মহানায়ক তৈরি করে কে? উত্তম কুমার, সালমান শাহ ও আমাদের সাংস্কৃতিক বৈষম্য
উত্তম কুমার মহানায়ক। কিন্তু সালমান শাহকে মহানায়ক বললে তাঁর মর্যাদা কমে কেন? কাজ, দর্শক, সময়, গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান কীভাবে একজন তারকাকে মহানায়ক করে তোলে?
চলচ্চিত্র • সংস্কৃতি • তারকাসত্তা
মহানায়ক তৈরি করে কে?
উত্তম কুমার মহানায়ক। কিন্তু সালমান শাহকে মহানায়ক বললে উত্তম কুমারের কী ক্ষতি হয়? নাকি সমস্যাটি দুই অভিনেতার কাজে নয়, তাঁদের মূল্যায়নে ব্যবহৃত আমাদের দুই ধরনের সাংস্কৃতিক অভিধানে?
পাঠকের জন্য সতর্কতা
এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য উত্তম কুমার ও সালমান শাহকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী বানানো নয়। “মহানায়ক” কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নয়, বরং দর্শক, চলচ্চিত্রশিল্প, গণমাধ্যম, সমালোচনা, প্রতিষ্ঠান ও সময়ের সম্মিলিত স্বীকৃতিতে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক উপাধি। এখানে ঐতিহাসিক তথ্য, সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ ও লেখকের মূল্যায়ন আলাদা রেখে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রশ্নটি করলেই কিছু মানুষ অস্বস্তিতে পড়বেন। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সেই অন্ধভক্তরা, যাঁদের কাছে “মহানায়ক” কোনো আলোচনাযোগ্য সাংস্কৃতিক উপাধি নয়। এটি যেন জন্মগত রাজসিংহাসন, যার মালিক একজনই। অন্য কোনো বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ককে মহানায়ক বলা হলে তাঁদের মনে হয়, উত্তম কুমারের মুকুট থেকে বুঝি একটি হীরা খুলে নেওয়া হলো।
প্রথমেই পরিষ্কার করে নেওয়া যাক, উত্তম কুমার মহানায়ক। তাঁর কাজ, দীর্ঘ কর্মজীবন, অভিনয়ের বৈচিত্র্য, জনপ্রিয়তা এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ওপর গভীর প্রভাব তাঁকে এই মর্যাদা দিয়েছে।
কিন্তু সালমান শাহকে মহানায়ক বললে উত্তম কুমারের কী ক্ষতি হয়?
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, একজন মানুষকে মহানায়ক তৈরি করে কে?
উত্তম কুমার কি কোনো সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে মহানায়ক ঘোষণা করেছিলেন? কোনো চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান কি পরীক্ষা নিয়ে তাঁকে মহানায়ক পদে নিয়োগ দিয়েছিল? নাকি দর্শক, নির্মাতা, সহশিল্পী, গণমাধ্যম, সমালোচক, চলচ্চিত্রশিল্প, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সময় ধীরে ধীরে তাঁর নামের সঙ্গে এই উপাধি স্থায়ী করেছে?
