কীর্তিমান বাঙালির আলোয়: কয়েকটি নাম, বহু পথের উত্তরাধিকার

সাধক, সংস্কারক, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, শিল্পী এবং গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অনুসন্ধান।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ২
কীর্তিমান বাঙালির আলোয়: কয়েকটি নাম, বহু পথের উত্তরাধিকার
সন্ধ্যার সোনালি আলোয় পুরোনো বাংলা পাঠাগারের কাঠের টেবিলে খোলা পাণ্ডুলিপি; পাশে কলম, বই, প্রিজম, তুলি, চলচ্চিত্রের রিল ও গোলক বাঙালির সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও চলচ্চিত্রের বহুমাত্রিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরছে।

ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার

কয়েকটি উজ্জ্বল নাম একটি জাতির ইতিহাসকে আলোকিত করতে পারে, কিন্তু সেই ইতিহাসের সমস্ত আলো কখনো একা ধারণ করতে পারে না।

একটি জাতির ইতিহাস কি কয়েকজন কীর্তিমান মানুষের নাম দিয়ে লেখা যায়? হয়তো যায় না। তবু ইতিহাসের দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ এমন আলো জ্বেলে যান, যা তাঁদের নিজের জীবনকাল অতিক্রম করে পরবর্তী প্রজন্মের পথও দৃশ্যমান করে। তাঁদের কেউ ধর্মীয় সাধক, কেউ সমাজসংস্কারক, কেউ কবি, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, শিল্পী, চলচ্চিত্রকার কিংবা ক্রীড়াবিদ। আবার এমন অসংখ্য মানুষও আছেন, যাঁদের নাম কোনো তালিকায় নেই, অথচ তাঁদের শ্রম ছাড়া বিখ্যাত মানুষদের কীর্তিও সম্পূর্ণ হতো না।

বাঙালির ইতিহাসও কোনো একক ধর্ম, শ্রেণি, অঞ্চল বা রাষ্ট্রের ইতিহাস নয়। বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সীমানার বহু আগে গৌড়, বঙ্গ, রাঢ়, পুণ্ড্র, সমতটসহ নানা জনপদ নিয়ে এই ভূগোল গড়ে উঠেছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, ভাষা, বিশ্বাস, বাণিজ্যপথ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সংযোগে বাঙালি পরিচয় বিকশিত হয়েছে।

এই লেখা কোনো চূড়ান্ত তালিকা নয়। এখানে উল্লেখিত ব্যক্তিরা বাঙালির সম্পূর্ণ ইতিহাসের প্রতিনিধি নন। কয়েকটি নাম ও ঐতিহাসিক ধারার মধ্য দিয়ে বহুমাত্রিক উত্তরাধিকারের দিকে ফিরে তাকানোই এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।

নামহীন নির্মাতাদের বাংলা

বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা বলার আগে তাঁদের পেছনে থাকা অসংখ্য নামহীন মানুষের কথা স্বীকার করা প্রয়োজন। বাংলার কৃষক, তাঁতি, কুমার, কামার, মৃৎশিল্পী, নৌকার কারিগর, পটুয়া, বাউল, কবিয়াল, মাঝি, পালাকার, রাঁধুনি এবং গৃহস্থালির জ্ঞান বহনকারী নারীরা মিলেই বাংলার বস্তুগত ও লোকায়ত সংস্কৃতি নির্মাণ করেছেন।

একটি নকশিকাঁথা, মাটির পাত্র, তাঁতের শাড়ি, লোকগান, পালাগান, নৌকার নকশা কিংবা আঞ্চলিক রান্নার পদ্ধতিও ইতিহাসের দলিল। লিখিত গ্রন্থের বাইরে এসব বস্তু ও মৌখিক ঐতিহ্যে মানুষের জীবনযাপন, শ্রম, পরিবেশজ্ঞান এবং সৌন্দর্যবোধ সংরক্ষিত থাকে।

তাই বাঙালির কীর্তির ইতিহাস শুধু “মহাপুরুষ” বা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বের ইতিহাস হতে পারে না। এটি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সৃষ্টিরও ইতিহাস।

