ওভেন ছাড়াই মাটির চুলায় কেক বানাবেন কীভাবে?

ডিম, ময়দা, চিনি ও তেল দিয়ে ওভেন ছাড়াই মাটির চুলায় ঘরোয়া কেক তৈরির উপকরণ, ব্যাটার প্রস্তুতি ও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানুন।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ৩
ওভেন ছাড়াই মাটির চুলায় কেক বানাবেন কীভাবে?
মাটির চুলার পাশে সাদা পাত্রে রাখা সোনালি রঙের ঘরোয়া কেক, সামনে কাটা টুকরায় নরম ভেতরের অংশ দেখা যাচ্ছে।

ঘরোয়া রেসিপি

ওভেন ছাড়াই মাটির চুলায় কেক বানাবেন কীভাবে?

ওভেন না থাকলেও ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়ে মাটির চুলায় কেক তৈরি করা যায়। আজকের রেসিপিতে জানব, কীভাবে ডিম, ময়দা, চিনি ও তেলের মতো পরিচিত উপকরণ ব্যবহার করে ঘরেই কেক বানানো যায়।

শুরু করার আগে

উপকরণ মাপার জন্য একই আকারের কাপ ও চামচ ব্যবহার করুন। মাটির চুলার তাপ ও ব্যবহৃত পাত্র অনুযায়ী কেক তৈরি হতে কিছুটা কম বা বেশি সময় লাগতে পারে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

১. ডিম: ২টি

২. ময়দা: ২ কাপ

৩. চিনি: ১ কাপ

৪. ভোজ্যতেল: ১ কাপ

৫. বেকিং পাউডার: আধা চামচ

৬. কর্নফ্লাওয়ার: আধা চামচ, ঐচ্ছিক

৭. গুঁড়া দুধ: ১টি ছোট প্যাকেট, ঐচ্ছিক

৮. ভ্যানিলা ফ্লেভার: প্রয়োজনমতো, ঐচ্ছিক

৯. সাদা এলাচের গুঁড়া: সামান্য, বিকল্প হিসেবে

১০. লেবুর রস: অল্প, প্রয়োজনে

ডিম প্রস্তুত করা

ডিম ফ্রিজে থাকলে ব্যবহারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে বের করে রাখুন। এতে ডিম স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসবে এবং ফেটানো সহজ হবে।

দুটি ডিম ভেঙে কুসুম ও সাদা অংশ আলাদা পাত্রে রাখুন। ডিমের সাদা অংশ কেকের জন্য ফোম তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

ফোম তৈরির পদ্ধতি

পরিষ্কার ও শুকনা পাত্রে রাখা ডিমের সাদা অংশ হ্যান্ড বিটার, হুইস্ক অথবা চামচ দিয়ে ফেটাতে থাকুন। হ্যান্ড বিটার ব্যবহার করলে দ্রুত ফোম তৈরি হবে। চামচ বা হুইস্ক দিয়ে করলে কিছুটা বেশি সময় ও পরিশ্রম লাগবে।

ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে ফেটিয়ে হালকা ও ফেনাযুক্ত করে নিন। এই ফোম কেককে নরম ও হালকা হতে সাহায্য করবে।

খেয়াল রাখুন

ডিমের সাদা অংশ রাখা পাত্রে পানি, তেল বা কুসুম মিশে গেলে ভালোভাবে ফোম তৈরি নাও হতে পারে। তাই পাত্র ও বিটার পরিষ্কার এবং শুকনা রাখুন।

কেকের ব্যাটার তৈরি

১. আলাদা করে রাখা ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ কাপ চিনি দিন। চিনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন অথবা আগে গুঁড়া করে নিতে পারেন। চিনি ও কুসুম ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।

২. এবার ২ কাপ ময়দা, ১ কাপ ভোজ্যতেল, আধা চামচ বেকিং পাউডার এবং আধা চামচ কর্নফ্লাওয়ার যোগ করুন। কর্নফ্লাওয়ার না থাকলে এটি বাদ দেওয়া যাবে।

৩. চাইলে একটি ছোট প্যাকেট গুঁড়া দুধ যোগ করুন। এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে গুঁড়া দুধ ব্যবহার করলে কেকের স্বাদ আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

৪. ডিমের গন্ধ কমাতে প্রয়োজনমতো ভ্যানিলা ফ্লেভার ব্যবহার করতে পারেন। ভ্যানিলা না থাকলে সামান্য সাদা এলাচের গুঁড়া অথবা অল্প লেবুর রস ব্যবহার করা যায়।

৫. সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। ময়দার বড় দলা যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৬. আগে তৈরি করে রাখা ডিমের ফোম অল্প অল্প করে ব্যাটারের সঙ্গে যোগ করুন। চামচ বা স্প্যাটুলা দিয়ে এক দিক থেকে নিচের অংশ ওপরে তুলে খুব আলতোভাবে মেশান।

ফোম তৈরি না করলে

ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে ফোম তৈরি করতে না চাইলে ডিম, চিনি ও অন্যান্য উপকরণের মিশ্রণটি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণে যত ভালোভাবে বাতাস প্রবেশ করবে, কেক তত হালকা হওয়ার সুযোগ পাবে।

কেকের পাত্র প্রস্তুত করা

কেক তৈরির জন্য চওড়া মুখের তাপসহনীয় ধাতব পাত্র, সসপ্যান, ধাতব টিফিন বক্স অথবা ছোট পাতিল ব্যবহার করতে পারেন। পাত্রটি যেন চুলার ওপর রাখা বড় হাঁড়ি বা কড়াইয়ের মধ্যে সহজে বসানো যায়।

পাত্রের নিচ ও চারপাশে ভালোভাবে তেল মেখে নিন। এরপর পাত্রের মাপ অনুযায়ী কাটা বেকিং পেপার নিচে বসিয়ে দিন। বেকিং পেপার না থাকলে তেল মাখানোর পর সামান্য ময়দা ছিটিয়ে নিতে পারেন।

কাগজ ব্যবহারে সতর্কতা

খাতার পৃষ্ঠা, সংবাদপত্র, মুদ্রিত কাগজ বা লেখাযুক্ত কাগজ ব্যবহার করবেন না। কেকের জন্য তৈরি বেকিং বা পার্চমেন্ট পেপার ব্যবহার করাই উপযুক্ত।

প্রস্তুত পাত্রে ব্যাটার আস্তে করে ঢেলে দিন। পাত্রটি পুরোপুরি ভরবেন না। কেক ফুলে ওঠার জন্য ওপরের দিকে পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখুন।

ব্যাটার ঢালার পর পাত্রটি সমতল জায়গায় দুই বা তিনবার আলতোভাবে টোকা দিন। এতে ব্যাটারের ভেতরে থাকা বড় বাতাসের ফাঁকা অংশ বেরিয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে পরিষ্কার টুথপিক দিয়ে ব্যাটারের ওপর হালকাভাবে কয়েকটি রেখা টেনে দিতে পারেন।

মাটির চুলায় কেক তৈরির পদ্ধতি

১. মাটির চুলার ওপর একটি গভীর ও ভারী হাঁড়ি বা কড়াই বসান। হাঁড়ির ভেতরে বালি অথবা লবণ দিয়ে তার ওপর একটি শক্ত ও তাপসহনীয় ধাতব স্ট্যান্ড রাখুন।

২. ঢাকনা দিয়ে হাঁড়ি বা কড়াইটি প্রায় ১০ মিনিট গরম করে নিন। গরম করার সময় পাত্রটি স্থির আছে কি না এবং চুলার আগুন নিরাপদ মাত্রায় আছে কি না খেয়াল রাখুন।

৩. হাঁড়ি গরম হলে সাবধানে কেকের পাত্রটি স্ট্যান্ডের ওপর বসান। কেকের পাত্র যেন বালি, লবণ অথবা হাঁড়ির তলার সঙ্গে সরাসরি লেগে না থাকে।

৪. হাঁড়ির মুখ ভালোভাবে ঢেকে দিন, যাতে ভেতরের তাপ সহজে বেরিয়ে না যায়। এরপর মাঝারি থেকে কম আঁচে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট কেকটি রাখুন।

৫. প্রথম ৩০ মিনিট ঢাকনা না খোলাই ভালো। মাটির চুলার আগুন, জ্বালানি, পাত্রের পুরুত্ব ও আকার অনুযায়ী কেক তৈরি হতে কিছুটা কম বা বেশি সময় লাগতে পারে।

নিরাপত্তা সতর্কতা

মাটির চুলা খোলামেলা ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ব্যবহার করুন। ধোঁয়া জমে থাকে এমন বন্ধ ঘরে কাঠ, খড় বা অন্য কঠিন জ্বালানি পোড়ানো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চুলার ওপর হাঁড়ি ও স্ট্যান্ড স্থিরভাবে বসান। ঢিলেঢালা বা আগুন ধরে যেতে পারে এমন কাপড় চুলার কাছে রাখবেন না।

গরম ঢাকনা খোলার সময় মুখ ও হাত সরাসরি বাষ্পের ওপরে রাখবেন না। শিশুদের আগুন ও গরম পাত্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন।

কেক হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

কেক ফুলে উঠলে এবং চারপাশ হালকা বাদামি হলে মাঝখানে একটি পরিষ্কার টুথপিক ঢুকিয়ে পরীক্ষা করুন। টুথপিক পরিষ্কার অবস্থায় বের হলে বুঝবেন কেক তৈরি হয়েছে। ব্যাটার লেগে থাকলে আরও কিছুক্ষণ কম আঁচে রাখুন।

মোটা শুকনা কাপড় অথবা তাপরোধী দস্তানা ব্যবহার করে গরম পাত্রটি চুলা থেকে নামান। পাত্রটি নিরাপদ স্থানে রেখে কেক ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

কেক কিছুটা ঠান্ডা হলে পাতলা ছুরি দিয়ে পাত্রের চারপাশ আলতোভাবে ছাড়িয়ে নিন। এরপর একটি প্লেটের ওপর পাত্রটি উল্টে কেক বের করুন এবং নিচের বেকিং পেপার তুলে ফেলুন।

কেকের নিচের কোনো অংশ অতিরিক্ত কালচে হয়ে গেলে সেই অংশটুকু ছুরি দিয়ে কেটে বাদ দিতে পারেন। এরপর পছন্দমতো আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

কেকের গঠন পরীক্ষা

কেকের ওপর আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দেওয়ার পর সেটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে এলে বুঝবেন কেকটি নরম ও সুন্দরভাবে তৈরি হয়েছে।

শেষ কথা

ঘরে ওভেন না থাকলেও মাটির চুলায় কেক তৈরি করা সম্ভব। প্রথমবার প্রত্যাশামতো না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। উপকরণ ভালোভাবে মেশানো, ডিমের ফোম আলতো হাতে ব্যাটারে যুক্ত করা এবং চুলার তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সুন্দর কেক তৈরি করা যাবে, ইনশাআল্লাহ।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
আশরাফুন নেছা আমি আশরাফুন নেছা। ঘরোয়া রান্না, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, মাছ-মাংসের পদ, পিঠা-মিষ্টি, নাশতা এবং সহজ বেকিংয়ের রেসিপি নিয়ে লিখি। পরিচিত উপকরণ ব্যবহার করে সহজভাবে সুস্বাদু খাবার তৈরির অভিজ্ঞতা পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই আমার লেখার প্রধান উদ্দেশ্য। রান্নার পাশাপাশি কাপড়ে ব্লক প্রিন্টসহ ঘরোয়া সৃজনশীল কাজ নিয়েও লিখতে আগ্রহী।