ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন কেন: বৈশ্বিক সংকট, বাণিজ্য ঘাটতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতা

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কেন কমে? আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ, মার্কিন সুদের হার ও বাংলাদেশের বিনিময় হারনীতি সহজ ভাষায় জানুন।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ১
ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন কেন: বৈশ্বিক সংকট, বাণিজ্য ঘাটতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতা
বাংলাদেশি ১০০ টাকার নোট ও এক মার্কিন ডলারের নোটের পাশে নিম্নমুখী রেখা; বাম পাশে লেখা ‘টাকার মান কেন কমে? কারণ, প্রভাব ও করণীয়’।
অভিযাত্রী অর্থনীতি

ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন কেন: বৈশ্বিক সংকট, বাণিজ্যঘাটতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতা

ডলারের দাম বাড়ে, নাকি টাকার মূল্য কমে? প্রতিদিনের এই প্রশ্নটির পেছনে রয়েছে আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ, সুদের হার, বাজারের আস্থা এবং রাষ্ট্রের বিনিময় হারনীতির জটিল সম্পর্ক।

সম্পাদকীয় নোট

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮ জুন ২০২৩ তারিখে দ্য ব্যাকস্পেস জার্নালে। অভিযাত্রীর এই সংস্করণে মূল লেখক আব্দুস সবুরের প্রশ্ন, ব্যাখ্যার সহজ ধরন ও কেন্দ্রীয় বক্তব্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যের আলোকে পুরোনো পরিসংখ্যান, সময়কাল, অর্থনৈতিক পরিভাষা ও কারণ-ব্যাখ্যা হালনাগাদ করা হয়েছে। বিনিময় হার নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই নিবন্ধের কোনো হারকে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের নিশ্চয়তা বা বিনিয়োগ-পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

একসময় বাংলাদেশের বাজারে এক মার্কিন ডলার কিনতে প্রায় ৮৫ বা ৮৬ টাকা প্রয়োজন হতো। কয়েক বছরের ব্যবধানে একই ডলারের মূল্য ১২০ টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনাটি একটি সরল বাক্যে ধরা পড়ে: ডলারের দাম বেড়েছে। কিন্তু এই বাক্যের উল্টো পাশে আরেকটি বাস্তবতা আছে। ডলারের তুলনায় বাংলাদেশের টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

প্রশ্ন হলো, টাকার এই দরপতন কেন ঘটে? এর জন্য কি শুধু আন্তর্জাতিক বাজার দায়ী? বাংলাদেশের আমদানি বেশি হওয়াই কি প্রধান কারণ? রেমিট্যান্স কমলে কীভাবে ডলারের সংকট তৈরি হয়? কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও কেন সংকট পুরোপুরি থামাতে পারে না? টাকার অবমূল্যায়ন কি সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর, নাকি রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এর কিছু ইতিবাচক প্রভাবও আছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে প্রথমে মুদ্রাকে একটি বিনিময়যোগ্য সম্পদ হিসেবে কল্পনা করতে হবে। বাজারে কোনো প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়লে এবং সরবরাহ কমে গেলে সাধারণত তার দাম বাড়ে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও একই মৌলিক নিয়ম কাজ করে। বাংলাদেশে আমদানি, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি, বিদেশে শিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক সেবার জন্য ডলার প্রয়োজন হয়। বিপরীতে রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে দেশে ডলার আসে।

ডলারের প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ক্রেতার মধ্যে ডলার পাওয়ার প্রতিযোগিতা বাড়ে। তখন এক ডলার কিনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগে। এই অবস্থাকেই আমরা সাধারণভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন বলি।

বিনিময় হার কীভাবে কাজ করে?

দুটি দেশের মুদ্রা একে অন্যের বিপরীতে যে দামে বিনিময় হয়, সেটিই বিনিময় হার বা exchange rate। এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা লাগলে USD/BDT বিনিময় হার ১০০ টাকা। পরে একই ডলার কিনতে ১২০ টাকা লাগলে বোঝা যায়, ডলারের তুলনায় টাকা দুর্বল হয়েছে।

তবে সংবাদে দেখা একটি হার সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের reference rate, ব্যাংকের আমদানি নিষ্পত্তির হার, রপ্তানি আয় নগদায়নের হার, রেমিট্যান্স গ্রহণের হার, কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেনের হার এবং নগদ ডলার কেনাবেচার হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

Depreciation ও Devaluation কি একই বিষয়?

মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়াকে সাধারণ আলোচনায় অবমূল্যায়ন বলা হলেও অর্থনীতিতে দুটি ধারণা আলাদা। বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের প্রভাবে নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থায় একটি মুদ্রার দাম কমলে তাকে depreciation বলা হয়। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থায় সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে মুদ্রার মূল্য কমালে তাকে devaluation বলা হয়।

Depreciation: বাজারের পরিবর্তনে অন্য মুদ্রার তুলনায় কোনো মুদ্রার মূল্য কমা।

Devaluation: নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে মুদ্রার আনুষ্ঠানিক মূল্য কমানো।

Appreciation: অন্য মুদ্রার তুলনায় কোনো মুদ্রার মূল্য বেড়ে যাওয়া।

করোনা ও সরবরাহব্যবস্থার প্রথম ধাক্কা

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে বিশ্বজুড়ে কারখানা, বন্দর, বিমান চলাচল, জাহাজ পরিবহন এবং স্থলবাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়। বহু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দেয়। কোথাও কারখানা বন্ধ ছিল, কোথাও প্রয়োজনীয় শ্রমিক ও কাঁচামাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং পণ্য পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে শুরু করে।

মহামারির প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় অনেক পণ্যের চাহিদা কমেছিল। কিন্তু বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর আটকে থাকা ভোক্তা ও শিল্পচাহিদা দ্রুত ফিরে আসে। মানুষ কেনাকাটা শুরু করে এবং শিল্পকারখানা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করে। সমস্যা ছিল, চাহিদা যত দ্রুত ফিরে এসেছিল, সরবরাহব্যবস্থা তত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারেনি।

বাংলাদেশের শিল্পের বড় অংশ জ্বালানি, তুলা, রাসায়নিক উপাদান, যন্ত্রপাতি, ভোজ্যতেল এবং নানা ধরনের মধ্যবর্তী পণ্যের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতির গতি ফেরার সঙ্গে এসব পণ্যের আমদানি বাড়ে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ পণ্য আমদানির জন্য আগের চেয়ে বেশি ডলার প্রয়োজন হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কেন পরিস্থিতি কঠিন করে?

করোনা-পরবর্তী সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। রাশিয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি, সার ও বিভিন্ন কাঁচামালের বড় উৎস। ইউক্রেনও খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পরিবহন ঝুঁকি এবং বাজারের অনিশ্চয়তা জ্বালানি ও খাদ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

বাংলাদেশের জন্য এর প্রভাব ছিল দ্বিমুখী। প্রথমত, আমদানিকৃত জ্বালানি ও পণ্যের জন্য বেশি ডলার ব্যয় করতে হয়। দ্বিতীয়ত, দেশের ভেতরে বিদ্যুৎ, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। জ্বালানির ব্যয় বাড়লে শুধু পেট্রোল কিংবা ডিজেলের দাম নয়, কারখানায় উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং বাজারজাতকরণের খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে টাকার দরপতনের জন্য শুধু যুদ্ধকে দায়ী করা সঠিক নয়। যুদ্ধ একটি বড় বহিরাগত ধাক্কা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি কাঠামো, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, বিনিময় হারের নমনীয়তা, আর্থিক খাতের আস্থা এবং দেশীয় নীতিগত প্রতিক্রিয়াও পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মার্কিন সুদের হার বাড়লে ডলার শক্তিশালী হয় কেন?

করোনা-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও মূল্যস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যায়। এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা Federal Reserve-এর নীতিনির্ধারক কমিটি ২০২২ সালে ধারাবাহিকভাবে নীতি সুদের হার বাড়ায়। এটি একবারের আধা শতাংশ বৃদ্ধি ছিল না। বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন মাত্রায় সুদের হার বাড়ানো হয়েছিল।

সুদের হার বাড়লে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কিছু ব্যয় কিংবা বিনিয়োগ পিছিয়ে দিতে পারে এবং অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা কমে আসতে পারে। এভাবে উচ্চ সুদের হার মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়তা করে। তবে এর কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়া এবং কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টির ঝুঁকিও থাকে।

একই সঙ্গে উচ্চ মার্কিন সুদ ডলারভিত্তিক আমানত, সরকারি বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। এসব সম্পদ কিনতে বিনিয়োগকারীরা ডলার সংগ্রহ করলে বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ে। তখন উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রাসহ বহু মুদ্রার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হতে পারে।

বাংলাদেশের ডলারের চাহিদা কোথা থেকে আসে?

