বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র: তিন কথাশিল্পীর স্বতন্ত্র সাহিত্যভুবন

বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের কাহিনি, চরিত্র, আবেগ, সমাজদৃষ্টি ও ভাষাশৈলীর গবেষণাসমর্থিত তুলনামূলক পাঠ।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ২
বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র: তিন কথাশিল্পীর স্বতন্ত্র সাহিত্যভুবন
পুরোনো বই, খোলা পাণ্ডুলিপি, চশমা ও দোয়াতের সামনে পাশাপাশি তিন বাংলা সাহিত্যিকের প্রতিকৃতি, পেছনে ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদী ও গ্রামীণ জনপদের আবহ।

বাংলা সাহিত্য | তুলনামূলক পাঠ

বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র: তিন কথাশিল্পীর স্বতন্ত্র সাহিত্যভুবন

তিনজনই বাংলা কথাসাহিত্যের মহীরুহ। কিন্তু জীবনকে দেখার দৃষ্টি, চরিত্র নির্মাণ, আবেগ প্রকাশ এবং সমাজকে কাহিনিতে ধারণ করার পদ্ধতিতে তাঁরা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র।

একই জীবন, তিন রকম সাহিত্যিক দৃষ্টি

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একই সারিতে রাখলেই তাঁদের তুলনা সম্পূর্ণ হয় না। একই জীবন তাঁদের হাতে তিনভাবে রূপ পেয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র ও শরৎচন্দ্র যেন জীবনকে স্বচক্ষে দেখে ক্যানভাসের ওপর তুলি দিয়ে ছবি এঁকেছেন। আর রবীন্দ্রনাথ যেন জীবনের ডগা থেকে শিকড় পর্যন্ত অনুভব করে তার দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দুই দিকই ভাষায় ধারণ করেছেন।

এই তুলনা শ্রেষ্ঠত্বের কোনো ক্রম নির্ধারণের চেষ্টা নয়। বরং তিনজনের গল্প বলার ধরন, মানুষের দিকে তাকানোর ভঙ্গি এবং সমাজ ও আবেগের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কোথায় মিলেছে, কোথায় পৃথক হয়েছে, সেটিই এখানে অনুসন্ধানের বিষয়।

বঙ্কিমচন্দ্র: বাংলা উপন্যাসের প্রতিষ্ঠাতা শক্তি

বঙ্কিমচন্দ্রের আগে বাংলা ভাষায় আখ্যান, পদ্যরোমান্স, অনুবাদ, ব্যঙ্গকাহিনি এবং উপন্যাসসদৃশ রচনা প্রকাশিত হয়েছিল। তাই বাংলা ভাষায় মুদ্রিত উপন্যাসের একমাত্র স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল নয়। তবে বাংলা উপন্যাসকে সুসংগঠিত কাহিনি, চরিত্র, সংঘাত, সাহিত্যিক গদ্য ও জনপ্রিয়তার শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত দুর্গেশনন্দিনী বাংলা উপন্যাসের ইতিহাসে একটি নির্ধারক রচনা।

বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসে রোমান্স, ইতিহাস, সমাজ, ধর্মীয় চিন্তা, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক কল্পনা অনেক সময় একে অন্যের সঙ্গে মিশেছে। দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা ও মৃণালিনী-তে ঐতিহাসিক পটভূমি ও রোমান্টিক কল্পনার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বিষবৃক্ষ ও কৃষ্ণকান্তের উইল-এ পরিবার, বিবাহ, আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক নৈতিকতার সংঘাত সামনে আসে। আবার রাজসিংহ, আনন্দমঠ ও সীতারাম-এ ইতিহাস, ক্ষমতা, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক চিন্তার বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়।

মধুর রস ও অম্ল রস

আমার পাঠে, বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস প্রণয়রসে পূর্ণ হলেও সেখানে সমাজরক্ষার তাগিদও প্রবল। তাঁর ভাষায় কখনো উপদেশের চেয়ে ধমক ও ভর্ৎসনার সুর বেশি শোনা যায়। তিনি চরিত্রকে শুধু ভালোবাসেন না, বিচারও করেন। তাই তাঁর সাহিত্যে মধুর রসের পাশাপাশি অম্ল রসও থাকে।

