দত্ত পরিবার | পর্ব ০৮: জোনাকিরা এখনো ঘুমায়নি

গ্রামের অন্ধকার পথে আক্রান্ত হাসান ফিরে দেখে কয়েক ঘণ্টা আগের এক অসমাপ্ত সতর্কতা। অমিত কী জানে, আর কারা স্নেহাকে ঘিরে অপেক্ষা করছিল?

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ৩
দত্ত পরিবার | পর্ব ০৮: জোনাকিরা এখনো ঘুমায়নি
জোনাকির আলোয় অন্ধকার গ্রামীণ পথে পুরোনো গাছের পাশে আহত হাসানের দিকে চিকিৎসার ব্যাগ হাতে এগিয়ে আসছে স্নেহা
অভিযাত্রী ধারাবাহিক উপন্যাস

দত্ত পরিবার

পর্ব ০৮: জোনাকিরা এখনো ঘুমায়নি

লেখক: মোঃ মেহেদি হাসান

‘দত্ত পরিবার’ ধারাবাহিক প্রসঙ্গে

১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা ও পরিচয়ের সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত অভিঘাত বহন করে চলেছে দত্ত ভবন। একই মুখের পুনরাবৃত্তি, মুছে দেওয়া একটি নাম, সাড়ে বারোটায় থেমে থাকা ঘড়ি এবং নিষিদ্ধ পশ্চিমঘরের মধ্যে হাসান ধীরে ধীরে এমন এক ইতিহাসে প্রবেশ করছে, যেখানে জীবিত ও মৃতের সীমারেখা কোনো স্থায়ী নিয়ম মানে না।

রক্তের গন্ধ

ছুরিটি ডান বাহুতে ঢোকার ঠিক আগের মুহূর্তে অমিতের মুখ মনে পড়েছিল।

সুবর্ণ দীঘির পাড়ে মিজান হুজুরের কাছ থেকে পুরোনো আলোকচিত্রটি নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, রাতের এই অন্ধকারে অমিতের মুখ মনে পড়ার কোনো স্বাভাবিক কারণ ছিল না। বিপদের সময় মানুষ আপনজনের মুখ মনে করে। অথবা এমন কারও মুখ, যে বিপদটি আসবে বলে আগেই জানত।

ধাতব ফলাটি বাতাস চিরে এসে বাহুর বাইরের অংশে আটকে গেল। প্রথম মুহূর্তে ব্যথা অনুভব করলাম না। মনে হলো, কেউ প্রচণ্ড শক্তিতে লোহার একটি মুঠো দিয়ে আমার হাত চেপে ধরেছে। তারপর সেই চাপের কেন্দ্র থেকে উত্তপ্ত একটি রেখা কাঁধ ও আঙুলের দিকে ছড়িয়ে পড়ল।

গরম রক্ত কনুই বেয়ে নামতে শুরু করল।

আমি রাস্তার পাশের ঘাসের ওপর পড়ে গেলাম। মুখের কাছে ভেজা মাটি। কাঁচা ঘাসের সঙ্গে পচে যাওয়া পাতার গন্ধ। নিঃশ্বাস নিতেই ধুলোর সূক্ষ্ম কণা জিহ্বায় লেগে তেতো স্বাদ তৈরি করল।

মাথার ওপর দিয়ে আরেকটি ধারালো বস্তু শোঁ শব্দ তুলে চলে গেল। অন্ধকারের মধ্যে কোনো গাছের কাণ্ডে আঘাত করে শুকনো কাঠ ফেটে যাওয়ার শব্দ হলো।

ঝোপের ভেতর থেকে চাপা গলা ভেসে এল।

“পালাইতে দিস না।”

আরেকজন বলল, “আলোটা ডানের দিকে ধর। রক্ত পড়ছে।”

কণ্ঠগুলো অপরিচিত নয়। উচ্চারণও নয়। এই মাটি, এই পানি ও একই আকাশের নিচে বড় হওয়া মানুষের কণ্ঠ। অথচ তারা আমাকে খুঁজছে এমনভাবে, যেন আমি এ গ্রামের কেউ নই।

শরীর মাটির সঙ্গে চেপে রেখে ধীরে গড়ালাম। সামান্য দূরে একটি পুরোনো কড়ইগাছ। তার মোটা শিকড় মাটির ওপর উঠে বেঁকে গেছে। কাণ্ডের গায়ে পুরোনো ক্ষত। শৈশবে এই গাছে উঠেছিলাম কি না মনে করতে পারলাম না। এখন স্মৃতির চেয়ে তার আড়াল আমার বেশি প্রয়োজন।

বাঁ হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে নিজেকে গাছটির পেছনে টেনে নিলাম। আহত হাত সামান্য নড়তেই দৃষ্টি সাদা হয়ে গেল। দাঁতে দাঁত চাপলাম। মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হতে দিলাম না।

