দত্ত পরিবার | পর্ব ১৮: যে নামটি আমার ছিল না

জনসভার ভুল নাম, সাতটি সংকেত ও ১৯০৫-এর ছবি তদন্ত করতে গিয়ে ইকবাল, স্নেহা ও সুবর্ণা আবিষ্কার করে, নাথ দত্ত এক ব্যক্তি নয়, দেশভাগে ব্যবহৃত এক পরিচয়।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ৩
দত্ত পরিবার | পর্ব ১৮: যে নামটি আমার ছিল না
সন্ধ্যার হুগলি নদীতে ছাউনিযুক্ত নৌকার ভেতর ডান হাত স্লিংয়ে রাখা ইকবাল হাসান ও নথি হাতে স্নেহা পাশাপাশি বসে; সামনে পুরোনো মানচিত্র, ছবি ও নাথ দত্তের নথি ছড়ানো, পাশে আরেকজন নথি ধরে দাঁড়িয়ে এবং পেছনে দুই সহযোগী

অভিযাত্রী ধারাবাহিক উপন্যাস

দত্ত পরিবার

পর্ব ১৮: যে নামটি আমার ছিল না

লেখক: মোঃ মেহেদি হাসান

ভুল নামে কাউকে একবার ডাকা খুব ছোট ঘটনা। কিন্তু সেই ভুল নাম যদি নথিতে ঢুকে পড়ে, জনতার সামনে উচ্চারিত হয় এবং ইতিহাসের পুরোনো খাতায় ফিরে আসে, তখন মানুষটিকে নয়, তার অস্তিত্বকেই সংশোধন করতে হয়।

পর্দা নিভে যাওয়ার পর মাঠের আলো আরও উজ্জ্বল মনে হলো।

কয়েক হাজার মানুষ একই সঙ্গে কথা বললে কোনো একটি বাক্য শোনা যায় না। শুধু বোঝা যায়, নীরবতার নিয়ন্ত্রণ আর মঞ্চের হাতে নেই।

অনিরুদ্ধ সেন মঞ্চের পেছনে দৌড়েছেন। প্রযুক্তি-দলের দুইজন তার পেছনে। নিরাপত্তাকর্মীদের একটি অংশ সুবর্ণার মিছিলের চারপাশে অবস্থান নিয়েছে। অন্য অংশ জনতার চাপ ঠেকাতে মঞ্চের সামনের লোহার ব্যারিকেড ধরে রেখেছে।

স্মৃতি দত্ত মাইক্রোফোনের পাশে স্থির দাঁড়িয়ে। স্নেহা আমার বাঁ পাশে। ডান বাহু স্লিংয়ের মধ্যে ভারী হয়ে ঝুলছে। ব্যান্ডেজের নিচে স্পন্দনের সঙ্গে ব্যথা উঠছে, কিন্তু এত মানুষের সামনে নিজের শরীর নিয়ে ভাবা বিলাসিতা।

একজন সংবাদকর্মী ব্যারিকেডের সামনে থেকে চিৎকার করলেন, “মিস্টার মেহেদি হাসান, উনিশশো পাঁচের ছবিতে যে মানুষটিকে দেখানো হলো, তিনি কি আপনি?”

প্রশ্নটির দ্বিতীয় অংশের আগে প্রথম অংশটি ঠিক করা দরকার।

আমি মাইক্রোফোনের কাছে ফিরে গেলাম।

“আমার নাম মেহেদি হাসান নয়।”

সামনের কয়েকটি সারির গুঞ্জন আচমকা কমে গেল।

“আমার পূর্ণ নাম ইকবাল হাসান।”

এবার নীরবতা শুধু সামনের সারিতে থাকল না। মাঠের ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে গেল।

ভুল নাম মানুষের কৌতূহল বাড়ায়। নিজের নাম সংশোধন করলে সন্দেহ বাড়ে।

আর জনতার সামনে নিজের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে কোনো বক্তৃতার বক্তব্য আর একা থাকে না। বক্তার প্রতিটি বাক্য তার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে পরীক্ষা হতে শুরু করে।

অনিরুদ্ধ সেন মঞ্চে ফিরে এলেন। তাঁর হাতে সম্মেলনের মুদ্রিত পরিচিতিপত্র।

“একটু দাঁড়ান,” তিনি বললেন। “আমাকে যে পরিচয় পাঠানো হয়েছিল, তাতে ‘মোঃ মেহেদি হাসান’ লেখা আছে। ছাপানো সূচিতেও একই নাম। আমি নিজের থেকে কিছু ঘোষণা করিনি।”

স্নেহা হাত বাড়াল।

“কাগজটা দেখতে পারি?”

