দত্ত পরিবার | পর্ব ১২: চেয়ারম্যান বাড়ির রাত
H Library-তে নিজের শতাধিক অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, রাজনৈতিক অতীত ও সুবর্ণার প্রান্তলিখন খুঁজে পায় হাসান। কিন্তু ‘চেয়ারম্যানবাড়ির রাত’ নামের অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি তার স্মৃতিকেই সন্দেহের মুখে ফেলে।
দত্ত পরিবার
পর্ব ১২: চেয়ারম্যান বাড়ির রাত
লেখক: মোঃ মেহেদি হাসান
H Library-এর প্রথম কক্ষে নিজের অজানা ছবি, রাজনৈতিক নথি, পুরোনো অস্ত্রের চিহ্ন এবং নিজের হাতের লেখায় রাখা সতর্কবার্তা খুঁজে পেয়েছে হাসান। দ্বিতীয় কক্ষের ওপাশ থেকে তারই কমবয়সী কণ্ঠ তাকে দরজা না খুলতে বলেছে। কারণ সুবর্ণা সেখানে একা নেই। কিন্তু পাঠাগার ছাড়ার আগে হাসান এমন একটি সংগ্রহের সন্ধান পায়, যা তার বিস্মৃত জীবনের আরেকটি দিক সামনে আনে। সেই জীবনের গভীরে ছিল শতাধিক অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিচয়, অমিতের মঞ্চমাতানো কণ্ঠ এবং সুবর্ণার সঙ্গে বইয়ের প্রান্তে লেখা এক অসমাপ্ত সম্পর্ক।
দ্বিতীয় কক্ষের নীরবতা
“চিঠিটি পড়েছ। এবার অন্তত নিজের কথা শোনো। দরজাটি খুলো না। কারণ সুবর্ণা একা নেই।”
নিজের পরামর্শ না শোনার অভ্যাস আমার নতুন নয়। সম্ভবত সতেরো বছর আগের আমিও বিষয়টি জানতাম। এ কারণেই অনুরোধ না করে আদেশের মতো বলেছে।
দ্বিতীয় কক্ষের কাঠের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। একটি হাত বাড়ালেই দেয়ালটি ছোঁয়া যায়। আমার বাঁ হাতের আঙুলগুলো সামান্য নড়ছে। কিন্তু হাতটি সামনে যাচ্ছে না।
দেয়ালের অন্য পাশ থেকে ধীর আঁচড়ের শব্দ আসছে।
খস।
একটু বিরতি।
খসখস।
কেউ যেন কাঠের ওপর খুব যত্ন করে একটি নাম লিখছে। লেখার গতি শুনে মনে হচ্ছে, মানুষটি তাড়াহুড়ো করছে না। সে জানে আমরা এই পাশে দাঁড়িয়ে আছি। সে এটিও জানে, আমাদের যাওয়ার পথ তার অনুমতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
আঁচড় থামতেই পিতলের সাইকেল-ঘণ্টাটি বেজে উঠল।
ক্রিং।
তারপর খুব পরিচিত একটি মেয়ের হাসি শুনলাম। হাসিটি দেয়ালের ওপাশে, নাকি আমার মাথার ভেতরে, বুঝতে পারলাম না।
স্নেহা আমার সামনে এসে দাঁড়াল। তার হাতে ছোট আলো। আলোটি নিচ থেকে মুখে পড়ায় চোখের নিচের ক্লান্তি আরও গভীর দেখাচ্ছে।
“দরজা থেকে সরে এসো।”
“ভেতরে যদি সত্যিই সুবর্ণা থাকে?”
“সতেরো বছর অপেক্ষা করা একজন মানুষ আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে পারবে।”
“যদি মানুষ না হয়?”
“তাহলে দরজা না খোলার কারণ আরও বেশি।”
অমিত দ্বিতীয় কক্ষের মানচিত্রটি দেখছিল। তার মুখের পাশ দিয়ে ঘাম নেমে চোয়ালে জমেছে। পাঠাগারের বাতাস ঠান্ডা। এই ঘাম তাপের নয়।
সে খুব নিচু স্বরে বলল, “ভেতরে যা আছে, সেটি মানুষ কি না আমরা জানি না।”
“তুই কথাটি একটু আগেও বলতে পারতিস।”
“তাহলে তুই পাঠাগারে ঢুকতি না।”
“এখন বলার পর বের হওয়ার নিশ্চয়তা আছে?”