ভয় পেয়েছি।

খুবই ভয় পেয়েছি।

মানুষ ভয় পেলে হৃদয় শুধু দ্রুত চলে না। চারপাশের সময়কেও ভেঙে দেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শৈশব, দত্ত ভবন, মায়ের শুকনো মুখ, স্নেহার ভেজা চুল এবং ১৭১৫ সালে মৃত মানুষটির প্রতিকৃতি একসঙ্গে মনে পড়ল।

পকেটের ফোনটি খুব মৃদু কেঁপে উঠল। আলো বাইরে দেখা যেতে পারে বুঝে হাত দিয়ে পর্দা ঢেকে ফেললাম।

একটি বার্তা। অপরিচিত নম্বর থেকে।

“কমরেড, বলেছিলাম সোজা পথে ফিরিস না।”

নাম লেখা নেই। তবু ‘কমরেড’ শব্দটি দেখেই অমিতের কথা মনে হলো।

কয়েক ঘণ্টা আগে লোকনাথ দাদার দোকানে অমিত সত্যিই কি আমাকে সাবধান করেছিল?

নাকি তার কথার অর্থ বুঝতে আমি দেরি করেছি?

কয়েক ঘণ্টা আগে

লোকনাথ দাদার চায়ের দোকানটি স্মৃতির তুলনায় অনেক ছোট হয়ে গেছে। অথবা শৈশবে আমি ছোট ছিলাম বলে পৃথিবীর সবকিছুই বড় মনে হতো।

বাঁশের চারটি খুঁটির ওপর নিচু টিনের চাল। চালের কিনারায় বৃষ্টির পুরোনো মরচে। সামনে তিনটি কাঠের বেঞ্চ, যাদের ওপর বসা মানুষের চেয়ে তাদের গায়ে কাটা নাম, রাজনৈতিক প্রতীক ও অসমাপ্ত প্রেমের আদ্যক্ষর বেশি দীর্ঘজীবী হয়েছে।

মাটির চুলার ওপর অ্যালুমিনিয়ামের কেটলি ফুটছিল। বাষ্পের চাপে ঢাকনাটি বারবার উঠছে, আবার পড়ে যাচ্ছে। পোড়া চা-পাতা, আদা, দুধ, কয়লা ও ভেজা কাঠের ধোঁয়া টিনের নিচে জমে ভারী একটি গন্ধ তৈরি করেছে।

কোণের ছোট রেডিওতে কোনো পুরোনো গান বাজছিল। শব্দের মাঝখানে ঘনঘন শোঁ শোঁ আওয়াজ। গানের অর্ধেক কথা শোনা যায়, অর্ধেক হারিয়ে যায়। আমাদের গ্রামের স্মৃতিগুলোর মতো।

লোকনাথ দাদা আমাকে দেখে কাচের গ্লাস ধোয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাঁর চোখ প্রথমে আমার মুখে স্থির হলো। তারপর খুব দ্রুত আমার ডান হাতের দিকে নেমে গেল। তালুর কালচে দাগটি তখনো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি।

“আদাব, দাদা।”

তিনি যেন কণ্ঠ শুনে নিশ্চিত হলেন। তারপর শুকনো ঠোঁটে হাসি ফুটল।

“আদাব, বাবু। কড়া লিকার, চিনি কম?”

“আপনার এখনো মনে আছে?”

তিনি কেটলিতে পানি ঢালতে ঢালতে বললেন, “আমাদের মাথা তোমাদের ফোনের মতো না, বাবু। নতুন জিনিস ঢুকলেই পুরোনো সব মুছে যায় না।”

“সব মনে থাকাও কি ভালো?”

লোকনাথ দাদা চুলার আগুনে শুকনো কাঠ ঠেলে দিলেন। লালচে স্ফুলিঙ্গ উড়ে তাঁর মুখের সামনে উঠে নিভে গেল।

“যা ভুললে মানুষ ভালো থাকে, সেই জিনিসই বেশি মনে থাকে।”

কাচের গ্লাসে চা ঢেলে আমার সামনে রাখলেন। গ্লাস এত গরম যে প্রথমে আঙুল দিয়ে ধরা গেল না। কড়া চায়ের তেতো গন্ধে বহু বছর আগের বিকেল ফিরে এল। স্কুল পালিয়ে এই বেঞ্চে বসা, বিনা পয়সায় চা খাওয়া এবং লোকনাথ দাদার হিসাবখাতায় নিজের নামে ঋণ জমা করা।

“আমার পুরোনো হিসাব এখনো আছে?”

“কোনটা? চায়ের, না অন্য কিছুর?”

আমি হাসলাম। “চায়ের ঋণই শোধ করতে পারিনি। অন্য ঋণের কথা এখন না বলাই ভালো।”

লোকনাথ দাদা হাসলেন না। তাঁর চোখ দোকানের বাইরের মেঠোপথে স্থির হয়ে রইল।

“সব ঋণ টাকা দিয়ে শোধ হয় না, বাবু।”

“মিজান হুজুরও আজ রহস্য করে কথা বলছেন। গ্রামের বাতাসে কী হয়েছে?”

“বাতাসের কিছু হয় নাই। মানুষ বদলেছে।”

কথাটি শেষ হওয়ার আগেই দোকানের সামনে মোটরসাইকেল এসে থামল। ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পর গরম ধাতুর ভেতর থেকে টিকটিক শব্দ উঠতে লাগল।

অমিত নামল।

গলায় ধূসর গামছা। পরনে মাটির দাগ লেগে থাকা গাঢ় পাঞ্জাবি। পায়ের স্যান্ডেলের ফাঁকে শুকনো কাদা। একসময় গিটার নিয়ে মঞ্চে উঠলে যে মানুষটির চারপাশে ভিড় জমত, আজ তাকে দেখলে মনে হয় মাটি, বৃষ্টি ও ধানের বাজারদরই তার জীবনের প্রধান আশ্রয়।

অমিত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকাল। বিস্মিত হলো না। প্রশ্নও করল না। শুধু এক কোণে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

“কমরেড, মৃত্যুর খবর না দিয়ে সরাসরি পুনরুত্থান?”

“মৃত্যুর আগে ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তাই খবর দেওয়া হয়নি।”

“শহরের মানুষ হয়ে গেছিস দেখছি। কথার সঙ্গে ধোঁয়াও বিক্রি করিস।”

“তুই চাষি হয়ে গেছিস দেখছি। মাটির সঙ্গে মানুষের গোপন কথাও চাষ করিস?”

অমিতের চোখে ক্ষণিকের জন্য একটি সতর্ক আলো জ্বলে উঠল। তারপর সে গামছা দিয়ে হাত মুছে লোকনাথ দাদার কাছ থেকে কেটলি নিয়ে নিল। নিজের চা নিজেই বানাতে শুরু করল।

“আমার আসার খবর পেলি কীভাবে?” জিজ্ঞেস করলাম।

“গ্রামে খবরের জন্য সংবাদপত্র লাগে না। একটা কালো গাড়ি ঢুকছে। তুই নামছিস। সঙ্গে শহরের একজন অচেনা মানুষ। খবর ছড়াতে কতক্ষণ লাগে?”

“মানুষটি অচেনা, না শুধু গ্রামের কাছে অচেনা?”

অমিত কেটলির হাতল শক্ত করে ধরল। ফুটন্ত চা কাপের কিনারা ছুঁয়ে সামান্য উপচে পড়ল।

“প্রশ্নটা বুঝলাম না।”

“স্নেহাকে চেনিস?”

এবার সে আমার দিকে তাকাল। চোখের দৃষ্টিতে বিস্ময়ের অভিনয় নেই। বরং একটি পুরোনো হিসাব দ্রুত মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।

“নামটা কোথায় পেলি?”

“প্রশ্ন করেছি আমি।”

“সব প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নকারী পায় না।”

“দত্ত ভবনের সদস্যপদ নিয়েছিস নাকি? ওরাও এভাবে কথা বলে।”

অমিতের হাতের গ্লাসটি বেঞ্চে নামল। কাচ ও কাঠের সংস্পর্শে ছোট একটি ঠক শব্দ হলো। লোকনাথ দাদা সেই শব্দে আমাদের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিলেন।

“দত্ত ভবনে থাকিস?” অমিত জিজ্ঞেস করল।

“হ্যাঁ।”

“কতদিন?”

“ছয় মাসের বেশি।”

লোকনাথ দাদার হাত থেকে একটি চামচ মাটিতে পড়ে গেল। তিনি দ্রুত নিচু হয়ে সেটি তুললেন।

অমিত খুব ধীরে বলল, “লোকটা তো তা হলে ঠিকই বলেছিল।”

“কোন লোক?”

“কেউ না।”

“অমিত।”

“সব কথা প্রথম দিনেই জানলে রহস্য উপন্যাস লিখবি কী নিয়ে?”

তার মুখে হালকা হাসি। কিন্তু রসিকতার নিচে ভয়ের পাতলা একটি স্তর ছিল। অমিত আমাকে ভয় দেখাতে চাইছে না। নিজেই কোনো কিছু ভয় পাচ্ছে।

সৌরভের নাম

স্নেহার ঘরের টেবিলে উল্টে রাখা আলোকচিত্রটির কথা মনে পড়ল। স্নেহার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকের নাম সৌরভ। তার চুল, দৃষ্টি ও দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে আমার সঙ্গে সামান্য মিল ছিল।

কাজ না পাওয়ার অপমান একসময় সৌরভকে নিজের জীবনকে ব্যর্থ ভাবতে শিখিয়েছিল। একদিন সে আর সেই অপমান বহন করেনি। অন্তত স্নেহার দেওয়া বয়ান এটুকুই।

কিন্তু স্নেহা ছবিটি এত দ্রুত উল্টে রেখেছিল কেন?

“সৌরভ নামে কাউকে চিনতিস?”

অমিতের গ্লাস ঠোঁটের কাছে গিয়ে থেমে গেল। চোখের পাতা একবার দ্রুত নেমে উঠল।

“নামটা কোথায় শুনলি?”

“স্নেহার কাছে।”

অমিত চায়ে চুমুক দিল না। গ্লাসটি আবার নামিয়ে রাখল।

“তা হলে আপাতত স্নেহার কাছেই শুনিস।”

“কেন?”

অমিত দোকানের বাইরের অন্ধকার হতে থাকা পথের দিকে তাকাল। সূর্যের শেষ আলো গাছের মাথা থেকে সরে যাচ্ছে।

“কারণ মৃত মানুষ সম্পর্কে জীবিতদের স্মৃতি খুব নির্ভরযোগ্য হয় না।”

“সৌরভ মারা গেছে, এটা জানিস?”

“তুই তো বললি।”

“আমার বলার আগেই তুই মৃত মানুষের কথা বলেছিস।”

অমিত এবার হাসল। ক্লান্ত ও সংক্ষিপ্ত হাসি।

“তুই আগের চেয়ে বেশি খেয়াল করিস।”

“লেখক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

“রহস্য লিখবি?”

“ভাবছি।”

অমিত সামনে ঝুঁকে এল। কেটলির বাষ্প আমাদের মাঝখানে উঠে কয়েক মুহূর্ত তার মুখ অস্পষ্ট করে দিল।

“রহস্য লিখতে চাইলে মনে রাখিস, সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যা পুরোপুরি মিথ্যা হয় না।”

“স্নেহা কি মিথ্যা বলেছে?”

“আমি স্নেহার কথা বলিনি।”

“তা হলে কার কথা বলছিস?”

“তুই যাকে সত্যি ভাবছিস, তার কথা।”

কথাটি বলে সে পেছনে হেলান দিল। আর কিছু জিজ্ঞেস করেও লাভ নেই বুঝলাম। অমিত যখন কথা বন্ধ করে, তার নীরবতা জোর করে ভাঙা যায় না।

অন্য পথ

চা শেষ করার সময় রাত নেমে এসেছে। লোকনাথ দাদা দোকানের সামনে ছোট কেরোসিনের বাতি জ্বালালেন। বাতাসে শিখা বারবার একদিকে নুয়ে পড়ছে।

বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার আগে অমিত বলল, “বাঁশবাগানের পাশ দিয়ে ঘুরে যা।”

“কেন? সোজা পথ তো ছোট।”

“ছোট পথ সবসময় দ্রুত বাড়ি পৌঁছায় না।”

“আবার ধাঁধা?”

“ধাঁধা না। পরামর্শ।”

“কোনো সমস্যা হয়েছে?”

অমিত চারপাশে তাকিয়ে কণ্ঠ নিচু করল।

“গাড়িতে যার সঙ্গে এসেছিস, তাকে নিয়ে কথা উঠেছে।”

“কারা কথা বলছে?”

“যাদের নিজের জীবনে বলার মতো কিছু নেই, তারা অন্যের জীবন নিয়ে বেশি কথা বলে।”

“কথা বলতে দে।”

“সব কথা মুখে থাকে না, হাসান।”

তার কণ্ঠে প্রথমবার সরাসরি উদ্বেগ শুনলাম। তবু কেন জানি অন্য পথ বেছে নিইনি। হয়তো নিজের গ্রামে নিজের পথ বদলানোকে পরাজয় মনে হয়েছিল। অথবা দীর্ঘদিন দূরে থাকার পরও বিশ্বাস করতে চেয়েছি, এ মাটি এখনো আমাকে চেনে।

দোকান থেকে বের হওয়ার সময় লোকনাথ দাদা পেছন থেকে ডাকলেন।

“বাবু।”

ফিরে তাকালাম।

“পথে কেউ নাম ধরে ডাকলে সঙ্গে সঙ্গে ফিরে তাকাইয়ো না।”

মেরুদণ্ডের ভেতর ঠান্ডা একটি রেখা নেমে গেল।

“আপনিও এই সতর্কতা জানেন?”

লোকনাথ দাদা কোনো উত্তর দিলেন না। কেরোসিনের বাতির কাচ নামিয়ে শিখাটি ছোট করে দিলেন।

যে পথ এখনো ভাগ হয়ে আছে

গ্রামের রাত শহরের রাতের মতো নয়। শহরে বাতি অন্ধকারকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে রাখে। গ্রামে অন্ধকারের একটি অখণ্ড শরীর আছে। বাড়ির কুপি, দোকানের বাতি কিংবা দূরের বৈদ্যুতিক খুঁটি তাকে সামান্য আহত করতে পারে। পরাজিত করতে পারে না।

পুরোনো সরু পথটির এক পাশে ঘন ঝোপ। অন্য পাশে নিচু জলাভূমি। মাঝে কোথাও কোথাও গাছের শিকড় উঠে মাটির পথ ফাটিয়ে দিয়েছে।

শৈশবে শুনেছি, দেশভাগের সময় এ পথ দিয়ে অসংখ্য পরিবার গ্রাম ছেড়েছিল। কেউ পূর্বদিকে, কেউ পশ্চিমদিকে। কেউ শুধু প্রয়োজনীয় কাপড় নিয়েছিল। কেউ চাবি সঙ্গে রেখেছিল, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল কয়েক সপ্তাহ পরই ফিরে আসবে।

অনেক দরজা আর খোলা হয়নি।

ফেলে যাওয়া বাড়ি, পুকুর, বাগান ও জমির মালিকানা নিয়ে পরে নতুন গল্প তৈরি হয়েছে। দলিলে নাম বদলেছে। সাক্ষী বদলেছে। কারও অনুপস্থিতিকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া বলা হয়েছে। কারও মৃত্যুকে নিখোঁজ হওয়া।

আর কিছু মানুষ একদিন বুঝেছে, একটি সীমারেখা শুধু মানচিত্রে কাটে না। মানুষের বিয়ে, খাবার, প্রার্থনা, উত্তরাধিকার এবং ভালোবাসার ভেতরও কেটে বসে।

১৯৪৭ সাল মানচিত্রে একটি সীমারেখা টেনেছিল। তার ছোট ছোট প্রতিলিপি মানুষের উঠান থেকে এখনো মুছে যায়নি।

স্নেহার কথা মনে পড়ল। মাটির চুলার পাশে দাঁড়িয়ে মায়ের সঙ্গে পিঠা বানাচ্ছে। মা তার প্রার্থনার জন্য আলাদা জায়গার কথা ভাবছেন। একটি উঠান দুই বিশ্বাসকে জায়গা দিতে পারছে। অথচ একই গ্রামের কিছু মানুষ সেই দৃশ্যকে অপমান বলে ভাবছে।

ঝোপের ভেতর শব্দ হলো।

প্রথমে মনে হলো কোনো শেয়াল অথবা বড়সড় গুইসাপ। তারপর মানুষের চাপা শ্বাস শুনলাম।

পায়ের নিচে একটি শুকনো ডাল ভাঙল। শব্দটি আমার নয়।

ফোন কেঁপে উঠল। বার্তা পড়ার আগেই অন্ধকার থেকে প্রথম ধারালো বস্তুটি ছুটে এল।

একই শত্রুর সামনে

কড়ইগাছের পেছনে দাঁড়িয়ে পায়ের শব্দ গুনতে চেষ্টা করলাম।

একজন। দুজন। তারপর একটি ভারী পায়ের শব্দের মাঝখানে আরও কয়েকটি দ্রুত চাপ।

মানুষ অন্তত দশজন। হয়তো আরও বেশি।

তাদের টর্চের আলো গাছের কাণ্ড, ঝোপ ও ভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে ছুটছে। কোথাও কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থির থাকছে না। আলো যত কাছে আসছে, তামাক, ঘাম, কেরোসিন ও ভেজা কাপড়ের গন্ধ তত স্পষ্ট হচ্ছে।

কেউ রক্তের দাগ দেখতে পেল।

“এদিকে গেছে।”

আর লুকিয়ে থাকার উপায় নেই বুঝে বাঁ হাতে গাছের কাণ্ড ধরে উঠে দাঁড়ালাম। আহত বাহু ভারী হয়ে ঝুলছে। আঙুল নড়াতে চেষ্টা করলাম। নড়ছে, কিন্তু আঙুলের ডগায় সূক্ষ্ম ঝিনঝিন অনুভূতি।

দুই ব্যক্তি অন্যদের সামনে এগিয়ে এল। মুখের নিচের অংশ কাপড়ে ঢাকা। একজনের হাতে বাঁশের লাঠি। অন্যজনের হাতে চকচকে ধারালো বস্তু।

প্রথমজন বলল, “শহর থেকে কাকে নিয়ে এসেছিস, গ্রামের মানুষ সব জানে।”

“তার সঙ্গে আপনাদের কী দরকার?”

“কাল সকালের আগে মেয়েটাকে চলে যেতে বলবি।”

পেছন থেকে আরেকটি কণ্ঠ এল, “ওদের মেয়ে না কি তোদের মেয়ে, আগে ঠিক কর।”

সামনের মানুষটি পেছনে ঘুরে তাকাল। সেখানে মুহূর্তের জন্য অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ল।

তারা একই কারণে আসেনি।

কেউ স্নেহাকে নিজের সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ভাবছে। কেউ তাকে অন্য সম্প্রদায়ের অনুপ্রবেশ বলে দেখছে। কেউ হয়তো স্থানীয় নেতার নির্দেশে এসেছে। কেউ শুধু অন্ধকারে দশজন মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ক্ষমতাবান হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

শুধু আমাকে ভয় দেখানোর সিদ্ধান্তে তারা একমত।

“স্নেহা কোনো সম্প্রদায়ের সম্পত্তি নয়,” বললাম। “সে কোথায় থাকবে, সেটা সে নিজেই ঠিক করবে।”

“বেশি কথা বলবি না।”

“আপনারা এত লোক নিয়ে এসেছেন। কথা শুনতেই তো এসেছেন বলে মনে হচ্ছে।”

ভয় পেলে আমার মুখ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সচল হয়ে ওঠে। এটি সাহস নয়। সম্ভবত আত্মরক্ষার একটি ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি।

লাঠি হাতে থাকা মানুষটি এগিয়ে এল।

“তোকে শেষবার বলছি। মেয়েটাকে নিয়ে এই গ্রামে আর কোনো নাটক করবি না।”

“নাটক আপনারা করছেন। দর্শকও নিজেরাই।”

লোকটি লাঠি তুলল। আঘাতটি কাঁধ লক্ষ্য করে নেমে এল। শরীর সরিয়ে পুরো আঘাত এড়াতে পারলাম না। লাঠির এক পাশ পিঠে লাগল। শ্বাস কয়েক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। হাঁটু মাটিতে নেমে এল।

মাটির ওপর হাত পড়তেই ক্ষতস্থানে নতুন চাপ তৈরি হলো। চোখের সামনে অন্ধকার আরও ঘন হয়ে উঠল।

পেছন থেকে কেউ বলল, “মেরে ফেলিস না। ভয় দেখাতে বলছে।”

সামনের লোকটি ঘুরে গালি দিল।

কথাটি আমার কানে আটকে গেল।

ভয় দেখাতে বলছে।

কে বলছে?

প্রশ্নটি করার আগেই দূরে মোটরসাইকেলের শব্দ উঠল। একটি নয়, একাধিক। সঙ্গে গাড়ির হর্ন।

আক্রমণকারীরা থেমে গেল। টর্চের আলো বিপরীত দিকে ঘুরল। রাস্তার বাঁকে কয়েকটি উজ্জ্বল আলো দেখা যাচ্ছে। দ্রুত এগিয়ে আসছে।

সামনের মানুষটি বলল, “চল।”

ঘৃণার ওপর দাঁড়ানো ঐক্য বিপদ দেখলে দ্রুত ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা ঝোপ ও অন্ধকারে ছড়িয়ে গেল। কেউ আহত সঙ্গীর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল। মাটিতে পড়ে থাকল একটি বাঁশের লাঠি, ছেঁড়া কাপড় এবং অসমান পায়ের ছাপ।

আলো হাতে ফিরে আসা

প্রথম মোটরসাইকেলটি কাছে এসে থামল। আলো সরাসরি চোখে পড়ায় কাউকে চিনতে পারলাম না। তারপর পরিচিত কণ্ঠ শুনলাম।

“ভাইয়া!”

শিহাব দৌড়ে এল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন স্থানীয় তরুণ। পেছনে আমাদের গাড়িটি এসে থামল। দরজা খুলে স্নেহা চিকিৎসার ব্যাগ হাতে নেমে এল।

তার শাড়ির আঁচল কাঁধ থেকে নেমে বাহুর কাছে আটকে আছে। চুলের কয়েকটি গোছা মুখে লেগে। দৌড়ে আসার সময় ব্যাগের ভেতরে ধাতব যন্ত্রপাতি পরস্পরের সঙ্গে ঠেকে ক্ষীণ শব্দ তুলছে।

স্নেহা কারও দিকে তাকাল না। সরাসরি আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।

“হাতটা নাড়াবে না।”

“তোমাকে দেখে নাড়ানোর ইচ্ছা আরও কমে গেছে।”

“এখন রসিকতার সময় নয়।”

“আমি ভয় পেলে বেশি কথা বলি।”

স্নেহার হাত এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। সে আমার চোখে তাকাল। তার চোখে আলো পড়েছে, কিন্তু চোখের চারপাশে গাঢ় ছায়া।

“আমি জানি,” সে বলল। “এখন আমার কথা শুনবে।”

কণ্ঠটি কঠিন। শেষ শব্দের নিচে খুব সূক্ষ্ম কম্পন।

সে প্রথমে ডান হাতের আঙুলগুলো নড়াতে বলল। একে একে নড়ালাম। বুড়ো আঙুলে টান পড়তেই ক্ষত থেকে ব্যথার ঢেউ উঠল।

“আঙুলে ঝিনঝিনি?”

“সামান্য।”

“অবশ লাগছে?”

“পুরোপুরি নয়।”

স্নেহা কবজির ভেতরের অংশে দুই আঙুল চেপে স্পন্দন পরীক্ষা করল। তারপর ক্ষতস্থানের চারপাশ দেখল। মুখ আরও কঠিন হয়ে উঠল।

“এটা এখানে বের করা যাবে না। রক্তনালি বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না দেখতে হবে। এখনই হাসপাতালে যেতে হবে।”

শিহাব নিজের গামছা খুলে দিতে গেলে স্নেহা থামাল। ব্যাগ থেকে পরিষ্কার গজ ও ব্যান্ডেজ বের করে ফলাটিকে নাড়িয়ে না দিয়ে চারপাশ স্থির করল। তার আঙুল দ্রুত কাজ করছে। প্রতিটি স্পর্শ হিসাব করা।

তবু একবার গজ চেপে ধরার সময় তার আঙুল আমার চামড়ায় সামান্য কেঁপে উঠল।

“তোমরা এলে কীভাবে?” জিজ্ঞেস করলাম।

শিহাব উত্তর দিল, “আপনার নম্বর থেকে আপার ফোনে কল গেছে। আপা আমাকে ডাকেন। আমি কয়েকজনকে নিয়ে আসি।”

স্নেহার আঙুল আবার থেমে গেল।

“আমার নম্বর থেকে?”

স্নেহা মাথা তুলল। “তুমি শুধু বলেছিলে, পুরোনো রাস্তা। তারপর লাইন কেটে যায়।”

ফোনটি পকেট থেকে বের করলাম। কলতালিকায় স্নেহার কাছে কোনো বহির্গামী কল নেই।

“আমি ফোন করিনি।”

স্নেহা আমার ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের ফোন বের করল। সেখানে আমার নম্বর থেকে আসা কলটি দেখা যাচ্ছে। সময়টি ঠিক সেই মুহূর্তের, যখন প্রথম ছুরিটি আমার দিকে ছোড়া হয়েছিল।

“কলের সময় আর কিছু শুনেছিলে?”

স্নেহা উত্তর দিল না। ক্ষতের ব্যান্ডেজ ঠিক করতে থাকল।

“স্নেহা?”

সে খুব ধীরে বলল, “তোমার কণ্ঠের পেছনে আরেকজনের শ্বাস শুনেছিলাম।”

“কার?”

স্নেহা মাথা নাড়ল। “জানি না।”

আমি নিশ্চিত হতে পারলাম না, সে সত্যিই জানে না, নাকি এখন বলতে চাইছে না।

যে নামটি আমি বলিনি

শিহাব ও অন্যরা আমাকে ধরে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে চাইল। স্নেহা আমার বাঁ হাত নিজের কাঁধের ওপর তুলে নিল। তার শরীরের উষ্ণতা অনুভব করলাম। ভেজা চুলের হালকা গন্ধের সঙ্গে এখন ওষুধ, রক্ত ও অ্যান্টিসেপটিকের তীব্র গন্ধ মিশেছে।

“অমিত কোথায়?” সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল।

আমার পা থেমে গেল।

স্নেহাও থামল।

“আমি কি তোমাকে অমিতের কথা বলেছি?”

আমার প্রশ্ন শুনে তার আঙুল কাঁধের কাছে শক্ত হয়ে উঠল। কয়েক মুহূর্ত সে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব ধীরে মাথা নাড়ল।

“না।”

“তা হলে নামটি জানলে কীভাবে?”

স্নেহার ঠোঁট নড়ল। কোনো শব্দ বের হলো না। মুখের মধ্যে এমন এক বিভ্রান্তি ফুটে উঠল, যেন উত্তরটি আমার চেয়ে সে নিজেই বেশি জানতে চায়।

“আমি...”

সে কথা শেষ করল না। চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বলল, “এখন হাসপাতালে যেতে হবে। বাকি কথা পরে।”

“পরে তোমাদের পরিবারের অভিধানে খুব দীর্ঘ একটি সময়।”

স্নেহা এবার বিরক্ত হলো না। আমার শরীর নিজের দিকে আরও শক্ত করে টেনে বলল, “তুমি বেঁচে থাকলে যতবার প্রয়োজন ততবার পরে বলব।”

“এটা কি প্রতিশ্রুতি?”

“এটা চিকিৎসকের নির্দেশ।”

“চিকিৎসকের নির্দেশে এত ব্যক্তিগত শব্দ থাকে?”

স্নেহা আমার দিকে তাকাল না। শুধু খুব নিচু স্বরে বলল, “রোগী যদি অস্বাভাবিক বিরক্তিকর হয়, থাকে।”

ব্যথার মধ্যেও হেসে ফেললাম। হাসতেই বাহুতে টান পড়ল। মুখ বিকৃত হয়ে গেল।

“দেখেছ?” স্নেহা বলল। “বেশি কথা বললে ব্যথা বাড়ে।”

“তুমি পাশে থাকলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার স্বার্থে আরও কয়েকবার যাচাই করা যায়।”

“চুপ করো, হাসান।”

এই প্রথম নিজের নামটি তার কণ্ঠে এত ভাঙা শোনাল।

জোনাকিরা

গাড়ির দরজার কাছে পৌঁছে শেষবারের মতো পেছনে তাকালাম।

রাস্তা আবার ফাঁকা। আক্রমণকারীদের কেউ নেই। কড়ইগাছের নিচে শুধু একটি বাঁশের লাঠি পড়ে আছে। ভেজা ঘাসে টর্চের আলো ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ঝোপের ভেতর অসংখ্য জোনাকি জ্বলছে।

একটি আলো জ্বলে উঠছে, তারপর নিভে যাচ্ছে। আরেকটি তার জায়গা নিচ্ছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে, অন্ধকারের শরীরের ভেতর অসংখ্য ক্ষুদ্র চোখ খুলছে এবং বন্ধ হচ্ছে।

১৯৪৭-এর পথ, ফেলে যাওয়া ঘর, বদলে যাওয়া দলিল, মুছে দেওয়া নাম এবং আজকের এই আক্রমণ। অন্ধকার প্রতিটি সময়কে আলাদা করে রেখেছে বলে মনে হয়। কিন্তু জোনাকির ছোট আলোয় তারা একই পথের ওপর এসে দাঁড়িয়েছে।

নিজের অজান্তেই খুব নিচু স্বরে বললাম,

“জোনাকিরা এখনো ঘুমায়নি।”

রাস্তার অনেক দূর থেকে একই বাক্য ফিরে এল।

কণ্ঠটি আমারই ছিল।

কিন্তু আমি দ্বিতীয়বার কিছু বলিনি।

চলবে...

একটি সতর্কতা, একটি অসম্ভব ফোনকল এবং এমন এক নাম, যা স্নেহার জানার কথা নয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রচনা-সংক্রান্ত ঘোষণা

‘দত্ত পরিবার’ একটি মৌলিক কাল্পনিক সাহিত্যকর্ম। দত্ত পরিবার, দত্ত ভবন, হাসান, স্নেহা, অমিত, সৌরভ, শিহাব, লোকনাথ দাদা, মিজান হুজুর, অভিশপ্ত গ্রামীণ পথ, অজ্ঞাত সতর্কবার্তা এবং চরিত্রগুলোর পারিবারিক ও অতিপ্রাকৃত সংযোগ সৃজনশীল নির্মাণ। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাস্তব ইতিহাসের অংশ হলেও এই পর্বের চরিত্র, সংঘাত, স্মৃতি ও অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতাকে যাচাইকৃত ঐতিহাসিক দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান আমার পুরো নাম: মোঃ মেহেদি হাসান। কলম নাম: মি. বিকেল। আমি ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। আমি পেশায় একজন লেখক ও ব্লগার। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ন করেছি। আমার লেখা প্রথম বই ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে (ছোট গল্প সংকলন)’ প্রকাশিত হয় গত ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে ভারতে এবং ১ম জানুয়ারী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে। বইটি বর্তমানে রকমারি.কম -এ উপলব্ধ। বর্তমানে আমি একটি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছি। এছাড়াও আমি মাইক্রোসফটে ডেভেলপার প্রোগ্রামে গত ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি গত ২৫ আগস্ট, ২০২১ সালে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি। বর্তমানে এই ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে ‘দ্য ব্যাকস্পেস’ প্রতিষ্ঠানের টিম কতৃক। আমার সম্পর্কে বা আমাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অথবা, আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করুন: [email protected] -এই ঠিকানায়। অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!