বাংলাদেশের ডলার চাহিদার সবচেয়ে বড় অংশ আমদানি থেকে আসে। জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, রাসায়নিক উপাদান, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিপণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির মূল্য আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। এর সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধ, বিদেশে শিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, অনলাইন সেবা, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের প্রয়োজন যুক্ত হয়।

অর্থনীতি সম্প্রসারিত হলে ডলারের চাহিদা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। শিল্প উৎপাদন বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আমদানি নিজেই নেতিবাচক বিষয় নয়। উৎপাদনশীল আমদানি ভবিষ্যতে আরও পণ্য, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় তৈরি করতে পারে।

সমস্যা তৈরি হয় যখন আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়লেও রপ্তানি, রেমিট্যান্স, বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ডলারের প্রবাহ সেই গতিতে বাড়ে না। তখন ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ডলার সংগ্রহে প্রতিযোগিতা করে এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ বাড়ে।

বাণিজ্যঘাটতি ও চলতি হিসাবের ঘাটতি

পণ্য রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় পণ্য আমদানিতে বেশি ব্যয় হলে বাণিজ্যঘাটতি তৈরি হয়। কিন্তু চলতি হিসাব বা current account আরও বিস্তৃত। এতে পণ্যবাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, প্রাথমিক আয় এবং রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত থাকে।

কোনো দেশের পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি থাকলেও বড় রেমিট্যান্স বা সেবা রপ্তানি সেই ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করতে পারে। আবার বাণিজ্যঘাটতি খুব বেশি হলে এবং রেমিট্যান্স কমে গেলে চলতি হিসাবেও বড় ঘাটতি তৈরি হতে পারে। FY2021-22-এ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্সের পতন বহিঃখাতের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছিল।

FY2021-22-এর গুরুত্বপূর্ণ চিত্র

১. করোনা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।

২. রপ্তানি আয়ও বাড়ে, কিন্তু আমদানি ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি বড় ছিল।

৩. পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি প্রায় ৩৩.২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

৪. আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৫.১২ শতাংশ কমে যায়।

৫. চলতি হিসাবের বড় ঘাটতি রিজার্ভ ও টাকার বিনিময় হারের ওপর চাপ বাড়ায়।

FY2021-22-এ বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় প্রায় ৮২.৪৯ বিলিয়ন ডলার এবং পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৯.২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ফলে বাণিজ্যঘাটতি প্রায় ৩৩.২৪ বিলিয়ন ডলার হয়। একই সময়ে আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রায় ২১.০৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

রেমিট্যান্স কমলে ডলারের বাজারে কী ঘটে?

প্রবাসীরা যখন ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠান, তখন সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। পরিবার টাকায় অর্থ পেলেও ডলার ব্যাংকিং ব্যবস্থার বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করে। আমদানি দায় মেটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ব্যাংকিং চ্যানেলের বিনিময় হার বিকল্প অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের তুলনায় কম আকর্ষণীয় হলে কিছু প্রবাসী আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে যেতে পারেন। এতে দেশে পরিবার টাকা পেলেও ডলার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রত্যাশিতভাবে প্রবেশ নাও করতে পারে। তখন ব্যাংকের কাছে আমদানি নিষ্পত্তির জন্য ডলারের সরবরাহ কম থাকে।

আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স বাড়াতে শুধু নগদ প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। দ্রুত লেনদেন, কম ফি, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, সহজ ডিজিটাল সেবা এবং গ্রাহকের আস্থা একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হয়।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কী?