অনিরুদ্ধবাবু কাগজটি তার হাতে দিলেন।

স্নেহা প্রথমে লেখার দিকে তাকাল না। আঙুলের ডগা দিয়ে কাগজের ওপরের প্রান্ত ছুঁল। তারপর নিচের কাটা অংশ, মুদ্রণের চাপ এবং ভাঁজ দেখল।

“এটি মূল সূচির সঙ্গে একই কাগজে ছাপা হয়নি,” সে বলল।

অনিরুদ্ধ সেন ভ্রু কুঁচকালেন।

“কী করে বুঝলেন?”

“মূল কাগজের আঁশ মোটা। এটার মসৃণতা আলাদা। কালির ঘনত্বও কম। পরিচিতির অংশটি পরে ছাপিয়ে ওপরের অংশে বসানো হয়েছে। আলোয় ধরলে কাটা রেখা দেখা যাচ্ছে।”

অনিরুদ্ধবাবু কাগজটি আলোয় ধরলেন। কয়েক সেকেন্ড পর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।

“তা হলে ডিজিটাল ফাইল বদলায়নি?”

“সেটা পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু এই কাগজটি শারীরিকভাবে বদলানো হয়েছে।”

আমি বললাম, “পর্দার সংকেত আর মুদ্রিত নথি বদলানো একই ব্যক্তির কাজ ধরে নেওয়া যাবে না।”

স্নেহা আমার দিকে তাকাল।

“তুমি প্রথমে সেটাই ধরে নিয়েছিলে।”

“মত বদলানো অপরাধ?”

“না। ভুল স্বীকার না করে মত বদলানো তোমার পুরোনো অভ্যাস।”

জনতার সামনে তর্ক করা আমাদের সম্পর্কের জন্য ভালো নয়। সমস্যা হলো, একা থাকলেও আমরা প্রায় একই কাজ করি।

স্মৃতি দত্ত কাগজটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার কলকাতা দপ্তর থেকে এই নাম পাঠানো হয়নি।”

সুবর্ণার কণ্ঠ মাঠের মাঝখান থেকে এল।

“তা হলে কেউ মঞ্চে ওঠার আগেই ওর জন্য নতুন নাম সাজিয়ে রেখেছিল।”

বললাম, “নতুন নাম নয়। ভুল নাম।”

সুবর্ণা এবার সামান্য হাসল।

“নথিতে লেখা ভুল নাম অনেক সময় আসল নামের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকে, হাসান। এই কথাটা তুমি সবার চেয়ে ভালো জানো।”

সাতটি হাতের মধ্যে একটি

মাঠ সামলাতে প্রায় বিশ মিনিট লাগল। সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো না। সাময়িক বিরতির কথা বলা হলো। মানুষকে মাঠ ছাড়তেও বলা হয়নি। জনতাকে একবার বের হতে বললে আবার নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।

নওশাদ রহমান সাতজন সংকেতদাতার মধ্যে তিনজনকে মঞ্চের পেছনের খোলা অংশে নিয়ে এলেন। একজন স্থানীয় কলেজের শিক্ষার্থী। একজন আলোকচিত্রী। অন্যজন জুট মিলের সাবেক শ্রমিক।

শিক্ষার্থীটি বারবার গলার কাছে হাত দিচ্ছিল।

অনিরুদ্ধ সেন বললেন, “আপনাকে বুকের ওপর হাত রাখতে কে বলেছিল?”

ছেলেটি পশ্চিমবঙ্গীয় দ্রুততায় বলল, “একজন মহিলা বলেছিলেন। বলেছিলেন, পর্দায় উনিশশো পাঁচ উঠলেই এইভাবে দাঁড়াতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে পাঁচশো টাকা দেবেন।”

“মহিলাকে চিনবেন?”

“মুখে মাস্ক ছিল। মাথায় ওড়না। খুব বেশি কিছু দেখিনি।”

আলোকচিত্রী বললেন, তিনি অন্যদের দেখে হাত তুলেছিলেন। শ্রমিকটি দাবি করলেন, তাঁকে বলা হয়েছিল এটি সম্মেলনের ঐক্যের প্রতীক।

“বাকি চারজন?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

নওশাদ বললেন, “দুজনকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। একজনের ছবি পেয়েছি। আর একজনের কোনো হদিস নেই।”

সুবর্ণা তখন মঞ্চের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার সঙ্গে দুই নারী সংগঠক। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে আপত্তি করলেও স্মৃতি দত্ত থামিয়ে দিয়েছেন।

সুবর্ণা বলল, “ছয়জনকে আমার লোকেরা সংকেতটি নকল করতে বলেছিল।”

অনিরুদ্ধবাবু ঘুরে দাঁড়ালেন।

“আপনার লোকেরা? আপনি সম্মেলনের মধ্যে গোপন পরীক্ষা চালিয়েছেন?”