অমিত উত্তর দিল না।
স্নেহা আমার ব্যান্ডেজের ওপর হাত রাখল। কাপড়ের নিচে জমে থাকা উষ্ণতা তার আঙুল পর্যন্ত পৌঁছেছে। ব্যান্ডেজের একটি অংশ নতুন রক্তে গাঢ় হয়ে উঠেছে।
“আজ দ্বিতীয় কক্ষ খোলা হবে না,” সে বলল।
“তোমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কে দিয়েছে?”
“তুমি। যখন নিজের শরীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছ।”
প্রতিবাদের জন্য মুখ খুলেছিলাম। ঠিক তখন পাঠাগারের পূর্ব দেয়ালের একটি হলুদ আলো নিভে গেল।
তারপর আরেকটি।
অন্ধকার এক প্রান্ত থেকে ধীরে ধীরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রতিটি আলো নেভার আগে কাচের ভেতর ক্ষীণ নীল রেখা জ্বলে উঠছে। তারপর ছোট একটি শ্বাসের মতো শব্দ করে নিভে যাচ্ছে।
অমিত বলল, “আমাদের বের হতে হবে।”
দেয়ালের ওপাশ থেকে কমবয়সী আমার কণ্ঠ আবার এল।
“যাওয়ার আগে বইগুলো দেখে যাও। এবারও রেখে গেলে ওরা পুড়িয়ে দেবে।”
অমিত ও স্নেহা দুজনই আমার দিকে তাকাল।
কণ্ঠটি এবার শুধু আমি শুনিনি।
একশ সাতটি অপ্রকাশিত জীবন
পাঠকক্ষের পশ্চিম পাশে একটি সরু পথ আগে চোখে পড়েনি। পথটির সামনে বইয়ের একটি বিশাল তাক। শেষ হলুদ আলোটি একবার কেঁপে উঠতেই তাকের নিচে ছোট ধাতব চাকা দেখা গেল।
বাঁ হাত দিয়ে তাকের কিনারায় চাপ দিলাম।
প্রথমে নড়ল না। আবার চাপ দিতেই কাঠের গভীরে একটি ভারী খিল সরে গেল। তাকটি প্রায় কোনো শব্দ ছাড়াই ডান দিকে গড়িয়ে গেল।
পেছনে ছোট একটি কক্ষ।
অন্য কক্ষগুলোর মতো স্যাঁতসেঁতে নয়। বাতাস শুষ্ক। মেঝেতে কাঠের উঁচু পাটাতন। ছাদের কাছ দিয়ে তামার সরু নল চলে গেছে। সম্ভবত আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের কোনো পুরোনো ব্যবস্থা।
চার দেয়ালে সংকীর্ণ আলমারি। প্রতিটি আলমারিতে হাতে বাঁধানো পাণ্ডুলিপি।
কাপড়ের মলাট। চামড়ার মলাট। সাধারণ খাতা। টাইপরাইটারে লেখা পৃষ্ঠা সুতা দিয়ে বাঁধা। কোথাও কালির দাগ। কোথাও আগুনের পোড়া চিহ্ন। কিছু মলাটের এক কোণ কেটে নেওয়া।
অধিকাংশ মলাটে আমার হাতের লেখা।
প্রথম পাণ্ডুলিপিটি হাতে নিলাম। কাগজের সঙ্গে শুকনো কালি ও পুরোনো কাপড়ের গন্ধ উঠল।
একটি উপন্যাস। নামটি মনে নেই। প্রথম পৃষ্ঠা খোলার আগেই পরের বাক্যটি কী হবে, বুঝতে পারলাম।
পৃষ্ঠা উল্টালাম।
বাক্যটি ঠিক সেখানেই।
একটি শব্দের ওপর তিনবার দাগ টেনে পাশে অন্য শব্দ লেখা। সংশোধনটিও আমার হাতের।
আমি লেখাটি মনে করতে পারছি না। কিন্তু বাক্যটি মনে আছে।
স্মৃতি মানুষকে অদ্ভুতভাবে ত্যাগ করে। পুরো বাড়ি নিয়ে যায়, দরজার একটি চাবি রেখে দেয়।
“এগুলো সব আমার?” জিজ্ঞেস করলাম।
অমিত কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে। তার দৃষ্টি তাকের একেবারে ওপরের দিকে।
“একশ সাতটি ছিল।”
“ছিল?”
“তুই শেষবার গোনার সময়।”
স্নেহা একটি মলাটের ধুলো সরাল।
“একজন মানুষ একশ সাতটি বই লিখে তার একটির কথাও ভুলে যায় কীভাবে?”
“প্রকাশক না পেলে মস্তিষ্ক আত্মরক্ষার জন্য অনেক কিছুই করতে পারে।”
কেউ হাসল না।
অমিত বলল, “সব বই প্রকাশের জন্য লিখিসনি। কিছু লিখেছিলি মনে রাখার জন্য।”
“সেগুলোও ভুলে গেলাম?”
“সম্ভবত এ কারণেই লিখেছিলি।”
তাকের নিচে ছোট কাঠের বাক্সে একটি পাণ্ডুলিপি-তালিকা পাওয়া গেল। পৃষ্ঠা অনুযায়ী একশ সাতটি ক্রমিক নম্বর। প্রতিটির পাশে বিষয়, অবস্থা এবং সংরক্ষণস্থান।
বইগুলো গুনে পাওয়া গেল একশ একটি।
ছয়টি নেই।
ক্রমিক নম্বর তিন, ছয়, আঠারো, সাতচল্লিশ, একাত্তর এবং একশ সাত।
তিন ও ছয় কেবল ক্রমিক সংখ্যা হতে পারে। আঠারো আমাকে বয়সের কথা মনে করায়। সাতচল্লিশ ও একাত্তর ইতিহাসের দিকে টেনে নেয়। আর একশ সাত সম্ভবত শেষ লেখা।
আবার কেউ ইচ্ছা করেই এমন সংখ্যাগুলো সরিয়ে থাকতে পারে, যেগুলোর ভেতর আমি অপ্রয়োজনীয় অর্থ খুঁজব। অন্ধকার ঘরে দাঁড়িয়ে নিজের অতীত বিচার করলে কাকতালীয় ঘটনাও পরিকল্পনার অংশ মনে হয়।
আলমারিগুলোর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক বিভাজন ছিল। উপন্যাস, গল্প, রাজনৈতিক প্রবন্ধ, ইতিহাস, জমি ও উত্তরাধিকার, ব্যক্তিগত জার্নাল, পর্যবেক্ষণ এবং সাংকেতিক নোট।
কয়েকটি পাণ্ডুলিপিতে আমার নাম নেই। ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। একটি নাম দেখে পরিচিত মনে হলো, কিন্তু স্মৃতিটি দরজার কাছে এসে ফিরে গেল।
স্নেহা একটি মোটা খাতা খুলে বলল, “এটি সাহিত্য নয়।”
পাতায় মানুষের নাম, হাঁটার ধরন, কথা বলার সময় চোখের নড়াচড়া, ডান বা বাঁ হাত ব্যবহারের অভ্যাস, একই প্রশ্নের ভিন্ন উত্তর এবং নীরব থাকার সময়ের হিসাব।
পৃষ্ঠার ওপরে লেখা:
মুখের চেয়ে হাঁটা নির্ভরযোগ্য। বক্তব্যের চেয়ে বিরতি।
ছেঁড়া জুতার মানুষটিকে মুখ না দেখেও চিনতে পারার অভ্যাস নতুন নয়।
হয়তো লেখক হওয়ার সঙ্গে মানুষ পর্যবেক্ষণের সম্পর্ক আছে। আবার এটিও হতে পারে, মানুষ পর্যবেক্ষণ করার জন্যই আমি সাহিত্যকে ব্যবহার করতাম।
কোনটি সৃজনশীলতা আর কোনটি নজরদারি, পৃষ্ঠাগুলো সেই পার্থক্য করে দেয়নি।
পো-র বইয়ের প্রান্তে
কক্ষের ওপরের তাকে ইংরেজি সাহিত্যের কয়েকটি বই। শেক্সপিয়ারের নাটক, দস্তয়েভস্কির উপন্যাস, কাফকার গল্প এবং এডগার অ্যালান পো-র একটি পুরোনো গল্পসংকলন।
পো-র বইটি নামানোর সময় ভেতর থেকে শুকিয়ে যাওয়া কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি পড়ে গেল। পাপড়িটি এত ভঙ্গুর যে মেঝেতে পড়েই দুই টুকরো হয়ে গেল।
বইয়ের পাতায় নীল কালির প্রান্তলিখন।
চুরি যাওয়া জিনিস সব সময় অন্ধকারে থাকে না। কখনো সেটি চোখের সামনেই রাখা হয়। মানুষ গোপন বস্তু খুঁজতে গিয়ে দৃশ্যমান সত্যকে উপেক্ষা করে।
হাতের লেখা সুবর্ণার।
কীভাবে নিশ্চিত হলাম জানি না। অক্ষরের বাঁক, শব্দের মাঝখানের অতিরিক্ত ফাঁক এবং শেষ দাঁড়িটির চাপ দেখে শরীর চিনে ফেলেছে।
বাক্যটির নিচে কালো কালিতে আমার উত্তর:
তাহলে সবচেয়ে নিরাপদ গোপনস্থান মানুষের বিশ্বাস।
তার নিচে আবার নীল কালি:
“আর সবচেয়ে বিপজ্জনক চোর সেই মানুষ, যাকে তুমি নিজেই চাবি দিয়েছ।”
কয়েকটি বাক্য পড়েই মাথার ভেতর একটি বিকেলের দৃশ্য খুলে গেল।
দীঘির পাড়ে আমরা দুজন। সুবর্ণার হাতে এই বই। সে গল্পটির ব্যাখ্যা করছে। আমার মনোযোগ গল্পের চেয়ে তার ভ্রু কুঁচকে কথা বলার ভঙ্গিতে বেশি।
“তুমি শুনছ না,” সে বলেছিল।
“শুনছি।”
“কী বললাম?”
