিনি বন্দি মনে হচ্ছেন না। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে আমার পাণ্ডুলিপির মতো মোটা একটি ফাইল।

তৃতীয় ব্যক্তি অচেনা।

চতুর্থ ব্যক্তির মুখ ছায়ায়। কিন্তু দাঁড়ানোর ভঙ্গি পরিচিত।

অমিত বলল, “Face-matching system নিশ্চিত ফল দেয়নি। ছবির মান কম। কিন্তু শারীরিক অনুপাত, পুরোনো নথির ছবি এবং বর্তমান নমুনা মিলিয়ে একটি সম্ভাব্য পরিচয় দিয়েছে।”

“কে?”

অমিত উত্তর দেওয়ার আগে স্নেহার secure call এল।

সে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছেছে। অর্ক স্থিতিশীল।

“তোমরা অবস্থান পেয়েছ?” স্নেহা জিজ্ঞেস করল।

“পেয়েছি।”

“একাই যাবে না।”

পুরোনো উত্তরটি মুখে এসেছিল।

সময় নেই।

বিপদ বেশি।

তোমাকে এখানে থাকতে হবে।

বললাম না।

“আমি মনে করি, এখন রওনা হওয়া দরকার,” বললাম। “তুমি কী মনে করো?”

ভিডিওতে স্নেহার মুখ কয়েক সেকেন্ড স্থির রইল।

“আগে ছবিটির উৎস যাচাই করো। অমিতের কাছে বিকল্প route আছে কি না দেখো। আমি অর্ককে স্থিতিশীল করে তোমাদের সঙ্গে যুক্ত হব। তারপর আমরা যাব।”

“আমরা?”

“হ্যাঁ। তুমি আমার পরিকল্পনার মধ্যে জায়গা চেয়েছিলে। মনে আছে?”

“মনে আছে।”

“ভালো। স্মৃতি হারায়নি, অন্তত একটি সুবিধা আছে।”

সংযোগ শেষ হওয়ার আগে তার ঠোঁটের কোণে খুব ছোট একটি রেখা দেখলাম।

ক্ষমা নয়।

সম্ভবত নতুনভাবে কথা বলার প্রথম অনুমতি।

অমিত পর্দার ছবিটি আরও পরিষ্কার করল। অচেনা চতুর্থ মানুষের মুখে আলো পড়ল।

আমি প্রথমে চিনতে পারিনি।

কারণ মানুষটিকে আমি সবসময় নিজের চেয়ে কম বয়সে মনে রেখেছি।

অমিত খুব ধীরে বলল, “এ কারণেই এত দিন সামনে আসিনি। আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।”

সুবর্ণার মুখ থেকে প্রথমবার সমস্ত ব্যঙ্গ সরে গেল।

“অসম্ভব,” সে বলল।

মানুষটির ডান হাতে H চিহ্নিত পিতলের চাবি।

বাঁ হাতে ১৯০৫ সালের পূর্ণ প্রতিকৃতি।

আর বাঁ পায়ের জুতার সামনের অংশ ছেঁড়া।

মানুষটি ক্যামেরার দিকে মুখ তুলল।

কোনো শব্দ শোনা গেল না। কিন্তু ঠোঁটের নড়াচড়া পড়তে অসুবিধা হলো না।

সে আমার পুরোনো পূর্ণ নাম উচ্চারণ করছে।

যে নামটি সুবর্ণা জানত।

যে নামটি অমিত সাত বছর ধরে উচ্চারণ করেনি।

যে নামটি ইকবাল হাসান নয়।

পর্দার নিচে location data স্পষ্ট হলো:

পুরোনো H কেন্দ্র, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ

অথচ আমার স্মৃতিতে একই ভবন বাংলাদেশের ভেতরে।

একই বারান্দা।

একই গোল জানালা।

একই দুই শিরীষগাছ।

শুধু সীমান্ত আলাদা।

অমিত বলল, “হাসান, তোমার স্মৃতির ভবনটি কোথায় ছিল?”

অনেক বছর পর প্রথমবার একটি প্রশ্নের উত্তর পুরো জানতাম।

তবু উচ্চারণ করতে ভয় হলো।

কারণ জায়গাটির নাম বললে সুবর্ণা বুঝবে, আমার একীকরণ প্রকল্প শুধু রাজনৈতিক ধারণা নয়।

অমিত বুঝবে, আমি তার ধারণার চেয়ে অনেক আগে মিশন শুরু করেছিলাম।

আর স্নেহা বুঝবে, আমার কাছে এখনো এমন সত্য আছে, যা তার নিজের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

সুবর্ণা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছ, সত্যটা আমাদের জানার দরকার আছে কি না?”

এবার অস্বীকার করলাম না।

“হ্যাঁ।”

“সিদ্ধান্ত?”