মধ্যযুগের ভক্তি, মানবতা ও পুঁথির জগৎ

ষোড়শ শতকে শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাব বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব ধর্মজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। সমবেত কীর্তন, নৃত্য এবং কৃষ্ণভক্তির আবেগ তাঁর অনুসারীদের ধর্মীয় অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে স্থান পায়। তাঁর গৌড়ীয় বৈষ্ণবধারা পরবর্তী সময়ে বাংলা ও বৃহত্তর অঞ্চলের ভক্তিসাহিত্য, সংগীত ও ধর্মীয় আচারে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে।

তবে চৈতন্যের আন্দোলনকে আধুনিক অর্থে একটি সম্পূর্ণ সামাজিক সাম্যের বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ নয়। বরং বলা যায়, তাঁর সমবেত ভক্তিধারা ধর্মীয় আবেগকে বৃহত্তর জনপরিসরে নিয়ে গিয়েছিল এবং বাংলা কীর্তন ও বৈষ্ণব সাহিত্যের বিকাশে নতুন শক্তি যোগ করেছিল।

একই সময়ে এবং পরবর্তী কয়েক শতকে বাংলা সাহিত্য শুধু বৈষ্ণব ধারায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। মঙ্গলকাব্য, পীরসাহিত্য, সুফি কাব্য, অনুবাদসাহিত্য, আরাকান রাজসভার বাংলা সাহিত্য এবং লোকায়ত ধর্মীয় কাহিনি বাংলা ভাষাকে নানা উৎস থেকে সমৃদ্ধ করেছে। দৌলত কাজী, আলাওল, সৈয়দ সুলতানসহ বহু মুসলিম কবির সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষার মধ্যযুগীয় ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ।

এই বিস্তৃত সাহিত্যিক উত্তরাধিকার উদ্ধারে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি প্রাচীন বাংলা পুঁথি সংগ্রহ, সম্পাদনা ও তালিকাভুক্ত করে বিস্মৃত বহু কবি ও রচনাকে পাঠকের সামনে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর সংগৃহীত বহু পাণ্ডুলিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।

বাংলার লোকায়ত মানবতাবাদের আরেক শক্তিশালী নাম লালন শাহ। জাত, ধর্ম, সামাজিক পরিচয় ও মানুষের অন্তর্গত সত্য নিয়ে তাঁর গান প্রশ্ন তোলে। লালনের তাৎপর্য শুধু একজন সাধক বা গীতিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর গান বাংলার বহুত্ববাদী ও প্রশ্নমুখী চেতনার গভীর উৎস।

ঔপনিবেশিক পরিবর্তন ও নবজাগরণের সীমা

উনিশ শতকে কলকাতাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, সংবাদপত্র, মুদ্রণ, সাহিত্য, ধর্মীয় চিন্তা ও সমাজসংস্কারে যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে সাধারণত বঙ্গীয় রেনেসাঁ বা বাংলার নবজাগরণ বলা হয়। কিন্তু এটি সমগ্র বাংলার সব শ্রেণি, ধর্ম ও অঞ্চলের সমান অংশগ্রহণে সংঘটিত কোনো একরৈখিক জাগরণ ছিল না। কলকাতার শিক্ষিত ও তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত সমাজ, ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান, ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদ, মিশনারি এবং স্থানীয় পণ্ডিতদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিরোধের মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তন গড়ে ওঠে।

রাজা রামমোহন রায় এই পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, বাংলা ও ইংরেজিসহ একাধিক ভাষা ও জ্ঞানধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা, একেশ্বরবাদ, শিক্ষা, যুক্তিবাদ এবং সামাজিক সংস্কারের প্রশ্নে তিনি নতুন বিতর্কের পথ খুলে দেন। ১৮২৮ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম সভা পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্ম সমাজ নামে পরিচিত হয়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শিক্ষাবিস্তার, বাংলা গদ্য, শিশুশিক্ষা, নারীশিক্ষা এবং বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর রচিত বর্ণপরিচয় বাংলা শিশুশিক্ষার ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তাঁকে কেবল দয়ার প্রতীক হিসেবে দেখলে তাঁর যুক্তিবোধ, শিক্ষাচিন্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের গভীরতা আড়াল হয়ে যায়।

শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস হিন্দু সাধনার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের সাধনপদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর উপলব্ধিতে ধর্মীয় পথ ভিন্ন হলেও ঈশ্বরসন্ধানের লক্ষ্য অভিন্ন। স্বামী বিবেকানন্দ এই মানবসেবা ও বেদান্তচিন্তাকে বিশ্বপরিসরে পরিচিত করেন এবং শিক্ষা ও জনসেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

পূর্ববাংলার যুক্তিবাদ ও নারীজাগরণ

বাংলার আধুনিকতার ইতিহাস কলকাতাতেই থেমে থাকেনি। বিশ শতকের তৃতীয় দশকে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে “বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন”। কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেনসহ এই ধারার চিন্তকেরা ধর্ম, সমাজ, সাহিত্য এবং হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ককে যুক্তি ও মুক্তবুদ্ধির আলোয় বিচার করতে চেয়েছিলেন।

নারীশিক্ষা ও নারীর আত্মমর্যাদার ইতিহাসে বেগম রোকেয়া এক অনিবার্য নাম। প্রবন্ধ, কথাসাহিত্য, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠনের মাধ্যমে তিনি নারীকে শিক্ষা ও স্বাধীন চিন্তার অধিকার দেওয়ার সংগ্রাম করেছেন। তাঁর রচনা শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সমালোচনা নয়, নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য ও বিকল্প ভবিষ্যতের কল্পনাও।

বিদ্যাসাগর, বেগম রোকেয়া, কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা পরবর্তী সময়ের সুফিয়া কামালকে স্মরণ করলে বোঝা যায়, নারী কেবল সংস্কারের সুবিধাভোগী ছিলেন না। তাঁরা নিজেরাই শিক্ষা, সাহিত্য, চিকিৎসা, সামাজিক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের নির্মাতা।

ব্যবসা, উদ্যোগ ও অবকাঠামোর ইতিহাস

বাঙালির ইতিহাসে সাহিত্যিক ও সাধকদের তুলনায় ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ও কারিগরদের কথা কম আলোচিত হয়। অথচ নদীপথ, বন্দর, জাহাজ, কয়লা, কাপড়, মুদ্রণ, রেলপথ ও নগর অবকাঠামো ছাড়া আধুনিক বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সম্ভব ছিল না।

আঠারো শতকের শেষ ভাগ ও উনিশ শতকের প্রথম ভাগে রামদুলাল দে বঙ্গ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর ব্যবসায়িক জীবন দেখায়, ঔপনিবেশিক অর্থনীতির কঠোর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্থানীয় মধ্যস্থতাকারী ও বণিকেরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভূমিকা রেখেছিলেন।

দ্বারকানাথ ঠাকুর জমিদারি, কয়লা, নৌপরিবহন ও যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবন ঔপনিবেশিক অর্থনীতিতে দেশীয় উদ্যোগের সম্ভাবনা যেমন দেখায়, তেমনি সেই অর্থনীতির ক্ষমতা ও অসমতার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক স্মরণ করিয়ে দেয়।

পরবর্তী প্রজন্মে স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রকৌশল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নগর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হন। এই ব্যক্তিরা একই সময়ের ছিলেন না এবং তাঁদের ভূমিকার প্রকৃতিও এক ছিল না। তাই তাঁদের একটি সরল “ধনী বাঙালি” তালিকায় না রেখে বাংলার ব্যবসা ও শিল্পায়নের ভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা অধিক যথাযথ।

