আসি আসি করেও বাংলাদেশে PayPal কেন আসে না? ২০২৬ সালের বাস্তবতা ও নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ PayPal কেন এখনো চালু হয়নি? Xoom-এর সীমা, পুরোনো প্রতিশ্রুতি, ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা জানুন।
সম্পাদকীয় হালনাগাদ: নিবন্ধটি প্রথম লেখা হয়েছিল ২০২৩ সালে। বর্তমান সংস্করণে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন যাচাই করে বিষয়টি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও অনলাইন সেবাদাতাদের আলোচনায় একটি প্রশ্ন বহু বছর ধরে ঘুরেফিরে আসে: “PayPal কবে আসবে?” কখনো সরকারি আশ্বাস এসেছে, কখনো বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে, আবার কখনো মনে হয়েছে অপেক্ষা বুঝি শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি দূরত্ব থেকে গেছে।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এখনো PayPal-এর স্থানীয়ভাবে সমর্থিত দেশের তালিকায় নেই। বাংলাদেশের ঠিকানা ও স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ নিয়মে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক PayPal অ্যাকাউন্ট খোলার আনুষ্ঠানিক সুবিধাও চালু হয়নি।
বর্তমান যাচাইকরণ অবস্থা
পূর্ণাঙ্গ PayPal চালু হয়নি। তবে ২০২৬ সালের নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার জন্য আগের তুলনায় স্পষ্ট একটি পথ তৈরি করেছে।
“পূর্ণাঙ্গ PayPal” বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
PayPal-এর সব সুবিধা পৃথিবীর সব দেশে একই নয়। কোনো দেশে শুধু অর্থ পাঠানো যায়, কোনো দেশে অর্থ গ্রহণ ও উত্তোলন করা যায়, আবার কোনো দেশে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক উভয় ধরনের বিস্তৃত সুবিধা পাওয়া যায়।
এই নিবন্ধে “পূর্ণাঙ্গ PayPal” বলতে বাংলাদেশের ঠিকানা ও বৈধ স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা, অনুমোদিতভাবে আন্তর্জাতিক অর্থ পাঠানো বা গ্রহণ, স্থানীয় ব্যাংক বা কার্ড সংযুক্ত করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পেমেন্ট বা PayPal Checkout ব্যবহারের সুযোগকে বোঝানো হয়েছে। ঠিক কোন সুবিধা বাংলাদেশে আসতে পারে, সেটি ভবিষ্যৎ চুক্তি ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
২০১৭ সালে আসলে কী চালু হয়েছিল?
২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় Xoom। এটি PayPal-এর মালিকানাধীন একটি আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর সেবা। উদ্বোধনের প্রচারে PayPal এবং Xoom নাম পাশাপাশি ব্যবহৃত হওয়ায় অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ PayPal চালু হয়ে গেছে।
বাস্তবে চালু হয়েছিল মূলত বিদেশ থেকে বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর একটি inbound remittance বা অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স ব্যবস্থা। বর্তমান Xoom সেবায় নির্বাচিত দেশ থেকে বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা, নির্দিষ্ট মোবাইল ওয়ালেটে অর্থ পাঠানো কিংবা অনুমোদিত স্থান থেকে নগদ গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
PayPal ও Xoom কি একই সুবিধা দেয়?
Xoom
নির্বাচিত দেশ থেকে বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ওয়ালেট বা নির্দিষ্ট নগদ গ্রহণকেন্দ্রে অর্থ পাঠানোর সেবা। বাংলাদেশি প্রাপক সাধারণত স্থানীয় PayPal অ্যাকাউন্ট ছাড়াই অর্থ গ্রহণ করতে পারেন।
স্থানীয়ভাবে সমর্থিত PayPal
দেশ ও অনুমোদিত সুবিধা অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট খোলা, অনলাইন পেমেন্ট পাঠানো বা গ্রহণ, স্থানীয় আর্থিক মাধ্যম সংযুক্ত করা, ব্যবসায়িক লেনদেন, অর্থ ফেরত এবং ক্রেতা-বিক্রেতা সুরক্ষার মতো সুবিধা দিতে পারে।
অতএব, Xoom দিয়ে বাংলাদেশে অর্থ পাঠানো যায় বলেই বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য PayPal Account, Merchant Service বা PayPal Checkout চালু হয়েছে, এমন দাবি করা যাবে না।
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানো কি নিষিদ্ধ?
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানো সব ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ, এমন ধারণা সঠিক নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, আমদানি, সফটওয়্যার ও বৈধ ডিজিটাল সেবা কেনা, সরকারি ফি, সদস্যপদ এবং অনুমোদিত অন্যান্য প্রয়োজনে নির্ধারিত নিয়ম, সীমা ও নথিপত্র অনুসরণ করে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
বৈধ ও অনুমোদিত বৈদেশিক লেনদেনকে অর্থপাচার বলা যায় না। অননুমোদিত উৎস, গোপন চ্যানেল, মিথ্যা ঘোষণা অথবা বেআইনি উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর আলাদা বিষয়। মূল পার্থক্য হলো, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিয়ন্ত্রিত এবং সাধারণত অনুমোদিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তাহলে PayPal চালু করা এত জটিল কেন?
PayPal-এর মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তসীমান্ত অর্থপ্রবাহ পরিচালনা করে। অর্থ গ্রহণ ও পাঠানো ছাড়াও এর কার্যক্রমের মধ্যে বাণিজ্যিক পেমেন্ট, অনলাইন কেনাকাটা, অর্থ ফেরত, গ্রাহকের অভিযোগ এবং লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় থাকতে পারে।
এ ধরনের প্ল্যাটফর্মকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হলে প্রতিটি লেনদেনের উদ্দেশ্য, অনুমোদিত সীমা, গ্রাহকের পরিচয়, অর্থের উৎস, ব্যাংকিং রেকর্ড এবং আইনগত দায়ের মতো বিষয় সমন্বয় করতে হয়।
১. গ্রাহক পরিচয় যাচাই বা KYC
২. অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা
৩. প্রতারণা শনাক্তকরণ ও সাইবার নিরাপত্তা
৪. অর্থ ফেরত, অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো
৫. স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা
৬. বৈদেশিক মুদ্রা, কর ও ভোক্তা সুরক্ষা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য
৭. কার্যকর প্রযুক্তিগত সংযোগ, রেকর্ড সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি
নিয়ন্ত্রক সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে একমাত্র কারণ বলা নিরাপদ নয়। PayPal-এর নিজস্ব বাজার মূল্যায়ন, পরিচালন ব্যয়, সম্ভাব্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা, স্থানীয় অংশীদার, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং আর্থিক ঝুঁকিও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
PayPal বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ সেবা না দেওয়ার কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো একক ও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই “শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি না মেলায় PayPal আসেনি” ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে প্রমাণের সীমা অতিক্রম করা হবে।
বারবার PayPal আসার খবর তৈরি হয়েছে কেন?
গত এক দশকে বাংলাদেশে PayPal চালু হওয়ার বিষয়ে একাধিকবার আশাবাদী বক্তব্য এসেছে। ২০১৭ সালে Xoom উদ্বোধন এবং ২০২১ সালের বিভিন্ন বক্তব্য নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু আলোচনা, আশাবাদ, কোম্পানির আগ্রহ, কমিটি গঠন এবং আনুষ্ঠানিক সেবা চালু হওয়া একই status নয়।
একটি বিদেশি আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মধ্যে কার্যকর চুক্তি দরকার। এরপর প্রযুক্তিগত সংযোগ, লেনদেন নিষ্পত্তি, গ্রাহক যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং আইনগত পরিপালনের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এর কোনো একটি ধাপের অগ্রগতি সংবাদ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে সেবা চালু হয়ে যাওয়া বলা যায় না।
২০২৬ সালে নতুন কী ঘটেছে?
২০২৬ সালের মার্চে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটির দায়িত্বের মধ্যে দেশের হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্কের কার্যক্রমের পাশাপাশি PayPal সেবা চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয় রাখা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে সরকার জানায়, বাংলাদেশে PayPal কার্যক্রম চালুর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনে PayPal-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং বাংলাদেশি বাজারে কোম্পানিটির নীতিগত আগ্রহের কথাও বলা হয়েছে। তবে PayPal-এর নিজস্ব আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ উদ্বোধন ঘোষণা না থাকায় এসব তথ্যকে প্রস্তুতি ও আগ্রহের status-এ রাখা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রগতি
২৯ জুলাই ২০২৬: ব্যাংক-মধ্যস্থ আন্তসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট কাঠামো
বাংলাদেশ ব্যাংকের FEPD-1 Circular No. 25 অনুযায়ী অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রার বিধি, অর্থপাচার প্রতিরোধ, কর এবং প্রতিবেদনসংক্রান্ত শর্ত অনুসরণ করে বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা, অনলাইন গেটওয়ে ও অন্যান্য বৈধ পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থায়ী ব্যবস্থা করতে পারবে।
নতুন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো Digital Value Account বা ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট। গ্রাহকের নামে তৈরি এ ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট বা stored-value account সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের Master DVA বা settlement account-এর অধীনে পরিচালিত হবে।
Digital Value Account স্বাধীন বা নিয়ন্ত্রণহীন বিদেশি হিসাব হিসেবে কাজ করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে হিসাবের ব্যালান্স, লেনদেন ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য real-time বা near real-time প্রযুক্তিগত সংযোগ রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের mirror ledger সংরক্ষণ করতে হবে।
সার্কুলারটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবার জন্য নিয়ন্ত্রক পথ তৈরি করেছে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বিদেশি কোম্পানিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে চালু করেনি। PayPal সেবা বাস্তবে চালু হওয়ার জন্য এখনো স্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি, প্রযুক্তিগত সংযোগ, নিয়ন্ত্রক স্বীকৃতি, কোম্পানির নিজস্ব অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিক পণ্য উদ্বোধন প্রয়োজন।
নতুন নিয়ন্ত্রক পথ তৈরি হয়েছে: যাচাইকৃত
সরকারি কমিটি গঠন করা হয়েছে: যাচাইকৃত
PayPal-এর আগ্রহের কথা প্রতিবেদনে এসেছে: নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে উল্লেখিত
পূর্ণাঙ্গ PayPal চালু হয়েছে: না
নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ প্রকাশিত হয়েছে: না
বর্তমান status এক নজরে
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য PayPal কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক আন্তর্জাতিক গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ডিজিটাল সেবাগ্রহীতা পরিচিত পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে PayPal ব্যবহার করেন। কোনো বাংলাদেশি সেবাদাতা শুধু নিজের দেশ সমর্থিত না হওয়ার কারণে সেই পেমেন্ট গ্রহণ করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হয়।
কখনো বিদেশি গ্রাহক বিকল্প পদ্ধতিতে অর্থ পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। আবার কখনো অতিরিক্ত নিবন্ধন, মুদ্রা রূপান্তরের ব্যয়, উত্তোলনের সময় বা ব্যাংকিং বিলম্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে কোনো বড় মার্কেটপ্লেসের বাইরে সরাসরি বিদেশি গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে PayPal না থাকায় বাংলাদেশের সব ফ্রিল্যান্সারের অর্থ বিদেশে আটকে থাকে, এমন ধারণা সঠিক নয়। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের নিজস্ব উত্তোলনব্যবস্থা, অনুমোদিত পেমেন্ট সেবা, সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার এবং বৈধ রেমিট্যান্স চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা যায়।
সমস্যাটি বিকল্পের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নয়। মূল প্রশ্ন হলো বৈশ্বিক গ্রাহকের পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য, লেনদেনের সুবিধা, সেবার খরচ, গ্রহণযোগ্যতা, অর্থ ফেরত ও বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সরাসরি ব্যবসায়িক পেমেন্ট গ্রহণের নমনীয়তা।
বাংলাদেশে PayPal এলে কী পরিবর্তন হতে পারে?
১. সরাসরি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ সহজ হতে পারে
স্বাধীনভাবে বিদেশি গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করা সেবাদাতারা পরিচিত একটি বৈশ্বিক পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন।
২. ক্ষুদ্র ডিজিটাল ব্যবসার বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে
ডিজিটাল পণ্য, সফটওয়্যার, নকশা, পরামর্শ ও অন্যান্য বৈধ সেবা আন্তর্জাতিক গ্রাহকের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন পেমেন্ট বিকল্প তৈরি হতে পারে।
৩. আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার বাড়তে পারে
সেবা সহজ, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক হলে অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৪. নতুন ভোক্তা সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা আসতে পারে
তবে কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশি সেবার feature set, ব্যাংকিং চুক্তি এবং নিয়ন্ত্রক শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
তাহলে PayPal কবে আসবে?
এর সবচেয়ে সৎ উত্তর হলো, এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। সরকারি উদ্যোগ, উচ্চপর্যায়ের কমিটি, কোম্পানিটির আগ্রহের খবর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন আন্তসীমান্ত পেমেন্ট কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত PayPal বাংলাদেশকে স্থানীয়ভাবে সমর্থিত দেশ হিসেবে ঘোষণা করেনি। বাংলাদেশের জন্য কোনো নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ, স্থানীয় account-opening page, অনুমোদিত feature list কিংবা আনুষ্ঠানিক ব্যবহারবিধিও প্রকাশ করা হয়নি।
“আগামী মাসেই PayPal আসছে” বলা যেমন প্রমাণসমর্থিত নয়, তেমনি “বাংলাদেশে PayPal কখনোই আসবে না” বলাও বর্তমান অগ্রগতির আলোকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নয়।
বর্তমান অবস্থাকে সবচেয়ে নির্ভুলভাবে বলা যায়: নীতিগত পথ আগের তুলনায় উন্মুক্ত, সরকারি সমন্বয় ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এগিয়েছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ PayPal সেবা এখনো চালু হয়নি এবং চূড়ান্ত সময়সীমা অনির্ধারিত।
অপেক্ষার মধ্যে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
১. ভুয়া দেশ, ঠিকানা বা পরিচয় ব্যবহার করবেন না
অন্য দেশের ঠিকানা, ফোন নম্বর বা পরিচয় ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা সেবার শর্ত ভঙ্গ করতে পারে। এতে অ্যাকাউন্ট সীমিত হওয়া, পরিচয় যাচাই ব্যর্থ হওয়া এবং অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
২. PayPal account কেনাবেচা থেকে দূরে থাকুন
অন্যের নামে তৈরি account কেনা, ভাড়া নেওয়া বা বিক্রি করা পরিচয়, অর্থ ও অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ হারানোর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।
৩. কথিত এজেন্টকে credential বা OTP দেবেন না
Password, একবার ব্যবহারযোগ্য কোড, পরিচয়পত্র বা ব্যাংকিং তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। PayPal চালুর খবরকে কেন্দ্র করে phishing ও প্রতারণামূলক নিবন্ধন লিংক ছড়াতে পারে।
৪. অননুমোদিত অর্থ বিনিময় সেবা এড়িয়ে চলুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপরিচিত account বা অনিবন্ধিত dollar-exchange সেবায় অর্থ পাঠানো আর্থিক ক্ষতি ও আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৫. শুধু আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুসরণ করুন
PayPal, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো account-opening offer বা launch date বিশ্বাস করবেন না।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
১. PayPal, “PayPal Global: Countries and Currencies”, সমর্থিত দেশ ও অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক তালিকা। সর্বশেষ দেখা: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
https://www.paypal.com/us/webapps/mpp/country-worldwide
২. PayPal Developer, “Countries and supported features”, দেশভেদে PayPal Payouts-এর সমর্থিত সুবিধাসংক্রান্ত তথ্য। হালনাগাদ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
https://developer.paypal.com/payouts/supported-features/
৩. Xoom, “Send Money to Bangladesh”, বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ওয়ালেট ও নগদ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক তথ্য। সর্বশেষ দেখা: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
https://www.xoom.com/bangladesh/send-money
৪. বাংলাদেশ ব্যাংক, “Bank-intermediated cross-border digital payment framework”, FEPD-1 Circular No. 25, তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২৬।
https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/fepd/jul292026fepd-125e.pdf
৫. বাংলাদেশ ব্যাংক, “Payment and Settlement Systems”, পেমেন্ট ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স ও তদারকিসংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য। সর্বশেষ দেখা: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
https://www.bb.org.bd/en/index.php/financialactivity/paysystems
৬. The Business Standard, “BB paves way for PayPal, Payoneer-style cross-border digital payment services”, প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬।
https://www.tbsnews.net/economy/bangladesh-bank-paves-way-paypal-payoneer-style-cross-border-payment-services-1501241
৭. The Business Standard, “PayPal operations in Bangladesh on the cards: PM”, প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬।
https://www.tbsnews.net/bangladesh/paypal-operations-bangladesh-cards-pm-1411786
৮. Dhaka Tribune, “PayPal to connect Bangladesh to global economy”, প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬।
https://www.dhakatribune.com/business/407816/paypal-to-connect-bangladesh-to-global-economy
৯. The Daily Star, “PayPal Xoom launched in Bangladesh”, প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৭, হালনাগাদ: ২০ অক্টোবর ২০১৭।
https://www.thedailystar.net/frontpage/paypal-global-online-payment-system-starts-operation-bangladesh-1479043
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখজনক
0
চমৎকার
0