“চুরি যাওয়া চিঠি চোখের সামনে ছিল।”
“তারপর?”
“তারপর তুমি রেগে গেলে।”
সুবর্ণা বইটি বন্ধ করে আমার বাহুতে আঘাত করেছিল।
আঘাতের ব্যথা মনে নেই। তার হাসিটি মনে আছে।
বর্তমানের কক্ষে ফিরে দেখি, স্নেহা আমার পাশ থেকে প্রান্তলিখন পড়ছে।
“তোমরা একসঙ্গে বই পড়তে,” সে বলল।
“দেখে তাই মনে হচ্ছে।”
“শুধু পড়তে না। একে অন্যের চিন্তা সংশোধন করতে।”
“সম্ভবত।”
স্নেহা বইটি বন্ধ করল।
“যে জীবনের কথা তোমার মনে নেই, তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে তোমার ভয় লাগে। অথচ কোন সত্য আমি সহ্য করতে পারব, সেটি আমার হয়ে ঠিক করতে তোমার ভয় লাগে না।”
কথাটির সহজ কোনো উত্তর নেই।
মানুষকে রক্ষা করার দাবি করে আমি তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেড়ে নিই। তারপর কাজটির নাম দিই ভালোবাসা।
বইটির পেছনের পাতার ভাঁজে আরেকটি ছোট কাগজ ছিল। সেখানে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার নাম লেখা। তার নিচে সুবর্ণার নিজের ভাষায় একটি মন্তব্য:
আঠারো বছরের সাহস আর নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দূরত্ব খুব কম।
চেয়ারম্যানকে দেওয়া হুমকি
চেয়ারম্যানবাড়ির কালো ফটক চোখের সামনে ফিরে এল।
প্রথমে দেখলাম ছোট শিহাবকে। সে আমার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। কথা বলার সময় শ্বাস ভেঙে যাচ্ছে।
“ভাইয়া, সুবর্ণা আপুর সঙ্গে দেখা করবেন না। ওরা বলেছে, আবার গেলে আপনাকে মেরে ফেলবে।”
“ওরা কারা?”
শিহাব উত্তর দিতে পারেনি। শুধু বলেছিল, কথাটি চেয়ারম্যানবাড়ির ভেতর শুনেছে। একজন মানুষের বাঁ পায়ের জুতার সামনের অংশ ছেঁড়া ছিল।
এরপরের স্মৃতি বিকেলের।
আকাশে বৃষ্টির মেঘ। বাতাসে কাঁচা আম, ভেজা ধুলো ও দূরের ধানখেতের গন্ধ। চেয়ারম্যানবাড়ির কালো ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি।
আমার বয়স আঠারো।
হাতে মায়ের রান্নাঘর থেকে নেওয়া আম কাটার ছোট ছুরি।
ছুরিটি কোনো বীরের অস্ত্র ছিল না। ছোট, সাধারণ এবং আমার কাঁপতে থাকা আঙুলে প্রায় হাস্যকর। কিন্তু আঠারো বছর বয়সে মানুষ বস্তুর আকার দেখে সাহস মাপে না। নিজের রাগের শব্দ শুনেই নিজেকে অপরাজেয় মনে করে।
ফটকের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ আমাকে থামায়নি।
তাদের চোখে বিস্ময়ও ছিল না।
যেন তারা জানত আমি আসব।
উঠান পেরিয়ে সামনের বারান্দায় উঠলাম। ভেতরের ঘরে চেয়ারম্যান বসে ছিলেন। টেবিলে কয়েকটি নথি, চায়ের কাপ এবং সুবর্ণার একটি বই।
দরজায় দাঁড়িয়ে বললাম, “সুবর্ণাকে কোথায় রেখেছেন?”
চেয়ারম্যান বইটি বন্ধ করলেন।
“ও আমার মেয়ে। কোথায় থাকবে, কার সঙ্গে কথা বলবে, সেটি তুমি ঠিক করবে?”
“আমি কিছু ঠিক করতে আসিনি। ওকে ভয় দেখানো বন্ধ করতে এসেছি।”
“তোমাকে কে বলেছে ওকে ভয় দেখানো হয়েছে?”
“আপনার বাড়ির মানুষ আমার ছোট ভাইকে হুমকি দিয়েছে। বলেছে, সুবর্ণার সঙ্গে দেখা করলে আমাকে মেরে ফেলবে।”
চেয়ারম্যান এবার আমার হাতে থাকা ছুরিটির দিকে তাকালেন।
“আমাকে ভয় দেখাতে এসেছ?”
“না।”
কথাটি বলেই টেবিলের ওপর ছুরিটি রাখলাম।
ধাতু কাঠে লাগার ছোট শব্দটি ঘরের ভেতর অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ল।
“ভয় দেখালে মানুষ পালিয়ে যায়,” বললাম। “আমি আপনাকে জানাতে এসেছি, সুবর্ণার কোনো ক্ষতি হলে আমি পালাব না। আপনার ক্ষমতা যতদূর যায়, আমিও ততদূর যাব। তারপর কী হবে, আমরা কেউ জানি না।”
চেয়ারম্যানের মুখ থেকে হাসি সরে গেল।
“এটি হুমকি?”
“হ্যাঁ।”
শব্দটি মুখ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতরের কাঁপুনি থেমে গিয়েছিল।
এখন বুঝি, ভয় চলে যায়নি। আমি শুধু তাকে রাগের নিচে চাপা দিয়েছিলাম।
চেয়ারম্যান চেয়ার ছেড়ে উঠলেন না। সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকলেন না। বরং খুব ধীরে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি জানো, সুবর্ণা তোমার কাছ থেকে কী লুকিয়েছে?”
“আপনি ওর হয়ে কথা বলবেন না।”
“আমি ওর হয়ে বলছি না। তোমার হয়ে বলছি। তুমি যে দরজা খুলেছ, সেটি বন্ধ করতে না পারলে ওকে নয়, প্রথমে তোমাকেই হারাতে হবে।”
ঘরের পেছনের পর্দা সামান্য নড়ে উঠেছিল।
আমি ভেবেছিলাম, সুবর্ণা সেখানে দাঁড়িয়ে।
“সুবর্ণা?”
কোনো উত্তর আসেনি।
চেয়ারম্যান টেবিলের ওপর রাখা ছুরিটির দিকে হাত বাড়াননি। শুধু বলেছিলেন, “ওটা নিয়ে যাও। যেদিন সত্যিকারের কাউকে আঘাত করবে, সেদিন বুঝবে হুমকি দেওয়ার সময় তুমি কাকে বেশি ভয় দেখাচ্ছিলে।”
আমি ছুরিটি তুলে নিয়েছিলাম।
বের হওয়ার আগে পেছনের পর্দা থেকে খুব নিচু স্বরে সুবর্ণার কণ্ঠ শুনেছিলাম।
“তুমি সব সময় ভুল মানুষকে হুমকি দাও, হাসান।”
ফিরে তাকিয়েছিলাম।
পর্দার পেছনে কেউ ছিল না।
দরজার কাছে তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে।
সাদা পাঞ্জাবি। মুখ অন্ধকারে ঢাকা। বাঁ পায়ের জুতার সামনের অংশ ছেঁড়া।
তার উপস্থিতি দেখেই প্রথমবার মনে হয়েছিল, চেয়ারম্যান আমাকে থামাননি সাহস দেখে নয়।
পুরো ঘটনাটি সম্ভবত আগে থেকেই সাজানো ছিল।
স্মৃতি সেখানে ভেঙে গেল।
বর্তমানের H Library-তে দাঁড়িয়ে বুঝলাম, আমি চেয়ারম্যানকে ছুরি নিয়ে হুমকি দিয়েছিলাম। ঘটনাটি কল্পনা নয়।
কিন্তু চেয়ারম্যানকে দেওয়া হুমকি এবং সেই রাতের প্রকৃত বিপদ একই মানুষকে লক্ষ্য করে ছিল না।
বইয়ের পাতায় আমার কালিতে সুবর্ণার মন্তব্যের পাশে লেখা:
“দূরত্ব কম বলেই তো লাফ দিয়ে পার হওয়া যায়।”
নিচে সুবর্ণার উত্তর:
“একদিন পড়ে গিয়ে বুঝবে।”
সম্ভবত বুঝেছি।
শুধু পড়ে যাওয়ার পর আমার ভেতর থেকে কোন মানুষটি উঠে দাঁড়িয়েছিল, সেটি এখনো মনে নেই।
যে রাতে অমিত গান গেয়েছিল
পাণ্ডুলিপির নিচে সরু একটি কাঠের বাক্স। ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্মারক, ব্যাজ, কয়েকটি বক্তৃতার খসড়া এবং পুরোনো আলোকচিত্র।