বঙ্কিমচন্দ্রকে শুধু ঔপন্যাসিক বললেও তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর সাহিত্যজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে কবিতা রচনার প্রমাণ রয়েছে এবং ললিতা তথা মানস নামে তাঁর কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল। উপন্যাসের পাশাপাশি প্রবন্ধ, ব্যঙ্গ, সমালোচনা, ধর্মচিন্তা ও সাংবাদিকতায়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিল।

রবীন্দ্রনাথ: ঘটনার ভেতর থেকে মনের দিকে

রবীন্দ্রনাথের গল্প ও উপন্যাসকে একত্রে একই মানদণ্ডে বিচার করা কঠিন। তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তি, সমাজ, ধর্ম, জাতি, আধুনিকতা ও আত্মপরিচয়ের বড় প্রশ্ন বিস্তৃত হয়েছে। ছোটগল্পে তিনি অনেক সময় একটি সামান্য ঘটনা, একটি মুখ, একটি বিরতি অথবা সম্পর্কের নীরব পরিবর্তনের মধ্যে জীবনের গভীর সত্য আবিষ্কার করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের গল্প আমার কাছে সিনেমার নিবিড় দৃশ্যের মতো। চরিত্র সামনে এলে তার বর্তমান মুখের সঙ্গে অদৃশ্য অতীতও যেন ভেসে ওঠে। তাঁর গল্পের আবেগ সাধারণত উচ্চকণ্ঠ নয়। সেখানে সহানুভূতি আছে, নীরব অনুভব আছে, মনের সূক্ষ্ম স্পন্দন আছে। এই সংযম আবেগের অভাব নয়; বরং আবেগ প্রকাশের এক স্বতন্ত্র শিল্পপদ্ধতি।

ছোটগল্পের প্রকৃতি বোঝাতে বহুল উদ্ধৃত কাব্যিক প্রকাশ

“ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা,
ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।

নাহি বর্ণনার ছটা
ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে
সাঙ্গ করি’ মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”

উৎস: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, “বর্ষাযাপন”, সোনার তরী।

এই পঙ্‌ক্তিগুলো ছোটগল্পবিষয়ক কোনো স্বতন্ত্র প্রবন্ধের অংশ নয়। এগুলো সোনার তরী কাব্যের “বর্ষাযাপন” কবিতা থেকে নেওয়া। তবু ক্ষুদ্র জীবনের অনুল্লেখিত দুঃখ, ঘটনার সংযম এবং সমাপ্তির পরও থেকে যাওয়া অতৃপ্তির কথা এমনভাবে বলা হয়েছে যে বাংলা ছোটগল্পের নান্দনিকতা ব্যাখ্যায় পঙ্‌ক্তিগুলো বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করেছে।

পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, সুভা, ছুটি, শাস্তি, জীবিত ও মৃত, স্ত্রীর পত্র এবং হৈমন্তী-র মতো গল্পে নারী, শিশু, গ্রামীণ মানুষ, প্রান্তিক চরিত্র, নিঃসঙ্গতা, অসম সম্পর্ক ও সামাজিক নিষ্ঠুরতা পৃথক পৃথক রূপ পেয়েছে। সেখানে ঘটনা শেষ হলেও চরিত্রের জীবন পাঠকের মনে শেষ হয় না।

গল্পগুচ্ছ দীর্ঘদিন ধরে পঠিত, পুনর্মুদ্রিত ও আলোচিত। তবু এর সব গল্পের নীরব ট্র্যাজেডি, সামাজিক সমালোচনা ও অসমাপ্তির নন্দন সব পাঠে সমানভাবে ধরা পড়ে কি না, সেই প্রশ্ন থেকে যায়। পাঠক কখনো কাহিনি থেকে তৃপ্তি চান; রবীন্দ্রনাথের অনেক গল্প সেই তৃপ্তির বদলে একটি অস্বস্তিকর নীরবতা রেখে যায়। এই নীরবতাই সম্ভবত তাঁর গল্পের বড় শক্তি।

শরৎচন্দ্র: পাঠকের হৃদয়ের দিকে ছেড়ে দেওয়া সুতো

শরৎচন্দ্রের কথাসাহিত্যে পাঠকের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি হয়। তাঁর ভাষা সহজ, কাহিনির গতি স্বচ্ছ এবং আবেগ তুলনামূলকভাবে প্রত্যক্ষ। কিন্তু এই সহজতার আড়ালে সমাজের কঠিন বাস্তবতা রয়েছে। দারিদ্র্য, নারীর অসম অবস্থান, প্রেমের ব্যর্থতা, পারিবারিক নিষ্ঠুরতা, সামাজিক মর্যাদার দ্বন্দ্ব এবং সংস্কারের চাপ তাঁর কাহিনিতে বারবার ফিরে আসে।

শরৎচন্দ্র যেন অনুভব ও অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে ছুঁচে সুতো পরিয়েছেন, তারপর সেই সুতো পাঠকের ভালো লাগা ও বেদনার দিকে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি পাঠকের আবেগের পথ চিনতেন। তাঁর কাহিনির অনেক জায়গায় মাধুর্য আছে, কিন্তু সব শরৎকাহিনি মধুর নয়। মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, চরিত্রহীন, দেবদাস, গৃহদাহ, পথের দাবী ও শেষ প্রশ্ন-এর ভেতরের পৃথিবী বহু ক্ষেত্রেই কঠোর, অস্বস্তিকর ও প্রশ্নমুখর।

সহজ ভাষা, কঠিন বাস্তবতা

শরৎচন্দ্রের জনপ্রিয়তার একটি কারণ তাঁর ভাষার স্বাভাবিকতা। তবে তাঁর স্থায়ী শক্তি শুধু আবেগে নয়। মানুষের প্রতি সহানুভূতি, সামাজিক ভণ্ডামির উন্মোচন এবং অবহেলিত চরিত্রকে কাহিনির কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেও তাঁর শক্তি রয়েছে। বিশেষ করে নারীচরিত্রে আত্মমর্যাদা, আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক বিধিনিষেধ ও প্রতিবাদের নানা রূপ দেখা যায়।

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকে প্রথম জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত রচনা এবং পরবর্তী জীবনের অন্যের মনরক্ষার রচনা বলে কঠোরভাবে ভাগ করা নিরাপদ নয়। জনপ্রিয় লেখকের ওপর পাঠকের প্রত্যাশার প্রভাব থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা শুধু অন্যের মুখ চেয়ে লিখেছেন, এমন সিদ্ধান্তের জন্য নির্ভরযোগ্য জীবনীমূলক প্রমাণ প্রয়োজন। পর্যালোচিত উৎসগুলোতে এই নির্দিষ্ট দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি।

তিন কথাশিল্পীর মিল ও পার্থক্য

১. কাহিনি নির্মাণ

বঙ্কিমচন্দ্র বিস্তৃত ঘটনা, নাটকীয় সংঘাত ও ঐতিহাসিক-রোমান্টিক পটভূমিতে কাহিনি নির্মাণ করেন। রবীন্দ্রনাথ বৃহৎ কাহিনির পাশাপাশি ক্ষুদ্র মুহূর্তের মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য উন্মোচন করেন। শরৎচন্দ্র পরিচিত সামাজিক বাস্তবতা ও আবেগঘন সম্পর্কের মাধ্যমে পাঠককে দ্রুত কাহিনির কাছে নিয়ে আসেন।

২. চরিত্র নির্মাণ

বঙ্কিমের চরিত্র অনেক সময় বৃহৎ সংঘাত, আদর্শ, কর্তব্য ও নাটকীয় সিদ্ধান্তের অংশ। রবীন্দ্রনাথ চরিত্রের দৃশ্যমান আচরণের আড়ালে দ্বিধা, নিঃসঙ্গতা ও অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষা দেখেন। শরৎচন্দ্র চরিত্রকে সামাজিক আঘাত, মানবিক দুর্বলতা ও পাঠকের প্রত্যক্ষ সহানুভূতির কাছে নিয়ে আসেন।