তার চোখে প্রতিযোগিতা নয়।

সতর্কতা।

ল্যাপটপের ক্ষুদ্র ক্যামেরায় নিজের প্রতিফলন দেখলাম। ডান হাত স্লিংয়ে। মুখে শুকনো রক্তের সরু রেখা। নিজের বাড়ি নেই। স্থায়ী পরিবার নেই। যে নাম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিও জন্মনাম নয়।

আমার যা আছে, তার অধিকাংশই অন্য মানুষের কাছে রাখা।

পাণ্ডুলিপি মৈত্রেয়ীর কাছে।

প্রমাণ স্নেহার নেটওয়ার্কে।

অতীতের নথি সুবর্ণার নিয়ন্ত্রণে।

গোপন যোগাযোগ অমিতের হাতে।

আর স্মৃতি দত্ত এমন একটি ভবনে, যা একই সঙ্গে দুই দেশে থাকার কথা।

বললাম, “ভবনটির বাংলাদেশের প্রতিলিপি ছিল যশোরের পুরোনো নদীপথের কাছে।”

অমিত চোখ বন্ধ করল।

সুবর্ণা খুব ধীরে শ্বাস ছাড়ল।

“তা হলে তুমি সত্যিই শুরু করেছিলে,” সে বলল।

“কী?” অমিত জিজ্ঞেস করল।

সুবর্ণা আমার চোখ থেকে দৃষ্টি সরাল না।

“দুই পাশে একই প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। একই নথি, একই পথ, একই মানুষকে দুই রাষ্ট্রে আলাদা নামে রাখা।”

“আমি শুরু করিনি।”

“তাহলে কে?”

পর্দায় নদিয়ার ভবনের দরজা খুলল।

স্মৃতি দত্ত ভেতরে প্রবেশ করলেন।

তাঁর পেছনে ছেঁড়া জুতার মানুষ।

দরজা বন্ধ হওয়ার আগে তিনি একবার ক্যামেরার দিকে তাকালেন।

তাঁর হাতে একটি সংবাদপত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক পৃষ্ঠা।

ওপরে আমার ছবি।

নিচে আমার প্রথম প্রকাশিত পাণ্ডুলিপির শিরোনাম।

প্রকাশের তারিখ আগামীকাল।

অমিত ফিসফিস করে বলল, “তোমার লেখা প্রকাশের পরিকল্পনা শুধু শুরু হয়নি, হাসান। ছাপাও হয়ে গেছে।”

পৃষ্ঠার একেবারে নিচে ছোট একটি সম্পাদকীয় ঘোষণা।

মৈত্রেয়ী ছবিটি বড় করলেন।

একই লেখা আগামীকাল সকাল আটটায় ঢাকা ও কলকাতা থেকে একযোগে প্রকাশিত হবে।

স্নেহা secure call-এ আবার যুক্ত হলো।

“কোন লেখা?” সে জিজ্ঞেস করল।

মৈত্রেয়ী শিরোনামটি পড়লেন।

আমার ১০১টি উপস্থিত পাণ্ডুলিপির কোনোটি নয়।

এটি অনুপস্থিত ছয়টির একটি।

পাণ্ডুলিপি নম্বর:

শিরোনাম:

দুই বাংলার প্রথম গোপন রাজধানী

স্মৃতি দত্ত সংবাদপত্রটি ভাঁজ করলেন।

ছেঁড়া জুতার মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে।

আর তাঁর পেছনের দেয়ালে ঝুলছে বাংলাদেশের সেই ভবনের ছবি, যার সামনে আমি বহু বছর আগে দাঁড়িয়েছিলাম।

একই নকশার দুই ভবন।

দুই দেশ।

একটি গোপন কেন্দ্র।

সুবর্ণা বলল, “তোমার মিশনের কথা কেউ জানে না, তাই তো?”

উত্তর দিলাম না।

কারণ আগামীকাল সকাল আটটার পর দুই বাংলার মানুষ যে লেখা পড়বে, সেখানে আমার গোপন মিশনের প্রথম নকশা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

আর আমি নিশ্চিত নই, লেখাটি সত্যিই আমি লিখেছিলাম, না আমার নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ আমার ভবিষ্যৎ লিখে রেখেছিল।

চলবে...

একটি গুলি আলো নিভিয়েছিল। অন্ধকারে কেউ নথি নেয়নি। নিয়ে গেছে এমন একজন মানুষকে, যিনি দুই বাংলার একই ভবনের পথ জানতেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ‘দত্ত পরিবার’ একটি ঐতিহাসিক আবহ, রহস্য ও রোমাঞ্চনির্ভর মৌলিক কাল্পনিক উপন্যাস। ইকবাল হাসান, স্নেহা দত্ত, অমিত, সুবর্ণা, স্মৃতি দত্ত, H Library, সীমান্তের কালি, গোপন সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ঘটনা সৃজনশীল কাহিনির অংশ। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণগুলো সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: কাহিনিতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ ও রাজধানী স্থানান্তর, বাংলা ভাগ, পাটশিল্প, সীমান্তবিভক্ত পরিবার এবং পরিচয় ও সম্পত্তির নথিগত সংকটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সৃজনশীলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান মোঃ মেহেদি হাসান (কলম নাম: মি. বিকেল)—লেখক, ব্লগার, শিক্ষক এবং ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। • শিক্ষা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। • প্রকাশনা: প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে’ (রকমারি.কম-এ উপলব্ধ)। • অন্যান্য: ‘দ্য ব্যাকস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৩ থেকে মাইক্রোসফট ডেভেলপার প্রোগ্রামে যুক্ত। যেকোনো প্রশ্ন বা যৌথ কাজের আগ্রহে যোগাযোগ করুন: [email protected] অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!