একটি ছবিতে অমিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
সামনে মাইক্রোফোন। পেছনে বাদ্যযন্ত্র। মাঠভর্তি মানুষ। ছবির এক পাশে আমি দাঁড়িয়ে, হাতে কয়েকটি কাগজ। দূরে সুবর্ণাও আছে।
ছবিটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের উষ্ণ আলো চোখে এসে লাগল।
সন্ধ্যার মাঠ। ছাত্রদের ভিড়। পেছনের রাজনৈতিক পোস্টারগুলো সাময়িকভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। অমিত মাইক্রোফোনের সামনে যেতেই কয়েকজন শিস দিল। কেউ তার নাম ধরে ডাকল।
তারপর প্রথম সুর উঠল।
মাঠের পেছনের কথাবার্তা থেমে গেল।
অমিত শুধু গান গাইছিল না। মনে হচ্ছিল, কয়েকশ মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ কিছুক্ষণের জন্য নিজের কণ্ঠে নিয়ে অন্য এক ভাষায় তাদের ফেরত দিচ্ছে।
সামনে বসা ছেলেরা হাততালি দিচ্ছে। দর্শকের সারিতে ছোট ছোট আলো জ্বলেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দুজনও চুপ করে শুনছে।
বক্তৃতা দিয়ে মানুষকে বোঝানো যায়। অমিত গান দিয়ে মানুষের প্রতিরোধ সরিয়ে ফেলতে পারত।
আমার পাশে দাঁড়ানো সুবর্ণা বলল, “তোমার বন্ধু বিপজ্জনক।”
“গান গাওয়া এখন অপরাধ?”
“মানুষকে নিজের কথা ভুলিয়ে দিতে পারা বিপজ্জনক।”
“তুমি মুগ্ধ হয়েছ?”
সুবর্ণা আমার দিকে তাকিয়েছিল।
“তুমি ঈর্ষান্বিত হয়েছ?”
“আমি রাজনৈতিক মূল্যায়ন করছি।”
“তোমার রাজনৈতিক মূল্যায়ন সব সময় ব্যক্তিগত জায়গায় এসে দুর্বল হয়ে যায়।”
গান শেষ হলে পুরো মাঠ শব্দে ভরে উঠেছিল। অমিত মাথা নিচু করে অভিবাদন নিয়েছিল। মঞ্চ থেকে নামার সময় সে প্রথমে আমার দিকে তাকিয়েছিল, নাকি সুবর্ণার দিকে, এখন আর নিশ্চিত হতে পারলাম না।
বর্তমানের অমিত ছবিটি আমার হাত থেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় দেখল।
“গানের কথা মনে আছে?” জিজ্ঞেস করলাম।
“আছে।”
“সেই রাতের আমার কথা কী মনে আছে?”
“গান শেষে তুই আমার সঙ্গে ঝগড়া করেছিলি। বলেছিলি, বিপ্লবের সভায় গান গেয়ে জনতাকে নরম করে দিয়েছি।”
“আমি এত অসহ্য ছিলাম?”
অমিত ছবিটি বাক্সে রেখে বলল, “ছিলি শব্দটি প্রয়োজন নেই।”
স্নেহা মৃদু হেসে ফেলল।
H Library-এর অন্ধকারের মধ্যে হাসিটি মানুষের উপস্থিতির প্রমাণ মনে হলো।
যে রাজনীতি আমাকে ছাড়েনি
বাক্সের তলায় একটি বক্তৃতার খসড়া। শিরোনাম নেই। প্রথম পাতায় আমার হাতের লেখা, পাশে বিভিন্ন রঙের সংশোধন।
বক্তব্যের বিষয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নৈতিক সীমা। কয়েক জায়গায় কর্মসূচির তালিকা। মানুষের নাম কেটে সাংকেতিক পরিচয় বসানো।
শেষ পাতায় সভার সিদ্ধান্ত। সভাপতিত্বের স্থানে আমার নাম ছিল। পরে কালো কালি দিয়ে সেটি কেটে দেওয়া হয়েছে।
পাশে লেখা:
প্রকাশ্য পরিচয় প্রত্যাহার। সাংগঠনিক দায়িত্ব অপরিবর্তিত।
“আমি কী ছিলাম?” অমিতকে জিজ্ঞেস করলাম।
অমিত কাগজটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।
“তুই সব সময় সামনে দাঁড়াতি না। কিন্তু সামনে কে দাঁড়াবে, কখন দাঁড়াবে এবং কী বলবে, সেটি ঠিক করার ক্ষমতা তোর ছিল।”
“পেছন থেকে রাজনীতি?”
“তুই বলতি, মঞ্চের আলো মানুষকে অন্ধ করে। সিদ্ধান্ত অন্ধকারে বসে নিতে হয়।”
বক্তব্যটি ভালো লাগল না।
কথাটি সুন্দর নয় বলে নয়। বর্তমানেও আমি প্রায় একইভাবে চিন্তা করি বলে।
নকল খামকে টোপ বানানো, আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্য আলাদা করা এবং নিজেকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা সবই সেই পুরোনো অভ্যাসের অংশ হতে পারে।
আমি রাজনীতি ভুলে গেছি।
রাজনীতি আমাকে ভোলেনি।
“আমি কেন সরে গিয়েছিলাম?”
অমিত বলল, “এই প্রশ্নের উত্তর এখন দিলে তুই আমাকে বিশ্বাস করবি না।”
“আমাকে কখনো বিশ্বাস করেছিলি?”
“সেই কারণেই এখনো এখানে আছি।”
কথাটি বন্ধুত্বের স্বীকারোক্তি হতে পারে।
অপরাধবোধেরও।
স্মৃতি ফেরানোর ক্রম
পাণ্ডুলিপি-তালিকার শেষ পৃষ্ঠায় ছোট একটি চিহ্ন চোখে পড়ল। তিনটি বৃত্ত। প্রতিটির মাঝখানে আলাদা সংখ্যা।
প্রথম বৃত্তের নিচে লেখা, পাঠকক্ষ।
দ্বিতীয়টির নিচে, নথি।
তৃতীয়টির নিচে, পুনরুদ্ধার।
পুনরুদ্ধার অংশে ছয়টি অনুপস্থিত পাণ্ডুলিপির নম্বর একই ক্রমে লেখা।
তিন, ছয়, আঠারো, সাতচল্লিশ, একাত্তর, একশ সাত।
প্রতিটি নম্বরের পাশে একটি করে নির্দেশ।
প্রথমটি পড়ার আগে ষষ্ঠ প্রতিকৃতি দেখতে হবে।
দ্বিতীয়টির আগে চেয়ারম্যানবাড়ির সাক্ষ্য নিতে হবে।
তৃতীয়টির আগে সুবর্ণার সম্মতি প্রয়োজন।
পরের দুটির নির্দেশ কালি দিয়ে মুছে দেওয়া।
শেষটির পাশে শুধু লেখা:
নিজেকে চিনতে পারলে পুড়িয়ে ফেলবে।
“এগুলো বই নয়,” স্নেহা বলল।
“তা হলে?”
“তোমার জন্য সাজানো ধাপে ধাপে স্মৃতি ফেরানোর ব্যবস্থা।”
অমিত পাণ্ডুলিপি-তালিকাটি আমার হাত থেকে নিল।
“এটি তোর পরিকল্পনা হতে পারে।”
“আমার হাতের লেখা?”
“কিছুটা। সব নয়।”
“অন্য অংশ কার?”
অমিত আঙুল দিয়ে একটি অক্ষরের বাঁক দেখাল।
“সুবর্ণার হতে পারে।”
অন্তত কাগজের হাতের লেখা দেখে মনে হলো, স্মৃতি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাটি আমাদের দুজনের যৌথ কাজ হতে পারে।
তাহলে সম্ভবত আমি তাকে শুধু রেখে আসিনি। আমরা হয়তো জানতাম, আমাদের একজন অথবা দুজনই নিজেদের ভুলে যাবে।
প্রশ্ন হলো, কেন?
আর অনুপস্থিত পাণ্ডুলিপিগুলো কে নিয়েছে?