ভাষা ও সাহিত্যের বহমান উত্তরাধিকার

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস চর্যাপদ থেকে আধুনিক উপন্যাসে পৌঁছানো কোনো সরল রেখা নয়। বৌদ্ধ সহজিয়া কবিতা, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, পীরসাহিত্য, আরাকান রাজসভার কাব্য, অনুবাদসাহিত্য, লোকসাহিত্য, গদ্য এবং আধুনিক কথাসাহিত্য মিলিয়ে এই ইতিহাস গড়ে উঠেছে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের শক্তিশালী প্রয়োগ এবং সনেটচর্চার প্রতিষ্ঠায় পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। তিনি সনেটের উদ্ভাবক নন, কিন্তু বাংলা ভাষায় এই কাব্যরীতিকে নতুন শিল্পসম্ভাবনা দিয়েছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসকে শক্তিশালী শিল্পমাধ্যমে পরিণত করার অন্যতম প্রধান কারিগর। তাঁর সাহিত্যিক কীর্তির পাশাপাশি ইতিহাসচিন্তা এবং জাতীয়তাবাদী কল্পনার জটিল প্রভাবও আলোচনার দাবি রাখে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও চিত্রকলায় বিস্তৃত সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে Nobel Prize লাভ করেন। তাঁর দুটি গান বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো পুরস্কারে সীমাবদ্ধ নয়; বাংলা ভাষা ও বাঙালির অনুভবকে তিনি নতুন প্রকাশভঙ্গি, সংগীতভাষা এবং বিশ্বমুখী মানবতাবাদ দিয়েছিলেন।

কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ, সাম্য, ঔপনিবেশিক বিরোধিতা, শ্রমজীবী মানুষ, নারীস্বাধীনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কণ্ঠ। কবিতা, গান ও সাংবাদিকতায় তিনি বাংলা ভাষার আরবি-ফারসি এবং সংস্কৃতনির্ভর শব্দভান্ডারকে নতুন শক্তিতে মিলিয়েছেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আশাপূর্ণা দেবী, জীবনানন্দ দাশ, সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমান, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মহাশ্বেতা দেবী, হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং আরও বহু সাহিত্যিক মানুষ, প্রকৃতি, পরিবার, শ্রেণি, দেশভাগ, নগরজীবন ও রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতাকে ভিন্নভাবে ধারণ করেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়, “দাঁড়াও”

“মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও।”

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই সংক্ষিপ্ত আহ্বান কীর্তির অর্থকেও নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। শুধু বিখ্যাত হওয়া নয়, মানুষের জীবনকে স্পর্শ করতে পারাই হয়তো উত্তরাধিকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

বিজ্ঞান, গণিত ও অর্থনীতির আলো

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের ধর্ম এবং জীব ও জড়ের উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষামূলক গবেষণা করেন। তিনি পদার্থবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের সীমার মধ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং নিজস্ব গবেষণাযন্ত্রও নির্মাণ করেছিলেন।

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রসায়ন গবেষণা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং দেশীয় শিল্পোদ্যোগকে একই জীবনদর্শনের মধ্যে যুক্ত করেন। বিজ্ঞান তাঁর কাছে শুধু পরীক্ষাগারের বিষয় ছিল না; শিক্ষা, উৎপাদন ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ১৯২৪ সালের গবেষণা আলবার্ট আইনস্টাইনের সম্প্রসারণের মাধ্যমে Bose-Einstein statistics-এর ভিত্তি গড়ে তোলে। পূর্ণসংখ্যা স্পিনবিশিষ্ট যে কণাগুলো এই পরিসংখ্যান অনুসরণ করে, তাঁর নামানুসারে সেগুলোকে boson বলা হয়।

মেঘনাদ সাহার ১৯২০ সালের তাপীয় আয়নীকরণ সমীকরণ নক্ষত্রের তাপমাত্রা, মৌলের আয়নীকরণ-অবস্থা এবং পর্যবেক্ষিত বর্ণালির সম্পর্ক ব্যাখ্যায় মৌলিক ভূমিকা রাখে। তাঁর কাজ দেখায় যে বাংলার বিজ্ঞানচর্চা বিশ্ববিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।

অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন কল্যাণ অর্থনীতি, সামাজিক পছন্দ, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ১৯৯৮ সালে welfare economics-এ অবদানের জন্য তিনি Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel লাভ করেন। তাঁর কাজ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে শুধু আয় দিয়ে নয়, মানুষের বাস্তব স্বাধীনতা ও জীবনযাপনের সুযোগ দিয়ে বিচার করার আলোচনাকে শক্তিশালী করেছে।

ভাষা আন্দোলন: ব্যক্তির চেয়ে বড় সম্মিলিত কীর্তি

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষার প্রশ্ন পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত করে। তমদ্দুন মজলিস, ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালায়।

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ এই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু ভাষা আন্দোলন শুধু কয়েকটি পরিচিত নামের ইতিহাস নয়। অসংখ্য সংগঠক, শিক্ষার্থী, নারী, শ্রমজীবী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এটি গড়ে উঠেছিল।

বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালের UNESCO General Conference-এ ২১ ফেব্রুয়ারিকে International Mother Language Day হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ২০০০ সাল থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও সম্মিলিত আত্মনিয়ন্ত্রণ

ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রশাসনিক বঞ্চনা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং গণতান্ত্রিক রায় অস্বীকারের দীর্ঘ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফল অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সশস্ত্র প্রতিরোধকে অনিবার্য করে তোলে।

এই যুদ্ধ কোনো একজন ব্যক্তির একক কীর্তি নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সশস্ত্র যোদ্ধা, শহীদ, নির্যাতিত নারী, শরণার্থী, শিল্পী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, কৃষক, শ্রমিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তোলা মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

তাই বাঙালির কীর্তির ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধকে শুধু কয়েকটি বিখ্যাত নামের পাশে সংক্ষিপ্ত উল্লেখ হিসেবে রাখা যায় না। এগুলো জনগণের সম্মিলিত আত্মনিয়ন্ত্রণের ইতিহাস।

চিত্রকলা, মঞ্চ, সংগীত ও চলচ্চিত্র

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক একাডেমিক শিল্পরীতির বিপরীতে ভারতীয় ঐতিহ্যের নতুন পাঠ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসু এই পরিসরকে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিস্তৃত করেন। পরবর্তী সময়ে জয়নুল আবেদিনের দুর্ভিক্ষচিত্র, কামরুল হাসানের লোকশিল্পনির্ভর আধুনিকতা এবং নভেরা আহমেদের ভাস্কর্য বাংলাদেশের শিল্পের নতুন ভাষা তৈরি করে।

বাংলা রঙ্গমঞ্চে গিরিশচন্দ্র ঘোষ, বিনোদিনী দাসী, শিশিরকুমার ভাদুড়ী, শম্ভু মিত্র ও তৃপ্তি মিত্র বিভিন্ন সময়ের অভিনয়, নাট্যরচনা ও মঞ্চনির্মাণের প্রতিনিধি। বিনোদিনী দাসীর জীবন বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়, শিল্পীর প্রতিভা, জনপ্রিয়তা ও সামাজিক মর্যাদা সব সময় সমান ছিল না।

বাংলা সংগীতের ইতিহাস ব্যক্তির তালিকার চেয়েও বিস্তৃত। বৈষ্ণব কীর্তন, বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান এবং চলচ্চিত্রের গান পরস্পরের সংযোগ ও পার্থক্যের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। রবিশঙ্কর, আলি আকবর খান, উদয়শঙ্কর, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, কিশোর কুমার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আব্বাসউদ্দীন আহমদ, আবদুল আলীম, ফেরদৌসী রহমান ও রুনা লায়লাসহ অসংখ্য শিল্পী এই বিস্তৃত সংগীতভুবনের অংশ।