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সম্পদের মজুত। এটি আমদানি দায়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং জরুরি বহিঃস্থ সংকট মোকাবিলায় সুরক্ষা দেয়। কোনো দেশের রিজার্ভকে শুধু মোট ডলারের অঙ্ক দিয়ে নয়, আমদানি ব্যয় ও স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়ের তুলনায়ও বিচার করতে হয়।

বাজারে ডলারের ঘাটতি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতে পারে। এতে জ্বালানি, খাদ্য, সার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় শিল্প উপকরণের আমদানি দায় সামলানো সহজ হয়। বিনিময় হারের অতিরিক্ত অস্থিরতাও সাময়িকভাবে কমতে পারে।

কিন্তু রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি নতুন কোনো বৈদেশিক আয় সৃষ্টি করে না। এটি আগে জমা করা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা। দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট বিনিময় হার রক্ষায় ডলার বিক্রি করলে রিজার্ভ দ্রুত কমতে পারে। তখন ভবিষ্যৎ আমদানি ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়ে এবং টাকার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

একই ডলারের একাধিক দাম কেন সমস্যা?

বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের সময়ে আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও নগদ বাজারের জন্য ভিন্ন কার্যকর হার তৈরি হতে পারে। এসব হারের পার্থক্য খুব বেশি হলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যেখানে বেশি মূল্য পাওয়া যায়, সেখানে ডলার বিক্রি করতে আগ্রহী হয়। বাজারের স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে এটি অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এর ফলে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কমে যেতে পারে। ব্যাংকের ঘোষিত হার বাজারের বাস্তব চাহিদা ও সরবরাহ থেকে অনেক দূরে থাকলে অনানুষ্ঠানিক বাজার প্রবাসী আয় আকর্ষণ করতে পারে। আমদানিকারকও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় ডলার না পেয়ে বাড়তি ব্যয়ে বিকল্প পথ খুঁজতে পারেন।

বিনিময় হারকে বাজারের বাস্তবতার কাছাকাছি নেওয়ার অর্থ রাষ্ট্রের ভূমিকা বাদ দেওয়া নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হলো বিশৃঙ্খল ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ, প্রয়োজনীয় তারল্য বজায় রাখা এবং কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমানো।

টাকার দরপতন সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে পৌঁছায়?

টাকার অবমূল্যায়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব আমদানিকৃত পণ্যের দামে পড়ে। এক ডলার কিনতে বেশি টাকা লাগলে বিদেশ থেকে তেল, গম, ভোজ্যতেল, ওষুধের কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিপণ্য আনতে বেশি অর্থ ব্যয় হয়। আমদানিকারক সাধারণত বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের মূল্যে যুক্ত করেন।

জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালের দাম বাড়লে প্রভাবটি আরও বিস্তৃত হয়। কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পণ্য পরিবহন ব্যয়বহুল হয় এবং বিভিন্ন সেবার খরচও বেড়ে যেতে পারে। ফলে সরাসরি আমদানি করা পণ্যের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের দামও বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

বিনিময় হারের পরিবর্তন থেকে দেশীয় মূল্যে প্রভাব ছড়িয়ে পড়াকে exchange-rate pass-through বা বিনিময় হারজনিত মূল্যসঞ্চালন বলা হয়। এর মাত্রা বাজারে প্রতিযোগিতা, কর, পরিবহন ব্যয়, মজুত এবং ব্যবসায়িক মুনাফার কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।

কার ওপর কী প্রভাব পড়ে?

সাধারণ পরিবার: খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে।

শিক্ষার্থী: বিদেশে পড়াশোনার ফি, আবেদন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় টাকায় বেড়ে যায়।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান: কাঁচামাল, সফটওয়্যার, যন্ত্রপাতি ও বৈদেশিক ঋণের ব্যয় বাড়তে পারে।

প্রবাসী পরিবার: একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকায় বেশি অর্থ পাওয়া যেতে পারে।

রপ্তানিকারক: ডলার আয় টাকায় রূপান্তর করে বেশি অর্থ পেলেও আমদানিকৃত কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

টাকার অবমূল্যায়ন কি রপ্তানির জন্য সব সময় ভালো?