“পরীক্ষা না করলে বুঝতাম কী করে, হাসানকে চিনতে আর কারা এসেছে?”

আমি তার দিকে তাকালাম।

“ছয়জন?”

“হ্যাঁ।”

“সাতজন হাত তুলেছিল।”

এবার সুবর্ণার চোখে প্রথম সত্যিকারের সতর্কতা এল।

“আমি জানি।”

“সপ্তম ব্যক্তি তোমার নয়?”

“না।”

“তাকে শনাক্ত করতে পেরেছ?”

“পর্দা নিভে যাওয়ার পর উত্তর-পূর্ব পাশের গেট দিয়ে বেরিয়েছে। ক্যামেরায় মুখ নেই। শুধু হাঁটার কয়েক সেকেন্ড আছে।”

সুবর্ণা ফোন এগিয়ে দিল।

ভিডিওতে পিঠ দেখা যাচ্ছে। গাঢ় পোশাক। সাধারণ হাঁটা। তবু বাম পা মাটিতে পড়ার আগে শরীরের ওজন ডান দিকে এমনভাবে সরাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের অজান্তে হয় না।

উত্তেজনা নয়। প্রশিক্ষণ।

আমার মুখে পরিবর্তন দেখে স্নেহা বলল, “তাকে চেনো?”

“মুখ দেখিনি।”

“হাঁটা চিনেছ?”

“প্রশিক্ষণের ধরন চিনেছি।”

“তোমার সংগঠনের?”

“একসময় হতে পারত। এখন নিশ্চিত নই।”

স্নেহা চোখ সরু করল।

“এবার সত্যিই নিশ্চিত নও, না আমাকে নতুন সংস্করণ দিচ্ছ?”

“এবার নিশ্চিত না হয়ে বলছি না।”

সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, “আগে নিশ্চিত হয়েও বলতে না।”

সুবর্ণা আমাদের কথোপকথন লক্ষ্য করছিল।

“তুমি এখনও সকলকে আলাদা আলাদা সত্য বলো?” সে জিজ্ঞেস করল।

“তুমি এখনও সকলকে পরীক্ষা করার জন্য ছয়জন ভুয়া মানুষ দাঁড় করাও?”

“আমার পরীক্ষায় অন্তত একটি সত্য বের হয়েছে।”

তার উত্তর দেওয়ার মতো ভালো কথা খুঁজে পেলাম না।

সাধারণত এর মানে, সুবর্ণা যুক্তিতে একটি ধাপ এগিয়ে আছে।

যে ঘর থেকে সুবর্ণা ফিরেছিল

সম্মেলনের প্রধান তাঁবুর পাশে একটি ছোট কক্ষে আমাদের বসানো হলো। বাইরে সংবাদকর্মী। জানালার ওপারে হুগলি নদীর সন্ধ্যার আলো। ভেতরে আমি, স্নেহা, সুবর্ণা, স্মৃতি দত্ত, অনিরুদ্ধ সেন ও মৈত্রেয়ী বসু।

অনিরুদ্ধবাবু বললেন, “পর্দার নথি আমাদের কোনো কম্পিউটার থেকে যায়নি। সম্প্রচারব্যবস্থায় বাইরের একটি সংকেত ঢুকেছিল। নদীর দিক থেকে।”

“নদীর ওপার?” স্নেহা জিজ্ঞেস করল।

“সম্ভবত। এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।”

মৈত্রেয়ী তাঁর ফোল্ডার খুললেন।

“পর্দার ছবিটির একটি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিলিপি আমার কাছে আছে। কিন্তু আমার কপিতে মুখের অংশটি নেই।”

তিনি টেবিলে ছবিটি রাখলেন।

একই ভবন। একই পাথরের সিঁড়ি। দরজার ওপর ক্ষয়ে যাওয়া লেখার শেষ দুটি শব্দ, `প্রজা স্বরাজ`। কিন্তু যেখানে মঞ্চের পর্দায় আমার মুখ দেখা গিয়েছিল, মৈত্রেয়ীর ছবিতে সেখানে কাগজ উঠে গেছে।

সুবর্ণা বলল, “এই কপিটাই আমি দেখেছি।”

“কোথায়?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“যে ঘর থেকে তুমি আমাকে রেখে বেরিয়ে গিয়েছিলে।”

H Library-এর বন্ধ দ্বিতীয় কক্ষ মনে পড়ল।

“তুমি দ্বিতীয় কক্ষে ছিলে?”