বাংলার চলচ্চিত্রের ইতিহাসও সত্যজিৎ রায়ে শুরু হয়নি। ১৮৯৮ সালে হীরালাল সেন Royal Bioscope Company প্রতিষ্ঠা করেন এবং নাট্যদৃশ্য, বিজ্ঞাপন, সংবাদ ও প্রামাণ্যধর্মী খণ্ডচিত্র নির্মাণে পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে সত্যজিৎ রায় মানবিক পর্যবেক্ষণ, সাহিত্য, দৃশ্যভাষা ও সংগীতকে একত্র করে বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বপরিসরে পরিচিত করেন। ঋত্বিক ঘটক দেশভাগ, বিচ্ছিন্নতা ও উদ্বাস্তু জীবনের ক্ষতকে চলচ্চিত্রের ভাষায় ধারণ করেন। মৃণাল সেন নগরজীবন, শ্রেণি ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে পরীক্ষা চালান।

পূর্ববঙ্গ ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রও নিজস্ব ধারা নির্মাণ করেছে। জহির রায়হান, আলমগীর কবির, খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, শেখ নিয়ামত আলী, মসিহউদ্দীন শাকের এবং পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাতারা ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে পর্দায় এনেছেন।

খেলাধুলা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির স্মৃতি

ফুটবলে গোষ্ঠ পাল ও চুনী গোস্বামী, ক্রিকেটে পঙ্কজ রায় ও সৌরভ গাঙ্গুলী তাঁদের সময়ের স্মরণীয় নাম। বাংলাদেশে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, আর্চারি এবং নারী ক্রীড়ার বিকাশও বাঙালির ক্রীড়া-ইতিহাসকে বিস্তৃত করেছে।

জাদুশিল্পে পি. সি. সরকার মঞ্চের জাদুকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত করেন। তাঁর কাজ দেখায়, জনপ্রিয় বিনোদনও সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

শ্রেষ্ঠত্ব নয়, উত্তরাধিকারের প্রশ্ন

এত মানুষের কাজ একসঙ্গে দেখলে গর্ব জাগে। সেই গর্ব স্বাভাবিক। কিন্তু অন্য কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীকে ছোট করে বাঙালির কীর্তি বড় করার প্রয়োজন নেই। ইতিহাস কোনো প্রতিযোগিতার ফলাফল নয়, যেখানে একটি জাতিকে প্রথম এবং অন্যদের দ্বিতীয় ঘোষণা করতে হবে।

বাঙালির সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তার কথিত বিশুদ্ধতায় নয়, বরং গ্রহণ, বিনিময়, বিরোধ এবং পুনর্নির্মাণের দীর্ঘ ক্ষমতায়। বহু ধর্ম, অঞ্চল, ভাষাভঙ্গি, শ্রেণি ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মিলনেই এই উত্তরাধিকার গড়ে উঠেছে।

এই উত্তরাধিকারের কোনো একক মালিক নেই। শ্রীচৈতন্য, লালন, রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রোকেয়া, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জগদীশচন্দ্র কিংবা সত্যেন্দ্রনাথ বসু কেউ একা বাংলা নির্মাণ করেননি। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত আছে নামহীন শিক্ষক, মুদ্রাকর, কারিগর, পাঠক, গায়ক, কর্মী, কৃষক, শিল্পী, প্রতিবাদী মানুষ এবং অসংখ্য পরিবারের ইতিহাস।

তাঁদের স্মরণ করার অর্থ শুধু গৌরব অনুভব করা নয়। তাঁদের কাজের সীমা, বিরোধ, সময় এবং অসম্পূর্ণতাও জানা। ইতিহাসকে সম্মান করার সবচেয়ে ভালো উপায় সম্ভবত তাকে নির্ভুলতার সঙ্গে দেখা এবং বিস্মৃত মানুষদের জন্যও জায়গা তৈরি করা।

কীর্তিমানদের আলো তখনই অর্থবহ, যখন সেই আলো মানুষের দিকে ফিরে আসে। তাই শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক:

“মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও।”

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

১. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “বাঙালি জাতি।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

২. আবদুল মমিন চৌধুরী। “বাঙ্গালাহ।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

৩. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “বঙ্গীয় রেনেসাঁ।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

৪. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “সংস্কৃতি, বস্তুগত।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

