চিন্তার আনন্দ, কাজের শূন্যতা: কনটেন্টের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মনোযোগ

অন্তহীন স্ক্রলিং ও অতিরিক্ত কনটেন্ট কীভাবে আমাদের মনোযোগ, সম্পর্ক ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলে? চিন্তার আনন্দ থেকে বাস্তব কাজে ফেরার আত্মসমালোচনামূলক বিশ্লেষণ।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ৭
চিন্তার আনন্দ, কাজের শূন্যতা: কনটেন্টের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মনোযোগ
সন্ধ্যার একটি বাসে জানালার পাশের যাত্রীসহ অন্য যাত্রীরা নিজ নিজ ফোনে ব্যস্ত; সামনের যাত্রীর কোলে বন্ধ খাতা ও কলম কনটেন্টের ভিড়ে মনোযোগ হারানো

মনোযোগ, কনটেন্ট ও কর্মহীন বুদ্ধিবিলাস

চিন্তার আনন্দ, কাজের শূন্যতা: কনটেন্টের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মনোযোগ

আমার ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। ফলে প্রয়োজনে এবং কখনো প্রয়োজনের চেয়েও বেশি আমাকে বাস, ট্রেন ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। যাত্রাপথে আমি সাধারণত প্রয়োজনের বেশি কথা বলি না। তবে আশপাশের আসনে বসা মানুষদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি। প্রথম কারণ আমার মানিব্যাগের নিরাপত্তা। দ্বিতীয় কারণ গল্প।

প্রতিটি মানুষই একটি সম্ভাব্য গল্প। মানুষের পোশাক, কথা বলার ধরন, ব্যবহৃত ফোন, সহযাত্রীর সঙ্গে আচরণ, বিরক্তি, অপেক্ষা কিংবা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি কোনো লেখকের কাছে একটি নতুন চরিত্রের দরজা খুলে দিতে পারে।

কিন্তু দীর্ঘদিন যাতায়াত করতে গিয়ে অধিকাংশ যাত্রীর মধ্যে আরেকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেছি। মানুষ পাশাপাশি বসে আছে, কিন্তু প্রত্যেকের মন যেন ভিন্ন একটি পর্দার ভেতরে আটকে আছে।

যাত্রাপথের পরিচিত পাঁচটি দৃশ্য:

  • স্মার্টফোন ও ইয়ারফোনে গান শোনা
  • ফেসবুক ফিড স্ক্রল করা
  • একের পর এক স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখা
  • ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান
  • ইউটিউব কিংবা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ভিডিও দেখা

প্রথমে মনে হয়েছিল, এটি শুধু নতুন প্রজন্মের প্রবণতা। পরে দেখলাম বয়স দিয়ে অভ্যাসটিকে আলাদা করা যায় না। তরুণ, মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণ, প্রায় সব বয়সের মানুষের হাতেই পর্দা। কেউ গান শুনছেন, কেউ সংবাদ দেখছেন, কেউ ধর্মীয় আলোচনা শুনছেন, কেউ নাটক, খেলা কিংবা হাসির ভিডিও দেখছেন।

এতে সবকিছু খারাপ, এমন কথা বলা যাবে না। গণপরিবহনের বিরক্তিকর সময়কে কেউ শেখা, বিনোদন কিংবা যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করতেই পারেন। সমস্যাটি কনটেন্ট দেখার মধ্যে নয়। সমস্যাটি শুরু হয় তখন, যখন দেখা আর একটি সচেতন সিদ্ধান্ত থাকে না। আঙুল চলছে, পর্দা বদলাচ্ছে, সময় যাচ্ছে, কিন্তু মানুষটি নিজেই জানেন না তিনি কী খুঁজছেন।

কনটেন্টের শেষ কোথায়?

Spotify, YouTube Music, Netflix, Amazon Prime Video, Facebook, Instagram এবং YouTube আমাদের সামনে প্রায় সীমাহীন কনটেন্টের ভান্ডার খুলে দিয়েছে।

আমরা বলি, অবসর সময়ে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছি। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি অবসর সময়ে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছি, নাকি প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের জীবনের প্রতিটি অবসর মুহূর্ত অধিকার করে নিচ্ছে?

একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলে কখনো কখনো কী দেখব, সেটি নির্বাচন করতেই দীর্ঘ সময় চলে যায়। একটি সিনেমা দেখার চেয়ে সিনেমা বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। শত শত শিরোনাম চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মনে হয়, হয়তো আরও ভালো কিছু আছে। ফলে নির্বাচন স্থগিত থাকে, অনুসন্ধান চলতে থাকে।

শুধু ভিডিও নয়। বইয়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটতে পারে। পৃথিবীতে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নতুন শিরোনাম ও সংস্করণ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সব বই পড়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সব বই পড়ার প্রয়োজনও নেই। প্রকাশনার বৈশ্বিক সংখ্যা নির্ণয়ে দেশ, বছর, ISBN এবং নতুন সংস্করণ গণনার পদ্ধতিগত পার্থক্য আছে। তাই বহুল প্রচারিত কোনো একক সংখ্যাকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার বদলে মূল সত্যটি বোঝাই যথেষ্ট: আমাদের পড়ার ক্ষমতার চেয়ে প্রকাশিত উপাদানের পরিমাণ অনেক বেশি।

এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়। সমস্যা হলো, কোন তথ্যটি দরকার, কোনটি বাদ দিতে হবে এবং কোনটি বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে হবে, সেই বিচারক্ষমতা।

মনোযোগ এখন পণ্য

চারপাশে এত কনটেন্ট কেন? কারণ কনটেন্টের চাহিদা আছে। কিন্তু চাহিদার পাশাপাশি আরেকটি অর্থনৈতিক কাঠামোও কাজ করছে। এর নাম attention economy, অর্থাৎ মনোযোগ অর্থনীতি।

আপনার মনোযোগ সীমিত। একটি মুহূর্তে আপনি সবকিছু দেখতে, শুনতে বা বুঝতে পারেন না। আপনি যে সময়টি একটি ভিডিওতে দিচ্ছেন, সেই সময় অন্য কিছুতে দিতে পারছেন না। ফলে মানুষের সীমিত মনোযোগের জন্য কনটেন্ট নির্মাতা, সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপননির্ভর প্ল্যাটফর্মের জন্য ব্যবহারকারীর দীর্ঘ উপস্থিতি ব্যবসায়িকভাবে মূল্যবান। যত বেশি সময় মানুষ ফিডে থাকবেন, তত বেশি কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন ও সুপারিশ তার সামনে দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাই কোন কনটেন্টের পর কোনটি দেখানো হবে, কোথায় বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হবে এবং কোথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ভিডিও শুরু হবে, এসব সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ নয়।

অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের বিশেষত্ব হলো, এখানে প্রাকৃতিক বিরতি নেই। কাগজের বইয়ের অধ্যায় শেষ হয়। সংবাদপত্রের পাতা শেষ হয়। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানও একসময় শেষ হয়। কিন্তু ফিড শেষ হয় না। ফলে থামার সিদ্ধান্তটি প্ল্যাটফর্ম দেয় না। আপনাকেই নিতে হয়।

এ থেকে সরাসরি এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পরিকল্পিতভাবে পুরুষকে দুর্বল কিংবা নারীকে বিচারবুদ্ধিহীন করতে চায়। এই দাবির জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। বেশি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো, প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। কিন্তু সেই ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যক্তির মনোযোগ, সম্পর্ক ও সময় ব্যবস্থাপনায় আঘাত করতে পারে।

আমাদের বিরুদ্ধে কোনো গোপন ষড়যন্ত্র না থাকলেও বিপদ কমে না। এমন একটি ব্যবস্থা, যা আপনার ভালো থাকা নয় বরং আপনার দীর্ঘ উপস্থিতি থেকে লাভবান হয়, সেটি স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনোযোগ ধরে রাখার দিকে বেশি আগ্রহী হবে।

আমরা পাশাপাশি আছি, কিন্তু কথা বলছি না

বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে নিজের দিকেও তাকালাম। আমি ডিজিটাল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। তবু দেখলাম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট স্থির হয়ে মনের কথা বলার বদলে কখনো ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতি হিসেবে প্রকাশ করছি।

ছবি আছে, ক্যাপশন আছে, প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু কথোপকথন কোথায়?

একই ঘরে কয়েকজন মানুষ বসে আছেন, কিন্তু প্রত্যেকেই আলাদা পর্দায় ব্যস্ত। দূরের মানুষকে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় আছে, পাশে বসা মানুষের দিকে তাকানোর সময় নেই। আমরা যোগাযোগ করছি, কিন্তু সব সময় সংযুক্ত হচ্ছি না।

এখান থেকে একাকিত্ব, বিষণ্নতা কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সরল কারণ হিসেবে শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করা ঠিক হবে না। মানসিক স্বাস্থ্যের পেছনে পারিবারিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক চাপ, শারীরিক স্বাস্থ্য, ঘুম, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা ও বহু ব্যক্তিগত কারণ কাজ করে।

তবু গবেষণায় আসক্তিমূলক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে উদ্বেগ, বিষণ্নতার লক্ষণ, একাকিত্ব ও হারিয়ে ফেলার ভয় বা fear of missing out-এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এখানে সম্পর্ক থাকা মানেই একটি বিষয় অন্যটির একমাত্র কারণ, তা নয়। একাকী মানুষ বেশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন, আবার নির্দিষ্ট ধরনের অতিরিক্ত ব্যবহারও একাকিত্ব বাড়াতে পারে।

তাই প্রশ্নটি ফোন ভালো না খারাপ, এত সরল নয়। প্রশ্ন হলো, ফোন ব্যবহারের পর আমরা আরও সংযুক্ত হচ্ছি, নাকি আরও বিচ্ছিন্ন? আমরা কি কিছু শিখছি, নাকি শুধু সময় পার করছি? ব্যবহারের পর মন পরিষ্কার হচ্ছে, নাকি আরও অস্থির হচ্ছে?

জনপ্রিয় মানেই প্রয়োজনীয় নয়

গণপরিবহনের সহযাত্রীদের পর্দায় তাকিয়ে দেখেছি, বিপুল অংশের কনটেন্টের উদ্দেশ্য গভীর বোঝাপড়া তৈরি করা নয়। কয়েক সেকেন্ডের বিস্ময়, হাসি, রাগ কিংবা কৌতূহল তৈরি করাই যথেষ্ট। একটি ভিডিও শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী ভিডিও এসে যায়। আগেরটির কোনো স্মৃতি থাকে না, তবু আঙুল থামে না।

অনেক সময় একটি গান এমন ভাষায় জনপ্রিয় হয়, যার অর্থ শ্রোতাদের বড় অংশ জানেন না। এটি নিজে কোনো সমস্যা নয়। সুর, তাল, নাচ, অভিনব দৃশ্য কিংবা সামাজিক অনুকরণের মাধ্যমে গান ভাষার সীমা অতিক্রম করতে পারে।

Why This Kolaveri Di, Gangnam Style কিংবা Despacito-এর মতো গান আমাদের দেখিয়েছে, মানুষ সব সময় অর্থ বুঝে জনপ্রিয় কনটেন্ট গ্রহণ করেন না। কখনো ছন্দ, পুনরাবৃত্তি, দৃশ্য, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অন্যদের অনুকরণ করার আনন্দ একটি কনটেন্টকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়।

এখানেই একটি বড় পার্থক্য বুঝতে হবে। আনন্দদায়ক কনটেন্ট মানেই আবর্জনা নয়। সব কনটেন্টকে শিক্ষামূলক হতে হবে, এমন দাবিও অনর্থক। মানুষের বিনোদন প্রয়োজন। কিন্তু যে বিনোদনের পরিমাণ আমাদের ঘুম, কাজ, সম্পর্ক ও চিন্তার সক্ষমতা নষ্ট করতে শুরু করে, সেটি আর নিরীহ অবসর থাকে না।