সুবর্ণা মাথা নাড়ল।

“না, হাসান। তুমি আমাকে H Library-তে রেখে যাওনি।”

অমিতের কথা মনে পড়ল। সে আমাদের দুজনকে ভেতরে ঢুকতে দেখেছিল। আমাকে একা বের হতে দেখেছিল। সুবর্ণাকে বের হতে দেখেনি।

“অমিত মিথ্যা বলেছে?”

“না। ও যা দেখেছে, সেটাই বলেছে।”

“তুমি বের হলে কীভাবে?”

“নথিকক্ষের পেছনে আরেকটি পথ ছিল। তুমি জানতেই। আমাকে সেই পথ ব্যবহার করতে বলেছিলে।”

“কেন?”

“যাতে অমিত বিশ্বাস করে, তুমি একা ফিরেছ।”

স্নেহা আমার দিকে তাকাল।

“তুমি তখন থেকেই নিজের স্মৃতিহীনতার গল্প তৈরি করছিলে?”

সুবর্ণা উত্তর দিল, “গল্প নয়। cover sequence। ওর ভাষায়।”

“বাংলায় বলুন,” স্নেহা বলল।

সুবর্ণা সামান্য থামল।

“পরিকল্পিত আড়াল।”

আমি বললাম, “তুমি কী নিয়ে বের হয়েছিলে?”

“স্মৃতি নয়। নথি।”

ছবির পেছনের বাক্যটি মনে পড়ল:

দুজন প্রবেশ করেছিল। একজন স্মৃতি নিয়ে ফিরেছিল।

বাক্যটি বলেনি, একজনই বের হয়েছিল।

অমিতের সাক্ষ্যও ভুল নয়। সে সুবর্ণাকে বের হতে দেখেনি।

আমরা ভুল করেছিলাম সাক্ষ্যের সীমাকে ঘটনার সীমা ধরে নিয়ে।

আমি সুবর্ণাকে জিজ্ঞেস করলাম, “সেই নথি এখন কোথায়?”

সে আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল।

“তুমি যে উত্তর সবার কাছ থেকে চাও, নিজে কখনও দাও?”

“অর্থাৎ নথি তোমার কাছে।”

“অর্থাৎ নথি তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই। এইটুকুই এখন যথেষ্ট।”

সুবর্ণা বুদ্ধিমান, এটুকু পুরোনো খবর।

নতুন খবর হলো, সে এখন আমার মতোই কিছু প্রশ্নের উত্তরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

নদীর ওপর অসম্পূর্ণ ক্ষমা

সংবাদকর্মীরা মাঠের দুই গেট ঘিরে ফেলেছিল। অনিরুদ্ধ সেন সিদ্ধান্ত নিলেন, স্মৃতি দত্তকে সড়কপথে সরানো হবে। আমাকে ও স্নেহাকে চন্দননগর স্ট্র্যান্ডের কাছের পুরোনো ঘাট দিয়ে নদীপথে নেওয়া হবে।

সুবর্ণা আমাদের সঙ্গে আসেনি।

অন্তত শুরুতে।

ছোট ছাউনিযুক্ত মোটরচালিত নৌকাটির মাঝি গোপাল নস্কর। বয়স পঞ্চাশের বেশি। ধূসর ফতুয়া ও ভাঁজ করা গামছা। ইঞ্জিন চালু করার আগে তিনি আমার স্লিংয়ের দিকে তাকালেন।

“মাঝনদীতে একটু হাওয়া আছে,” বললেন। “সোজা হয়ে বসবেন। জলটা আজ শান্ত, তবে আলো কমে আসছে।”

হুগলির জল।

পদ্মার পানি।

শব্দদুটির মাঝখানে একটি সীমান্ত। নদীর শরীরে তার কোনো দাগ নেই।

নৌকা ঘাট ছাড়ার পর স্নেহা আমার স্লিং পরীক্ষা করল। তার আঙুল গিঁটের কাছে থামল।

“ব্যথা বেড়েছে?”

“তুমি হাত দিলে কমে।”

“রসিকতা না করে উত্তর দাও।”

“রসিকতা নয়।”

তার হাত থেমে গেল।

নৌকার ইঞ্জিনের নিচু শব্দ আর পানির ওপর বাতাসের ঘর্ষণ ছাড়া কিছু ছিল না।

দূরে চন্দননগর স্ট্র্যান্ডের আলো জ্বলছে। পুরোনো ভবনের রেখা, ঘাটের সিঁড়ি এবং নদীতে ভেঙে যাওয়া আলোর প্রতিফলন।

স্নেহা বলল, “তোমার নাম ইকবাল, এটা আমাকে আগে বলোনি কেন?”

