ছোটগল্প: স্টার্ট-আপ

আবরার ও তুলির স্টার্ট-আপ সফল হলেও ব্যবসার সঙ্গে বদলে যায় তাদের সম্পর্ক। স্বপ্ন, প্রেম, ব্যর্থতা ও আবার শুরু করার গল্প।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ১
ছোটগল্প: স্টার্ট-আপ
বিকেলের আলোয় বন্ধ চায়ের স্টল ও দুটি খালি বেঞ্চ পেছনে ফেলে, কাঁধে ব্যাগ ও হাতে বই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের দিকে একা হেঁটে যাচ্ছে আবরার।

স্টার্ট-আপ শব্দটা শুনতে যতটা সুন্দর, বাস্তবে বোধ হয় ততটাই তেতো। বিশেষ করে এই বাংলায়। এখানে মানুষ সামনাসামনি দাঁড়ানো মানুষকেই সহজে বিশ্বাস করতে পারে না, সেখানে অনলাইনে অচেনা কাউকে টাকা দিয়ে পণ্য আসার অপেক্ষা করা রীতিমতো আশাবাদের ব্যাপার।

তারপরও আমরা আশাবাদী হই। কারণ স্বপ্ন দেখতে মূলধন লাগে না।

আবরার ইসলাম আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধু। মানুষটা অদ্ভুত। যেকোনো সাধারণ সমস্যার এমন অসাধারণ সমাধান বের করত যে প্রথমে শুনলে মনে হতো, এবার কিছু একটা হয়েই যাবে। পরে দেখা যেত, সমস্যাটা যেখানে ছিল সেখানেই আছে, শুধু সমাধানের পেছনে আমাদের কিছু টাকা আর অনেকটা সময় খরচ হয়ে গেছে।

ওর সঙ্গে তুলি রায়ের সম্পর্কটাও অনেকটা তেমন ছিল। দুজন একে অন্যকে ভালোবাসত, আবার একে অন্যের পরিকল্পনা সহ্যও করতে পারত না। আবরার স্বপ্ন দেখত দ্রুত। তুলি হিসাব করত ধীরে। আবরার নতুন কিছু শুরু করতে চাইত, তুলি আগে পুরোনো হিসাবটা মিলিয়ে নিতে বলত।

তাদের ব্যবসা, সম্পর্ক আর শেষ পর্যন্ত কীভাবে সবকিছু ভেঙে গেল, তার বেশির ভাগই পরে আবরারের কাছ থেকে শুনেছি। কিছু ঘটনা নিজের চোখেও দেখেছি। তাই কোথাও আবরারের ভাষা, কোথাও আমার দেখা আর কোথাও দুটো মিলেমিশে গেছে।

সেদিন বিকেলে শহরের এক ছোট চায়ের দোকানে বসেছিল আবরার আর তুলি। তাদের সামনে রাখা চা অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে। অথচ কেউ কাপ সরাচ্ছে না। দুজনের চোখেই ক্লান্তি ছিল, সঙ্গে একে অন্যের প্রতি সামান্য বিরক্তিও।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আবরার বলল, “স্নাতক শেষ হয়ে গেল। অথচ আমরা দুজন মিলে এখনো ঠিক করতে পারলাম না, শুরুটা কী দিয়ে করব!”

তুলি কোনো উত্তর দিল না।

আবরার এবার একটু জোরে বলল, “কী হলো, ম্যাডাম? অন্তত একটা আইডিয়া দিয়ে আমাকে উদ্ধার করো। এই নীরবতা আর সহ্য হচ্ছে না। চারপাশটা কেমন সংকীর্ণ লাগছে।”

তুলি ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।

“আবরার, শান্ত হও। আমরা কোনটা বাদ রেখেছি, তুমি বলো? ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে দুজন মিলে কাজ করতে গিয়ে এখন প্রায় দেউলিয়া। তোমার সেই খাপছাড়া ব্লগিং আইডিয়াটাও দাঁড়ানোর আগেই পড়ে গেছে। তারপরও তুমি আমার ওপর চেঁচাচ্ছ?”

আবরার ঠান্ডা চায়ে চুমুক দেওয়ার চেষ্টা করে কাপটা নামিয়ে রাখল।

“পারলে আরও শোরগোল করতাম। তোমার ডিসকাউন্টে রাখা টাকাগুলো কোথায় গেল? কী যেন ডটকম? হ্যাঁ, মনে পড়েছে, ই-ডেইলি ডটকম। শুনলাম কোম্পানি নিজেই এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে।”

তুলি মুখ শক্ত করে বলল, “এখন একে অন্যকে দোষ দেওয়ার সময় নয়। দোষারোপ করার জন্য পরে অনেক সময় পাওয়া যাবে।”

তারপর দুজনেই চুপ হয়ে গেল।

চায়ের দোকানের ভেতর কেটলির ঢাকনা কাঁপছিল। পাশের টেবিলে কয়েকজন মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্ক করছিল। দোকানদার কাপ ধুতে ধুতে মাঝেমধ্যে ওদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। সম্ভবত তিনি ভাবছিলেন, একটি চায়ের কাপ নিয়ে এতক্ষণ বসে থাকা মানুষ দুটো আরেক কাপ চা চাইবে কি না।

খানিকক্ষণ পর আবরার হঠাৎ সোজা হয়ে বসল।

“তুলি, আমার হাতে একটা আইডিয়া আছে।”

তুলির চোখে আনন্দের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি দেখা গেল।

“তোমার অবান্তর আইডিয়াগুলোর কোনো একটা যদি কোনো দিন কাজে লেগে যায়, সেটাই অনেক। তারপরও বলো, এবার কী ভেবেছ?”

আবরার দোকানের চারপাশে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল, “আমরা একটা চায়ের দোকান দেব।”

তুলি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “আমরা এত দিন ই-কমার্স আর ডিজিটাল ব্যবসা নিয়ে ঘুরে শেষে চা বিক্রি করব?”

“শুধু চা নয়। মানুষকে বসার জায়গা দেব। কথা বলার জায়গা। কম খরচে এমন একটা জায়গা, যেখানে কেউ শুধু এক কাপ চা খেয়েও বিব্রত হবে না।”

“আর তোমার স্টার্ট-আপ?”

“এটাই স্টার্ট-আপ। নামটা ইংরেজি হলেই ব্যবসা আধুনিক হয় না।”

তুলি চুপ করে গেল।

অসম এই প্রেমে আবরারের অদ্ভুত সব আইডিয়া আর তুলির বাস্তববোধ দুজনকে এরই মধ্যে কয়েকবার বিপদে ফেলেছে। নতুন করে শুরু করার অর্থ আবার শূন্য থেকে হাঁটা। অথচ অপেক্ষা করার মতো সময়ও তাদের হাতে ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো, ওরা একটা চায়ের স্টল দেবে।

সিলেট থেকে চা-পাতা আনার পরিকল্পনা হলো। দোকানে থাকবে দুটি আলাদা বসার অংশ। একটিতে সাধারণ কাঠের বেঞ্চ, অন্যটিতে কিছুটা আরামদায়ক চেয়ার আর শান্ত পরিবেশ। তবে চায়ের মানে পার্থক্য থাকবে না। মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বসার জায়গা বেছে নেবে, কিন্তু একই চা খাবে।

প্রথমে তুলির পরিকল্পনাটা ভালো লাগেনি। তার চোখে পাঁচ লাখ টাকা ছিল তাদের শেষ নিরাপত্তা। আবরারের চোখে সেটাই ছিল নতুন শুরুর মূলধন।

সব হিসাব শেষে তুলি বলেছিল, “এই টাকা হারালে কিন্তু আমাদের আর কিছু থাকবে না।”

আবরার উত্তর দিয়েছিল, “এখন আমাদের যা আছে, সেটাকেও তো খুব বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।”

দোকানের নাম রাখা হলো, “বাংলার চা”। নিচে ছোট করে লেখা হলো, “শুধু চা নয়, একগুচ্ছ স্মৃতি”।

শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। আবরার বাজার করত, হিসাব লিখত এবং নতুন ধরনের চা নিয়ে পরীক্ষা চালাত। তুলি দোকানের সাজসজ্জা, কর্মীদের কাজ এবং ক্রেতাসেবা দেখত। কার কোন চা পছন্দ, কে নিয়মিত আসে এবং কার অভিযোগ কী, এসব তুলি মনে রাখত।

আবরারের আইডিয়া দোকানটিকে শুরু করেছিল, কিন্তু তুলির ব্যবস্থাপনাই সেটিকে ধীরে ধীরে মানুষের পরিচিত জায়গায় পরিণত করল।

প্রথম কয়েক মাস লাভ খুব বেশি হয়নি। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী তরুণ এবং আশপাশের কর্মজীবী মানুষ নিয়মিত আসতে শুরু করল। কেউ চা খেতে আসত, কেউ আড্ডা দিতে, আবার কেউ কিছুক্ষণের জন্য নিজের ব্যস্ততা থেকে পালাতে।

সব মিলিয়ে “বাংলার চা” বেশ চলতে শুরু করল।

✦   ✦   ✦

দুই বছর পর ওদের ছোট চায়ের স্টল আর ছোট রইল না। লাভের টাকা এবং কিছু ধার করা মূলধন মিলিয়ে তারা শহরের ব্যস্ত এলাকায় একটি বড় রেস্তোরাঁ নিল। আবরার বলেছিল, শুধু চা দিয়ে আর কত দূর যাওয়া যাবে! তুলি প্রথমে আপত্তি করেছিল। তার মতে, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা দরকার ছিল। শেষ পর্যন্ত আবরারের আগ্রহের কাছে সে রাজি হয়ে গেল।

রেস্তোরাঁর নাম রাখা হলো, “ডালভাত রেস্তোরাঁ”। সঙ্গে স্লোগান, “ষোলআনা বাঙালিয়ানা”।

প্রথম দিকে আবরার আর তুলি নিজেরাই খাবার পরিবেশন করত। চারজন কর্মী থাকলেও ব্যস্ত সময়ে দুজনকে টেবিল থেকে টেবিলে ছুটতে হতো। কোনো ক্রেতা বাড়তি ডাল চাইলে আবরার নিজে নিয়ে যেত। কেউ খাবার নিয়ে অভিযোগ করলে তুলি পাশে দাঁড়িয়ে মন দিয়ে শুনত।

খাবারের স্বাদ সব দিন সমান হতো না। কিন্তু তাদের আন্তরিকতা নিয়ে কারও অভিযোগ ছিল না। সেই আন্তরিকতাই ধীরে ধীরে রেস্তোরাঁটির নাম ছড়িয়ে দিল।

ব্যবসা বড় হওয়ার সঙ্গে আরও কর্মী নিয়োগ করা হলো। আবরার হিসাব, সরবরাহকারী এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখত। তুলি পেল কর্মীদের তদারকি, ক্রেতাসেবা এবং খাবারের মান দেখার দায়িত্ব।

দূর থেকে দেখলে মনে হতো, ওরা সফল হয়েছে।

কিন্তু ব্যবসা যত বড় হতে লাগল, আবরার আর তুলির মধ্যকার দূরত্বও তত বাড়তে শুরু করল।

আবরার নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা করত। রাত জেগে হিসাব মেলাত। তুলি বারবার বলত, আগে বর্তমান রেস্তোরাঁর রান্নাঘর, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং খাবারের মান স্থির করা দরকার। আবরারের মনে হতো, তুলি বড় হওয়ার সুযোগ নষ্ট করছে। তুলির মনে হতো, আবরার ব্যবসার গতি বাড়াতে গিয়ে ভিতটাই দুর্বল করে ফেলছে।

এক রাতে হিসাবের খাতা দেখতে দেখতে তুলি বলেছিল, “তোমার মনে আছে, আমরা আগে কথা বলতাম?”

আবরার খাতা থেকে চোখ না সরিয়েই বলেছিল, “এখনও তো বলছি।”

“ব্যবসার কথা বলা আর আমার সঙ্গে কথা বলা এক নয়।”

আবরার তখন কোনো উত্তর দেয়নি।

ওদের ঝগড়া শুরু হয়েছিল ছোট ছোট বিষয় নিয়ে। পরে ঝগড়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ও প্রয়োজন হতো না।

কখনো তুলি আবরারের নতুন পরিকল্পনার সমালোচনা করত। কখনো আবরার বলত, তুলি ব্যবস্থাপনার কাজে আগের মতো মন দিচ্ছে না।

একদিন আবরার বলল, “তুলি, এখন তো আমাদের টাকার অভাব নেই। তুমি প্রায় একই ধরনের শাড়ি পরো কেন?”

তুলি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছিল, “কিছু টাকা হয়েছে বলেই কি আমাকে প্রতিদিন নতুন মানুষ সাজতে হবে?”

কথাটা শাড়ি নিয়ে শুরু হলেও শেষ হয়েছিল তাদের সম্পর্কের পুরোনো সব অভিযোগ টেনে এনে।

কর্মীরা ওদের ঝগড়া শুনত। কখনো কখনো ক্রেতারাও বিব্রত হয়ে তাকাত। যারা আগে আবরার আর তুলির আন্তরিকতার জন্য আসত, তাদের কেউ কেউ ধীরে ধীরে আসা কমিয়ে দিল।

এর মধ্যে রান্নাঘরের নিয়ন্ত্রণও দুর্বল হয়ে পড়ল। তুলি মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল। আবরার বলেছিল, নতুন শাখার পরিকল্পনা থামিয়ে এখন বাড়তি খরচ করা ঠিক হবে না। সিদ্ধান্তটি আর নেওয়া হয়নি।

একদিন কয়েকজন ক্রেতা সেখানে খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ করল। সমস্যাটি সত্যিই রেস্তোরাঁর খাবারে ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছিল, সেটি নিশ্চিত হওয়ার আগেই অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল।

একজন খাবারবিষয়ক ভিডিও নির্মাতা রেস্তোরাঁয় এসে রান্নাঘরের কয়েকটি অপরিচ্ছন্ন জায়গা ধারণ করলেন। আবরার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভিডিওর সম্পাদিত অংশে তার পুরো বক্তব্য থাকল না। তবে সব অভিযোগ যে মিথ্যা ছিল, সেটিও আবরার বলতে পারল না।

মানুষের ধৈর্যের চেয়ে ইন্টারনেটের রায় দ্রুত হয়। কয়েক দিনের মধ্যে রেস্তোরাঁটির সুনাম নষ্ট হতে শুরু করল।

আবরার মনে করল, তুলি দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেনি। তুলি মনে করল, তার সতর্কতাগুলো উপেক্ষা করেই আবরার ব্যবসাটিকে এই অবস্থায় এনেছে।

অভিমান জমতে জমতে একসময় কথার জায়গা দখল করল ঘৃণা। আবরারের কথা তুলি শুনত না। তুলির পরিকল্পনাও আবরার গ্রহণ করত না। অথচ একটা সময় তারা একে অন্যের সবচেয়ে অবান্তর কথাও মন দিয়ে শুনত।

রেস্তোরাঁর একজন নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক। শুরুতে ছোট চায়ের দোকানেও তিনি আসতেন। একদিন ওদের ঝগড়া দেখে বিল দেওয়ার সময় বললেন, “তোমরা দুজন মিলে একটা রেস্তোরাঁই সামলাতে পারছ না। সংসার সামলাবে কীভাবে?”

আশপাশের দু-একজন হেসেছিল।

আবরার আর তুলি হাসেনি।

এর কিছুদিন পর তুলি কাজে আসা বন্ধ করে দিল। প্রথম দিন আবরার তাকে ফোন করেছিল। দ্বিতীয় দিন বার্তা পাঠিয়েছিল। তৃতীয় দিন আর কিছু করেনি।

রাগ করে আবরার কয়েক দিনের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখল। কিন্তু বন্ধ রেস্তোরাঁরও ভাড়া থাকে, বিদ্যুৎ বিল থাকে, কর্মীদের বেতন থাকে।

কর্মীদের মাইনে বাকি পড়ল। সরবরাহকারীরা পাওনা চাইল। আবরারের সঞ্চয় দ্রুত কমতে শুরু করল। যে ব্যবসাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সে এত পরিকল্পনা করেছিল, সেটিই প্রতিদিন তাকে একটু একটু করে নিঃস্ব করতে লাগল।

শেষ পর্যন্ত “ডালভাত রেস্তোরাঁ: ষোলআনা বাঙালিয়ানা” স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

✦   ✦   ✦

কয়েক মাস পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হঠাৎ আবরারের সঙ্গে দেখা।

সে একা বসে চারপাশ দেখছিল। কাঁধে পুরোনো একটা ব্যাগ। দেখে মনে হচ্ছিল, পরিচিত জায়গাটাকেও সে নতুন করে চিনতে চেষ্টা করছে।

আমি পাশে গিয়ে বললাম, “তুই ক্যাম্পাসে কী করছিস? আর তুলি কোথায়?”

আবরার সামান্য হাসল।

“দেখছি।”

“কী দেখছিস?”

সে দূরের একটা গাছের নিচে তাকিয়ে বলল, “ওখানে আমি আর তুলি বসতাম। প্রায় প্রতিদিন। কখনো কখনো ও রাগ করে থাকত। আমি ওর মাথায় আলতো করে চুমু দিলে আরও রাগ করার ভান করত।”

আমি তার পাশে বসলাম।

“স্মৃতি রোমন্থন করছিস কেন? তুলি কোথায়?”

আবরার কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল, “নেই। আমরা আর একসঙ্গে নেই।”

“তুই ঠিক আছিস?”

“হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি।”

“তোর কাঁধে ব্যাগ কেন?”

আবরার এবার সত্যি সত্যি হাসল।

“ব্যবসার পেছনে কয়েক বছর চলে গেল। আমার স্নাতকোত্তরটা এখনো বাকি আছে রে।”

এরপর সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করে ক্লাসরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করল।

আমি বসে রইলাম। দূর থেকে আবরারকে আবার একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতোই দেখাচ্ছিল।

বাকিটুকু আমার জন্য একরাশ রহস্য হয়ে রইল।

তাই ক্যাম্পাসের একসময়ের তারকাদের অবস্থা দেখে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আজকাল খুব চিন্তা হয়। কী করি, বলুন তো?

সম্পাদিত পুনঃপ্রকাশ: গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ৫ এপ্রিল ২০২২ তারিখে The BackSpace Journal-এ। এই সংস্করণে মূল কাহিনি, চরিত্র, কথ্য স্বর এবং সমাপ্তির আবহ সংরক্ষণ করে ভাষা, সংলাপ, দৃশ্যান্তর ও কার্যকারণ পরিমার্জন করা হয়েছে।

মূল লেখক: মেহেদি হাসান (বিকেল) | ভাষা, কাঠামো ও দৃশ্যসম্পাদনা: অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল | সম্পাদিত সংস্করণের প্রকাশনা ও কপিরাইট: অভিযাত্রী

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
মোঃ মেহেদি হাসান মোঃ মেহেদি হাসান (কলম নাম: মি. বিকেল)—লেখক, ব্লগার, শিক্ষক এবং ‘অভিযাত্রী (Oviyatri)’ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক ও পরিচালক। • শিক্ষা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। • প্রকাশনা: প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘জোনাকিরা সব ঘুমিয়ে গেছে’ (রকমারি.কম-এ উপলব্ধ)। • অন্যান্য: ‘দ্য ব্যাকস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৩ থেকে মাইক্রোসফট ডেভেলপার প্রোগ্রামে যুক্ত। যেকোনো প্রশ্ন বা যৌথ কাজের আগ্রহে যোগাযোগ করুন: [email protected] অভিযাত্রীতে আপনাকে স্বাগতম!