সমস্যা একটি গান, সিনেমা কিংবা হাসির ভিডিওতে নয়। সমস্যা হলো পরিমাপহীন ভোগ। আমরা কী নিচ্ছি, কতটা নিচ্ছি এবং সেটি আমাদের ভেতরে কী তৈরি করছে, এই তিনটি প্রশ্ন যদি না করি, তাহলে কনটেন্টের বাজার আমাদের হয়ে উত্তর নির্ধারণ করবে।

সাগর ভাই, সিনেমা এবং কয়েকটি দুর্দান্ত ধারণা

আমার এক কাজিন আছেন, মামুনুর রশীদ সাগর। তার সঙ্গে কথোপকথন শুরু হলে বিষয় থেকে বিষয়ে চলে যাওয়া খুব সহজ। তিনি জানতে চান সালমান খানের পরবর্তী সিনেমা কী। আমি ভাবছি শহীদ কাপুরের পরবর্তী ছবি কেমন হতে পারে। সেখান থেকে আমরা চলচ্চিত্র তারকাদের জীবন, অভিজাত শ্রেণি এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করি।

কিছু সময় পর বুঝতে পারি, আমরা অন্য মানুষের জীবন নিয়ে অনেক দূর চলে গেছি। তখন আলোচনা ঘুরে আসে নিজেদের দিকে। আমরা ধারণা নিয়ে কথা বলতে শুরু করি। সাগর ভাইয়ের কাছে একাধিক দুর্দান্ত ধারণা আছে। আমার কাছেও গবেষণাভিত্তিক অনেক পরিকল্পনা আছে। দুই ভাইয়ের আড্ডায় তখন প্রকল্প, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতের অভাব থাকে না।

একবার আলোচনা শুরু হলে থামতে চায় না। একটি ধারণা থেকে আরেকটি ধারণা। একটি সম্ভাবনা থেকে দশটি সম্ভাবনা। কিছুক্ষণের জন্য মনে হয় আমরা আসলেই অনেক দূর এগিয়ে গেছি।

কিন্তু আড্ডা শেষ হওয়ার পর বাস্তবে কত দূর এগিয়েছি?

আমার গবেষণাভিত্তিক একটি উদ্যোগ ছিল ‘লিখুন আর আয় করুন’। ধারণাটি নিয়ে অনেক চিন্তা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, সম্ভাব্য কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি।

সব ব্যর্থতার দায় শুধু ব্যক্তি উদ্যোগের অভাব নয়। অর্থ, সময়, সহযোগী, প্রযুক্তি ও বাজারের বাস্তব সীমা থাকে। তবু আত্মসমালোচনার একটি জায়গা রয়ে যায়। আমরা কি ধারণার আনন্দে এতটাই ডুবে ছিলাম যে ধারণাকে ছোট, পরীক্ষাযোগ্য ও বাস্তব পদক্ষেপে ভাঙতে দেরি করেছি?

কর্মহীন বুদ্ধিবিলাস: অগ্রগতির অনুভূতি, অগ্রগতি নয়

এই অভিজ্ঞতাকে আমি বলছি কর্মহীন বুদ্ধিবিলাস। এটি কোনো ক্লিনিক্যাল মনোবৈজ্ঞানিক রোগ বা আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় নয়। বরং এমন একটি প্রবণতার বর্ণনা, যেখানে মানুষ ধারণা, পরিকল্পনা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বারবার চিন্তা বা আলোচনা করে অগ্রগতির অনুভূতি পান, কিন্তু চিন্তাটি অর্থপূর্ণ কাজে রূপ নেয় না।

ইংরেজি অনলাইন লেখালেখিতে এই অবস্থাকে বোঝাতে কখনো একটি ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক রূপক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু রূপকটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার অন্তর্নিহিত প্রশ্ন: চিন্তা কি কাজের প্রস্তুতি, নাকি চিন্তাই কাজের বিকল্প হয়ে গেছে?