“তুমি হাসান বলেই ডাকতে। ভুল ছিল না।”

“প্রশ্নটা আমি কী নামে ডাকতাম, তা নয়। তুমি নিজের কোন অংশটা আমাকে দেখতে দিয়েছিলে?”

“যে অংশটা তোমাকে হারাতে ভয় পায়।”

“ভয় যথেষ্ট নয়।”

“কী যথেষ্ট?”

“সত্য। নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সত্য।”

আমার বাঁ হাত কাঠের আসনের ওপর রাখা ছিল। স্নেহার হাত তার পাশে।

খুব কাছে।

ছুঁইনি।

“আমার স্মৃতি হারায়নি,” বললাম। “তবে সব স্মৃতি আমি নিজের কাছেও ব্যবহার করতে দিইনি।”

“কথাটার মানে?”

“আমি যা জানতাম, তার সব স্বীকার করলে কয়েকজন বুঝে যেত, আমি কোন প্রমাণের অপেক্ষায় আছি।”

“আমি সেই কয়েকজনের একজন ছিলাম?”

“না।”

“তা হলে আমার কাছ থেকে লুকিয়েছ কেন?”

এবার সত্য বলতে গিয়ে থামতে হলো।

কারণ সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যা মুখস্থ থাকে। সত্যকে নির্বাচন করতে হয়।

“কারণ তোমাকে বিশ্বাস করলে আমার পরিকল্পনা বদলে যেত।”

স্নেহা নদীর দিকে তাকাল।

“তুমি পরিকল্পনাকে আমার চেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলে।”

“তখন।”

“এখন?”

নৌকাটি ছোট ঢেউয়ে দুলল। তার হাত আমার বাঁ হাতের ওপর এসে পড়ল।

সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নিল না।

বললাম, “এখন পরিকল্পনার মধ্যে তোমাকে বসাতে চাই না। তোমার পরিকল্পনার মধ্যে জায়গা চাই।”

স্নেহা আমার দিকে তাকাল।

“এটা ক্ষমা চাওয়া?”

“চেষ্টা।”

“খুব ভালো নয়।”

“প্রথমবার করছি।”

এবার তার ঠোঁটের কোণে খুব ছোট একটি রেখা উঠল।

“প্রথমবার মিথ্যা বলছ না, সেটাও নিশ্চিত নই।”

তবু হাতটি সরাল না।

কিছুক্ষণ পর সে নিজেই বলল, “সীমান্তের কালির মূল পাতাটা আমার কাছে নেই।”

এবার আমি তার দিকে ফিরলাম।

“শিহাবের কাছে?”

“না।”

“কোথায়?”

“পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। তুমি দুর্ঘটনার আগেই অনুসরণকারীদের শনাক্ত করতে ব্যস্ত ছিলে। আমি অন্য ব্যবস্থা করছিলাম।”

“আমাকে না জানিয়ে?”

স্নেহা নদীর দিকে তাকাল।

“তুমি পারলে কৌশল। আমি করলে বিশ্বাসঘাতকতা?”

উত্তর দিতে পারলাম না।

সে আমার স্লিংয়ের গিঁট ঠিক করল।

“আমি তোমার বিরুদ্ধে কাজ করিনি, হাসান। তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে কাজ করেছি।”

“পার্থক্যটা খুব ছোট।”

“যারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের কাছে স্বাধীনতা সব সময় বিশ্বাসঘাতকতার মতো দেখায়।”

এই বাক্যটি সুবর্ণাও বলতে পারত।

সমস্যা হলো, এখন স্নেহাও বলতে পারে।

একটি নাম, চারটি মৃত্যু

নৌকা একটি পুরোনো গুদামঘাটে থামল। জায়গাটি চন্দননগরের ব্যস্ত অংশ থেকে দূরে। নদীর পাশে মরচেধরা লোহার দরজা। গুদামের ভেতর পুরোনো কাঠ, আর্দ্র কাগজ এবং পাটের আঁশের গন্ধ।

মৈত্রেয়ী বসু সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।

তাঁর সঙ্গে সুবর্ণাও।

“তুমি আমাদের আগে এলে কীভাবে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

সুবর্ণা বলল, “তুমি নদীর দৃশ্য দেখছিলে। আমরা রাস্তা ব্যবহার করেছি।”

স্নেহা তার দিকে একবার তাকাল। আমার হাত ধীরে ছেড়ে দিল।

সুবর্ণা দেখল কি না, বোঝা গেল না।

মৈত্রেয়ী চারটি নথি টেবিলে রাখলেন।

প্রথমটি পূর্ববঙ্গের জমির খতিয়ান।

দ্বিতীয়টি পশ্চিমবঙ্গের মৃত্যুনিবন্ধনের প্রতিলিপি।

তৃতীয়টি পাট ব্যবসার হিসাব।

চতুর্থটি ১৯০৫ সালের একটি সাংগঠনিক register।

চারটিতেই নামের শেষাংশ:

...নাথ দত্ত

কিন্তু বয়স মেলে না। পেশা মেলে না। মৃত্যুর বছর মেলে না। একটি নথিতে ধর্মের ঘর পূরণ করা। অন্যটিতে ফাঁকা। কোথাও স্থায়ী ঠিকানা পূর্ববঙ্গ। কোথাও হুগলি। কোথাও কোনো ঠিকানাই নেই।

স্নেহা নথিগুলোর পাশে রাখা হাতের ছাপের প্রতিলিপি দেখল।

“এগুলো একই মানুষের নয়,” সে বলল।

মৈত্রেয়ী মাথা নাড়লেন।

“আমরাও সেটাই পেয়েছি। অন্তত চারজন মানুষ।”

“তাহলে মূল মানুষটি?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“ছিলেন,” মৈত্রেয়ী বললেন। “১৯০৫ সালের নথিতে প্রথম পূর্ণ পরিচয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরে নামের প্রথম অংশ পরিকল্পিতভাবে মুছে দেওয়া হয়। তারপর অসম্পূর্ণ নামটি আর একজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।”

সুবর্ণা বলল, “পরিচয়টি ব্যবহার করা হতো দুই পাশে সম্পদ ও নথি সরাতে।”

“কী ধরনের সম্পদ?”

“জমি। পাটের অর্থ। বই। রাজনৈতিক তহবিল। কখনো মানুষও।”

স্নেহা জিজ্ঞেস করল, “একটি মৃত নাম ব্যবহার করে জীবিত মানুষ পার করা হতো?”

মৈত্রেয়ী বললেন, “কখনো মৃত নাম, কখনো জীবিত নাম। দুই পাশে একই পরিচয়ের দুই বিপরীত অবস্থা রাখা হতো। প্রয়োজন অনুযায়ী যেটি কার্যকর, সেটি ব্যবহার করা যেত।”

নথির বাক্যটি আবার মনে পড়ল:

মানুষটি সীমান্ত পার হয়নি। কাগজে তার নাম পার হয়েছিল।

কথাটি একজন মানুষের ঘটনা নয়।

একটি পদ্ধতি।

“দত্ত পরিবার শুরু করেছিল?” স্নেহা জিজ্ঞেস করল।

মৈত্রেয়ী সরাসরি উত্তর দিলেন, “না।”

সুবর্ণা বলল, “দত্ত পরিবার পরিচয়টি রক্ষা করেছিল। পরে ব্যবহারও করেছে। কিন্তু তারাই একমাত্র পক্ষ নয়।”

“আর কারা?”

সুবর্ণা এবার আমার দিকে তাকাল।

“তোমাদের সংগঠনের পূর্বসূরিরাও।”

কথাটি শুনে অবাক হওয়ার অভিনয় করলাম না।

কারণ এই অংশটি আমি সন্দেহ করেছিলাম।

কিন্তু সন্দেহ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। স্নেহা আমাকে অন্তত এটুকু শিখিয়েছে।

“মূল নাথ দত্তের পূর্ণ নাম কোথায়?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

মৈত্রেয়ী চারটি নথির নিচ থেকে একটি সিল করা পাতলা খাম বের করলেন।

“১৯১১ সালের খামের ভেতরে।”

“তা হলে খুলুন।”

“খামের ওপর একটি শর্ত আছে।”

তিনি খামটি টেবিলের আলোয় রাখলেন।

প্রথম নাম বাতিল হওয়ার পর খুলবে।

ছেঁড়া জুতার মানুষগুলো

খাম খোলার আগে সুবর্ণা আরেকটি ছবি বের করল।

সাদা-কালো ছবি। তিনজন মানুষ। বয়স আলাদা। পোশাকও আলাদা।

কিন্তু তিনজনের বাঁ জুতার সামনের অংশ কাটা।

স্নেহা ছবির কাছে ঝুঁকল।

“একই মানুষ নয়।”

“না,” সুবর্ণা বলল। “একই দায়িত্ব।”

“কী দায়িত্ব?”