চেয়ারম্যানবাড়ির রাত
অন্ধকার প্রায় পুরো পাণ্ডুলিপিকক্ষ দখল করে ফেলেছে। বের হওয়ার আগে তাকগুলোর ফাঁক আরেকবার দেখছিলাম।
আঠারো নম্বরের খালি জায়গার পেছনে সাদা কাপড়ের একটি সরু অংশ দেখা গেল।
বাঁ হাত ঢুকিয়ে টানলাম।
কাপড়ে মোড়া পাতলা একটি খাতা বেরিয়ে এল।
এটি পাণ্ডুলিপি-তালিকায় নেই।
মলাট কালো। ধুলো নেই। যেন কেউ অল্প সময় আগে তাকের খালি জায়গাটির পেছনে রেখে গেছে।
মলাটের ওপর আমার হাতের লেখা:
চেয়ারম্যানবাড়ির রাত
ব্যক্তিগত বিবরণ। অসম্পূর্ণ।
খাতা খুলতে গিয়ে স্নেহার কথা মনে পড়ল। দ্বিতীয় কক্ষ আজ খোলা হবে না। কিন্তু এই খাতা দ্বিতীয় কক্ষ নয়।
মানুষ নিজের নিষেধের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথ খুব দ্রুত খুঁজে নেয়।
প্রথম পৃষ্ঠা খুললাম।
মাত্র তিনটি অনুচ্ছেদ।
প্রথম অনুচ্ছেদের তারিখ মুছে দেওয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের অর্ধেক অংশ কালো কালি দিয়ে ঢেকে রাখা।
তৃতীয়টি সম্পূর্ণ:
আমি চেয়ারম্যানকে হত্যা করতে যাইনি। আমি গিয়েছিলাম সুবর্ণাকে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু চেয়ারম্যানের ঘরে যে মানুষটি বসেছিল, সে চেয়ারম্যান ছিল না।
অমিত আমার কাঁধের ওপর দিয়ে বাক্যটি পড়ল।
“খাতাটি বন্ধ কর,” সে বলল।
“কেন?”
“এই বিবরণটি তোর নয়।”
খাতার দিকে আবার তাকালাম।
অক্ষর আমার। বাক্যের গঠনও আমার মতো। প্রথম পুরুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ছোট বাক্য এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এড়িয়ে যাওয়া সবই পরিচিত।
“আমার হাতের লেখা।”
“হাতের লেখা তোর,” অমিত বলল। “কিন্তু ঘটনাটির এই সংস্করণ তোর নয়।”
“তুই কীভাবে জানিস?”
অমিতের মুখে সেই পরিচিত নীরবতা।
এবার নীরবতাটি তথ্য গোপনের নয়।
ভয়।
খাতার শেষের পাতাগুলো দ্রুত উল্টালাম।
মাঝখানের বহু পৃষ্ঠা ছেঁড়া। কাগজের কিনারা অসমান। খুব পুরোনো নয়। পাতাগুলো সম্প্রতি সরানো হয়েছে।
শেষ অক্ষত পৃষ্ঠায় সুবর্ণার নীল কালির লেখা।
তুমি এই বিবরণ লিখলে আমি আর তোমাকে বিশ্বাস করব না। কারণ ঘর থেকে যে মানুষটি বের হয়েছিল, সে তুমি ছিলে না।
পাঠাগারের সব অবশিষ্ট আলো একসঙ্গে নিভে গেল।
সম্পূর্ণ অন্ধকার।
তারপর দ্বিতীয় কক্ষের ভেতর পিতলের ঘণ্টা বেজে উঠল।
ক্রিং।
একবার।
তারপর অন্ধকারের খুব কাছে কেউ শ্বাস নিল।
আমাদের তিনজনের কেউ নয়।
“খাতাটি সঙ্গে নিও না, হাসান। চেয়ারম্যানবাড়িতে যে মানুষটি তোমার মুখ পরে আছে, সে জানে তুমি এটি খুঁজে পেয়েছ।”
চলবে...
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রচনা-সংক্রান্ত ঘোষণা
‘দত্ত পরিবার’ একটি মৌলিক কাল্পনিক সাহিত্যকর্ম। দত্ত পরিবার, দত্ত ভবন, হাসান, স্নেহা, অমিত, সুবর্ণা, শিহাব, চেয়ারম্যানবাড়ি, H Library, ১৭১৫ সালের আলোকচিত্র এবং সংশ্লিষ্ট পারিবারিক ও রাজনৈতিক রহস্য সৃজনশীল নির্মাণ। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাস্তব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হলেও এই পর্বের গুপ্ত পাঠাগার, ব্যক্তিগত পাণ্ডুলিপি, ছবি, সাংকেতিক নির্দেশ, রাজনৈতিক নথি, স্মৃতি পুনরুদ্ধারব্যবস্থা ও অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা কাল্পনিক। সাহিত্য ও গানের উল্লেখ আবহ, চরিত্রায়ণ এবং কাহিনির প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে। চিকিৎসা, অস্ত্র ও সংঘর্ষের উল্লেখ সাহিত্যিক উপস্থাপনা, বাস্তব জীবনে অনুসরণযোগ্য নির্দেশনা নয়।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখজনক
0
চমৎকার
0