একটি ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললে মনে হতে পারে আমরা উদ্যোক্তা হওয়ার পথে আছি। দশটি উৎপাদনশীলতার বই পড়লে মনে হতে পারে জীবন বদলে যাচ্ছে। ব্যায়ামের নিখুঁত রুটিন নিয়ে গবেষণা করলে মনে হতে পারে স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু প্রথম গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা, প্রথম পৃষ্ঠা লেখা কিংবা প্রথম দিনের ব্যায়াম শুরু না হলে অনুভূত অগ্রগতি বাস্তব অগ্রগতিতে পরিণত হয় না।

ধারণা আমাদের ভবিষ্যতের স্বাদ দিতে পারে। কাজ আমাদের সেই ভবিষ্যতের মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য করে। তাই ধারণা উপভোগ করা সহজ, কিন্তু ধারণার দায় নেওয়া কঠিন।

কর্মহীন বুদ্ধিবিলাসের সঙ্গে অতিচিন্তা, সিদ্ধান্তহীনতা, ব্যর্থতার ভয়, বিলম্ব এবং কাজ শুরুর আগে নিখুঁত পরিকল্পনা চাওয়ার প্রবণতা যুক্ত হতে পারে। তবে প্রতিটি গভীর চিন্তা কিংবা দীর্ঘ আলোচনা কর্মহীন নয়। চিন্তা প্রয়োজন। গবেষণা প্রয়োজন। বিশ্রাম ও কল্পনাও প্রয়োজন।

পার্থক্যটি ফলাফলে। চিন্তার পরে কি কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে? সিদ্ধান্তের পরে কি কোনো পদক্ষেপ হয়েছে? পদক্ষেপের পরে কি বাস্তব প্রতিক্রিয়া নিয়ে পরিকল্পনা বদলানো হয়েছে? যদি না হয়, তাহলে আমরা হয়তো কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছি না। আমরা শুধু প্রস্তুতির অনুভূতি উপভোগ করছি।

অতিরিক্ত কনটেন্ট কীভাবে এই চক্রকে শক্তিশালী করে?

নতুন তথ্য আমাদের উদ্দীপিত করে। একটি নতুন ধারণা পুরোনো সমস্যাকে নতুন আলোয় দেখায়। তাই মানুষ বই, ভিডিও, পডকাস্ট ও আলোচনার মাধ্যমে নতুন কিছু জানতে পছন্দ করেন। কিন্তু অসীম তথ্যপ্রবাহ শেখা ও তথ্য সংগ্রহের সীমা অস্পষ্ট করে দিতে পারে।

একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা একটি ভিডিও দেখি। তারপর প্ল্যাটফর্ম আরও পাঁচটি সম্পর্কিত ভিডিও দেখায়। প্রথমটির ধারণা প্রয়োগ করার আগেই দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের ভিন্ন পদ্ধতি সামনে আসে। তৃতীয়জন বলেন আগের দুজন ভুল। চতুর্থজন আরও নতুন ব্যবস্থা শেখান।

শেষে তথ্য বেড়ে যায়, কিন্তু সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে ওঠে। আমরা নতুন কিছু শেখার আনন্দ পাই, অথচ পুরোনো শেখাটি যাচাই করার সুযোগ পাই না। জ্ঞান বাড়ছে বলে মনে হয়, কিন্তু ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না।

এভাবেই কনটেন্ট ভোগ নিজেই একটি কাজের ছদ্মবেশ নিতে পারে। একটি প্রকল্প শুরু না করে প্রকল্প শুরু করার ভিডিও দেখা যায়। লেখা শুরু না করে লেখালেখির কৌশল নিয়ে আরও দশটি লেখা পড়া যায়। আর্থিক হিসাব না করে সফল মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করা যায়।

মানুষ তখন অজ্ঞ নন। বরং এত বেশি তথ্য জানেন যে কোনো একটি পথে স্থির হতে পারেন না। মাথায় অসংখ্য কণ্ঠ কথা বলে, কিন্তু হাতের কাজটি শুরু হয় না।

আমরা কী হারাই?