উত্তম কুমারের জন্মনাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু সাফল্যে মোড়ানো ছিল না। মুক্তি না পাওয়া প্রথম কাজ, পরপর ব্যর্থ চলচ্চিত্র, নাম পরিবর্তন এবং প্রত্যাখ্যান তাঁর শুরুর পথকে কঠিন করে তুলেছিল। একসময় তাঁকে বিদ্রূপ করে “ফ্লপ মাস্টার জেনারেল” পর্যন্ত বলা হতো।
কিন্তু ব্যর্থতা তাঁর চূড়ান্ত পরিচয় হয়নি। অভিনয়, উচ্চারণ, শরীরী ভাষা, সংগীতবোধ এবং পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে তিনি নিজের তারকাসত্তা নির্মাণ করেছিলেন। ‘বসু পরিবার’ তাঁকে প্রাথমিক সাফল্য দেয় এবং ১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ তাঁর জনপ্রিয়তার গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে ওঠে।
‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সাগরিকা’, ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘নায়ক’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘অমানুষ’ তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের বিস্তার বুঝতে সাহায্য করে।
তিনি শুধু রোমান্টিক নায়ক ছিলেন না। প্রেমিক, ঐতিহাসিক চরিত্র, রহস্যভেদী, সামাজিক সংকটে আটকে থাকা মানুষ, আত্মসন্দেহে ভোগা তারকা এবং ট্র্যাজিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, পরিচালনা ও সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রেমের পর্দাভাষা বদলে দিয়েছিল। উত্তম-সুচিত্রার সম্পর্ক শুধু কয়েকটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের হিসাব নয়। তাঁদের পর্দার মধ্যে একটি সময়ের বাঙালি মধ্যবিত্ত নিজের প্রেম, সৌন্দর্য, আকাঙ্ক্ষা, সংযম এবং রোমান্টিক কল্পনার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছিল।
উত্তম কুমার ব্যর্থ হওয়ার সময় পেয়েছিলেন।
নিজেকে সংশোধন করার সময় পেয়েছিলেন।
একটি ঐতিহাসিক পর্দাজুটি গড়ার সময় পেয়েছিলেন।
রোমান্টিক নায়কের পরিচয় ভেঙে ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার সময় পেয়েছিলেন।
জনপ্রিয়তা, সমালোচনা, পুরস্কার, ব্যর্থতা ও প্রত্যাবর্তন মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রজীবন নির্মাণের সময় পেয়েছিলেন।
মৃত্যুর পর তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণেও পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান সক্রিয় থেকেছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র উৎসব, স্মরণানুষ্ঠান, পুরস্কার, জীবনী, গবেষণা ও পুনঃপ্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে বারবার নতুন দর্শকের সামনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তাঁর নামের আগে “মহানায়ক” শব্দটি এতবার ও এত দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চারিত হয়েছে যে একসময় “উত্তম কুমার” এবং “মহানায়ক উত্তম কুমার” প্রায় একই সাংস্কৃতিক পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। এতে আপত্তির কিছু নেই। তিনি এই মর্যাদা অর্জন করেছেন।
মহানায়ক হয়ে জন্মাননি উত্তম কুমার
আপত্তি শুরু হয় তখন, যখন উত্তম কুমার মহানায়ক হওয়ার অর্থ দাঁড় করানো হয় এই যে বাংলা ভাষার আর কোনো অভিনেতা মহানায়ক হতে পারবেন না।
যেন “মহানায়ক” কোনো সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ভূগোল থেকে দেওয়া একচেটিয়া ব্যবসায়িক লাইসেন্স।
সালমান শাহ আকাশ থেকে নামেননি
সালমান শাহ ১৯৯৩ সালে হঠাৎ করে ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়ানো কোনো অনভিজ্ঞ সুদর্শন তরুণ ছিলেন না। তাঁর প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র ও সংগীতচিত্রে কাজ করেছিলেন।
‘পাথর সময়’ ও ‘ইতিকথা’র মতো টেলিভিশন প্রযোজনায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ক্যামেরা, অভিনয় এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। ফলে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ কোনো আকস্মিক সৌভাগ্যের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এর পেছনে ছিল চলচ্চিত্রের আগের প্রস্তুতি।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। একই চলচ্চিত্রে মৌসুমীও প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম চলচ্চিত্রেই সালমান শাহ এমন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তাঁকে দ্বিতীয় সাফল্যের অপেক্ষা করতে হয়নি।
উত্তম কুমারকে তারকা হওয়ার আগে একাধিক ব্যর্থতা অতিক্রম করতে হয়েছিল।
সালমান শাহ প্রথম চলচ্চিত্রেই তারকা হয়ে গিয়েছিলেন।
এটি কে বড় অভিনেতা, তার বিচার নয়। এটি দুই ধরনের তারকা হয়ে ওঠার ইতিহাস।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্রজীবনে সালমান শাহ মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর মৃত্যুর পর কয়েকটি চলচ্চিত্র ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়।
সংখ্যাটি আবার পড়ুন।
মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি চলচ্চিত্র।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্নেহ’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘দেনমোহর’, ‘কন্যাদান’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভিতর আগুন’ তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের অংশ।
এই তালিকা শুধু সংখ্যা প্রদর্শনের জন্য নয়। এটি দেখায়, সালমান শাহকে কেবল আধুনিক পোশাক পরা শহুরে প্রেমিক হিসেবে ব্যাখ্যা করলে তাঁর কাজের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়।
শুধু রোমান্টিক নায়ক?
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ তিনি তরুণ প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রথম চলচ্চিত্রেই তাঁর স্বচ্ছন্দ পর্দা-উপস্থিতি এবং মৌসুমীর সঙ্গে রসায়ন তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে তারকায় পরিণত করে।
কিন্তু ‘বিক্ষোভ’-এ তাঁকে সামাজিক অবিচার, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক উত্তেজনানির্ভর কাহিনির কেন্দ্রে দেখা যায়। ‘সুজন সখী’ ও ‘কন্যাদান’-এর মতো চলচ্চিত্র তাঁকে গ্রামীণ ও লোকজ আবহে নিয়ে যায়। ‘দেনমোহর’ ও ‘মায়ের অধিকার’-এ পরিবার, সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধের দ্বন্দ্বের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দেখা যায়।
‘এই ঘর এই সংসার’ ও ‘জীবন সংসার’-এ তাঁকে পারিবারিক দায়িত্ব, সম্পর্কের সংকট এবং আবেগের সংঘাত বহন করতে হয়েছে। ‘সত্যের মৃত্যু নেই’-এ ন্যায়, অন্যায়, ত্যাগ ও পারিবারিক আবেগের কেন্দ্রে তাঁর চরিত্র অবস্থান করে।
‘আনন্দ অশ্রু’ তাঁর অভিনয়পরিসর বোঝার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবেগ, মানসিক বিপর্যয়, অসহায়ত্ব এবং ট্র্যাজিক পরিণতির মধ্যে তিনি নিজের পরিচিত রোমান্টিক তারকাসত্তাকে ভিন্ন ধরনের অভিনয়চাপে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি পরিণত বয়সে কতটা বড় চরিত্রাভিনেতা হতে পারতেন, সেটি আমরা জানি না। কারণ তিনি সেই বয়সে পৌঁছানোর সুযোগ পাননি। কিন্তু তিনি কোনো অভিনয়বৈচিত্র্য দেখাননি, এমন সিদ্ধান্ত তাঁর চলচ্চিত্রতালিকা সমর্থন করে না।
উত্তম-সুচিত্রা সংস্কৃতি, সালমান-শাবনূর শুধু ব্যবসা?
শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহ মোট ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁদের জুটি নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রেম, আকর্ষণ, অভিমান, বিচ্ছেদ এবং তারুণ্যের একটি স্বতন্ত্র পর্দাভাষা তৈরি করেছিল।
উত্তম কুমারের মহানায়কত্ব ব্যাখ্যা করতে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পর্দাজুটিকে যদি ঐতিহাসিক গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সালমান শাহের মূল্যায়নে শাবনূরের সঙ্গে তাঁর ১৪টি চলচ্চিত্রকে শুধু “জনপ্রিয় বাণিজ্যিক জুটি” বলে পাশ কাটানো হবে কেন?
উত্তম-সুচিত্রার রসায়ন সংস্কৃতি, কিন্তু সালমান-শাবনূরের রসায়ন শুধুই ব্যবসা?
একই ঘটনা, কিন্তু অভিধান আলাদা কেন?
মৌসুমীর সঙ্গে প্রথম চলচ্চিত্রের সাফল্য সালমান শাহকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। শাবনূরের সঙ্গে ধারাবাহিক কাজ তাঁকে একটি প্রজন্মের আবেগের কেন্দ্রে স্থায়ী করেছিল। দুই জুটির ভূমিকা আলাদা, কিন্তু দুটিই তাঁর তারকাসত্তা নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উত্তম কুমার তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সালমান শাহের চলচ্চিত্রজীবন সীমাবদ্ধ ছিল ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে। তাই শুধু মোট চলচ্চিত্রের সংখ্যা পাশাপাশি রেখে দুজনকে বিচার করা ন্যায়সংগত নয়।
দেখতে হবে, প্রাপ্ত সময়ের মধ্যে একজন অভিনেতা নিজের চলচ্চিত্রশিল্পে কতটা চাহিদা, পরিবর্তন ও সাংস্কৃতিক প্রভাব সৃষ্টি করেছিলেন।
সালমান শাহের ২৭টি চলচ্চিত্র কোনো ত্রিশ বছরের কর্মজীবনের ফল নয়। এগুলো মাত্র কয়েক বছরের কাজ। মৃত্যুর পরও তাঁর কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। অর্থাৎ তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলার পরে স্মরণীয় হয়ে ওঠেননি। তাঁর জীবন যখন শেষ হয়, তখনো তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন চলচ্চিত্রতারকাদের একজন ছিলেন।
নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পূর্ণাঙ্গ, প্রকাশ্য ও নিরীক্ষিত box-office হিসাব সহজলভ্য নয়। তাই নির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের আয় বা লাভ যাচাই ছাড়া বলা উচিত নয়। তবে অল্প সময়ে ২৭টি চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্র পাওয়া এবং মৃত্যুর সময়ও একাধিক কাজ মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তাঁর বাজারচাহিদার শক্তিশালী পরোক্ষ প্রমাণ।
সালমান শাহ শুধু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। তিনি বাংলাদেশের দর্শকের সামনে নতুন ধরনের নায়কসত্তাকে দৃশ্যমান করেছিলেন।
তাঁর আগে দেশে সুদর্শন ও জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন। তাঁর পরেও এসেছেন। কিন্তু পোশাক, চুলের বিন্যাস, রঙিন চশমা, জ্যাকেট, শার্ট, কানে দুল, কথাবলার স্বচ্ছন্দতা এবং ক্যামেরার সামনে অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতিকে তিনি যেভাবে একত্র করেছিলেন, তা নব্বইয়ের দশকের বহু তরুণের কাছে আধুনিকতার একটি দৃশ্যমান রূপে পরিণত হয়েছিল।
তখন Facebook ছিল না।
Instagram ছিল না।
YouTube ছিল না।
তারপরও তাঁর পোশাক, চুল, চশমা ও সাজসজ্জা শহর, মফস্বল এবং গ্রাম পর্যন্ত অনুকরণ করা হয়েছে।
এই প্রভাবকে শুধু ফ্যাশন হিসেবে দেখলে তার সামাজিক অর্থটি হারিয়ে যায়। এটি ছিল একটি প্রজন্মের নিজেদের আধুনিক, আকর্ষণীয় ও চলচ্চিত্রীয়ভাবে দৃশ্যমান করার চেষ্টা।
উত্তম কুমারের পোশাক, হাসি, চুল ও আচরণের প্রভাবকে যদি বাঙালির সাংস্কৃতিক রুচি নির্মাণ বলা হয়, তাহলে সালমান শাহের একই ধরনের প্রভাবকে শুধু তরুণদের ফ্যাশনপ্রীতি বলা হবে কেন?
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর তিন দশক অতিক্রম করেছে। তাঁর জীবদ্দশার তরুণ দর্শকের বড় অংশ এখন মধ্যবয়সী বা প্রবীণ। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত স্মৃতিতে আটকে নেই।
তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরে জন্ম নেওয়া দর্শকের মধ্যেও তাঁর চলচ্চিত্র, ছবি, পোশাক ও পর্দাব্যক্তিত্ব নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। এই প্রজন্মান্তরী আগ্রহের সুনির্দিষ্ট মাত্রা জানতে দর্শকগবেষণা প্রয়োজন। তবে তাঁর সাংস্কৃতিক উপস্থিতি শুধু জীবদ্দশার দর্শকের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি দৃশ্যমান।
একজন তারকার আবেদন যদি তাঁর প্রথম দর্শকপ্রজন্মের সঙ্গে শেষ না হয়, সেটি শুধু নস্টালজিয়া নয়। সেটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা।
দীর্ঘতায়? হ্যাঁ, তাঁর কর্মজীবন সংক্ষিপ্ত। কারণ তিনি অল্প বয়সে মারা গেছেন।
চলচ্চিত্রের সংখ্যায়? কয়েক বছরের মধ্যে ২৭টি চলচ্চিত্রকে অল্প কাজ বলা কঠিন।
বৈচিত্র্যে? প্রেম, পরিবার, সামাজিক প্রতিবাদ, গ্রামীণ জীবন, অ্যাকশন ও ট্র্যাজেডি মিলিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রতালিকা একমাত্রিক নয়।
জনপ্রিয়তায়? মৃত্যুর তিন দশক পরও তাঁর নাম ও পর্দাব্যক্তিত্ব নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
বাজারে? অল্প সময়ে ২৭টি চলচ্চিত্রে কাজ তাঁর প্রতি চলচ্চিত্রশিল্পের ব্যাপক চাহিদা নির্দেশ করে।
সাংস্কৃতিক প্রভাবে? তাঁর পোশাক, চুল, কথাবলার ভঙ্গি ও রোমান্টিক নায়কসত্তা নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সংস্কৃতিকে দৃশ্যমানভাবে প্রভাবিত করেছে।
তাহলে তাঁকে মহানায়ক বলতে বাধা কোথায়?
সময়ের অনুপাত এবং অসমাপ্ত কর্মজীবন
ফ্যাশন নয়, সাংস্কৃতিক দৃশ্যমানতা
নস্টালজিয়া, নাকি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার?
তাহলে বাধাটি কোথায়?
সম্ভবত বাধাটি সালমান শাহের কাজে নয়। বাধাটি আমাদের সাংস্কৃতিক অভ্যাসে।
উত্তম কুমারের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোকে আমরা তাঁর মহানায়কত্বের দলিল হিসেবে দেখি। কিন্তু সালমান শাহের ২৭টি চলচ্চিত্রকে প্রায়ই একটি বাক্যে শেষ করি, “তিনি অল্প সময়ে অনেক জনপ্রিয় হয়েছিলেন।”
উত্তম-সুচিত্রা জুটিকে বলি বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ। সালমান-শাবনূরের ১৪টি চলচ্চিত্রকে বলি জনপ্রিয় বাণিজ্যিক জুটি।
উত্তম কুমারের পর্দাব্যক্তিত্বের প্রভাবকে বলি বাঙালির সাংস্কৃতিক রুচি নির্মাণ। সালমান শাহের প্রভাবকে বলি তরুণদের ফ্যাশন অনুকরণ।
উত্তম কুমারের চলচ্চিত্র ধরে ধরে তাঁর অভিনয় ব্যাখ্যা করি। সালমান শাহের ক্ষেত্রে সুদর্শন চেহারা, অকালমৃত্যু এবং “বেঁচে থাকলে কী হতেন” প্রশ্নের মধ্যে আলোচনা আটকে রাখি। তারপর সিদ্ধান্ত দিই, একজন মহানায়ক, অন্যজন ক্ষণজন্মা নায়ক। মূল্যায়নের মানদণ্ড যদি শুরু থেকেই আলাদা হয়, ফলাফলও আলাদা হবে।
অভিনেতা নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম, পর্দা-উপস্থিতি ও কাজের মাধ্যমে মহানায়কত্বের ভিত্তি তৈরি করেন।
দর্শক তাঁকে গ্রহণ করে এবং নিজের আবেগ ও স্মৃতির অংশ বানায়।
সহশিল্পী ও নির্মাতারা তাঁর পর্দাসত্তাকে নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন।
গণমাধ্যম তাঁর জন্য বিশেষ ভাষা, প্রতীক ও উপাধি তৈরি করে।
সমালোচক ও গবেষক তাঁর কাজের নান্দনিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
চলচ্চিত্রশিল্প তাঁর বাজারমূল্য ও সাংস্কৃতিক দৃশ্যমানতা বিস্তৃত করে।
রাষ্ট্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তাঁর কাজ সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার, গবেষণা ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
সময় যাচাই করে তাঁর জনপ্রিয়তা সাময়িক ছিল, নাকি প্রজন্ম অতিক্রম করার ক্ষমতা রাখে।
মহানায়ক তৈরি করে কে?