সাধারণ অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা হলো, দেশের মুদ্রা দুর্বল হলে বিদেশি ক্রেতার কাছে সেই দেশের পণ্য তুলনামূলক সস্তা হতে পারে। রপ্তানিকারক এক ডলার আয় করে আগের চেয়ে বেশি টাকা পান। ফলে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের বহু রপ্তানি শিল্প আমদানিকৃত তুলা, রাসায়নিক উপাদান, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। টাকার মান কমলে এসব উপকরণের টাকায় হিসাব করা ব্যয়ও বেড়ে যায়। ফলে বিনিময় হার থেকে পাওয়া অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ উৎপাদন ব্যয়ে হারিয়ে যেতে পারে।

শুধু দাম কমলেই রপ্তানি বাড়ে না। পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, শ্রমদক্ষতা, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, ব্যবসার পরিবেশ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই টাকার দরপতনকে রপ্তানির সহজ সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বৈদেশিক বিনিয়োগের ভূমিকা

প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন, প্রযুক্তি, বাজারসংযোগ ও কর্মসংস্থান আনতে পারে। নতুন শিল্প স্থাপন কিংবা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রবেশ করলে ডলারের সরবরাহে সহায়তা হয়। তবে একটি দেশের মুদ্রার স্বল্পমেয়াদি মূল্য শুধু বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না।

বিনিয়োগের তথ্য বুঝতে gross inflow, net inflow, reinvested earnings, equity capital এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ আলাদা করতে হয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশে যে অর্থ আনছে, তার একটি অংশ এখানে অর্জিত মুনাফা পুনর্বিনিয়োগও হতে পারে। আবার লভ্যাংশ বা ঋণ পরিশোধ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যেতে পারে।

২০২৩ সালের পর কী বদলেছে?

২০২৩ সালে মূল লেখাটি প্রকাশের সময় বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার বড় সংকট, রিজার্ভের চাপ, একাধিক কার্যকর বিনিময় হার এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করার চেষ্টা, রিজার্ভ গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্কার গ্রহণ করা হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত transaction-based USD/BDT spot reference rate ছিল প্রতি ডলার ১২৩.০০৭৮ টাকা। এটি নির্দিষ্ট যোগ্য লেনদেনের weighted average। কোনো ব্যক্তির নগদ ডলার কেনা, বিক্রি, কার্ড ব্যবহার বা রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর হার ভিন্ন হতে পারে।

সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উন্নতি এবং রেমিট্যান্সের সহায়তা দেখা গেলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও বিনিময় হারজনিত মূল্যচাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই বাণিজ্যঘাটতি কমলে অর্থনীতির সব সমস্যা শেষ হয়ে যায়, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

স্বল্পমেয়াদি করণীয়

স্বল্পমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হলো বাজারে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা। প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও শিল্পের কাঁচামালের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। একই সঙ্গে বিলাসী ও কম প্রয়োজনীয় আমদানিতে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ দেওয়া যেতে পারে।

তবে আমদানি নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছ অগ্রাধিকার থাকা জরুরি। উৎপাদনশীল কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নীতির পরিবর্তন আগাম জানানো এবং ব্যাংকগুলোর জন্য স্পষ্ট নিয়ম রাখা প্রয়োজন।

আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকিং হার প্রতিযোগিতামূলক রাখা, লেনদেনের সময় ও খরচ কমানো এবং প্রবাসীদের জন্য সহজ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরছে কি না, তা কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

১. রপ্তানি বৈচিত্র্য: পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষ সেবার আন্তর্জাতিক বাজার বাড়াতে হবে।

২. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তি, দক্ষতা, গবেষণা ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বেশি মূল্য তৈরি করতে হবে।

৩. জ্বালানি দক্ষতা: অপচয় কমানো এবং নির্ভরযোগ্য স্থানীয় ও নবায়নযোগ্য উৎস বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির চাপ কিছুটা কমতে পারে।

৪. বৈধ রেমিট্যান্স: দক্ষ জনশক্তি, কম লেনদেন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স বাড়াতে পারে।

৫. বিনিয়োগের পরিবেশ: নীতির ধারাবাহিকতা, চুক্তির সুরক্ষা, দ্রুত সেবা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এবং কার্যকর বিরোধ নিষ্পত্তি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজন।

৬. আর্থিক খাতের সুশাসন: খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর তদারকি ছাড়া টেকসই মুদ্রা স্থিতিশীলতা কঠিন।

৭. নির্ভরযোগ্য তথ্য: রিজার্ভ, বিনিময় হার, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যাংকিং খাতের তথ্য নির্ভুল ও সময়মতো প্রকাশিত হলে বাজার গুজবের বদলে উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

শেষ কথা

ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন কোনো এক দিনের ঘটনা নয় এবং এর পেছনে একক কোনো কারণও নেই। করোনা-পরবর্তী আমদানি বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মুদ্রানীতি, রেমিট্যান্সের ওঠানামা, বাণিজ্য ও চলতি হিসাবের ঘাটতি, রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি এবং বাংলাদেশের বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত।

শুধু ডলারের দাম প্রশাসনিকভাবে আটকে রাখা স্থায়ী সমাধান নয়। আবার উৎপাদনশীল আমদানি নির্বিচারে বন্ধ করাও সমাধান হতে পারে না। বাংলাদেশের শিল্প ও রপ্তানির বড় অংশ আমদানিকৃত জ্বালানি, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। আমদানি কমাতে গিয়ে উৎপাদন কমে গেলে ভবিষ্যৎ রপ্তানি ও ডলার আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একটি টেকসই অর্থনীতি এমনভাবে গড়ে ওঠে, যেখানে দেশ প্রতিযোগিতামূলক পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনে, বিনিয়োগকারীর আস্থা ধরে রাখে এবং বৈদেশিক ঋণকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও স্বচ্ছ নীতি, বাস্তবসম্মত বিনিময় হার এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে বাজারকে আস্থা দিতে হয়।

একটি মুদ্রার প্রকৃত শক্তি শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত দরে নয়; দেশের উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাসী আয়, আর্থিক আস্থা এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতায় গড়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

বাংলাদেশ ব্যাংক। Bangladesh Balance of Payments, Annual 2021–22. Statistics Department, Bangladesh Bank।

বাংলাদেশ ব্যাংক। Balance of Payments Annual Data and Bangladesh Foreign Exchange Market Spot Reference Exchange Rate.

International Monetary Fund। Bangladesh: Toward Greater Exchange Rate Flexibility. IMF Staff Country Report, December 2023।

International Monetary Fund। Bangladesh: 2025 Article IV Consultation. IMF Country Report No. 26/24, January 2026।

Asian Development Bank। Asian Development Outlook, April 2026: Bangladesh.

মূল প্রকাশনা। আব্দুস সবুর, “ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণ”, দ্য ব্যাকস্পেস জার্নাল, ১৮ জুন ২০২৩; Internet Archive-এ সংরক্ষিত সংস্করণ।

লেখক ও সম্পাদকীয় কৃতিত্ব

মূল লেখক: আব্দুস সবুর

মূল প্রকাশ: দ্য ব্যাকস্পেস জার্নাল, ১৮ জুন ২০২৩

গবেষণা, তথ্য যাচাই ও পুনঃসম্পাদনা: অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল

বর্তমান ডিজিটাল প্রকাশনা: অভিযাত্রী

কপিরাইট © ২০২৬ অভিযাত্রী। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

লেখাটির একচেটিয়া কপিরাইট অধিকার অভিযাত্রীর কাছে সংরক্ষিত। প্রযোজ্য আইনে অনুমোদিত সীমিত উদ্ধৃতি, গবেষণা, সমালোচনা বা সংবাদ প্রতিবেদনের ব্যবহার ছাড়া অভিযাত্রীর লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই লেখা বা এর উল্লেখযোগ্য অংশ পুনঃপ্রকাশ, অনুলিপি, রূপান্তর, বিক্রয় বা বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ করা যাবে না। অনুমোদিত উদ্ধৃতিতে মূল লেখক, নিবন্ধের শিরোনাম এবং অভিযাত্রীর কার্যকর উৎসলিংক উল্লেখ করতে হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
আব্দুস সবুর (লোটাস) আমি আব্দুস সবুর, লেখালেখিতে লোটাস নামে পরিচিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। অর্থনীতি, শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ক্রীড়া ও সম্পাদকীয় বিষয়ে লেখালেখির অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। অভিযাত্রীর সহ-সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আমি লেখা পর্যালোচনা, সম্পাদকীয় সমন্বয় এবং প্রকাশনার মাননিয়ন্ত্রণে যুক্ত আছি।