কর্মহীন বুদ্ধিবিলাসকে আজীবন রোগ হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না। বিষণ্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা সম্পর্কের ব্যর্থতার একমাত্র কারণ হিসেবেও একে দেখানো ঠিক নয়। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ী হলে কয়েকটি বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে।

  • একটি কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
  • পরিকল্পনা ও বাস্তব ফলাফলের ব্যবধান হতাশা বাড়াতে পারে।
  • বাস্তব কথোপকথনের জায়গায় পর্দানির্ভর যোগাযোগ বাড়তে পারে।
  • সম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, মনোযোগ ও উপস্থিতি কমে যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত বিকল্পের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে।
  • অন্যের জীবন, সাফল্য ও মতামত নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে নিজের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি সম্ভবত আত্মপরিচয়ে। মানুষ নিজেকে এমন একজন হিসেবে কল্পনা করতে থাকেন, যিনি শিগগিরই বড় কিছু করবেন। কিন্তু প্রতিদিনের কাজ সেই পরিচয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয় না। একসময় কল্পিত ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান জীবনের ব্যবধান এত বড় হয় যে নিজের প্রতিই আস্থা কমে যায়।

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?”

কুসুমকুমারী দাশ

দুঃখিত, ধারণার আনন্দ যদি প্রতিদিন কাজের জায়গা দখল করে রাখে, তাহলে মুক্তি পাওয়া কঠিন। কারণ আমরা তখন একটি কল্পিত রাজ্যে বাস করি। সেই রাজ্যে উদ্যোগ সফল, বই লেখা হয়ে গেছে, শরীর সুস্থ, আয় বেড়েছে এবং পৃথিবী বদলে গেছে। শুধু বাস্তব পৃথিবীতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।

চিন্তা থেকে কাজে ফেরার সাতটি পথ

১. প্রতিদিন একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিন

বড় পরিকল্পনাকে এত ছোট করুন যে আজই শুরু করা যায়। বই লিখতে চাইলে দশটি অধ্যায়ের পরিকল্পনা নিয়ে বসে না থেকে প্রথমে তিনশ শব্দ লিখুন। ব্যবসা করতে চাইলে লোগো নিয়ে চিন্তা করার আগে একজন সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলুন।

২. কনটেন্ট গ্রহণের আগে উদ্দেশ্য নির্ধারণ করুন

ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশের আগে লিখুন, কেন যাচ্ছেন। একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন, নাকি শুধু বিশ্রাম নেবেন? উদ্দেশ্য পূরণ হলে বেরিয়ে আসুন। প্ল্যাটফর্মের পরবর্তী সুপারিশকে নিজের পরবর্তী সিদ্ধান্ত হতে দেবেন না।

৩. একটি শেখা, একটি প্রয়োগ

নতুন বই, ভিডিও কিংবা কোর্স শুরু করার আগে আগের শেখা বিষয় থেকে অন্তত একটি ধারণা প্রয়োগ করুন। জ্ঞানের পরিমাণ নয়, প্রয়োগের হার পরিমাপ করুন।

৪. ডায়েরি লিখুন

প্রতিদিন কী ভাবলেন, কী শিখলেন এবং কী করলেন, এই তিনটি আলাদা করে লিখুন। কয়েক সপ্তাহ পর দেখা যাবে আপনার ভাবনা ও কাজের মধ্যে কতটা ব্যবধান রয়েছে।

৫. পর্দাহীন নীরবতা তৈরি করুন

প্রতিদিন অল্প সময় ফোন, গান ও ভিডিও ছাড়া চুপচাপ বসুন, হাঁটুন, প্রার্থনা করুন কিংবা শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। তবে অবিরাম বাহ্যিক উদ্দীপনা থেকে সাময়িক দূরত্ব তৈরি করে নিজের চিন্তা শোনার সুযোগ দেয়।