“প্রজা স্বরাজের পুরোনো বহনকারী। নথি, বার্তা ও কখনো মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিত। ধরা পড়লে নিজের লোক শনাক্ত করার জন্য বাঁ জুতার সামনের অংশ কেটে রাখত।”

চেয়ারম্যানবাড়ির ছেঁড়া জুতার মানুষ। হামলার পেছনের কণ্ঠ। ফটকের সামনে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া অবয়ব। বিভিন্ন প্রজন্মে একই বর্ণনা।

আমরা একজন অমর মানুষ খুঁজছিলাম।

সম্ভবত খুঁজতে হতো একটি চলমান পদ।

“বর্তমান মানুষটি কে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“জানি না,” সুবর্ণা বলল। “এই চিহ্ন পরে অন্য গোষ্ঠীও ব্যবহার করেছে। পুরোনো প্রতীক চুরি করা নতুন পরিচয় তৈরির সবচেয়ে সহজ উপায়।”

একটি রহস্যের অর্ধেক সমাধান হলো।

মানুষটি অমর নয়।

কিন্তু তার দায়িত্ব হয়তো এখনও জীবিত।

১৯১১ সালের খাম

মৈত্রেয়ী বললেন, “আমরা এখন জানি, `...নাথ দত্ত` এক ব্যক্তির বর্তমান নাম নয়। পরিচয়টি বাতিল হয়েছে। শর্ত সম্ভবত পূর্ণ।”

তিনি খামের সিল কাটলেন।

ভেতরে একটি ভাঁজ করা railway map, একটি তালিকা এবং ছেঁড়া পাণ্ডুলিপির পাতা।

মানচিত্রে কলকাতা থেকে পূর্ব দিকে কয়েকটি পুরোনো রেল ও নদীপথ। যশোর, কুষ্টিয়া, গোয়ালন্দ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের দিকে সংযোগ। কয়েকটি পাটবন্দর লাল কালিতে চিহ্নিত।

এক জায়গায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের প্রথম অংশ মুছে গেছে। শুধু শেষ শব্দটি পড়া যায়:

বিশ্ববিদ্যালয়

ছেঁড়া পাতার ওপর আমার হাতের লেখা।

একবার দেখেই চিনলাম।

পৃষ্ঠার নিচে ক্ষুদ্র নম্বর:

১০৭

অনুপস্থিত শেষ পাণ্ডুলিপি।

পাতায় লেখা:

যদি আমি ইকবাল নামটি জনসমক্ষে আবার ব্যবহার করি, বুঝবে প্রথম পরিচয় সুরক্ষিত রাখা যায়নি।

স্নেহা আমার দিকে তাকাল।

“প্রথম পরিচয় কোনটা?”

উত্তর দেওয়ার আগে মৈত্রেয়ী পাতাটি উল্টে দিলেন।

পেছনে দুটি আলাদা হাতের লেখা।

প্রথমটি কালো কালিতে:

ইকবাল হাসান কোনো ব্যক্তির পূর্ণ নাম নয়।

দ্বিতীয়টি সুবর্ণার পরিচিত নীল কালিতে:

ওকে এবার তার জন্মনামটি বলো।

আমি সুবর্ণার দিকে তাকালাম।

তার মুখে বিস্ময় নেই।

অপেক্ষা আছে।

“তুমি লিখেছিলে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“হ্যাঁ।”

“আমার জন্মনাম তুমি জানো?”

“জানতাম।”

“এখন জানো না?”

“এখন নামটি একই মানুষকে বোঝায় কি না, নিশ্চিত নই।”

স্নেহা বলল, “সরাসরি বলুন। ইকবাল হাসান তাঁর জন্মনাম নয়?”

সুবর্ণা তার দিকে তাকাল।

“না।”

গুদামের বাইরে নদীর ওপর দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। আলোটি লোহার ফাঁক দিয়ে ভেতরে এসে একবার টেবিল ছুঁয়ে গেল।

তারপর নিভে গেল।

অন্ধকারের ভেতর থেকে একটি পুরুষকণ্ঠ এল।

পশ্চিমবঙ্গীয় উচ্চারণ নয়। বাংলাদেশেরও নয়।

বহু অঞ্চলের শব্দ ঘষে মসৃণ করা কণ্ঠ।

“উনিশশো এগারোর খাম খোলা হয়েছে।”

স্নেহা এক ধাপ আমার সামনে চলে এল।

সুবর্ণা জানালার পাশের ছায়ায় অবস্থান নিল।

মৈত্রেয়ী দ্রুত নথিগুলো বন্ধ করলেন।

কেউ কারও নির্দেশের অপেক্ষা করল না।

এটাই সম্ভবত প্রথম মুহূর্ত, যখন বুঝলাম আমার চারপাশের মানুষগুলো আমার পরিকল্পনার অংশ নয়।

তারা প্রত্যেকে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে।

পুরুষকণ্ঠ আবার বলল, “এখন রাজধানী সরানোর সময়।”

১৯১১ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরেছিল।

কিন্তু লোকটি ইতিহাসের কথা বলছে না।

সুবর্ণা খুব নিচু স্বরে বলল, “ওরা স্মৃতি দত্তকে সরাতে এসেছে।”

স্নেহা আমার দিকে তাকাল।

“মা এখন কোথায়?”

উত্তরটি আমার জানা ছিল না।

আরও খারাপ বিষয়, সুবর্ণারও জানা ছিল না।

গুদামের অন্য প্রান্তে একটি পুরোনো টেলিফোন বেজে উঠল।

একবার।

থামল।

আবার দুবার।

স্নেহা বলল, “আমাদের ব্যক্তিগত সংকেত।”

“না,” বললাম। “আমাদের সংকেতে তিনবার ডাকের পর বাক্য ছিল।”

টেলিফোন তৃতীয়বার বাজল।

আমি রিসিভার তুললাম।

ওপাশে স্মৃতি দত্তের কণ্ঠ।

“হাসান, খামটি খুলেছ?”

“আপনি কোথায়?”

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর তিনি বললেন, “আমাকে খুঁজতে যেয়ো না। আগে নিজের নামটি খুঁজে বের করো।”

“আপনি নিরাপদ?”

উত্তর এল অন্য কণ্ঠে।

খুব কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুরুষের কণ্ঠ।

“স্মৃতি দত্ত নিরাপদ। সভানেত্রী নিরাপদ নন।”

সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

আমরা নাথ দত্তের নাম উদ্ধার করতে এসেছিলাম।

রাত শেষ হওয়ার আগেই আবিষ্কার করলাম, একটি নাম দিয়ে চারজন মানুষকে বাঁচানো, হত্যা করা এবং উত্তরাধিকারী বানানো হয়েছিল।

আর আমার নিজের যে নামটি জনতার সামনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফিরিয়ে এনেছি, সেটিও হয়তো আমার ছিল না।

চলবে...

নাথ দত্ত একজন মানুষ ছিলেন। পরে তাঁর নাম হয়ে উঠেছিল পথ, সম্পত্তি, অর্থ এবং পরিচয় বদলের একটি ব্যবস্থা। এখন সেই ব্যবস্থাই ইকবাল হাসানের জন্মনাম দাবি করছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ‘দত্ত পরিবার’ একটি ঐতিহাসিক আবহ ও উপাদাননির্ভর মৌলিক কাল্পনিক উপন্যাস। ইকবাল হাসান, স্নেহা দত্ত, স্মৃতি দত্ত, সুবর্ণা, বঙ্গীয় প্রজা স্বরাজ, নাথ দত্তের স্থানান্তরযোগ্য পরিচয়, গোপন সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট নথি ও ঘটনা সৃজনশীল কাহিনির অংশ। বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনা চরিত্রের অভিজ্ঞতা ও কাহিনির প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র ও ঐতিহাসিক পাঠ: Banglapedia: Partition of Bengal, 1905; Banglapedia: Annulment of Bengal Partition; Banglapedia: Bengal Pact, 1923; Banglapedia: United Independent Bengal Movement; Sugata Bose, Agrarian Bengal: Economy, Social Structure and Politics, 1919-1947; বাংলা ভাগ, পাট অর্থনীতি, উদ্বাস্তু পরিচয় ও দেশভাগোত্তর সম্পত্তি-নথিবিষয়ক স্বীকৃত ঐতিহাসিক গবেষণা।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান মোঃ মেহেদি হাসান (কলম নাম: মি. বিকেল)—লেখক, ব্লগার, শিক্ষক এবং ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। • শিক্ষা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। • প্রকাশনা: প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে’ (রকমারি.কম-এ উপলব্ধ)। • অন্যান্য: ‘দ্য ব্যাকস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৩ থেকে মাইক্রোসফট ডেভেলপার প্রোগ্রামে যুক্ত। যেকোনো প্রশ্ন বা যৌথ কাজের আগ্রহে যোগাযোগ করুন: [email protected] অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!