৫. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “চৈতন্য, শ্রী” এবং “রামকৃষ্ণ, শ্রী।” বাংলাপিডিয়া। চৈতন্যের জীবনী; রামকৃষ্ণের জীবনী

৬. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “রায়, রাজা রামমোহন” এবং “ব্রাহ্ম সভা।” বাংলাপিডিয়া। রামমোহনের জীবনী; ব্রাহ্ম সভা

৭. প্রফুল্লকুমার ভাবুক। “বর্ণপরিচয়।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

৮. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “শাশ্বত বঙ্গ” এবং “করিম, সাহিত্যবিশারদ আবদুল।” বাংলাপিডিয়া। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট; আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ

৯. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “দত্ত, মাইকেল মধুসূদন” এবং “ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ।” বাংলাপিডিয়া। মধুসূদনের জীবনী; রবীন্দ্রনাথের জীবনী

১০. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “বসু, আচার্য জগদীশচন্দ্র।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

১১. Nobel Prize Outreach. “Amartya Sen: Facts.” ১৯৯৮ সালের পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক কারণ ও গবেষণাক্ষেত্র। Official Nobel source

১২. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “ভাষা আন্দোলন” এবং “একুশে ফেব্রুয়ারি।” বাংলাপিডিয়া। ভাষা আন্দোলন; একুশে ফেব্রুয়ারি

১৩. UNESCO. “International Mother Language Day.” বাংলাদেশের উদ্যোগ, ১৯৯৯ সালের অনুমোদন এবং ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালন। Official UNESCO source

১৪. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “মুক্তিযুদ্ধ।” বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। উৎস দেখুন

১৫. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। “চলচ্চিত্র, পূর্ণদৈর্ঘ্য”, “চলচ্চিত্র সংসদ” এবং “চলচ্চিত্র উৎসব।” বাংলাপিডিয়া। চলচ্চিত্রের ইতিহাস; চলচ্চিত্র সংসদ; চলচ্চিত্র উৎসব

১৬. Harvard University, Department of Economics. “Amartya Sen.” গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক পরিচয়। Institutional profile

গবেষণা-সমৃদ্ধ পুনর্গঠিত সংস্করণ: প্রাথমিক লেখাটি ৯ মে ২০২২ তারিখে The BackSpace Journal-এ প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমান সংস্করণে মূল লেখকের সাংস্কৃতিক গর্ব, মানবিক আবেদন ও কীর্তিমান বাঙালিদের স্মরণ করার উদ্দেশ্য সংরক্ষণ করে ইতিহাসের পরিসর, দুই বাংলার প্রতিনিধিত্ব, ব্যক্তির পরিচয়, কালক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ দাবি নতুন গবেষণার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা হয়েছে।

মূল ভাবনা ও প্রাথমিক রচনা: শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত | গবেষণা, তথ্য যাচাই, পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ: অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল | সম্পাদিত সংস্করণের প্রকাশনা ও কপিরাইট: অভিযাত্রী

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত আমি স্মৃতি দত্ত। আদালতের পেশাগত জগৎ থেকে সাহিত্য ও সংগীতের সৃজনশীল পরিসর পর্যন্ত আমার পথচলা বিস্তৃত। পেশায় অ্যাডভোকেট হলেও লেখালেখিই আমার ভাবনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশের সবচেয়ে আপন মাধ্যম। ছোটগল্প, অণুগল্প, জীবনী, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ভ্রমণ নিয়ে লিখতে ভালোবাসি। কখনো একজন স্মরণীয় মানুষের জীবন আমাকে আকর্ষণ করে, কখনো একটি চলচ্চিত্র, আবার কখনো সংসারের খুব সাধারণ একটি সম্পর্কের মধ্যেই আমি গল্প খুঁজে পাই। আমি বঙ্গীয় সাহিত্যের সদস্য এবং কীবোর্ড বাজাতে ভালোবাসি। পাশাপাশি অ্যামওয়ে-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘কেমিস্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল ও টি.ভি শো’ এবং ‘লেনিন সাহেবের সাথে দেখা’। মানুষের জীবন, সময় ও স্মৃতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই।