‘ইওর নেইম’: নাম ভুলে গেলেও যে ভালোবাসা হারিয়ে যায় না

‘ইওর নেইম’ (Your Name.; জাপানি: 君の名は。; রোমান রূপ: Kimi no Na wa.) মাকোতো শিনকাই রচিত ও পরিচালিত ২০১৬ সালের একটি জাপানি অ্যানিমেটেড রোমান্টিক ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ১
‘ইওর নেইম’: নাম ভুলে গেলেও যে ভালোবাসা হারিয়ে যায় না
তারাভরা গোধূলির আকাশে উজ্জ্বল ধূমকেতুর নিচে দূরে দাঁড়িয়ে একই লাল সুতো ধরে থাকা দুই কিশোর চরিত্র; পেছনে পাহাড়, হ্রদ ও আলোকিত শহর, ওপরে লেখা “Your Name.” ও “君の名は。”।

চলচ্চিত্র পর্যালোচনা

আবেগের বন্ধনে বাঁধা দুই মানুষ, যারা একে অন্যের নাম ভুলে গেলেও হারিয়ে ফেলার অনুভূতিটি ভুলতে পারে না।

স্পয়লার সতর্কতা

এই পর্যালোচনায় চলচ্চিত্রটির সময়রেখা, ইতোমোরির বিপর্যয় এবং সমাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে আলোচনা আছে। চলচ্চিত্রটি না দেখে থাকলে আগে দেখে নেওয়াই ভালো।

কিছু চলচ্চিত্র শেষ হওয়ার পরও মনে হয়, গল্পটি যেন পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোনো হারিয়ে যাওয়া নাম, কোনো অচেনা মুখ কিংবা কোনো অসম্পূর্ণ অনুভূতি মনের ভেতর ঘুরতে থাকে। মাকোতো শিনকাইয়ের Your Name. আমার কাছে তেমনই একটি চলচ্চিত্র। এটি দেখার পরও তাকি ও মিতসুহার জন্য এক ধরনের অস্থিরতা থেকে যায়।

দেহবদল দিয়ে শুরু

Your Name.-এর জাপানি নাম 君の名は。, যার রোমান রূপ Kimi no Na wa.। ২০১৬ সালের এই জাপানি অ্যানিমেটেড রোমান্টিক ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্রটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন মাকোতো শিনকাই।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মিতসুহা মিয়ামিজু জাপানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি শহর ইতোমোরির উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। অন্যদিকে তাকি তাচিবানা টোকিওতে বসবাসকারী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের জীবন, পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা।

একসময় তারা অনিয়মিত বিরতিতে একে অন্যের শরীরে জেগে উঠতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি অদ্ভুত স্বপ্ন বলে মনে হলেও নিজেদের জীবনে রেখে যাওয়া পরিবর্তন, মোবাইলের বার্তা এবং অন্যদের আচরণ থেকে তারা বুঝতে পারে, ঘটনাটি সত্যিই ঘটছে।

এখান থেকেই চলচ্চিত্রটির মজার অংশ শুরু হয়। মিতসুহা তাকির শরীরে থেকে টোকিওর ব্যস্ত জীবন সামলায়। তাকি আবার মিতসুহার শরীরে থেকে ইতোমোরির পরিবার, বন্ধু, বিদ্যালয় এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের মুখোমুখি হয়। তারা নিজেদের সুবিধার জন্য নিয়ম তৈরি করে, একে অন্যের কাজের সমালোচনা করে এবং কখনো অনুমতি না নিয়েই পরস্পরের জীবনে পরিবর্তন আনে।

পরিচয়ের আগেই যে ভালোবাসা

তাকি ও মিতসুহা একে অন্যের অপরিচিত। সাধারণ কোনো প্রেমের গল্পের মতো তাদের নিয়মিত দেখা হয় না, একসঙ্গে ঘোরাঘুরি হয় না, এমনকি প্রথমদিকে তারা পরস্পরের মুখোমুখিও হয় না। তারপরও একজনের দৈনন্দিন সমস্যার মুখোমুখি অন্যজন হতে হতে তাদের মধ্যে এক ধরনের নির্ভরতা জন্ম নেয়।

তাদের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি অনুভব করা যায় দেহবদল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। তাকি যখন মিতসুহার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারে না, তখন তার অস্থিরতা দেখে বোঝা যায়, এই অদেখা মেয়েটি তার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিতসুহাকে খুঁজতে বের হওয়ার সময় তাকির কাছে কোনো ঠিকানা নেই। আছে শুধু স্মৃতি থেকে আঁকা কিছু ভূদৃশ্য এবং এমন একজনকে হারানোর অনুভূতি, যার সঙ্গে তার স্বাভাবিকভাবে কখনো দেখা হয়নি।

এই জায়গাতেই চলচ্চিত্রটি আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে। একজন মানুষকে ভালোবাসার আগে কি তাকে সামনাসামনি জানা জরুরি? নাকি কখনো কখনো তার জীবন, ভয়, ভুল এবং অসম্পূর্ণতাকে নিজের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে অনুভব করাই পরিচয়ের গভীরতম রূপ হয়ে উঠতে পারে?

তাদের ভালোবাসা কোনো ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় না। এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তখন, যখন একজনের অনুপস্থিতি অন্যজনের পরিচিত পৃথিবীকে অসম্পূর্ণ করে দেয়।

গল্প বলার গতি

চলচ্চিত্রটির গল্প বলার কৌশল তার অন্যতম প্রধান শক্তি। প্রথম অংশ দ্রুত, প্রাণবন্ত ও মজার। মোবাইলের বার্তা, হাতে লেখা নির্দেশনা, দৈনন্দিন ভুল বোঝাবুঝি এবং সংগীতনির্ভর দৃশ্যসমষ্টির মধ্য দিয়ে অল্প সময়েই তাকি ও মিতসুহার সম্পর্ক এগিয়ে যায়।

মাকোতো শিনকাই ২০১৬ সালের একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি অনেক ঘটনা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চলচ্চিত্রটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করতে চাননি। তরুণ দর্শক দ্রুত তথ্য ও শিল্প গ্রহণে অভ্যস্ত হওয়ায় তিনি সচেতনভাবেই দ্রুততর সম্পাদনা বেছে নিয়েছিলেন।

এই দ্রুততা দর্শককে গল্পের সঙ্গে আটকে রাখে। প্রায় পুরো চলচ্চিত্রজুড়েই মনে প্রশ্ন তৈরি হয়, এরপর কী ঘটবে? দেহবদলের রহস্য কোথায় গিয়ে থামবে? তারা কি সত্যিই একে অন্যকে খুঁজে পাবে? চলচ্চিত্রটি এসব প্রশ্নের উত্তর একবারে না দিয়ে ধীরে ধীরে প্রকাশ করে।

দৃশ্যমান নির্মাণ ও সংগীত

Your Name.-এর দৃশ্যমান নির্মাণ অসাধারণ। তবে এর সৌন্দর্য শুধু রং বা আকাশের দৃশ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টোকিওর দ্রুতগতি, রেলপথ, সুউচ্চ ভবন ও জনসমাগমের বিপরীতে ইতোমোরির পাহাড়, হ্রদ, নীরব পথ এবং বিস্তৃত আকাশ দুই চরিত্রের জীবনগত দূরত্বকে স্পষ্ট করে।

একই শরীরে তাকি ও মিতসুহার উপস্থিতির পার্থক্যও খুব সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে। তাদের হাঁটা, বসা, দৌড়ানো, চুল বাঁধা এবং মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার ধরন বদলে যায়। ফলে শুধু কণ্ঠ নয়, চরিত্রের দেহভঙ্গি দেখেও অনেক সময় বোঝা যায় তখন শরীরটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে।

চলচ্চিত্রটির আকাশ ও ধূমকেতুর দৃশ্যগুলো একই সঙ্গে সুন্দর এবং ভীতিকর। প্রথমে যে ধূমকেতু বিস্ময় তৈরি করে, পরে সেটিই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। সৌন্দর্য ও ধ্বংসকে একই দৃশ্যের মধ্যে ধরে রাখার এই দক্ষতা চলচ্চিত্রটির আবেগ আরও তীব্র করেছে।

RADWIMPS-এর সংগীতও গল্পের আবেগ ও গতির সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে গেছে। গানগুলো শুধু পটভূমিতে বাজে না। চরিত্রের পরিবর্তন, সময়ের অগ্রগতি এবং বিচ্ছেদের অনুভূতিকে এগিয়ে নিতে সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সময়রেখার বড় মোড়

চলচ্চিত্রটির দ্বিতীয়ার্ধে এসে কাহিনি এমন একটি দিকে মোড় নেয়, যা প্রথম অংশের হালকা মেজাজকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। তাকি জানতে পারে, সে ও মিতসুহা একই সময়ের মধ্যে দেহ বদল করছিল না। তাদের মধ্যে তিন বছরের ব্যবধান ছিল।

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, তাকি যে ইতোমোরিকে স্মৃতি থেকে এঁকে খুঁজছিল, ধূমকেতুর একটি খণ্ডের আঘাতে সেই শহর তিন বছর আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তার বর্তমান সময়রেখায় মিতসুহা আর জীবিত নেই বলেই ধরে নেওয়া হয়।

এখান থেকে চলচ্চিত্রটি শুধু প্রেমের গল্প থাকে না। এটি হারিয়ে যাওয়া মানুষ, একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর এবং বদলে দেওয়া যায় না বলে মনে হওয়া অতীতকে পুনরুদ্ধারের গল্প হয়ে ওঠে। তাকি মিতসুহাকে খুঁজছে, কিন্তু সেই সঙ্গে সে এমন একটি জগতের কাছেও ফিরে যেতে চাইছে, যা তার নিজের সময় থেকে মুছে গেছে।

ব্যাখ্যার সীমা

চলচ্চিত্রটি কেন শুধু তাকি ও মিতসুহার মধ্যে দেহবদল ঘটে, তার পূর্ণ বৈজ্ঞানিক বা অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যা দেয় না। সময় ও স্মৃতির নিয়মগুলো পারিবারিক আচার, ফিতা, গোধূলি এবং সম্পর্কের প্রতীকের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। তাই এটি কঠোর বৈজ্ঞানিক সময়ভ্রমণের গল্প নয়।

ফিতা, সময় ও মুসুবি

মিতসুহার লাল ফিতা চলচ্চিত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এটি প্রথমে একটি সাধারণ অলংকার বলে মনে হলেও পরে বোঝা যায়, ফিতাটি তাদের অসম সময়রেখার মধ্যেও বাস্তব সংযোগ বজায় রেখেছে।

মিতসুহার সময়রেখায় সে টোকিওতে গিয়ে কম বয়সী তাকির সঙ্গে দেখা করে এবং তাকে ফিতাটি দেয়। তখন তাকি মিতসুহাকে চিনত না। পরে তাকির সময়রেখায় তাদের দেহবদল শুরু হয়। ফলে তিনি আগে ফিতাটি পেয়েছেন, নাকি আগে দেহবদল শুরু হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তর দুই চরিত্রের পৃথক সময়রেখার মধ্যে লুকিয়ে আছে।

চলচ্চিত্রে musubi ধারণাটি বাঁধন, গাঁট এবং বিচ্ছিন্ন উপাদানের পুনঃসংযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। মিতসুহার পরিবারের তৈরি বেণিবদ্ধ ফিতা সময়ের এই ধারণাকে দৃশ্যমান করে। সুতো আলাদা হয়, পাক খায়, গিঁট বাঁধে, কখনো ছিঁড়ে যায় এবং আবার যুক্ত হতে পারে। তাকি ও মিতসুহার সম্পর্কও যেন তেমনই একটি বাঁধন।

সংস্কৃতি গল্পেরই অংশ

চলচ্চিত্রে জাপানি সংস্কৃতির উপস্থাপন আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। তবে এখানে ঐতিহ্য শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়নি। মিয়ামিজু পরিবারের উপাসনালয়, আচারনির্ভর নৃত্য, বেণিবদ্ধ ফিতা এবং kuchikamizake কাহিনির রহস্য ও সময়ের সংযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বিশেষ করে পারিবারিক আচার এমন একটি পুরোনো বিপর্যয়ের স্মৃতি বহন করছে, যার মূল কারণ পরবর্তী প্রজন্ম আর পরিষ্কারভাবে জানে না। আচারটি টিকে আছে, কিন্তু তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা হারিয়ে গেছে। চলচ্চিত্রের এই ভাবনাটি ঐতিহ্যকে অন্ধভাবে মহিমান্বিতও করে না, আবার সরলভাবে কুসংস্কার বলে বাতিলও করে না।

বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আশার গল্প

মাকোতো শিনকাই জানিয়েছেন, ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি তাঁর পৃথিবী দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিয়েছিল। স্বাভাবিক জীবন যে হঠাৎ হারিয়ে যেতে পারে, সেই উপলব্ধি থেকে তিনি পুনরুদ্ধারের একটি গল্প তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

এই প্রেক্ষাপট জানলে ইতোমোরির ঘটনা আরও গভীর মনে হয়। বাস্তবে হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরিয়ে আনা যায় না। কিন্তু চলচ্চিত্রে তাকি সেই অসম্ভব কাজটিরই চেষ্টা করে। তার ভালোবাসা শুধু মিতসুহার কাছে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা নয়; এটি একটি শহর ও তার মানুষের ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষাও।

গোধূলির সেই মুহূর্ত

পাহাড়চূড়ায় গোধূলির অল্প সময়ের জন্য তাকি ও মিতসুহা মুখোমুখি হয়। অতীত ও বর্তমানের সীমা যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য মুছে যায়। এতক্ষণ ধরে যে দুই মানুষ পরস্পরকে খুঁজছিল, তারা অবশেষে একজন আরেকজনকে দেখতে এবং স্পর্শ করতে পারে।

কিন্তু সেই মুহূর্ত স্থায়ী নয়। আলো বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় তাদের আবার আলাদা করে দেয়। নাম মনে রাখার জন্য তারা একে অন্যের হাতে লিখতে চায়। অথচ শেষে নামের বদলে যে অনুভূতিটি থেকে যায়, সেটিই মিতসুহাকে হার না মানতে সাহায্য করে।

সমাপ্তির আবেগ

চলচ্চিত্রের শেষে প্রাপ্তবয়স্ক তাকি ও মিতসুহা একে অন্যকে নাম ধরে চিনতে পারে না। তাদের স্মৃতিতে পরস্পরের পরিচয় স্পষ্ট নয়। তবু দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কিছু বা কাউকে হারানোর অনুভূতি বেঁচে থাকে।

শহরের ভিড় এবং চলন্ত ট্রেনের জানালার ওপারে একে অন্যকে দেখার পর তারা সেই অনুভূতিকে আর উপেক্ষা করতে পারে না। সিঁড়িতে মুখোমুখি হয়ে যখন তারা পরস্পরের নাম জানতে চায়, আমার কাছে সেটি পূর্ণ স্মৃতি ফিরে পাওয়ার দৃশ্য মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে, তারা আবার নতুন করে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই দৃশ্যটি দেখার সময় সত্যিই মনে হয়, তারা যেন আর একবার পরস্পরকে হারিয়ে না ফেলে। আনন্দ আসে শুধু তাদের দেখা হওয়ার কারণে নয়। আনন্দ আসে এই কারণে যে নাম ভুলে যাওয়ার পরও তারা একজন আরেকজনকে খোঁজা বন্ধ করেনি।

কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়

চলচ্চিত্রটি আমাকে আবেগপ্রবণ করলেও এর সব প্রশ্নের উত্তর সমানভাবে পরিষ্কার নয়। তাকি ও মিতসুহা তাদের মোবাইলের তারিখ দেখে সময়ের পার্থক্য আগে বুঝতে পারেনি কেন, দেহবদলের নির্দিষ্ট নিয়ম কী এবং স্মৃতি হারানোর সীমা কোথায়, এসব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

পরিচালক সম্ভবত প্রতিটি রহস্যের যান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিতে চাননি। কিছু অংশ দর্শকের চিন্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। আমার কাছে এই অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা চলচ্চিত্রের আকর্ষণ কিছুটা বাড়িয়েছে, কারণ শেষ হওয়ার পরও গল্পটি নিয়ে ভাবতে হয়। তবে কেউ যদি কঠোরভাবে ব্যাখ্যাত সময়ভ্রমণের গল্প প্রত্যাশা করেন, তাঁর কাছে কিছু অংশ অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে।

শেষকথা

Your Name. শুধু দেহবদল বা সময়ভ্রমণের চলচ্চিত্র নয়। এটি এমন দুই মানুষের গল্প, যারা একে অন্যকে মনে রাখতে পারে না, অথচ পরস্পরের অনুপস্থিতি ভুলতে পারে না।

গল্প, চরিত্র, দৃশ্যমান নির্মাণ, সংগীত, জাপানি সাংস্কৃতিক উপাদান এবং শেষ দৃশ্যের আবেগ একত্র হয়ে চলচ্চিত্রটিকে স্মরণীয় করেছে। নাম ভুলে যাওয়ার পরও যে অনুভূতি থেকে যায়, সম্ভবত সেটিই এই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।

লেখকত্ব ও প্রকাশনা-তথ্য

মূল লেখক: আমিনুর রহমান

লেখকের বিষয়ক্ষেত্র: চলচ্চিত্র, অ্যানিমে ও প্রযুক্তি

প্রথম প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৪, অভিযাত্রীর পূর্ববর্তী ওয়েব সংস্করণ

বর্তমান সংস্করণ: লেখকের মূল ভাবনা, আবেগ ও পাঠকসংলগ্ন পর্যালোচনাকণ্ঠ সংরক্ষণ করে ভাষা, চলচ্চিত্র-তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট হালনাগাদ করা হয়েছে।

গবেষণা, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনা: অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল

কপিরাইট: মূল লেখকের যথাযথ স্বীকৃতি সংরক্ষণ করে এই পুনরুদ্ধারকৃত ও সম্পাদিত সংস্করণের একচেটিয়া প্রকাশনা ও কপিরাইট অধিকার অভিযাত্রীর।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

আনুষ্ঠানিক চলচ্চিত্র-তথ্য

১. GKIDS Films.

Your Name. চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি, কাহিনিসার ও প্রকাশনা-তথ্য। আনুষ্ঠানিক চলচ্চিত্র-পৃষ্ঠা দেখুন

পরিচালকের সাক্ষাৎকার

২. Goodwin, Daniel. ১৬ নভেম্বর ২০১৬.

Exclusive: Director Makoto Shinkai on Japanese Animation Your Name. HeyUGuys। দেহবদল, দ্রুত সম্পাদনা, তরুণ দর্শক ও কাহিনির সৃজনপ্রক্রিয়া নিয়ে মাকোতো শিনকাইয়ের সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি পড়ুন

৩. Leader, Michael. ১৬ নভেম্বর ২০১৬.

Makoto Shinkai: “You Can’t Be Miyazaki, You Can Only Be the Second Miyazaki.” Little White Lies। চলচ্চিত্রের আবেগগত উদ্দেশ্য, ২০১১ সালের বিপর্যয় ও পুনরুদ্ধারের ধারণা নিয়ে সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি পড়ুন

নির্মাণ ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ

৪. kViN. ২৮ জুলাই ২০১৭.

Kimi no Na wa / Your Name – Production Notes. Sakuga Blog। চরিত্রের চলন, দৃশ্যের প্রভাব, আচারনির্ভর নৃত্য, সম্পাদনা ও সংগীতবিষয়ক নির্মাণ বিশ্লেষণ। নির্মাণ বিশ্লেষণটি পড়ুন

৫. Schley, Matt. ২০১৯.

Makoto Shinkai Weathers the Storm. The Japan Times। মাকোতো শিনকাইয়ের চলচ্চিত্র, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব ও জাপানি অ্যানিমেশনের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি পড়ুন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
আমিনুর রহমান আমি আমিনুর রহমান। চলচ্চিত্র, সিরিজ, জাপানি অ্যানিমে এবং প্রযুক্তিবিষয়ক লেখা ও পর্যালোচনা করি। বর্তমানে অভিযাত্রীর কনটেন্ট রাইটার ও উপসম্পাদক হিসেবে যুক্ত আছি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র পর্যালোচনা, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তি আমার আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি রাজশাহী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছি এবং প্রোগ্রামিং, কোডিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের দক্ষতা অর্জন করছি। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাঠকের কাছে তথ্যবহুল ও উপভোগ্য লেখা পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।