৩. নারীচরিত্র

তিন লেখকের সাহিত্যেই নারী গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। বঙ্কিমের নারীচরিত্রে প্রেম, ত্যাগ, শক্তি ও বিদ্রোহের সঙ্গে সমকালীন নৈতিকতার টানাপোড়েন থাকে। রবীন্দ্রনাথ নারীর আত্মপরিচয়, সীমাবদ্ধতা, স্বাধীন ইচ্ছা ও নীরব প্রতিবাদকে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় দেখেন। শরৎচন্দ্র সামাজিকভাবে আহত ও প্রান্তিক নারীর অভিজ্ঞতাকে পাঠকের আবেগের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

৪. আবেগের প্রকাশ

বঙ্কিমচন্দ্র আবেগকে নাটকীয়তা, রোমান্স ও নৈতিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করেন। রবীন্দ্রনাথের আবেগ অনেক সময় সংযত, নীরব ও ইঙ্গিতময়। শরৎচন্দ্র আবেগকে প্রত্যক্ষ ও পাঠকঘনিষ্ঠ করেন, তবে সেই আবেগের পেছনে সামাজিক আঘাত ও মানুষের মর্যাদার প্রশ্নও সক্রিয় থাকে।

৫. ভাষা ও পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক

বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্যিক গদ্যের প্রকাশক্ষমতা বাড়িয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ভাষাকে বহুস্বর, অন্তর্মুখিতা ও সূক্ষ্ম অনুভবের বাহন করেছেন। শরৎচন্দ্র সহজ, প্রবহমান ও কথ্যতার কাছাকাছি ভাষায় বিস্তৃত পাঠকসমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

প্রভাব আছে, কিন্তু সরল গুরু-শিষ্য সম্পর্ক নয়

শরৎচন্দ্রের ওপর বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা যায়। কোনো লেখকই তাঁর পূর্বসূরিদের ভাষা, সাহিত্য ও প্রতিষ্ঠিত রীতির বাইরে জন্ম নেন না। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রকে সরাসরি শরৎচন্দ্রের “সাহিত্যগুরু” বলতে হলে প্রত্যক্ষ আত্মস্বীকৃতি, চিঠি, স্মৃতিকথা অথবা নির্ভরযোগ্য জীবনীমূলক প্রমাণ প্রয়োজন। সাহিত্যিক প্রভাব আর আনুষ্ঠানিক গুরু-শিষ্য সম্পর্ক এক বিষয় নয়।

একইভাবে শরৎচন্দ্র প্রথম কোন সালে রবীন্দ্রনাথের রচনা পড়েছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস ছাড়া নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়। গল্পগুচ্ছ-এর গল্পগুলো প্রথমে বিভিন্ন সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে একাধিক পর্যায়ে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়। তাই কোনো একটি পরবর্তী সংস্করণের প্রকাশকাল থেকে শরৎচন্দ্রের প্রথম পাঠের সময় নিশ্চিত করা যায় না।

শেষ কথা

বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা উপন্যাসের জন্য বিস্তৃত পথ নির্মাণ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ সেই পথ ধরে মানুষের অন্তর্জগৎ, নীরবতা ও সম্পর্কের অদৃশ্য সংকটে প্রবেশ করেছেন। শরৎচন্দ্র পরিচিত জীবনের দুঃখ, প্রেম, অপমান ও প্রতিবাদকে সহজ ও হৃদয়ঘনিষ্ঠ ভাষায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

তিনজনকে একই মানদণ্ডে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমে সাজানোর চেয়ে তাঁদের স্বাতন্ত্র্য বোঝা জরুরি। একই বাংলা ভাষা তাঁদের হাতে কখনো ইতিহাসের মঞ্চ, কখনো মানুষের মুখের নিবিড় দৃশ্য, কখনো আহত হৃদয়ের সরাসরি কথা হয়েছে। এখানেই তাঁদের মিল, আবার এখানেই তাঁদের গভীর পার্থক্য।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

১. Banglapedia. “Chattopadhyay, Bankimchandra.” বঙ্কিমচন্দ্রের জীবন, বাংলা গদ্য ও কথাসাহিত্যে তাঁর অবদান এবং প্রধান রচনাবিষয়ক নিবন্ধ। মূল নিবন্ধ পড়ুন

২. Encyclopaedia Britannica. “Bankim Chandra Chatterjee.” সর্বশেষ হালনাগাদ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বঙ্কিমচন্দ্রের কবিতা, উপন্যাস, সাহিত্যিক গদ্য ও প্রধান রচনার কালানুক্রমিক পরিচয়। জীবনী ও রচনাতথ্য

৩. Banglapedia. “Short Stories.” বাংলা ছোটগল্পের উদ্ভব, বিকাশ এবং রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সাহিত্যিক গুরুত্ববিষয়ক নিবন্ধ। নিবন্ধটি পড়ুন

৪. রবীন্দ্র-রচনাবলী, SNLTR. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, “বর্ষাযাপন”, সোনার তরী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস বিভাগের অধীন নিবন্ধিত সংস্থা পরিচালিত ডিজিটাল রচনাবলি। প্রামাণ্য ডিজিটাল পাঠ

৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর. গল্পগুচ্ছ, প্রথম খণ্ড। উইকিসংকলনে সংরক্ষিত বিশ্বভারতী-সংস্করণভিত্তিক ডিজিটাল প্রতিলিপি; গল্পগুলোর প্রথম প্রকাশকাল ও গ্রন্থভুক্তির তথ্য সংবলিত। ডিজিটাল প্রতিলিপি দেখ

৬. Encyclopaedia Britannica. “Sarat Chandra Chattopadhyay.” সর্বশেষ হালনাগাদ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শরৎচন্দ্রের জীবন, প্রধান রচনা, মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি, সমাজচিত্র ও নারীচরিত্রবিষয়ক মূল্যায়ন। জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

উৎস-সীমাবদ্ধতা

মূল প্রকাশিত লেখায় “আনন্দ পাবলিশার্স”-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছিল। তবে ব্যবহৃত বইয়ের নাম, লেখক বা সম্পাদক, সংস্করণ এবং পৃষ্ঠাসংখ্যা সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। নির্দিষ্ট গ্রন্থটি শনাক্ত করা সম্ভব হলে এই রেফারেন্স ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গভাবে হালনাগাদ করা যাবে।

লেখকত্ব ও প্রকাশনা-ইতিহাস

মূল লেখিকা: শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত

মূল শিরোনাম: বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র: বাংলা সাহিত্যের তিন মহীরুহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

প্রথম প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৪

বর্তমান সংস্করণ: পুনরুদ্ধারকৃত মূল লেখার ভাব, উপমা ও লেখক-কণ্ঠ সংরক্ষণ করে গবেষণা, তথ্য যাচাই এবং গভীর সম্পাদকীয় পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রস্তুত হালনাগাদকৃত সংস্করণ

গবেষণা, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনা: অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল

কপিরাইট মালিক: অভিযাত্রী

সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা: বর্তমান সংস্করণে ভুল গ্রন্থনাম, উদ্ধৃতির উৎস, সাহিত্য-ইতিহাস এবং প্রমাণহীন জীবনীমূলক সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হয়েছে। লেখিকার “ক্যানভাস”, “সিনেমার নিবিড় দৃশ্য”, “ডগা থেকে শিকড়” এবং “ছুঁচে সুতো পরানো” ধরনের মূল উপমা ও ব্যক্তিগত মূল্যায়নের স্বর সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত আমি স্মৃতি দত্ত। আদালতের পেশাগত জগৎ থেকে সাহিত্য ও সংগীতের সৃজনশীল পরিসর পর্যন্ত আমার পথচলা বিস্তৃত। পেশায় অ্যাডভোকেট হলেও লেখালেখিই আমার ভাবনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশের সবচেয়ে আপন মাধ্যম। ছোটগল্প, অণুগল্প, জীবনী, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ভ্রমণ নিয়ে লিখতে ভালোবাসি। কখনো একজন স্মরণীয় মানুষের জীবন আমাকে আকর্ষণ করে, কখনো একটি চলচ্চিত্র, আবার কখনো সংসারের খুব সাধারণ একটি সম্পর্কের মধ্যেই আমি গল্প খুঁজে পাই। আমি বঙ্গীয় সাহিত্যের সদস্য এবং কীবোর্ড বাজাতে ভালোবাসি। পাশাপাশি অ্যামওয়ে-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘কেমিস্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল ও টি.ভি শো’ এবং ‘লেনিন সাহেবের সাথে দেখা’। মানুষের জীবন, সময় ও স্মৃতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই।