‘কোকো’ সিনেমা রিভিউ: পরিবার, সংগীত ও স্মৃতির হৃদয়ছোঁয়া গল্প
পিক্সারের ‘কোকো’ কেন হৃদয়ছোঁয়া অ্যানিমেশন? মিগেলের সংগীতযাত্রা, পরিবার, স্মৃতি, মেক্সিকান সংস্কৃতি, দৃশ্যকল্প ও আবেগের স্পয়লার-নিয়ন্ত্রিত রিভিউ।
Movie Review • Animation • Family
পরিবার, সংগীত এবং হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির এক রঙিন অভিযাত্রা
আমিনুর রহমান
স্পয়লার সতর্কতা: এই পর্যালোচনায় ‘কোকো’ সিনেমার প্রাথমিক কাহিনি এবং কয়েকটি বিষয়গত ইঙ্গিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় রহস্য ও সমাপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
এমন একটি পরিবার কল্পনা করুন, যারা সংগীতকে ততটাই এড়িয়ে চলে, যতটা একজন নিরামিষভোজী আমিষ এড়িয়ে চলেন। অথচ সেই পরিবারেরই ১২ বছর বয়সী এক সদস্যের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন সংগীতশিল্পী হওয়া। পরিবার ও স্বপ্নের এই সংঘাত থেকেই শুরু হয় ‘কোকো’। এরপর গল্পটি এমন এক জগতে প্রবেশ করে, যেখানে সংগীত শুধু বিনোদন নয়, পারিবারিক ইতিহাস ও হারিয়ে যাওয়া মানুষকে স্মরণ করার ভাষা।
পরিচিতি
‘কোকো’ (Coco) পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও নির্মিত এবং ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স পরিবেশিত একটি অ্যানিমেটেড মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি পরিচালনা করেন লি আনক্রিচ (Lee Unkrich)। সহপরিচালক ও অন্যতম চিত্রনাট্যকার ছিলেন আদ্রিয়ান মোলিনা (Adrian Molina)।
প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের সিনেমাটি পরিবার, সংগীত, পূর্বপুরুষ, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের গল্প বলে। সিনেমাটি কতটা সফল কিংবা বক্স অফিসে কত আয় করেছে, তা দিয়েই এর আবেদন বোঝানো কঠিন। তবু উল্লেখ করা যায়, মূল প্রেক্ষাগৃহ মুক্তিতে এটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮১৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। ২০১৮ সালের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে এটি সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র এবং “রিমেম্বার মি” গানের জন্য সেরা মৌলিক গান বিভাগে দুটি পুরস্কার অর্জন করে।
এক নজরে ‘কোকো’
মুক্তি: ২০১৭
ধরন: অ্যানিমেশন, পরিবার, ফ্যান্টাসি ও মিউজিক্যাল
পরিচালনা: লি আনক্রিচ
সহপরিচালনা: আদ্রিয়ান মোলিনা
দৈর্ঘ্য: প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট
প্রধান চরিত্র মিগেল
সিনেমার প্রধান চরিত্র মিগেল (Miguel)। ১২ বছর বয়সী এই কিশোরের সংগীতের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক। কিন্তু সে এমন একটি পরিবারে জন্মেছে, যেখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে সংগীত নিষিদ্ধ।
পরিবারের এই সংগীতবিরোধিতার পেছনে একটি পুরোনো গল্প আছে। মিগেলের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষদের একজন সংগীতের স্বপ্ন অনুসরণ করতে গিয়ে স্ত্রী ইমেলদা এবং ছোট কন্যা কোকোকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে পরিবার বিশ্বাস করে। সেই মানুষ আর ফিরে আসেননি। এরপর ইমেলদা জুতা তৈরির কাজ শুরু করেন এবং পরিবার থেকে সংগীত নিষিদ্ধ করেন।
