নাগরিক নাকি করদাতা প্রজা: কর, বেকারত্ব ও কাগজের শেকলে বাংলাদেশ

কর, ভ্যাট, শিক্ষিত বেকারত্ব ও প্রশাসনিক কাগজের বোঝার মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক কি অধিকারসম্পন্ন মানুষ, নাকি শুধু রাজস্ব জোগানো করদাতা প্রজা?

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ২
নাগরিক নাকি করদাতা প্রজা: কর, বেকারত্ব ও কাগজের শেকলে বাংলাদেশ
কাগজপত্র ও ফাইলের উঁচু স্তূপে শেকলবন্দী প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশে দাঁড়িয়ে আলোকিত নাগরিক পরিসর ও ন্যায়বিচারের প্রতীকের দিকে তাকিয়ে থাকা একজন মানুষ

নাগরিক নাকি করদাতা প্রজা: কর, বেকারত্ব ও কাগজের শেকলে বাংলাদেশ

রাষ্ট্র নাগরিকের কাছ থেকে কর নেবে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু নাগরিক যখন কাজ, চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা চায়, তখন রাষ্ট্র তার হাতে আরেকটি ফরম তুলে দিলে সেই সম্পর্ককে কি আর সামাজিক চুক্তি বলা যায়?

সম্পাদকীয় সতর্কতা: এই প্রবন্ধ কোনো নির্দিষ্ট দল, ব্যক্তি বা ক্ষমতাকেন্দ্রকে সরলভাবে আক্রমণ করার জন্য লেখা নয়। এটি রাষ্ট্র, নাগরিক, করনীতি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি কল্যাণঘাটতিপূর্ণ রাজস্ব কাঠামোর সমালোচনামূলক পাঠ।

একটি রাষ্ট্রকে চেনার সবচেয়ে কার্যকর জায়গা তার ভাষণ বা উন্নয়নের বিজ্ঞাপন নয়। রাষ্ট্রকে চিনতে হলে দেখতে হয় তার বাজেট, করনীতি এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার। দেখতে হয়, কার কাছ থেকে কতটা নেওয়া হচ্ছে, কার জন্য কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং মাস শেষে নাগরিকের পকেটে বেঁচে থাকার মতো কী থাকছে। কারণ রাষ্ট্রের আসল চরিত্র কেবল তার ঘোষণায় নয়, সম্পদ সংগ্রহ ও বণ্টনের নীতিতে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশে করের আওতা সম্প্রসারণ, ভ্যাটের হার পরিবর্তন, আয়কর রিটার্নের ডিজিটাল বাধ্যবাধকতা এবং বিভিন্ন সেবাকে কর-পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে বড় ছবিটি ধরা পড়ে না। এগুলো একদিকে রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা, অন্যদিকে এমন এক রাষ্ট্রীয় প্রবণতার লক্ষণ, যেখানে নাগরিকের অধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আগেই তার আর্থিক কার্যক্রমকে শনাক্ত, নথিবদ্ধ এবং কর-অনুগত করার তাগিদ বাড়ছে।

নাগরিক যখন জিজ্ঞেস করে, “আমি বাঁচব কীভাবে?”, আর রাষ্ট্র উত্তরে বলে, “আগে আপনার রিটার্ন জমা দিন”, তখন সমস্যাটি শুধু করের থাকে না। সমস্যাটি নাগরিকত্বের অর্থে গিয়ে পৌঁছায়।

দুর্বল প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্ষয়িষ্ণু ক্রয়ক্ষমতা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ২০২৬ সালের এপ্রিলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমেছিল, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪.২ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল আর্থিক খাত, কমে যাওয়া প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা, পুনরাবৃত্ত বন্যা এবং সংকোচনমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এই ধীরগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। একই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০.৭ শতাংশ। [১]

এই পরিসংখ্যানের অর্থ শুধু অর্থনীতি ধীরে চলছে এমন নয়। এর অর্থ হলো, আয় দিয়ে আগের পরিমাণ পণ্য কেনা যাচ্ছে না, সঞ্চয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে এবং একটি অসুখ, চাকরি হারানো বা বাড়িভাড়া বৃদ্ধিই একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যেও দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে নামমাত্র আয় সামান্য বাড়লেও প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। [২]

এমন পরিস্থিতিতে কর প্রশাসনের যেকোনো সম্প্রসারণকে শুধু রাজস্বের অঙ্ক দিয়ে বিচার করা যায় না। দেখতে হয়, যাদের কাছ থেকে আরও আনুগত্য ও নথি চাওয়া হচ্ছে, তাদের আয় ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্র সমান্তরালে কী করছে। একটি অর্থনীতি যদি পর্যাপ্ত কাজ সৃষ্টি না করে এবং বিদ্যমান মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল না মেলায়, তবে কেবল কর-অনুগত্য কঠোর করা নাগরিকের কাছে শাস্তির মতো অনুভূত হতে পারে।

রাজস্ব সংগ্রহের সহজ পথটি কাদের ওপর দিয়ে যায়?

একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র রাজস্ব বাড়াতে অন্তত তিন ধরনের পথ বিবেচনা করতে পারে। প্রথমত, অপচয় কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বড় করফাঁকি ও অযৌক্তিক কর-সুবিধা মোকাবিলা করা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে মানুষের কর দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। তৃতীয়ত, ভোগের ওপর কর সম্প্রসারণ এবং সহজে শনাক্ত করা যায় এমন নাগরিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো।

বাস্তবে এই তিনটি পথ পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তৃতীয় পথটি প্রায়ই সহজ। ভোক্তা দোকানে গিয়ে কর দেন, মোবাইল ব্যবহার করে শুল্ক দেন, কোনো সেবা কিনে ভ্যাট দেন। বিপরীতে বড় করফাঁকি শনাক্ত করা, অকার্যকর কর-ছাড় পর্যালোচনা করা কিংবা সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দাবি করে।

২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ পণ্য ও সেবার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। তবে জনমত, ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের পর ২২ জানুয়ারি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সিদ্ধান্ত আংশিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়। রেস্তোরাঁর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে আবার ৫ শতাংশে, ওষুধের বাণিজ্য পর্যায়ের ভ্যাট ৩ শতাংশ থেকে ২.৪ শতাংশে এবং মোবাইল ব্যবহারের সম্পূরক শুল্ক ২৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে ফেরানো হয়। ব্র্যান্ডের পোশাকের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হলেও তা আগের ৭.৫ শতাংশের চেয়ে বেশি ছিল। সুতরাং, সব বৃদ্ধি কার্যকর ছিল বলা যেমন ভুল, তেমনি পুরো করচাপ প্রত্যাহার হয়েছিল বলাও সঠিক নয়। [৩]

এই ঘটনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য দেখায়। করনীতি কোনো নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত হিসাব নয়। চাপটি কার ওপর পড়বে, কোন পণ্যকে প্রয়োজনীয় ধরা হবে, কোথায় ছাড় দেওয়া হবে এবং কে প্রতিবাদ করার সক্ষমতা রাখে, এসবই করনীতির সামাজিক ও রাজনৈতিক মাত্রা।

করের সামাজিক চুক্তি কোথায়?

নাগরিক রাষ্ট্রকে কর দেন কেন? কেবল জরিমানা এড়াতে, নাকি একটি যৌথ সমাজ নির্মাণে অংশ নিতে? করের নৈতিক ভিত্তি হলো, নাগরিক নিজের আয়ের একটি অংশ রাষ্ট্রকে দেওয়ার বিনিময়ে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থায়ন ও উন্নয়নবিষয়ক একটি আলোচনায় করের চারটি ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে: রাজস্ব সংগ্রহ, পুনর্বণ্টন, মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং প্রতিনিধিত্ব। এর মধ্যে প্রতিনিধিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক যখন কর দেন, তখন সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে সে বিষয়ে জবাবদিহি চাওয়ার নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালী হয়। এ কারণেই করকে সামাজিক চুক্তির সংযোগকারী শক্তি বলা হয়। [৪]

কিন্তু এই চুক্তি একমুখী হতে পারে না। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের কাছ থেকে টাকা, নথি ও আনুগত্য নেয়, অথচ সেবা পাওয়ার জন্য তাকে আবার আলাদা করে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়, তবে নাগরিকের মনে প্রশ্ন উঠবেই: তিনি কি রাষ্ট্রের অংশীদার, নাকি শুধু রাজস্বের উৎস?

বাংলাদেশের মান ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডের মান জিএসটি হারও ১৫ শতাংশ। কিন্তু একই হার দেখিয়ে দুটি রাষ্ট্রের করব্যবস্থাকে সমতুল্য বলা যায় না। করের ন্যায়সংগততা শুধু হারের ওপর নির্ভর করে না। এটি নির্ভর করে আয়কর ও সম্পদকরের কাঠামো, কর-ছাড়, সামাজিক স্থানান্তর, সরকারি সেবার মান এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষতি কীভাবে পূরণ করা হচ্ছে তার ওপর।

একই ১৫ শতাংশ দুই সমাজে একই ফল তৈরি করে না। যেখানে করের সঙ্গে সেবা, সুরক্ষা ও জবাবদিহি যুক্ত, সেখানে কর নাগরিক অংশীদারত্বের মূল্য। যেখানে এসব অনুপস্থিত, সেখানে একই কর বেঁচে থাকার ব্যয়ের ওপর আরেকটি চাপ হয়ে উঠতে পারে।

ভ্যাট কি সব সময় গরিবের ওপর বেশি আঘাত করে?

ভ্যাটকে সাধারণত প্রতিক্রিয়াশীল কর বা regressive tax বলা হয়, কারণ নিম্ন আয়ের পরিবার তাদের আয়ের বড় অংশই ভোগে ব্যয় করে। উচ্চ আয়ের পরিবার আয়ের একটি বড় অংশ সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করতে পারে। ফলে বর্তমান আয়ের অনুপাতে হিসাব করলে ভ্যাট নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

তবে গবেষণার ফল এখানে কিছুটা সূক্ষ্ম। ওইসিডির ২৭টি দেশের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভ্যাটের বোঝা বর্তমান আয়ের অনুপাতে মাপলে তা প্রতিক্রিয়াশীল মনে হয়। কিন্তু মোট ব্যয়ের অনুপাতে মাপলে অনেক দেশে ভ্যাট মোটামুটি সমানুপাতিক বা সামান্য প্রগতিশীলও হতে পারে। তারপরও ওইসিডি সতর্ক করেছে, সামগ্রিকভাবে সমানুপাতিক ভ্যাটও দরিদ্র পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে তাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই ভ্যাটের ন্যায়সংগততা নির্ভর করে পুরো কর ও সামাজিক-সুবিধা ব্যবস্থাটি নিম্ন আয়ের ক্ষতি পূরণ করছে কি না তার ওপর। [৫]

বাংলাদেশের মতো দেশে এই সতর্কতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বহু পরিবারকে খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাড়িভাড়া ও যোগাযোগের জন্য আয়ের প্রায় পুরোটা ব্যয় করতে হয়। কার্যকর নগদ সহায়তা, মানসম্মত সরকারি চিকিৎসা, সহজলভ্য শিক্ষা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর ফেরতের ব্যবস্থা দুর্বল হলে ভোগকর সরাসরি পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় সংকুচিত করে।

তাই সমস্যাটি “ভ্যাট ভালো না খারাপ” এই সরল দ্বন্দ্ব নয়। প্রশ্ন হলো, ভ্যাট কোথায় বসছে, কার ওপর চূড়ান্ত বোঝা পড়ছে, কোন পণ্য ও সেবা ছাড় পাচ্ছে এবং নিম্ন আয়ের নাগরিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না।

কাগজের বোঝাও এক ধরনের অদৃশ্য কর

রাষ্ট্র কেবল টাকা নেয় না। কখনো কখনো সে সময়, মনোযোগ, যাতায়াত, অনিশ্চয়তা এবং আত্মমর্যাদাও নেয়। নাগরিক ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক লেনদেন নিয়ে প্রশাসনিক বোঝার গবেষণায় তিন ধরনের ব্যয়ের কথা বলা হয়: নিয়ম বুঝতে শেখার ব্যয়, নিয়ম পালন করার ব্যয় এবং উদ্বেগ, অপমান বা ক্ষমতাহীনতা থেকে তৈরি মনস্তাত্ত্বিক ব্যয়। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, এসব বোঝা সব সময় নিছক প্রশাসনিক দুর্ঘটনা নয়। কখনো নীতিগত পছন্দের ফল হিসেবেও এগুলো তৈরি ও বণ্টিত হয়। [৬]

রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের লেনদেনে তৈরি এই অদৃশ্য চাপকে administrative burden, অর্থাৎ প্রশাসনিক বোঝা বলা হয়। বাংলাদেশে একজন সাধারণ মানুষ যখন ই-রিটার্ন পোর্টাল, টিআইএন, রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র, ব্যাংক নথি কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের পেছনে দৌড়ান, তখন তাকে শুধু সরকারি ফি দিতে হয় না। তিনি কাজের দিন হারান, যাতায়াতের খরচ বহন করেন, ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতির মুখে পড়েন এবং কখনো মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নিতে বাধ্য হন।

টাকা নয়, নাগরিক কখনো কখনো নিজের জীবনের মূল্যবান দিনগুলোও কর হিসেবে দিয়ে দেন।

২০২৫ সালের ৪ আগস্টের এক বিশেষ আদেশে অধিকাংশ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকসহ কয়েকটি শ্রেণি এর বাইরে রাখা হয়। ফলে সব ব্যক্তির জন্য কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক বলা যথার্থ নয়। [৭]

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে শুধু টিআইএন গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ঋণ, নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পত্তি হস্তান্তর নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং বিভিন্ন পেশাগত ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমসহ প্রায় ৪০ ধরনের সেবায় রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রের প্রয়োজন বহাল ছিল। [৮]

ডিজিটাল ব্যবস্থা নিজে নিপীড়নমূলক নয়। সঠিকভাবে নির্মিত হলে এটি সময়, দুর্নীতি ও দালালনির্ভরতা কমাতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে যদি সহজ নির্দেশনা, সহায়তাকেন্দ্র, অভিযোগ নিষ্পত্তি, প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা এবং বিকল্প জমাদানের নিরাপদ পথ না থাকে, তবে প্রযুক্তি সুবিধার পরিবর্তে নতুন বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

আনুষ্ঠানিকীকরণ, নাকি সহায়তাহীন নিয়ন্ত্রণ?

অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণ প্রয়োজন। ব্যবসার হিসাব থাকা, লেনদেন শনাক্ত হওয়া এবং ন্যায্যভাবে করের আওতা বাড়া একটি আধুনিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আনুষ্ঠানিকীকরণ শুধু নজরদারি নয়। এর সঙ্গে ঋণপ্রাপ্তি, আইনি সুরক্ষা, সহজ হিসাবরক্ষণ, দ্রুত নিবন্ধন, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বাস্তব সুযোগ যুক্ত থাকতে হয়।

একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে যদি হিসাব রাখার প্রশিক্ষণ, সাশ্রয়ী সফটওয়্যার, একটি সহজ রিটার্ন ব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তা না দিয়ে শুধু নতুন ফরম, নিবন্ধন ও শাস্তির ভয় দেওয়া হয়, তাহলে সেটি উন্নয়ন নয়। তখন রাষ্ট্র উদ্যোক্তার উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর আগেই তাকে প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান করে তুলছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও পরবর্তী অর্থ আইনে করভিত্তি সম্প্রসারণ, করদাতার পরিচয় ও তথ্য একীভূত করা এবং নতুন ক্ষেত্রকে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সরলীকৃত টার্নওভার কর এবং কিছু খাতে কর-সুবিধার ব্যবস্থাও আলোচনায় এসেছে। ফলে পুরো ব্যবস্থাকে শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসা দমন হিসেবে দেখলে নীতির জটিলতা ধরা পড়ে না। বরং মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, সম্প্রসারিত করভিত্তির সঙ্গে বাস্তব সহায়তা, ন্যায়সংগত সীমা এবং সহজ আনুগত্যের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে যুক্ত হচ্ছে কি না। [৯]

ডিগ্রি আছে, কাজ নেই

কর ও কাগজের এই কাঠামোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার তরুণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার বেকার বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১৩.৫ শতাংশ, যা শিক্ষার অন্যান্য স্তরের তুলনায় সর্বোচ্চ। [১০]

এই সংখ্যা শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে গভীর অসামঞ্জস্যের চিহ্ন। পরিবার দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করে একটি ডিগ্রি তৈরি করছে, কিন্তু অর্থনীতি সেই ডিগ্রির উপযোগী পর্যাপ্ত কাজ তৈরি করতে পারছে না। ফলে সনদ বাড়ছে, অথচ কাজের মান, সংখ্যা ও নিরাপত্তা একই গতিতে বাড়ছে না।

এই তরুণেরা কোথায় যাবেন? সীমিত সরকারি পদের জন্য দীর্ঘ প্রতিযোগিতায়, নাকি কম মজুরি ও অনিশ্চিত নিরাপত্তার বেসরকারি চাকরিতে? কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে চাইলে পুঁজি, জায়গা, বাজার, নিবন্ধন ও কর-অনুগত্যের জটিলতা সামনে আসে। রাষ্ট্র যদি কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত না করেই শুধু তরুণের আর্থিক কার্যক্রম নথিবদ্ধ করতে চায়, তবে তার কাছে নাগরিকত্ব একটি সুযোগ নয়, পরীক্ষার পর পরীক্ষা হয়ে ওঠে।

শিক্ষিত বেকারত্বকে রাজনৈতিক বিস্ফোরণের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল নয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, অসম্মান ও সুযোগহীনতা যে সামাজিক আস্থা দুর্বল করতে পারে, হতাশা বাড়াতে পারে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, তা অস্বীকার করাও কঠিন।

অভাব শুধু পকেট নয়, ভবিষ্যৎ কল্পনাকেও সংকুচিত করে

মনোবিজ্ঞানের prospect theory বা সম্ভাবনা তত্ত্ব দেখায়, মানুষ সমপরিমাণ লাভের আনন্দের তুলনায় ক্ষতির বেদনা বেশি তীব্রভাবে অনুভব করে। অন্যদিকে অভাবের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা ইঙ্গিত করে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থাভাব মানুষের মনোযোগের বড় অংশ দখল করে নেয়। তাৎক্ষণিক সমস্যা মেটাতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে।

তাই মূল্যস্ফীতি ও করের চাপের প্রভাব শুধু বাজারের দামে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি পরিবার বিনোদন বাদ দেয়, চিকিৎসা পিছিয়ে দেয়, শিশুর পুষ্টিতে আপস করে, দক্ষতা উন্নয়নের কোর্স ছেড়ে দেয় কিংবা ব্যবসা বড় করার ঝুঁকি নেয় না। ধীরে ধীরে ভবিষ্যৎ কল্পনা করার পরিসরটাই ছোট হয়ে আসে।

এখানেই করযোগ্য নাগরিক এবং সক্ষম নাগরিকের পার্থক্য। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নাগরিককে আগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও উৎপাদনক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী করে, তারপর তার কাছ থেকে ন্যায্য অবদান নেয়। বিপরীতে একটি দুর্বল রাজস্ব-রাষ্ট্র নাগরিকের সক্ষমতা তৈরির আগেই তাকে শনাক্ত ও অনুগত করতে চায়।

ভয় নয়, আস্থা কর-নৈতিকতা তৈরি করে

কঠোর নজরদারি, জরিমানা ও ডিজিটাল শনাক্তকরণ স্বল্পমেয়াদে আনুগত্য বাড়াতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কর-নৈতিকতা বা tax morale শুধু ভয় থেকে জন্মায় না। মানুষ তখনই স্বেচ্ছায় কর দিতে আগ্রহী হয়, যখন সে ব্যবস্থাকে ন্যায্য মনে করে, অন্যরাও ন্যায্য অংশ দিচ্ছে বলে বিশ্বাস করে এবং রাষ্ট্রের ব্যয়ে জবাবদিহি দেখতে পায়।

আস্থা ভেঙে গেলে নাগরিক ও ব্যবসা অনানুষ্ঠানিক লেনদেনে আশ্রয় নিতে পারে, নগদ অর্থনীতির দিকে ঝুঁকতে পারে, ব্যবসা ছোট রেখে দিতে পারে কিংবা নতুন বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে যেতে পারে। তবে এগুলো সব নাগরিকের অনিবার্য প্রতিক্রিয়া নয়। বরং অন্যায্য ও জটিল ব্যবস্থা কী ধরনের নেতিবাচক প্রণোদনা তৈরি করতে পারে, তার সম্ভাব্য উদাহরণ।

রাষ্ট্রের তাই শুধু করফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না। তাকে কর দেওয়াও সহজ করতে হবে, ভুল সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে, নিরপরাধ ভুল ও ইচ্ছাকৃত প্রতারণাকে আলাদা করতে হবে এবং নাগরিককে সম্মানজনক সহায়তা দিতে হবে। রাজস্ব প্রশাসন যদি নাগরিককে আগে থেকেই সন্দেহভাজন হিসেবে দেখে, তবে নাগরিকও রাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে দেখবেন না।

গণতন্ত্রের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত করের টেবিলেই আসে

গণতন্ত্র শুধু ভোটের ব্যবস্থা নয়। গণতন্ত্র হলো নাগরিকের অর্থ কোথা থেকে নেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় ব্যয় হচ্ছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার। কেন ভোগকর বাড়ছে? বড় কর-ছাড়ের উপকারভোগী কারা? স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সরকারি ব্যয়ের মান কেমন? করের অর্থে নির্মিত সেবা সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছেন? এসব প্রশ্ন বাজেটের কারিগরি বিষয় নয়, নাগরিকত্বের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।

করনীতি নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও প্রতিনিধিত্বের মধ্যে তৈরি হলে তা সামাজিক সমঝোতার রূপ নিতে পারে। কিন্তু আলোচনা, ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি ছাড়া তৈরি হলে একই করনীতি মানুষের কাছে ওপর থেকে চাপানো হুকুম বলে মনে হয়।

বাংলাদেশের সামনে তাই কর না নেওয়া এবং কর নেওয়ার মধ্যে কোনো সরল নির্বাচন নেই। রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য রাজস্ব প্রয়োজন। আসল নির্বাচনটি হলো ন্যায়সংগত ও সক্ষমতাভিত্তিক রাজস্বব্যবস্থা এবং নিচের দিকে চাপ সরিয়ে দেওয়া সহজ রাজস্বব্যবস্থার মধ্যে।

বাংলাদেশে কাগজ বাড়ছে, কিন্তু আস্থা কি বাড়ছে? ডিগ্রি বাড়ছে, কিন্তু কাজ কি বাড়ছে? করের অনুসরণ বাড়ছে, কিন্তু নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা কি একই গতিতে বাড়ছে?

রাষ্ট্র নাগরিককে কর দিতে বাধ্য করতে পারে, কিন্তু শুধু বাধ্যবাধকতা দিয়ে তাকে নাগরিক করে তুলতে পারে না। নাগরিকত্ব তখনই অর্থবহ হয়, যখন করের বিপরীতে শুধু একটি রসিদ নয়, অধিকার, সেবা, প্রতিনিধিত্ব এবং মর্যাদার দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। নইলে মানুষ রাষ্ট্রের অংশীদার থাকেন না। তিনি ধীরে ধীরে পরিণত হন কাগজে বাঁধা এক করদাতা প্রজায়।

তথ্যসূত্র ও পাঠসহায়িকা

  1. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, Asian Development Outlook, April 2026: Bangladeshমূল প্রতিবেদন
  2. বাংলাদেশ ব্যাংক, Inflation Dynamics in Bangladesh, April–June 2025; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মূল্য ও মজুরি পরিসংখ্যান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
  3. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জানুয়ারি ২০২৫-এর সংশোধনসংক্রান্ত তথ্য; The Daily Star, “NBR revises down VAT, SD on 9 items”, ২২ জানুয়ারি ২০২৫। প্রতিবেদন
  4. Alex Cobham, “Taxing for a New Social Contract”, IMF Finance & Development, মার্চ ২০২২। আইএমএফ নিবন্ধ
  5. Alastair Thomas, Reassessing the Regressivity of the VAT, OECD Taxation Working Papers No. 49, ২০২০। https://doi.org/10.1787/b76ced82-enDOI
  6. Donald Moynihan, Pamela Herd and Hope Harvey, “Administrative Burden: Learning, Psychological, and Compliance Costs in Citizen-State Interactions”, Journal of Public Administration Research and Theory। https://doi.org/10.1093/jopart/muu009DOI
  7. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিশেষ আদেশ নং ০১/২০২৫; PwC Bangladesh, “Mandatory online filing of individual income-tax returns for AY 2025–26”ব্যাখ্যা
  8. The Daily Star, “Where will you still need to submit proof of tax return filing?”, ১১ জুন ২০২৫। প্রতিবেদন
  9. বাংলাদেশ সরকার, National Budget Speech FY2026–27বাজেট বক্তৃতা
  10. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Labour Force Survey 2024 Final Reportশ্রম ও কর্মসংস্থান প্রকাশনা

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান আমার পুরো নাম: মোঃ মেহেদি হাসান। কলম নাম: মি. বিকেল। আমি ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। আমি পেশায় একজন লেখক ও ব্লগার। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ন করেছি। আমার লেখা প্রথম বই ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে (ছোট গল্প সংকলন)’ প্রকাশিত হয় গত ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ভারতে এবং ১ম জানুয়ারী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে। বইটি বর্তমানে রকমারি.কম -এ উপলব্ধ। বর্তমানে আমি একটি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছি। এছাড়াও আমি মাইক্রোসফটে ডেভেলপার প্রোগ্রামে গত ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি গত ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। বর্তমানে এই ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ প্রতিষ্ঠানের টিম কতৃক। আমার সম্পর্কে বা আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অথবা, আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করুন: [email protected] -এই ঠিকানায়। অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!