পর্যালোচনা কর্তৃপক্ষ: অভিযাত্রী সম্পাদকীয় পরিষদ
নীতির মূল উদ্দেশ্য
পাঠকের আস্থা এবং প্রকাশনার দায়িত্ব
এই সম্পাদকীয় নীতি পাঠক, লেখক, সম্পাদক, গবেষক, সহযোগী ও বিজ্ঞাপনদাতার কাছে অভিযাত্রীর প্রকাশনা-মান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি এবং জবাবদিহির পদ্ধতি স্পষ্ট করে। নীতিটি অভিযাত্রীর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রকাশনা চ্যানেলে প্রযোজ্য।
নীতির বিষয়বস্তু
প্রথম পর্ব: পরিচয়, পরিধি, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা
দ্বিতীয় পর্ব: তথ্যযাচাই, উৎস, মৌলিকতা, লেখকত্ব ও সংশোধন
তৃতীয় পর্ব: ন্যায্যতা, সংবেদনশীলতা, গোপনীয়তা ও মানবিক সুরক্ষা
চতুর্থ পর্ব: ছবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিজ্ঞাপন ও উচ্চঝুঁকির তথ্য
পঞ্চম পর্ব: লেখা জমা, কপিরাইট, অভিযোগ, প্রয়োগ ও সংস্করণ নিয়ন্ত্রণ
প্রথম পর্ব
পরিচয়, মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা
১. অভিযাত্রীর পরিচয়
অভিযাত্রী একটি স্বাধীন বাংলা অনলাইন ম্যাগাজিন। এটি সংবাদ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, তথ্য যাচাই এবং জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল প্রকাশনায় কাজ করে। ভিন্নমত, অনুসন্ধিৎসা, প্রমাণভিত্তিক আলোচনা এবং দায়িত্বশীল সৃজনশীলতার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রকাশনা-পরিসর গড়ে তোলা অভিযাত্রীর লক্ষ্য।
অভিযাত্রীর সম্পাদকীয় উদ্যোগের পূর্বসূরি হিসেবে ২৫ আগস্ট ২০২১ সালে দি ব্যাকস্পেস-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বর্তমান অভিযাত্রী একই দলের সম্পাদকীয় অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হলেও নিজস্ব পরিচয়, নীতিমালা, প্রকাশনা-মান এবং সম্পাদকীয় কাঠামো অনুসরণ করে।
২. নীতির পরিধি
এই নীতি অভিযাত্রীর সঙ্গে সম্পাদকীয়ভাবে যুক্ত নিম্নোক্ত ব্যক্তি ও কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
১. সম্পাদক, সহসম্পাদক ও সম্পাদকীয় পরিষদের সদস্য;
২. নিয়মিত, অনিয়মিত ও অতিথি লেখক;
৩. গবেষক, তথ্য যাচাইকারী, অনুবাদক ও সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী;
৪. আলোকচিত্রী, চিত্রশিল্পী ও মাল্টিমিডিয়া নির্মাতা;
৫. বিজ্ঞাপন, স্পনসরড বা অংশীদারত্বভিত্তিক কনটেন্ট;
৬. মন্তব্য, পাঠকপ্রেরিত লেখা ও অন্যান্য ব্যবহারকারী-সৃষ্ট কনটেন্ট।
৩. সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
অভিযাত্রী বাংলাদেশের সংবিধানস্বীকৃত চিন্তা, বিবেক, মতপ্রকাশ এবং সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাকে সম্মান করে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আইন, ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদা, জনস্বার্থ, ন্যায্যতা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর দায়িত্ব অনুসরণ করে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রমাণহীন অভিযোগ, মানহানিকর মিথ্যা দাবি, ঘৃণায় প্ররোচনা, ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষতিকর প্রকাশ কিংবা অন্যের অধিকার লঙ্ঘনের অবাধ অনুমতি নয়।
৪. সম্পাদকীয় মূল্যবোধ
তথ্য যাচাই এবং ভুল সংশোধনের অঙ্গীকার।
রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব থেকে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মুক্ত রাখা।
উৎস, স্বার্থের সংঘাত, সংশোধন ও কনটেন্টের প্রকৃতি সম্পর্কে পাঠককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া।
প্রাসঙ্গিক তথ্য, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং জবাব দেওয়ার সুযোগ বিবেচনা করা।
ব্যক্তি ও জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মর্যাদাকে সম্মান করা।
ভুল, অভিযোগ ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের দায়িত্ব গ্রহণ করা।
৫. সম্পাদকীয় স্বাধীনতা
অভিযাত্রীর সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত বিজ্ঞাপনদাতা, স্পনসর, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক অংশীদার, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনো অনুচিত প্রভাব থেকে স্বাধীন থাকবে। অর্থপ্রদান, বিজ্ঞাপন বা অংশীদারত্ব কোনো ব্যক্তি, পণ্য, প্রতিষ্ঠান বা মতাদর্শের পক্ষে ইতিবাচক সম্পাদকীয় অবস্থান নিশ্চিত করে না।
কোনো বহিরাগত পক্ষ প্রকাশের সময়, শিরোনাম, মূল্যায়ন, তথ্যের নির্বাচন বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সম্পাদকীয় কনটেন্ট ও বাণিজ্যিক কনটেন্ট দৃশ্যমানভাবে পৃথক রাখা হবে।
দ্বিতীয় পর্ব
তথ্য, উৎস, মৌলিকতা ও সংশোধন
৬. তথ্যের নির্ভুলতা ও যাচাই
অভিযাত্রী যথাসম্ভব নির্ভুল, যাচাইযোগ্য, প্রাসঙ্গিক এবং হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে। নাম, পদবি, তারিখ, স্থান, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বা সামাজিক দাবির ক্ষেত্রে প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই করতে হবে।
১. সরকারি নথি, মূল গবেষণা, প্রত্যক্ষ রেকর্ড ও প্রাথমিক উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
২. গুরুত্বপূর্ণ বা বিতর্কিত দাবি সম্ভব হলে একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস দিয়ে মিলিয়ে দেখা হবে।
৩. তথ্য, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, অভিযোগ, মতামত, অনুমান ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যাকে আলাদা রাখা হবে।
৪. যাচাই করা যায়নি এমন দাবিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা হবে না।
৫. সার্চ ফলের সংক্ষিপ্ত অংশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা পুনঃপ্রকাশিত দাবি এককভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
৭. সংবাদ, বিশ্লেষণ, মতামত ও সাহিত্যের পার্থক্য
সংবাদ, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, মতামত, পর্যালোচনা, শিক্ষা, বিজ্ঞাপন এবং সৃজনশীল সাহিত্য এক ধরনের কনটেন্ট নয়। পাঠক যেন কনটেন্টের প্রকৃতি বুঝতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী স্পষ্ট বিভাগ বা পরিচিতি ব্যবহার করা হবে।
যাচাইযোগ্য তথ্য, প্রাসঙ্গিকতা এবং ন্যায্য উপস্থাপনকে অগ্রাধিকার দেবে।
তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দেবে এবং বিশ্লেষকের অনুমানকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য থেকে পৃথক রাখবে।
লেখকের অবস্থান প্রকাশ করতে পারবে, তবে ইচ্ছাকৃত তথ্যবিকৃতি বা মানহানিকর মিথ্যা দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
সাহিত্যিক স্বাধীনতা অনুসরণ করবে এবং তথ্যভিত্তিক সংবাদ বা প্রতিবেদন হিসেবে উপস্থাপিত হবে না।
৮. উৎস, উদ্ধৃতি ও রেফারেন্স
গবেষণাভিত্তিক লেখার শেষে মানবপাঠ্য “তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স” অংশ থাকবে। সেখানে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লেখক বা প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রকাশের সাল বা পূর্ণ তারিখ, নথির পূর্ণ শিরোনাম, প্রকাশক বা ওয়েবসাইট, জার্নালের তথ্য, DOI অথবা সরাসরি স্থায়ী লিংক উল্লেখ করা হবে।
উৎসের বক্তব্য প্রসঙ্গচ্যুত, বিকৃত বা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা যাবে না। একই মূল উৎসের একাধিক পুনঃপ্রকাশকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে দেখানো হবে না। গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি যথাসম্ভব মূল নথি, রেকর্ডিং বা বিশ্বস্ত প্রতিলিপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
পরিচয় গোপন রাখা উৎস ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের জনস্বার্থ, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা, পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি এবং তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সম্ভাবনা সম্পাদকীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
৯. মৌলিকতা ও চৌর্যবৃত্তি
অন্যের লেখা, অনুবাদ, গবেষণা, স্বতন্ত্র বিশ্লেষণ, ছবি, নকশা, তথ্যচিত্র বা সৃজনশীল উপকরণ যথাযথ অনুমতি ও স্বীকৃতি ছাড়া নিজের নামে জমা দেওয়া চৌর্যবৃত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। সরাসরি অনুলিপির পাশাপাশি অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সামান্য শব্দ বদলানো, অনুবাদ করে নিজের নামে প্রকাশ এবং উৎস গোপন করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পাদকীয় ব্যবস্থা: চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হলে লেখা প্রত্যাখ্যান, সংশোধন, অপসারণ, প্রত্যাহার-নোট প্রকাশ অথবা সংশ্লিষ্ট লেখকের প্রকাশনা-সুযোগ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে সীমিত করা হতে পারে।
১০. লেখকত্ব ও সম্পাদকীয় কৃতিত্ব
লেখকত্ব সেই ব্যক্তির প্রাপ্য, যিনি লেখাটির ধারণা, গবেষণা, বিশ্লেষণ বা রচনায় বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ভাষা সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, গবেষণা-সহায়তা, চিত্রায়ণ বা প্রকাশনা-বিন্যাসে অবদান রাখা ব্যক্তি বা দলকে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক কৃতিত্ব দেওয়া হবে।
সম্পাদনার উদ্দেশ্য লেখকের কণ্ঠ প্রতিস্থাপন করা নয়। ভাষা, কাঠামো, তথ্যের নির্ভুলতা ও পাঠযোগ্যতা উন্নত করা যেতে পারে, কিন্তু লেখকের কেন্দ্রীয় বক্তব্য নীরবে বদলানো বা তাঁর নামে নতুন দাবি যোগ করা যাবে না। বড় ধরনের বিষয়গত পরিবর্তনে লেখকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে গবেষণা, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনার কৃতিত্ব হিসেবে “অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল” অথবা নির্দিষ্ট সম্পাদকীয় সহযোগীর নাম উল্লেখ করা হতে পারে।
১১. পূর্বপ্রকাশিত ও পুনরুদ্ধারকৃত লেখা
পূর্বপ্রকাশিত বা ডিজিটাল আর্কাইভ থেকে পুনরুদ্ধারকৃত লেখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃপ্রকাশ করা হবে না। প্রতিটি লেখা বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা, মৌলিকতা, ভাষা, তথ্য, উৎস, লেখকত্ব, অধিকার এবং সম্পাদকীয় মান অনুসারে পর্যালোচনা করা হবে।
পুনঃপ্রকাশের সময় মূল লেখকের নাম, মূল প্রকাশনা এবং জানা থাকলে মূল প্রকাশের তারিখ সংরক্ষণ করা হবে। নতুন গবেষণা, তথ্য যাচাই, হালনাগাদ বা সম্পাদনার কৃতিত্ব পৃথকভাবে উল্লেখ করা হবে।
অভিযাত্রী যেসব পুনরুদ্ধারকৃত লেখার একচেটিয়া প্রকাশনা ও কপিরাইট অধিকার বৈধভাবে ধারণ করে, সেসব লেখায় কপিরাইট মালিক হিসেবে অভিযাত্রীকে উল্লেখ করা হবে। একই সঙ্গে মূল লেখকের স্বীকৃতি এবং রচনার ঐতিহাসিক পরিচয় সংরক্ষিত থাকবে।
১২. সংশোধন, হালনাগাদ ও প্রত্যাহার
অভিযাত্রী কোনো তথ্যগত ভুল শনাক্ত করলে বা বিশ্বাসযোগ্যভাবে অবহিত হলে তা যাচাই করবে। ভুলের গুরুত্ব ও প্রভাব অনুযায়ী বানান সংশোধন, তথ্যগত সংশোধন, হালনাগাদ, সম্পাদকীয় নোট, সাময়িক অপসারণ অথবা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে।
অর্থ অপরিবর্তিত রাখা বানান, বিরামচিহ্ন বা বিন্যাসগত সংশোধন।
ভুল নাম, তারিখ, সংখ্যা, উদ্ধৃতি বা তথ্য সংশোধন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনী নোট।
প্রকাশের পর পাওয়া নতুন ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সংযোজন।
গুরুতরভাবে ভুল, প্রতারণামূলক, অধিকারভঙ্গকারী বা সংশোধনের অযোগ্য কনটেন্ট প্রকাশনা থেকে প্রত্যাহার।
গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন করা হয়েছে এবং পরিবর্তনের তারিখ উল্লেখ করা হবে। ইতিহাস সম্পূর্ণ মুছে দেওয়ার বদলে, নিরাপত্তা বা আইনি বাধা না থাকলে স্বচ্ছ সংশোধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তৃতীয় পর্ব
ন্যায্যতা, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা
১৩. ন্যায্যতা ও জবাব দেওয়ার সুযোগ
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযাত্রী সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথ সময় দিয়ে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেবে। বক্তব্য পাওয়া না গেলে যোগাযোগের চেষ্টা এবং সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হতে পারে।
প্রকাশের পর প্রাসঙ্গিক ও প্রমাণযোগ্য জবাব পাওয়া গেলে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা সাপেক্ষে লেখা হালনাগাদ অথবা পৃথক জবাব প্রকাশ করা হতে পারে। জবাব দেওয়ার অধিকার মিথ্যা, হুমকিমূলক, বিদ্বেষমূলক বা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রকাশের স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়।
১৪. সমালোচনা, অভিযোগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নীতি, মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ডের প্রমাণভিত্তিক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য। ক্ষমতাবান বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সমালোচনাকে শুধু অস্বস্তিকর হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হবে না।
তবে যাচাইহীন অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত অপমান, মানহানিকর মিথ্যা দাবি, কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ, সন্দেহ ও প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে ভাষাগতভাবে পৃথক রাখতে হবে।
১৫. ধর্ম, রাজনীতি ও সামাজিক সংবেদনশীলতা
অভিযাত্রীতে ধর্ম, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, রাজনীতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্র, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং মতাদর্শ নিয়ে গবেষণা, বিশ্লেষণ ও মতামত প্রকাশ করা যেতে পারে। এসব বিষয়ে প্রমাণ, প্রেক্ষাপট, ন্যায্যতা এবং ভাষাগত সংযম বজায় রাখতে হবে।
কোনো ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত, আঞ্চলিক, আদিবাসী বা অন্যান্য সামাজিক জনগোষ্ঠীকে অমানবিক হিসেবে উপস্থাপন, তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা সহিংসতায় প্ররোচনা, সমষ্টিগত অপরাধ আরোপ কিংবা বৈষম্যমূলক অবমাননা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকে পুরো সম্প্রদায়ের চরিত্র হিসেবে দেখানো যাবে না।
১৬. সংবেদনশীল ঘটনা ও ক্ষতি কমানো
মৃত্যু, সহিংসতা, দুর্ঘটনা, দুর্যোগ, নির্যাতন, আত্মহানি, ব্যক্তিগত শোক, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয়ে জনস্বার্থ ও সম্ভাব্য ক্ষতির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় গ্রাফিক বিবরণ, অপমানজনক দৃশ্য, চিকিৎসা-তথ্য, শোকাহত মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্ত অথবা এমন পরিচয় প্রকাশ করা হবে না, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষতি বাড়াতে পারে। প্রয়োজন হলে লেখার শুরুতে সংক্ষিপ্ত ও অতি নাটকীয়তামুক্ত পাঠক সতর্কতা দেওয়া হবে।
সংবেদনশীল বিষয়ে কৌতূহল, ক্লিক বা আবেগ তৈরির উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত শিরোনাম, বিভ্রান্তিকর প্রচ্ছদ বা মানবিক দুর্ভোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
১৭. শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির সুরক্ষা
শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয়, ছবি, বিদ্যালয়, অবস্থান বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা ও সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অভিভাবকের সম্মতি পাওয়া গেলেও প্রকাশটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর কি না, তা স্বাধীনভাবে বিবেচনা করতে হবে।
নির্যাতন, অপরাধ, পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক অপমান বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনায় কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ককে শনাক্ত করা সম্ভব এমন তথ্য সাধারণভাবে প্রকাশ করা হবে না, যদি না সুস্পষ্ট জনস্বার্থ, আইনগত অনুমতি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিদ্যমান থাকে।
১৮. গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য
জনস্বার্থ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের প্রয়োজন ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিচয়পত্র, চিকিৎসা-তথ্য, আর্থিক তথ্য, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, নির্দিষ্ট অবস্থান বা অন্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হবে না।
জনপরিচিত বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ার কারণে তাঁর সব ব্যক্তিগত তথ্য জনস্বার্থের বিষয় হয়ে যায় না। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা, প্রাসঙ্গিকতা, সত্যতা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পাদকীয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।
চতুর্থ পর্ব
ডিজিটাল প্রকাশনা, AI ও বাণিজ্যিক স্বচ্ছতা
১৯. ছবি, ভিডিও ও দৃশ্যমান উপকরণ
অভিযাত্রী নিজস্ব, অনুমতিপ্রাপ্ত, লাইসেন্সকৃত, আইনসম্মতভাবে ব্যবহারযোগ্য অথবা বৈধভাবে তৈরি ছবি ও দৃশ্যমান উপকরণ ব্যবহার করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আলোকচিত্রী, নির্মাতা, উৎস ও লাইসেন্সের তথ্য উল্লেখ করা হবে।
১. পুরোনো ছবিকে নতুন ঘটনার ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
২. বিভ্রান্তিকর crop, montage, retouch বা দৃশ্য পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. প্রতীকী, পুনর্নির্মিত বা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পাদিত ছবি যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
৪. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বাস্তবধর্মী ছবি প্রকৃত ঘটনার আলোকচিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
৫. প্রকাশযোগ্য ছবিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ভুল ALT text যুক্ত করা হবে।
২০. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা-সহায়তা, ধারণা সংগঠন, প্রতিলিপি, অনুবাদ-সহায়তা, ভাষা পরিমার্জন, তথ্য বিশ্লেষণ বা কারিগরি কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার output নিজে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নয়।
মানবীয় যাচাই: AI-উৎপাদিত তথ্য, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, অনুবাদ ও রেফারেন্স প্রকাশের আগে মানুষ দিয়ে যাচাই করতে হবে।
স্বচ্ছতা: AI-উৎপাদিত বা উল্লেখযোগ্যভাবে AI-সহায়িত ছবি, অডিও, ভিডিও বা কনটেন্ট পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে হলে যথাযথ পরিচিতি দিতে হবে।
গোপনীয়তা: অনুমতি ছাড়া গোপন নথি, ব্যক্তিগত তথ্য বা সংবেদনশীল উৎসের পরিচয় উন্মুক্ত AI ব্যবস্থায় দেওয়া যাবে না।
চূড়ান্ত দায়: ব্যবহৃত প্রযুক্তি নির্বিশেষে প্রকাশিত কনটেন্টের নির্ভুলতা, নৈতিকতা ও বৈধতার দায় সংশ্লিষ্ট লেখক এবং অভিযাত্রীর সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষের।
২১. স্বার্থের সংঘাত
লেখক, সম্পাদক বা পর্যালোচক কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, পণ্য, রাজনৈতিক সংগঠন বা আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক, পেশাগত, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখলে তা সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
সম্পর্কটি পাঠকের মূল্যায়নকে প্রভাবিত করতে পারে হলে লেখায় উপযুক্ত স্বচ্ছতা-ঘোষণা যুক্ত করা হবে। গুরুতর স্বার্থের সংঘাত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন।
২২. বিজ্ঞাপন, স্পনসরড ও অ্যাফিলিয়েট কনটেন্ট
বিজ্ঞাপন, স্পনসরড, ব্র্যান্ডেড বা অ্যাফিলিয়েট কনটেন্ট সম্পাদকীয় লেখা থেকে দৃশ্যমান ও ভাষাগতভাবে পৃথক থাকবে। প্রযোজ্য কনটেন্টে “বিজ্ঞাপন”, “স্পনসরড”, “অংশীদারত্বভিত্তিক” বা সমমানের স্পষ্ট পরিচিতি ব্যবহার করা হবে।
শুধু আইনসম্মত হওয়া কোনো বিজ্ঞাপন গ্রহণের যথেষ্ট শর্ত নয়। প্রতারণামূলক সেবা, মিথ্যা স্বাস্থ্যদাবি, অবৈধ বা উচ্চঝুঁকির আর্থিক স্কিম, বিভ্রান্তিকর চাকরি বা ভর্তি বিজ্ঞাপন, নকল পণ্য, ঘৃণা প্রচার কিংবা পাঠকের জন্য অগ্রহণযোগ্য ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করা প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপ গ্রহণ কোনো পণ্য, প্রতিষ্ঠান বা দাবির সম্পাদকীয় অনুমোদন নয়। বিজ্ঞাপনদাতা অভিযাত্রীর স্বাধীন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
২৩. চিকিৎসা, আইন, অর্থ ও উচ্চঝুঁকির তথ্য
চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য, আইন, ব্যক্তিগত অর্থ, বিনিয়োগ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অন্যান্য উচ্চঝুঁকির বিষয়ে বর্তমান, যোগ্য ও নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ তথ্যকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত পেশাগত পরামর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাবদ্ধতা, অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং যোগ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন উল্লেখ করা হবে। কল্পিত উপাত্ত, নিশ্চিত ফলাফলের প্রতিশ্রুতি বা ভয়ভিত্তিক শিরোনাম গ্রহণযোগ্য নয়।
২৪. অনুবাদ নীতি
অনুবাদে মূল রচনার অর্থ, প্রেক্ষাপট, স্বর ও লেখকের বক্তব্য যথাসম্ভব সংরক্ষণ করতে হবে। মূল লেখক, মূল প্রকাশনা, অনুবাদক এবং অনুমতি বা লাইসেন্সের অবস্থা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হবে।
গুগল ট্রান্সলেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্য যন্ত্রভিত্তিক অনুবাদ প্রযুক্তি সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সম্পূর্ণ মানবীয় ভাষা, অর্থ, প্রেক্ষাপট ও তথ্য যাচাই ছাড়া এমন অনুবাদ প্রকাশযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
২৫. ভাষা, বানান ও উপস্থাপন
বাংলা অভিযাত্রীর প্রধান প্রকাশভাষা। স্বাভাবিক, নির্ভুল ও সহজবোধ্য বাংলা শব্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অপরিহার্য কারিগরি, বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক বা ধারণাগত ইংরেজি পরিভাষা প্রথম ব্যবহারে সহজ বাংলা ব্যাখ্যাসহ দেওয়া যেতে পারে।
লেখার কাঠামো বিষয়, ঘরানা, পাঠক এবং প্রকাশনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ব্যাখ্যামূলক লেখায় শিরোনাম, উপশিরোনাম, card, তালিকা ও সারাংশ ব্যবহার করা যেতে পারে। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও বিশেষ প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ঘরানার স্বাভাবিক প্রবাহ সংরক্ষণ করা হবে।
বানান বা ভাষার সীমিত ত্রুটি লেখককে অসম্মান করার কারণ নয়। তবে প্রকাশের আগে যথাসম্ভব ভাষা সম্পাদনা, তথ্যগত সামঞ্জস্য ও পাঠযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে।
পঞ্চম পর্ব
প্রকাশনা, অভিযোগ ও নীতির প্রয়োগ
২৬. মন্তব্য ও ব্যবহারকারী-সৃষ্ট কনটেন্ট
অভিযাত্রী পাঠকের দায়িত্বশীল মতামত, সংশোধন, প্রশ্ন ও ভিন্নমতকে স্বাগত জানায়। তবে মন্তব্যের স্বাধীনতা ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি, ঘৃণামূলক বক্তব্য, পরিচয় প্রকাশ, হয়রানি, অপ্রাসঙ্গিক প্রচারণা, প্রতারণামূলক লিংক বা সংঘবদ্ধ অপব্যবহারের অনুমতি নয়।
অভিযাত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী মন্তব্য পর্যালোচনা, সীমিত, লুকানো বা অপসারণ করতে পারে। মন্তব্য অপসারণ মানেই সংশ্লিষ্ট মতের সঙ্গে সম্পাদকীয় দ্বিমত নয়। নিরাপত্তা, প্রাসঙ্গিকতা, আইন, পাঠকের অধিকার ও আলোচনার মান বিবেচিত হতে পারে।
২৭. লেখা জমা, নির্বাচন ও প্রত্যাখ্যান
লেখা জমা দেওয়া প্রকাশের নিশ্চয়তা তৈরি করে না। বিষয়, মৌলিকতা, ভাষা, তথ্যের নির্ভুলতা, জনস্বার্থ, পাঠকের প্রয়োজন, সম্পাদকীয় পরিকল্পনা এবং অভিযাত্রীর প্রকাশনা-মান অনুসারে লেখা নির্বাচন করা হবে।
মৌলিকতার অভাব, যাচাইহীন দাবি, ক্ষতিকর উপস্থাপন, কপিরাইট বা অনুমতিগত সমস্যা, গুরুতর স্বার্থের সংঘাত অথবা বিষয়পরিধির সঙ্গে অসামঞ্জস্যের কারণে লেখা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষ শিরোনাম, ভূমিকা, উপশিরোনাম, ভাষা, বিন্যাস ও SEO metadata সম্পাদনা করতে পারে। লেখকের বক্তব্য পরিবর্তন করতে পারে এমন বড় সম্পাদনার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব লেখকের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
২৮. কপিরাইট, অনুমতি ও পুনঃপ্রকাশ
অভিযাত্রীতে প্রকাশিত লেখা, ছবি, নকশা, ভিডিও, তথ্যচিত্র এবং অন্যান্য উপকরণ সংশ্লিষ্ট কপিরাইট, প্রকাশনা-চুক্তি, লাইসেন্স এবং প্রযোজ্য আইনের অধীন। অনুমোদিত উদ্ধৃতি বা আইনসম্মত ব্যবহার ছাড়া কোনো উপকরণ সম্পূর্ণ বা উল্লেখযোগ্য অংশে পুনঃপ্রকাশ, বাণিজ্যিক ব্যবহার অথবা নিজের নামে প্রচার করা যাবে না।
লেখককে লেখা জমা দেওয়ার আগে নিশ্চিত করতে হবে যে লেখাটি তাঁর মৌলিক রচনা অথবা ব্যবহৃত তৃতীয় পক্ষের উপকরণের প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স রয়েছে। পূর্বে অন্য কোথাও প্রকাশিত হলে জমা দেওয়ার সময় সেই তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
পুনঃপ্রকাশ, অনুবাদ, সংকলন, বাণিজ্যিক ব্যবহার বা ব্যাপক উদ্ধৃতির অনুমতির জন্য অভিযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অনুমতির শর্ত সংশ্লিষ্ট লেখক, অধিকারী, চুক্তি ও কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
২৯. অভিযোগ, সংশোধন অনুরোধ ও আপিল
কোনো প্রকাশিত লেখায় তথ্যগত ভুল, অধিকার লঙ্ঘন, ভুল পরিচয়, অনুচিত ব্যক্তিগত তথ্য, কপিরাইট সমস্যা বা গুরুতর সম্পাদকীয় অসংগতি নজরে এলে পাঠক অভিযাত্রীকে জানাতে পারেন।
অভিযোগে সম্ভব হলে যুক্ত করুন:
১. সংশ্লিষ্ট লেখার শিরোনাম ও URL;
২. আপত্তিকর বা ভুল অংশের নির্দিষ্ট বিবরণ;
৩. ভুল বা সম্ভাব্য ক্ষতির ব্যাখ্যা;
৪. সমর্থনকারী নথি বা নির্ভরযোগ্য উৎস;
৫. অভিযোগকারীর পরিচয়, যোগাযোগ এবং বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্ক।
অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযাত্রী যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই শুরু করার চেষ্টা করবে। অভিযোগের জটিলতা অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া, সংশ্লিষ্ট লেখক বা সম্পাদকের বক্তব্য নেওয়া, সংশোধন করা, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা অথবা অন্য সম্পাদকীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
৩০. নীতির লঙ্ঘন
এই নীতির লঙ্ঘনের ধরন, গুরুত্ব, উদ্দেশ্য, পুনরাবৃত্তি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করে অভিযাত্রী সতর্কীকরণ, অতিরিক্ত সম্পাদনা, লেখা প্রত্যাখ্যান, সংশোধন, প্রত্যাহার, প্রকাশনা-সুযোগ সীমিতকরণ অথবা সম্পাদকীয় সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
প্রতিটি ভুল ইচ্ছাকৃত অসদাচরণ নয়। অনিচ্ছাকৃত ভুল সংশোধন, শেখা ও মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি করবে। তবে প্রতারণা, তথ্য জালিয়াতি, পরিচয় গোপন করে স্বার্থসিদ্ধি, চৌর্যবৃত্তি বা পুনরাবৃত্ত গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
৩১. নীতি পর্যালোচনা ও সংস্করণ নিয়ন্ত্রণ
প্রযুক্তি, আইন, প্রকাশনা-মাধ্যম, পাঠকের প্রয়োজন এবং সম্পাদকীয় শেখার পরিবর্তনের সঙ্গে এই নীতি পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংস্করণ নম্বর, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং সংক্ষিপ্ত পরিবর্তন-তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পুরোনো সংস্করণ ঐতিহাসিক নথি হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, তবে সর্বশেষ প্রকাশিত ও অনুমোদিত সংস্করণই কার্যকর সম্পাদকীয় নীতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
VERSION NOTES
সংস্করণ ৩.০-এর সংক্ষিপ্ত পরিবর্তন-তালিকা
১. দি ব্যাকস্পেস জার্নাল-কেন্দ্রিক পরিচয়ের পরিবর্তে বর্তমান অভিযাত্রী পরিচয় যুক্ত করা হয়েছে।
২. তথ্যযাচাই, উৎস, লেখকত্ব, সংশোধন ও জবাব দেওয়ার অধিকার বিস্তারিত করা হয়েছে।
৩. গোপনীয়তা, শিশু, সংবেদনশীল ঘটনা ও ক্ষতি কমানোর নীতি যোগ করা হয়েছে।
৪. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দৃশ্যমান উপকরণ ও অনুবাদ ব্যবহারের নীতি যোগ করা হয়েছে।
৫. বিজ্ঞাপন, স্পনসরড কনটেন্ট এবং স্বার্থের সংঘাতের সীমা স্পষ্ট করা হয়েছে।
৬. অভিযোগ, সংশোধন, প্রত্যাহার এবং নীতি লঙ্ঘনের প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করা হয়েছে।
যোগাযোগ
অভিযোগ ও সংশোধন অনুরোধ
সম্পাদকীয় প্রশ্ন, লেখা জমা, তথ্যগত সংশোধন, কপিরাইট অথবা অন্য অভিযোগের জন্য যোগাযোগ করুন।
[email protected]REFERENCES
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্স্বাধীনতা।” আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সরকারি নথি দেখুনগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। “কপিরাইট আইন, ২০২৩”, ২০২৩ সনের ৩৪ নম্বর আইন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আইনটি দেখুনWorld Intellectual Property Organization. “Copyright Act, 2023, Bangladesh, Act No. XXXIV of 2023.” WIPO Lex.
WIPO Lex record দেখুনUNESCO. “AI and Media Ethics: Press Councils from South-East Europe and Türkiye Adopt Landmark Declaration.” ১১ জুন ২০২৫, হালনাগাদ ১৮ জুন ২০২৫।
প্রকাশনাটি দেখুনUNESCO. “Press Councils on the Frontline in Updating Ethical Standards for Journalism in the AI Age in South-East Europe.” ২০ জুলাই ২০২৬, হালনাগাদ ২১ জুলাই ২০২৬।
প্রকাশনাটি দেখুনসর্বশেষ সম্পাদকীয় পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অভিযাত্রী | স্বাধীন বাংলা অনলাইন ম্যাগাজিন