৬. ডিজিটাল পরিবেশ পরিষ্কার করুন

যেসব পেজ, চ্যানেল বা অ্যাকাউন্ট শুধু উত্তেজনা, তুলনা, বিভ্রান্তি কিংবা সময়ের অপচয় বাড়ায়, সেগুলো আনফলো বা আনসাবস্ক্রাইব করুন। অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করুন। ফোনের প্রথম পর্দায় শুধু দরকারি অ্যাপ রাখুন।

৭. সমস্যার দিকে নয়, পরবর্তী কাজের দিকে তাকান

নিজের চারপাশে কোনো সমস্যা দেখলে শুধু বিশ্লেষণ করবেন না। জিজ্ঞেস করুন, এর কোন অংশটি আমার নিয়ন্ত্রণে? পুরো সমাজ বদলাতে না পারলেও পরিবারের একটি কাজে সাহায্য করা যায়। বিশাল প্রকল্প শুরু না হলেও একটি নমুনা তৈরি করা যায়।

আপনি যা গ্রহণ করেন, তার সবকিছুই কি আপনার প্রয়োজন?

আমরা যা দেখি, শুনি ও পড়ি, সেসব আমাদের চিন্তার কাঁচামাল হয়ে ওঠে। তবে মানুষ কোনো যন্ত্র নয় যে একটি নির্দিষ্ট কনটেন্ট প্রবেশ করলেই একই ধরনের ফলাফল বের হবে। পরিবার, শিক্ষা, বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত বিচারক্ষমতা আমাদের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

তবু কাঁচামালের মান গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন যদি বিচ্ছিন্ন, উত্তেজনামূলক ও কাজে না লাগা তথ্যের মধ্যে থাকি, তাহলে গভীর চিন্তার জন্য প্রয়োজনীয় নীরবতা কোথা থেকে আসবে? একটি বই, একটি প্রকল্প কিংবা একটি সম্পর্ককে দীর্ঘ সময় দেওয়ার ক্ষমতা কীভাবে তৈরি হবে?

পৃথিবী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিটি মুহূর্তে নতুন তথ্য গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। বরং দ্রুত পরিবর্তনের সময়েই নির্বাচন করার ক্ষমতা বেশি প্রয়োজন। কোনটি জানা দরকার, কোনটি পরে জানা যাবে এবং কোনটি কোনো দিন না জানলেও ক্ষতি নেই, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

জীবনের উদ্দেশ্য কি শুধু আরেকটি আলোচনার বিষয়?

আপনি আল্লাহ বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করলে বিশ্বাসের ভেতর থেকে দায়িত্ব, সেবা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক কর্মের উদ্দেশ্য খুঁজতে পারেন। কিন্তু বিশ্বাস শুধু উচ্চারণে থাকলে এবং দায়িত্বে প্রকাশ না পেলে সেটিও কর্মহীন আলোচনায় পরিণত হতে পারে।

আপনি সংশয়বাদী বা নাস্তিক হলে জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজার পথ বন্ধ হয়ে যায় না। জাপানি ধারণা ikigai বা ইকিগাই নিয়ে ভাবতে পারেন। সহজভাবে বললে, কোন কাজ আপনাকে জীবন্ত বোধ করায়, কোন কাজে আপনার দক্ষতা আছে, সমাজের কোন প্রয়োজনের সঙ্গে সেই দক্ষতার সম্পর্ক আছে এবং কীভাবে তা টেকসই জীবনে রূপ পেতে পারে, এই প্রশ্নগুলোর মিলনস্থল খোঁজা যায়।

তবে ইকিগাই নিয়ে দশটি ভিডিও দেখা আর নিজের জীবনের একটি দায়িত্ব ঠিক করা এক বিষয় নয়। ধর্ম, দর্শন কিংবা মনোবিজ্ঞান, যেখান থেকেই উদ্দেশ্য নিন, উদ্দেশ্যের সত্যতা শেষ পর্যন্ত কাজে পরীক্ষা দিতে হয়।

পৃথিবীর সব কনটেন্ট আপনার জন্য তৈরি হয়নি। সব তথ্য আপনার জানা দরকার নেই। সব ধারণা নিয়ে আলোচনা করাও অগ্রগতি নয়। আপনার জীবনের পরবর্তী অর্থপূর্ণ কাজটি কী, সেটি নির্ধারণ করে কাজটি শুরু করাই সম্ভবত সবচেয়ে জরুরি।

গণপরিবহনে পরবর্তীবার কারও হাতে ফোন দেখলে আমি তাকে অলস বা আসক্ত বলে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। মানুষটি হয়তো প্রয়োজনীয় কিছু শিখছেন, প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলছেন কিংবা ক্লান্ত দিনের শেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন।

বরং প্রশ্নটি নিজের দিকে ফিরিয়ে দিতে চাই। আমি যে কনটেন্ট গ্রহণ করছি, তা কি আমাকে আরও সচেতন ও কর্মক্ষম করছে? নাকি শুধু জ্ঞানী, ব্যস্ত এবং অগ্রসর হওয়ার অনুভূতি দিচ্ছে?

আমরা অনেক কিছু জানি। অনেক কিছু নিয়ে কথা বলি। অসংখ্য পরিকল্পনা করি। এখন হয়তো আরেকটি ধারণা দরকার নেই। দরকার একটি অসম্পূর্ণ কিন্তু বাস্তব সূচনা।

আমাদের সবার জীবন হোক চিন্তাশীল, কিন্তু শুধু চিন্তানির্ভর নয়। আমাদের জীবন হোক কর্মমুখর।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

  1. Meinhardt, Luca-Maxim এবং অন্যান্য। “Scrolling in the Deep: Analysing Contextual Influences on Intervention Effectiveness during Infinite Scrolling on Social Media.” অন্তহীন স্ক্রলিং, দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ও প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল হস্তক্ষেপবিষয়ক গবেষণা। arXiv
  2. Lora, Sanzana Karim এবং অন্যান্য। “Infinite Scrolling, Finite Satisfaction: Exploring User Behavior and Satisfaction on Social Media in Bangladesh.” বাংলাদেশে সচেতন ও অসচেতন স্ক্রলিংয়ের ব্যবহারিক প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধান। arXiv
  3. Zhang Jing এবং অন্যান্য। “Correlations between Social Media Addiction and Anxiety, Depression, FoMO, Loneliness and Self-esteem among Students.” PLOS One, ২০২৫। PLOS One
  4. Green, Melanie C. এবং Timothy C. Brock। “The Role of Transportation in the Persuasiveness of Public Narratives.” Journal of Personality and Social Psychology , 79(5), 701–721, ২০০০। https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/11079236/ PubMed
  5. Surya Balasubramanian। “Mental Masturbation: The Illusion of Progress Without Action.” ধারণা ও পরিকল্পনার আনন্দ বাস্তব পদক্ষেপের বিকল্প হয়ে ওঠার বিষয়ে একটি জনপ্রিয় অনলাইন আলোচনা। এটি ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নয়। Medium
  6. বৈশ্বিক বই প্রকাশনার সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের অসম বছর, ISBN নিবন্ধন এবং নতুন সংস্করণ গণনার পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার সংকলিত আলোচনা। Worldometer Book Statistics

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 1
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান মোঃ মেহেদি হাসান (কলম নাম: মি. বিকেল)—লেখক, ব্লগার, শিক্ষক এবং ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। • শিক্ষা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। • প্রকাশনা: প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে’ (রকমারি.কম-এ উপলব্ধ)। • অন্যান্য: ‘দ্য ব্যাকস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৩ থেকে মাইক্রোসফট ডেভেলপার প্রোগ্রামে যুক্ত। যেকোনো প্রশ্ন বা যৌথ কাজের আগ্রহে যোগাযোগ করুন: [email protected] অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!