সম্পর্কটি সহজভাবে বললে, কোকো মিগেলের দাদির মা এবং ইমেলদা কোকোর মা। বৃদ্ধা কোকোর নামেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে। তবে গল্পের সক্রিয় যাত্রার কেন্দ্র মিগেল।
পরিবারের কঠোর নিয়মের মধ্যেও মিগেল গোপনে সংগীত অনুশীলন করে। মেক্সিকোর কাল্পনিক কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আর্নেস্তো দে লা ক্রুজ (Ernesto de la Cruz) তার আদর্শ। মিগেল যেকোনোভাবে একদিন দে লা ক্রুজের মতো বড় সংগীতশিল্পী হতে চায়।
মিগেলের পরিবার
সংগীতশিল্পী পূর্বপুরুষটি চলে যাওয়ার পর ইমেলদা জুতা তৈরি করে পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। সেই পেশা পরবর্তী প্রজন্মেও চলতে থাকে। মিগেলের পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে থাকেন, জুতা তৈরি করেন এবং নিজেদের পারিবারিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেন।
পরিবারের নিয়ম রক্ষায় সবচেয়ে কঠোর মিগেলের দাদি, যাকে স্প্যানিশ সম্বোধনে আবুয়েলিতা বলা হয়। মিগেল তাঁর খুব প্রিয়, কিন্তু মিগেলের সংগীতচর্চা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। তাঁর কাছে সংগীত মানেই পরিবার ভেঙে যাওয়ার পুরোনো আশঙ্কা।
মিগেলও একরোখা। সে মনে করে, সংগীত থেকে তাকে দূরে রাখা মানে তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটিকেই অস্বীকার করা। তাই পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজের তৈরি গিটার নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যায়।
মিগেলের সংগ্রাম
মিগেলের গোপন সংগীতচর্চা একদিন পরিবারের সামনে প্রকাশিত হয়ে যায়। আবুয়েলিতা রেগে গিয়ে মিগেলের প্রিয় গিটারটি ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনায় মিগেল প্রচণ্ডভাবে আহত হয় এবং পরিবারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
দৃশ্যটি শুধু একটি গিটার ভাঙার ঘটনা নয়। গিটারটি মিগেলের স্বপ্ন, গোপন পরিশ্রম এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার প্রতীক। ফলে সেটি ভেঙে যাওয়ার পর মিগেল মনে করে, নিজের স্বপ্ন রক্ষা করতে হলে তাকে পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই যেতে হবে।
মূল দ্বন্দ্ব: পরিবারের চোখে সংগীত পুরোনো বিচ্ছেদের কারণ। মিগেলের চোখে সংগীত নিজের সত্যিকারের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার পথ।
সংগীত প্রতিযোগিতা ও রহস্যময় গিটার
Día de Muertos উদ্যাপনের সময় মিগেলের এলাকায় একটি সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তার একটি গিটার প্রয়োজন। নিজের গিটারটি ভেঙে যাওয়ার পরও সে হাল ছাড়ে না।
শেষ পর্যন্ত মিগেল আর্নেস্তো দে লা ক্রুজের সমাধিসৌধে সংরক্ষিত বিখ্যাত গিটারটি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গিটারটির তারে আঘাত করতেই তার সঙ্গে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। জীবিত মানুষেরা তাকে আর দেখতে পায় না, অথচ সে মৃত পূর্বপুরুষদের দেখতে শুরু করে।
এখান থেকেই শুরু হয় মৃতদের জগতে মিগেলের রোমাঞ্চকর যাত্রা। সে কেন সেখানে পৌঁছাল, কীভাবে জীবিত মানুষের জগতে ফিরবে এবং নিজের পরিবারের অজানা ইতিহাস সম্পর্কে কী জানতে পারবে, সেটিই সিনেমার প্রধান আকর্ষণ।
সেই জগতে হেক্টর (Héctor) নামের এক বুদ্ধিমান, মজার এবং কিছুটা কৌশলী চরিত্রের সঙ্গে মিগেলের পরিচয় হয়। দুজনের প্রয়োজন আলাদা হলেও তারা একে অপরকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরের অভিযানটি একই সঙ্গে হাস্যরসাত্মক, রহস্যময় এবং আবেগঘন।
Día de Muertos এবং মেক্সিকান সংস্কৃতি
‘কোকো’ সিনেমার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট মেক্সিকোর Día de Muertos, অর্থাৎ প্রয়াত প্রিয়জনদের স্মরণ করার ঐতিহ্য। এটি শুধু মৃত্যু বা শোকের আয়োজন নয়। পরিবার, স্মৃতি, খাবার, ফুল, ছবি, সংগীত এবং প্রয়াত স্বজনদের গল্প বলার মধ্য দিয়ে তাঁদের স্মরণ করার একটি উৎসব।
এ সময় পরিবারগুলো প্রয়াত স্বজনদের ছবি, পছন্দের খাবার, মোমবাতি, গাঁদা ফুল এবং ব্যক্তিগত স্মারক দিয়ে ofrenda বা স্মরণবেদি সাজায়। সিনেমায় এই স্মরণবেদি জীবিত ও প্রয়াত স্বজনদের সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
নির্মাতারা মেক্সিকান সংস্কৃতিকে সম্মানজনকভাবে তুলে ধরার জন্য সাংস্কৃতিক পরামর্শকদের সহায়তা নিয়েছিলেন। তাঁরা চিত্রনাট্য, পারিবারিক আচরণ, সংগীত, নৃত্য, পরিবেশ এবং দৃশ্যকল্পের বিভিন্ন অংশে মতামত দেন। তবে ‘কোকো’ একটি কল্পকাহিনি। মেক্সিকোর সব অঞ্চল ও পরিবার Día de Muertos একইভাবে পালন করে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না।
সংগীত ও আবহসংগীত
সিনেমায় বেশ কিছু উপভোগ্য গান রয়েছে। তবে গানগুলো শুধু বিনোদনের জন্য রাখা হয়নি। সংগীত এখানে চরিত্র, স্মৃতি এবং পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে অটুটভাবে যুক্ত।
“রিমেম্বার মি” সিনেমাটির সবচেয়ে পরিচিত গান। গল্পের ভিন্ন পর্যায়ে একই গান ভিন্ন আবেগিক ভূমিকা পালন করে। কখনো এটি প্রকাশ্য মঞ্চের পরিবেশনা, কখনো বিচ্ছেদ, আবার কখনো অত্যন্ত ব্যক্তিগত পারিবারিক স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।
মাইকেল জাকিনোর (Michael Giacchino) আবহসংগীত দৃশ্যের আবেগ ও গতির সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যায়। কোথাও সংগীত মিগেলের উৎসাহ বাড়ায়, কোথাও রহস্য তৈরি করে, আবার কোথাও দর্শককে কোনো চরিত্রের খুব কাছে নিয়ে যায়।
সংগীত ও চলমান দৃশ্যের এই সংযোগ দর্শককে মিগেলের যাত্রায় শামিল করে। সিনেমাটি শেষ হওয়ার পরও তাই শুধু দৃশ্য নয়, কয়েকটি সুরও মনে থেকে যায়।
চিত্রনাট্যের মসৃণ প্রবাহ
‘কোকো’ সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি এর চিত্রনাট্য। এত মসৃণ প্রবাহে কাহিনি এগিয়ে যায় যে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের অনেক বড় একটি অভিযান দেখে ফেলার অনুভূতি হয়।
প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের মধ্যে দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর অভিযান, নতুন জগতের পরিচয়, একাধিক চরিত্রের বিকাশ, পারিবারিক ইতিহাস, কৌতুক, আবেগ এবং একটি বড় রহস্যকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। কোনো অংশই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ মনে হয় না।
চিত্রনাট্য প্রথমে দর্শককে পারিবারিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট সংস্করণ বিশ্বাস করায়। এরপর মিগেলের যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে সেই ইতিহাসের কিছু ফাঁক সামনে আসে। রহস্যটি প্রকাশের পর আগের কয়েকটি দৃশ্যও নতুন অর্থ পায়। অ্যানিমেটেড পারিবারিক সিনেমা হিসেবে এটি সত্যিই সংহত ও দক্ষ চিত্রনাট্যের উদাহরণ।
অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট
সিনেমার অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট অত্যন্ত চমৎকার। প্রতিটি চরিত্রের অভিব্যক্তি, দৃশ্যের রং, আলো এবং ছোট ছোট পরিবেশগত উপাদান সিনেমাটিকে জীবন্ত চিত্রকর্মের মতো করে তুলেছে।
বিশেষ করে মৃতদের জগৎ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এটি অন্ধকার বা ভয়ের স্থানের মতো নয়। বহুস্তরীয় স্থাপনা, আলোকিত সেতু, উজ্জ্বল রং, কঙ্কাল চরিত্র এবং চলমান জনসমাগমে জগৎটি প্রাণবন্ত।
গাঁদা ফুলের কমলা আলো, বেগুনি ও নীল রঙের ব্যবহার, স্মরণবেদির ছবি এবং রঙিন কাগজের নকশা সিনেমাটিকে আলাদা দৃশ্যগত পরিচয় দিয়েছে। কঙ্কাল চরিত্রগুলোর মুখেও সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি তৈরি করা হয়েছে, যা অ্যানিমেশনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বোঝায়।
সিনেমার শিক্ষণীয় বার্তা
আমার চোখে ‘কোকো’ সিনেমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, পরিবার সবার আগে। কোনো আবেগ, মোহ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশে পরিবারকে ছেড়ে যাওয়া বিচক্ষণতার পরিচয় নয়। নিজের স্বপ্ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রিয় মানুষের প্রতি দায়িত্বও ভুলে যাওয়া যায় না।
তবে সিনেমাটি শুধু পরিবারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত অন্ধভাবে মেনে নেওয়ার কথাও বলে না। পরিবার অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভুল নিয়ম তৈরি করতে পারে। আবার ব্যক্তিগত স্বপ্নও দায়িত্বহীন আচরণে পরিণত হতে পারে। তাই স্বপ্ন ও পরিবারকে পরস্পরের শত্রু না বানিয়ে সত্য জানা, একে অপরের কথা শোনা এবং পুরোনো ভুল বোঝাবুঝি দূর করা জরুরি।
‘কোকো’ আরও শেখায়, পারিবারিক স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরও তাঁর গল্প, ছবি, কাজ ও প্রিয়জনের স্মৃতির মধ্যে বেঁচে থাকতে পারেন। সেই গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে না পৌঁছালে পরিবারের ইতিহাসের একটি অংশ ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
‘কোকো’ দেখায়, নিজের কণ্ঠ খুঁজে পাওয়া জরুরি। কিন্তু সেই কণ্ঠ যদি পরিবারের সত্য, ভালোবাসা ও দায়িত্বকে মুছে দেয়, তাহলে স্বপ্নের সাফল্যও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
সিনেমাটি কাদের জন্য?