উত্তম কুমার এই প্রক্রিয়ার প্রায় সম্পূর্ণ রূপটি পেয়েছেন। তিনি কাজ করেছেন। দর্শক তাঁকে ভালোবেসেছে। সুচিত্রা সেন ও গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতারা তাঁর পর্দাসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছেন। গণমাধ্যম তাঁকে মহানায়ক বলেছে। সমালোচক ও গবেষকেরা তাঁর অভিনয় বিশ্লেষণ করেছেন। প্রতিষ্ঠান তাঁর স্মৃতি পুনরুৎপাদন করেছে। সময় তাঁর প্রভাবকে স্থায়ী করেছে।
সালমান শাহও মহানায়কত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলোর অনেকগুলো অর্জন করেছিলেন। প্রথম চলচ্চিত্রেই তারকা হয়েছেন। অল্প সময়ে ২৭টি চলচ্চিত্র করেছেন। প্রেম, পরিবার, প্রতিবাদ, গ্রামীণ জীবন ও ট্র্যাজেডিতে অভিনয় করেছেন। মৌসুমী ও শাবনূরের সঙ্গে জনপ্রিয় পর্দাজুটি গড়েছেন। নির্মাতা ও প্রযোজকদের আস্থা অর্জন করেছেন। একটি প্রজন্মের পোশাক, শরীরী ভাষা, প্রেম ও আধুনিকতার ধারণাকে প্রভাবিত করেছেন।
সময় তাঁকে পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবন দেয়নি। আর বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর কাজের তুলনায় তাঁর মৃত্যু ও মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক অনেক বেশি আলোচিত হয়েছে।
আমরা তাঁর চলচ্চিত্রের কতটা মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ করেছি?
তাঁর অভিনয় নিয়ে কতটি নির্ভরযোগ্য গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছি?
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর তারকাসত্তা, ফ্যাশন ও দর্শকপ্রভাব নিয়ে কতটা গবেষণা হয়েছে?
তাঁর চলচ্চিত্র পুনরুদ্ধার করে নতুন প্রজন্মের সামনে কতবার পরিকল্পিতভাবে উপস্থাপন করেছি?
তাঁকে নিয়ে আমাদের আলোচনা কেন এতবার তাঁর শিল্পের বদলে মৃত্যুর প্রশ্নে আটকে যায়?
আমাদের নিজেদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন
এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর দিতে প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন। তবে একটি অস্বস্তিকর বিষয় অস্বীকার করা কঠিন: শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে ছবি প্রকাশ, পুরোনো গান বাজানো এবং কয়েকটি আবেগপূর্ণ বিশেষণ ব্যবহার করে একটি দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকাদের একজনকে যথাযথ ঐতিহাসিক মর্যাদা দেওয়া যায় না।
“সালমান শাহ কেন মহানায়ক নন?” প্রশ্নটির সবচেয়ে নির্মম উত্তর সম্ভবত এটি:
সালমান শাহের মহানায়ক হিসেবে মূল্যায়িত হওয়ার মতো কাজ, দর্শকপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল। দর্শকের একটি বড় অংশ তাঁকে সেই স্থান দিয়েছে। কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্তাকে নথিবদ্ধ, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতিতে রূপ দেওয়ার কাজ তাঁর প্রভাবের সমান শক্তিতে সম্পন্ন হয়নি।
উত্তম কুমার মহানায়ক।
এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু উত্তম কুমারের মহানায়কত্ব প্রমাণ করতে সালমান শাহকে ছোট করতে হয় কেন?
দুই বাংলার রাষ্ট্রীয় ইতিহাস, চলচ্চিত্রশিল্প, দর্শকগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এক নয়। তাই দুই বাংলার মহানায়কও আলাদা হতে পারেন। উত্তম কুমার পশ্চিমবঙ্গকেন্দ্রিক বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক। সালমান শাহকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মহানায়ক হিসেবে স্বীকার করলে উত্তম কুমারের অর্জন থেকে কিছুই কমে না।
উত্তম কুমার দীর্ঘ সময় ধরে একটি চলচ্চিত্রযুগ নির্মাণ করেছেন। সালমান শাহ অল্প সময়ের মধ্যে একটি প্রজন্মের পর্দার ভাষা ও নায়ক কল্পনাকে বদলে দিয়েছেন।
উত্তম কুমারকে মহানায়ক করেছে তাঁর শিল্প, দীর্ঘ কর্মজীবন, দর্শক, সময় ও প্রতিষ্ঠান। সালমান শাহকে মহানায়ক করেছে তাঁর কাজ, বিস্ময়কর উত্থান, সাংস্কৃতিক প্রভাব ও দর্শকের দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা। সময় তাঁকে পূর্ণ কর্মজীবন দেয়নি। আর আমাদের প্রতিষ্ঠান এখনো তাঁর প্রভাবের সমান বিস্তৃত ইতিহাস লিখে উঠতে পারেনি।
শেষ প্রশ্নটি সালমান শাহকে নয়
সালমান শাহ শুধু বেঁচে থাকলে মহানায়ক হতে পারতেন, বিষয়টি এমন নয়। তিনি যে কাজগুলো করে গেছেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই বাংলাদেশের দর্শকের একটি বড় অংশ তাঁকে মহানায়কের আসনে বসিয়েছে।
আমরা শুধু সেই মহানায়ককে তাঁর কাজের নাম, চরিত্রের বৈচিত্র্য, পর্দাজুটি, বাজারপ্রভাব এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারসহ লিখতে শিখিনি।
একজন মানুষ কয়েক বছরের মধ্যে ২৭টি চলচ্চিত্রে কাজ করলেন। প্রথম চলচ্চিত্রেই তারকা হলেন। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত দর্শক অর্জন করলেন। প্রেম, পরিবার, প্রতিবাদ ও ট্র্যাজেডির চরিত্রে অভিনয় করলেন। একটি প্রজন্মের পোশাক, চুল, শরীরী ভাষা ও রোমান্টিক কল্পনাকে প্রভাবিত করলেন। মৃত্যুর তিন দশক পরও সাংস্কৃতিক আলোচনায় নিজের আবেদন ধরে রাখলেন।
তাঁকেও যদি মহানায়ক বলা না যায়, তাহলে মহানায়ক হওয়ার জন্য আর কী প্রয়োজন?
শুধু প্রতিভা, কাজ, জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কি যথেষ্ট নয়?
প্রয়োজন কি সঠিক ভূগোল?
প্রয়োজন কি দীর্ঘ জীবন?
নাকি প্রয়োজন এমন একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, যে নিজের নায়ককে চিনতে, সংরক্ষণ করতে এবং সম্মান করতে জানে?
তথ্যসূত্র ও যাচাইকরণ
উত্তম কুমারের জন্মনাম, প্রাথমিক ব্যর্থতা, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর মাধ্যমে উত্থান, অভিনয়ের ব্যাপ্তি, সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি এবং চলচ্চিত্রের বাইরের সৃজনশীল ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে The Hindu, The Telegraph India, NDTV এবং উপলভ্য চলচ্চিত্র-জীবনীভিত্তিক তথ্যের সঙ্গে।
সালমান শাহের প্রকৃত নাম, টেলিভিশন থেকে চলচ্চিত্রে আগমন, ১৯৯৩ সালের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, মোট ২৭টি চলচ্চিত্র, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যু এবং মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র মুক্তির তথ্য বিভিন্ন চলচ্চিত্রতালিকা ও জীবনীভিত্তিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহের মোট ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের তথ্য Daily Sun-এর শাবনূরের চলচ্চিত্রজীবনবিষয়ক প্রতিবেদনসহ একাধিক চলচ্চিত্রতালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত box-office তথ্য সহজলভ্য না হওয়ায় কোনো চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট আয় বা লাভের অঙ্ক ব্যবহার করা হয়নি। সালমান শাহের প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণ নিয়ে বক্তব্যগুলোকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যানগত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক নীতিসংক্রান্ত প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখজনক
0
চমৎকার
0