পরিবার নিয়ে একসঙ্গে দেখার মতো অ্যানিমেশন খুঁজলে ‘কোকো’ একটি চমৎকার নির্বাচন। শিশুদের জন্য এতে রঙিন অভিযান, কৌতুক, সংগীত ও রহস্য আছে। বড়দের জন্য রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, হারানো মানুষ, স্মৃতি, স্বপ্ন এবং ভুল বোঝাবুঝির গভীর আবেগ।
তবে সিনেমায় মৃত্যু, প্রয়াত স্বজন এবং বিস্মৃতির বিষয় রয়েছে। সংবেদনশীল বা খুব ছোট দর্শকের সঙ্গে সিনেমাটি দেখলে মৃতদের জগৎ যে একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত কল্পজগৎ, তা সহজভাবে বুঝিয়ে বলা যেতে পারে।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
‘কোকো’ একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ। সিনেমাটি হাসায়, বিস্মিত করে, কাঁদায় এবং শেষ পর্যন্ত হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়। এর গল্প সহজে অনুসরণ করা যায়, কিন্তু আবেগ ও পারিবারিক রহস্যে যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে।
সংগীত গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অ্যানিমেশন চোখ ধাঁধানো এবং চরিত্রগুলো স্মরণীয়। সবচেয়ে বড় কথা, সিনেমার আবেগ শুধু শিশুদের জন্য তৈরি নয়। পরিবার, স্মৃতি ও প্রিয়জন হারানোর অভিজ্ঞতার কারণে যেকোনো বয়সের দর্শক সিনেমাটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক খুঁজে পেতে পারেন।
এটি এমন একটি সিনেমা, যা দ্বিতীয়বার দেখলেও নতুন কিছু চোখে পড়ে। কারণ রহস্যটি জানার পর আগের দৃশ্য, কথা ও গানগুলোর অর্থ আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
‘কোকো’ শেষ হওয়ার পর শুধু এর রঙিন জগৎ মনে থাকে না। মনে থাকে সংগীতের একটি সুর, পরিবারের একটি ছবি এবং একটি সহজ সত্য: ভালোবাসার মানুষকে স্মরণ করা মানে তার গল্পটিকেও বাঁচিয়ে রাখা।
তথ্যসূত্র ও সহায়ক পাঠ
আনুষ্ঠানিক চলচ্চিত্রতথ্য
১. Pixar Animation Studios, Coco, চলচ্চিত্রের গল্প, চরিত্র ও নির্মাণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য।
Pixar Animation Studios: Coco
২. Disney Movies, Coco, মুক্তির তারিখ, দৈর্ঘ্য, ধরন, পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পীদের তথ্য।
Disney Movies: Coco
বক্স অফিস ও পুরস্কার
৩. Box Office Mojo, Coco-এর মূল মুক্তি ও পরবর্তী পুনঃমুক্তিসহ বক্স অফিসের তথ্য।
Box Office Mojo: Coco
৪. Academy of Motion Picture Arts and Sciences, ৯০তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, ২০১৮। ‘কোকো’ সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ও সেরা মৌলিক গানের বিজয়ী।
Oscars: The 90th Academy Awards
সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
৫. Stanford Magazine, “How Disney Got It Right with Coco”, চলচ্চিত্র নির্মাণে সাংস্কৃতিক পরামর্শকদের ভূমিকা।
Stanford Magazine: Coco and Cultural Consultation
৬. The Harvard Crimson, “A Celebration of Día de Muertos Through Coco”, মেক্সিকান সংস্কৃতি, সংগীত, স্মৃতি ও পরিচয়ের উপস্থাপন নিয়ে আলোচনা।
The Harvard Crimson: Coco
পুনরুদ্ধার ও সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: আমিনুর রহমানের মূল নিবন্ধটি পুরোনো অভিযাত্রী ওয়েবসাইটের Internet Archive-এ ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ও ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংরক্ষিত পৃষ্ঠা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমান সংস্করণে লেখকের সহজ, ব্যক্তিগত ও উৎসাহী পর্যালোচনার ভঙ্গি সংরক্ষণ করে পারিবারিক সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের নির্মাণতথ্য, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট, বানান, শব্দচয়ন ও নিবন্ধের কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে। মূল লেখায় প্রকাশিত কেন্দ্রীয় কাহিনি-রহস্য বর্তমান সংস্করণে বাদ রাখা হয়েছে, যাতে নতুন দর্শকের চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা নষ্ট না হয়।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখজনক
0
চমৎকার
0