“অশুভ” বলে কাকে দূরে রাখি: বৈধব্য, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর মর্যাদা

বৈধব্যকে ঘিরে সামাজিক কলঙ্ক, বিধবা নারীর অধিকার, ইতিহাস, আইন, বৈষম্য ও মর্যাদার লড়াই নিয়ে গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ।

প্রকাশিত:
হালনাগাদ:
 ০  ২
“অশুভ” বলে কাকে দূরে রাখি: বৈধব্য, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর মর্যাদা
খোলা জানালার পাশে লাল-কালো শাড়ি পরা এক ব্যক্তি বসে দূরের নদী ও স্থাপত্যের দিকে তাকিয়ে আছেন; সকালের কোমল আলো মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জীবনের রং বেছে নেওয়ার অধিকারের প্রতীক।

সমাজ • ইতিহাস • নারীর অধিকার

“অশুভ” বলে কাকে দূরে রাখি: বৈধব্য, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর মর্যাদা

জীবনসঙ্গী হারানো ব্যক্তিগত শোক। কিন্তু সেই শোকের সঙ্গে যখন পোশাক, খাবার, সম্পত্তি, চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণের নিষেধ যুক্ত হয়, তখন বৈধব্য একটি বৈষম্যমূলক সামাজিক পরিচয়ে পরিণত হয়।

লেখাটির প্রেক্ষাপট

এই নিবন্ধ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২৩ জুন ২০২২, আন্তর্জাতিক বিধবা দিবসে। মূল লেখায় ব্যক্তিগত ও শোনা আখ্যান, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, ধর্মীয় বিধানের সামাজিক ব্যবহার এবং মহারাষ্ট্রের একটি সংস্কারমূলক উদ্যোগের আলোকে বিধবা নারীর ওপর আরোপিত বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

বর্তমান প্রকাশনাটি মূল নিবন্ধের ভিত্তিতে প্রস্তুত গবেষণা-সমৃদ্ধ পুনর্গঠিত সংস্করণ। মূল লেখকের মানবিক অবস্থান ও প্রশ্নমুখী কণ্ঠ সংরক্ষণ করে সংখ্যাগত ভুল সংশোধন, ঐতিহাসিক ও আইনগত প্রেক্ষাপট হালনাগাদ এবং স্মৃতি, সাহিত্যিক উপস্থাপনা, যাচাইকৃত তথ্য ও সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ পৃথক করা হয়েছে।

একটি লাল ফিতার আখ্যান

মূল লেখায় রাজস্থানের এক কিশোরী বিধবার একটি আখ্যান এসেছে। বিয়ের পর পতিগৃহে স্থায়ীভাবে যাওয়ার আগেই মেয়েটির স্বামী মারা যায়। আখ্যানটিতে কিশোরীটি নিজের বাক্সে একটি লাল ফিতা লুকিয়ে রাখত এবং কখনো একা হলে সেটি চুলে লাগিয়ে রঙিন জীবনের কথা ভাবত।

আখ্যানের প্রমাণ-অবস্থা

ঘটনাটির স্বাধীন নথি, সাক্ষাৎকার বা প্রকাশিত মূল উৎস পুনরুদ্ধার করা যায়নি। তাই এটি কোনো যাচাইকৃত ঐতিহাসিক ঘটনার প্রমাণ নয়। মূল লেখায় বর্ণিত একটি মানবিক আখ্যান এবং রং ও ব্যক্তিসত্তা হারানোর প্রতীক হিসেবে দৃশ্যটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সময় বদলেছে। আইন বদলেছে। অনেক পরিবার ও সমাজেও পরিবর্তন এসেছে। তবু বৈধব্যের সঙ্গে যুক্ত কিছু পুরোনো ধারণা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কোনো কোনো পরিবারে স্বামী হারানো নারীর পোশাক, খাবার, অলংকার, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের হাতে থাকে না।

“বিধবা” শব্দটি তখন আর শুধু বৈবাহিক অবস্থার বর্ণনা থাকে না। এটি হয়ে ওঠে একটি সামাজিক ছাপ, যার মাধ্যমে একজন শোকাহত মানুষকে কখনো অশুভ, কখনো বোঝা, কখনো করুণার পাত্র এবং কখনো পরিবার ও সম্পত্তির প্রান্তিক দাবিদার হিসেবে দেখা হয়।

মূল উপলব্ধি

বৈধব্য নিজে কোনো অশুভ বা অকল্যাণকর অস্তিত্ব নয়। জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর পর যখন একজন নারীর পোশাক, খাদ্য, সম্পত্তি, চলাচল, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, তখন ব্যক্তিগত শোককে সমাজ একটি বৈষম্যমূলক পরিচয়ে রূপ দেয়।

খাবারের থালায়ও কি বৈধব্য লেখা থাকে?

মূল লেখায় বর্ণিত একটি পারিবারিক আখ্যানে এক বিধবা ঠাকুমা অসুস্থ নাতনির জন্য শিঙি বা মাগুর মাছের পাতলা ঝোল রান্না করতেন। রান্না শেষ হলে কাপড় ধুয়ে স্নান করতেন। পরে সেই ঠাকুমা অসুস্থ হলে নাতনি জানতে চেয়েছিল, এবার তাঁকে মাছের ঝোল রান্না করে দেবে কে?

আখ্যানটির বেদনা ছিল এখানেই। ঠাকুমা অন্যের জন্য মাছ রান্না করতে পারতেন, কিন্তু নিজের জন্য তা খাওয়া তাঁর ওপর আরোপিত সামাজিক বিধানে অনুমোদিত ছিল না। তাঁকে সাদা শাড়ি পরতে, নিরামিষ খেতে এবং নিজের প্রয়োজনকে শোকাচারের নিচে চাপা দিতে হতো।

আখ্যানের প্রমাণ-অবস্থা

এটি মূল লেখায় সংরক্ষিত পারিবারিক আখ্যান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বা স্বাধীন নথিগত উৎস পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটি কোনো সম্প্রদায়ের সব বিধবা নারীর অভিজ্ঞতা হিসেবে নয়, জবরদস্তিমূলক খাদ্যনিয়ন্ত্রণের একটি স্মৃতিনির্ভর উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ নিজে কোনো সমস্যা নয়। একজন মানুষ স্বেচ্ছায় ধর্মীয়, স্বাস্থ্যগত বা ব্যক্তিগত কারণে খাদ্যসংযম পালন করতে পারেন। সমস্যা তখনই, যখন বৈবাহিক অবস্থাকে কারণ দেখিয়ে একজন মানুষের খাদ্য, রং, পোশাক, অলংকার বা দৈনন্দিন জীবন অন্যরা নির্ধারণ করে দেয়।

স্বেচ্ছা আর জবরদস্তি এক নয়

একজন নারী নিজের বিশ্বাস থেকে সাদা পোশাক, উপবাস বা সংযম বেছে নিতে পারেন। কিন্তু পরিবার বা সমাজ তাঁকে বাধ্য করলে, অমান্য করার কারণে অপমানিত করলে অথবা সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে বাদ দিলে সেটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়; সেটি ব্যক্তি ও মর্যাদার ওপর নিয়ন্ত্রণ।

বৈশ্বিক বাস্তবতা: সংখ্যা আছে, তথ্যের ঘাটতিও আছে

জাতিসংঘের International Widows’ Day পৃষ্ঠায় বিশ্বে ২৫.৮ কোটির বেশি বিধবা নারীর একটি বহুল ব্যবহৃত estimate উল্লেখ করা হয়েছে। এই হিসাবের মূল ভিত্তি ২০১৫ সালের Loomba Foundation estimate; এটি ২০২৬ সালের তাৎক্ষণিক বিশ্বগণনা নয়। পরবর্তী উৎসে ভিন্ন estimate-ও পাওয়া যায়।

UN Women-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ২৫.৮ কোটির আনুমানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত ১৩.৬ লাখ শিশু-বিধবা রয়েছে। অর্থাৎ এমন মেয়ে, যাদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছিল এবং পরে স্বামী মারা গেছে। প্রকৃত সংখ্যা বেশি হতে পারে, কারণ বাল্যবিবাহ ও শিশু-বৈধব্যের অনেক ঘটনা আনুষ্ঠানিক তথ্যব্যবস্থায় ধরা পড়ে না।

পরিসংখ্যানগত সংজ্ঞাও সব বাস্তব সম্পর্ককে ধারণ করে না। কোথাও বিবাহ নিবন্ধিত নয়, কোথাও customary marriage রয়েছে, কোথাও সঙ্গী যুদ্ধ বা সংঘাতে নিখোঁজ, আবার কোথাও সহবাসী সঙ্গীর মৃত্যু ঘটেছে। ফলে আইনি marital status এবং বাস্তবে সঙ্গী হারানোর অভিজ্ঞতা সব ক্ষেত্রে এক নয়।

বৈধব্য সব নারীর জন্য একই অভিজ্ঞতা নয়। বয়স, আয়, শিক্ষা, জাতপাত, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতা, সন্তান, বাসস্থান, উত্তরাধিকার, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ অনুযায়ী অভিজ্ঞতা বদলায়। তবু বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পত্তি হারানো, দারিদ্র্য, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, সহিংসতা এবং জবরদস্তিমূলক শোকাচারের পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায়।

উৎস: United Nations, International Widows’ Day; UN Women, Explainer: What You Should Know About Widowhood; House of Lords Library, International Widows’ Day briefing.

ভারতের চিত্র: ৪০ শতাংশ নয়, তবু বিশাল জনগোষ্ঠী

ভারতীয় Hindu সমাজের ইতিহাস, আইন ও সামাজিক প্রথা এই নিবন্ধের প্রধান আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট। তবে ভারতের অভিজ্ঞতাকে বিশ্বের সব বিধবা নারীর অভিন্ন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা যাবে না।

ভারতের ২০১১ Census-ভিত্তিক সরকারি বিশ্লেষণে মোট বিধবা ও বিপত্নীক মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫.৬ কোটি। তাঁদের প্রায় ৭৮ শতাংশ ছিলেন নারী। সেই হিসাবে বিধবা নারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৪.৩ থেকে ৪.৪ কোটি।

বিশ্বে ২৫.৮ কোটি বিধবা নারীর বহুল ব্যবহৃত estimate-এর সঙ্গে তুলনা করলে ভারতের অংশ আনুমানিক ১৭ শতাংশের কাছাকাছি, ৪০ শতাংশের বেশি নয়। তবে ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিধবা জনগোষ্ঠী রয়েছে।

২০১১ সালের সরকারি বিশ্লেষণে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার শিশু-বিধবার উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি বৈধব্যের সঙ্গে বাল্যবিবাহের সম্পর্কও প্রকাশ করে। কিন্তু ২০১১ সালের পর নতুন পূর্ণাঙ্গ census ফল না থাকায় এই সংখ্যাগুলোকে ২০২৬ সালের বর্তমান population count বলা যাবে না।

উৎস: Census of India 2011; Press Information Bureau, Government of India, “A Ray of Hope for Widows”, ৭ জুন ২০১৬।

ধর্মীয় পাঠ, সামাজিক ব্যাখ্যা ও মতভেদ

Manusmriti-র পঞ্চম discourse-এর ১৫৬ থেকে ১৬০ নম্বর verse-এর বহুল ব্যবহৃত English translation-এ স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর অন্য পুরুষকে গ্রহণ না করা, আত্মসংযম বজায় রাখা এবং আজীবন এক স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার prescription পাওয়া যায়। Editionভেদে verse numbering সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

গ্রন্থটির নবম discourse-এর কয়েকটি verse-এ নারীর জীবনে পিতা, স্বামী ও পুত্রের কর্তৃত্বকে আদর্শ সামাজিক কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এসব পাঠ বিধবা নারীর পুনর্বিবাহ, চলাচল ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে ভারতীয় ধর্মীয় ও সামাজিক tradition কখনোই একরৈখিক ছিল না। একই ঐতিহ্যের ভেতরে ভিন্ন পাঠ, ব্যাখ্যা, বিরোধিতা এবং সংস্কারচেষ্টা ছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও Sanskrit textual tradition-এর বিকল্প ব্যাখ্যা ব্যবহার করে বিধবা পুনর্বিবাহের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।

অতএব কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থকে সব Hindu সম্প্রদায়, সব অঞ্চল এবং বর্তমানের সব বিশ্বাসীর অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখানো ভুল। একই সঙ্গে সেই গ্রন্থের নির্দিষ্ট patriarchal prescription সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেই ইতিহাস যাচাই ও সমালোচনা করাও প্রয়োজন।

পাঠসূত্র: Manusmriti with the Commentary of Medhatithi, English translation by Ganganatha Jha, Discourse V, verses ১৫৬–১৬০; verse numbering editionভেদে যাচাইযোগ্য।

আইন বদলেছিল, সমাজ কতটা বদলেছে?

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আন্দোলন এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যান্য সংস্কারচেষ্টার প্রেক্ষাপটে ১৮৫৬ সালে Hindu Widows’ Remarriage Act প্রণীত হয়। আইনটি Hindu widow-এর পুনর্বিবাহের আইনি বাধা অপসারণ এবং সেই বিবাহের সন্তানকে বৈধতা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।

তবে আইনটি পূর্ণাঙ্গ সমতার দলিল ছিল না। Section 2 অনুযায়ী পুনর্বিবাহের পর মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে বিধবার maintenance বা inheritance-ভিত্তিক কিছু অধিকার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শেষ হতে পারত। পুনর্বিবাহের আইনি সুযোগ তৈরি হলেও সম্পত্তি ও পরিবারের পুরোনো কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি।

ভারতে পরবর্তী Hindu Succession Act, 1956 intestate succession-এর ক্ষেত্রে widow-কে Class I heir-এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। Act-এর Section 8 থেকে 10 succession ও Class I heirs-এর মধ্যে বণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করে; Section 14 একজন Hindu নারীর আইনের অধীনে পাওয়া সম্পত্তিকে তাঁর পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তবে এই সাধারণ তথ্য কোনো নির্দিষ্ট সম্পত্তি-বিরোধের আইনি পরামর্শ নয়। Will, সম্পত্তির ধরন, অন্য উত্তরাধিকারী, applicable personal law এবং মামলার নির্দিষ্ট facts অনুযায়ী অধিকার বদলাতে পারে। কাগজে অধিকার থাকা এবং বাস্তবে সেই অধিকার ব্যবহার করাও এক বিষয় নয়।

আইনসূত্র: Hindu Widows’ Remarriage Act, 1856; India Code, Hindu Succession Act, 1956, Sections 8–10, 14 এবং Schedule।

বাংলাদেশের সীমিত jurisdiction note

১৮৫৬ সালের Hindu Widow’s Re-marriage Act বাংলাদেশের সরকারি আইনভান্ডারেও তালিকাভুক্ত। তবে আইনটির বর্তমান বিচারিক প্রয়োগ, সংশোধন, উত্তরাধিকার-বিধানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্দিষ্ট মামলায় প্রভাব পৃথক আইনগত বিশ্লেষণের বিষয়। ভারতের Hindu Succession Act বাংলাদেশের আইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।

সাহিত্য যে ব্যক্তিগত মূল্যটি দেখায়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস সেই সময় ঊনবিংশ শতকের Bengal Renaissance, সামাজিক orthodoxy, বাল্যবিবাহ এবং widow remarriage-এর দ্বন্দ্বকে কাহিনির অংশ করেছে। উপন্যাসের বিধবা বিন্দুবাসিনী এবং গঙ্গানারায়ণের সম্পর্ক সামাজিক বাধায় বিপর্যস্ত হয়। এটি ঐতিহাসিক উপাত্ত নয়, কিন্তু আইন ও সংস্কারের বৃহৎ বিতর্ক ব্যক্তিজীবনে কী মূল্য দাবি করেছিল, তার সাহিত্যিক উপস্থাপনা।

দীপা মেহতার ২০০৫ সালের চলচ্চিত্র Water ১৯৩৮ সালের ভারতকে পটভূমি করে একটি শিশু-বিধবাকে বিধবা আশ্রমে পাঠানোর কাহিনি নির্মাণ করেছে। চলচ্চিত্রটি child marriage, সামাজিক নির্বাসন, পুনর্বিবাহের taboo এবং ধর্মীয় বিধানের মানবিক পরিণতি অনুসন্ধান করে। এটিও documentary evidence নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক ও cinematic representation।

সাহিত্য ও চলচ্চিত্র পরিসংখ্যানের বিকল্প নয়। কিন্তু পরিসংখ্যানে যে তৃষ্ণা, অপমান, রং হারানো এবং ভবিষ্যৎ হারানোর অনুভূতি ধরা পড়ে না, শিল্প তা দৃশ্যমান করতে পারে।

বৃন্দাবন: একক গল্প নয়

বৃন্দাবন দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ও নিঃসহায় নারীদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। National Commission for Women-এর ২০০৯–১০ সালের একটি গবেষণায় ১৯৯৬ সালের হিসাব উদ্ধৃত করে পাঁচ হাজারের বেশি বিধবা ও নিঃসহায় নারীর কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আরও বড় সংখ্যা দিয়েছে, কিন্তু হালনাগাদ একক সরকারি গণনা পাওয়া যায় না।

সেখানে বসবাসকারী নারীদের সবার অভিজ্ঞতাও একই নয়। কেউ পরিবার থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, কেউ দারিদ্র্য ও আশ্রয়ের অভাবে গেছেন, আবার কেউ ধর্মীয় জীবন বা community support-এর সন্ধানে নিজের সিদ্ধান্তে সেখানে বসবাস করেছেন। স্বেচ্ছায় ধর্মীয় আশ্রয় গ্রহণ এবং পরিবার কর্তৃক নির্বাসিত হওয়া এক অভিজ্ঞতা নয়।

সংখ্যা অনিশ্চিত হলেও পরিচয়পত্র, পেনশন, ব্যাংক হিসাব, নিরাপদ বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তির অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকে।

উৎস: National Commission for Women, Study on Widows at Vrindavan, ২০০৯–১০।

হেরওয়াড়: একটি গ্রামের সামাজিক সিদ্ধান্ত

২০২২ সালের মে মাসে মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার হেরওয়াড় গ্রাম পঞ্চায়েত বৈধব্যকে ঘিরে কয়েকটি জবরদস্তিমূলক প্রথা বন্ধ করার resolution গ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর কপালের সিঁদুর মুছে দেওয়া, মঙ্গলসূত্র ও পায়ের আংটি খুলে নেওয়া, বালা ভাঙা এবং সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া।

গ্রামে COVID-19-এ স্বামী হারানো কয়েকজন নারীর অভিজ্ঞতা এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরে মহারাষ্ট্র সরকার অন্য gram panchayat-কে হেরওয়াড়ের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে circular দেওয়ার কথা বলা হয়। বর্তমান গবেষণায় সেই circular-এর পূর্ণ official text পুনরুদ্ধার করা যায়নি। তাই এই অংশটি independent media reporting-ভিত্তিক, সরাসরি সরকারি নথি-ভিত্তিক নয়।

উদ্যোগটিকে রাজ্যব্যাপী শাস্তিযোগ্য আইন বলা যাবে না। এটি স্থানীয় resolution, সামাজিক সচেতনতা এবং reported administrative encouragement-এর সমন্বয় ছিল।

সিদ্ধান্তটির মৌলিক গুরুত্ব

কোনো নারী চাইলে সিঁদুর, অলংকার বা রঙিন পোশাক ত্যাগ করতে পারেন। হেরওয়াড়ের সিদ্ধান্তের মূল নীতি ছিল, মৃত্যুশোকের মুহূর্তে পরিবার বা সমাজ যেন তাঁর শরীর, পোশাক ও সামাজিক পরিচয়ের ওপর জোরপূর্বক অধিকার প্রতিষ্ঠা না করে।

প্রস্তাবিত Bill, আইন নয়

৫ আগস্ট ২০২২ তারিখে Lok Sabha-তে The Protection of Rights of Widows and Single Women and Abolishment of Widowhood Practices Bill, 2022 নামে একটি Private Member’s Bill উত্থাপিত হয়েছিল। প্রস্তাবটিতে বিধবা ও single women-এর অধিকাররক্ষা এবং জবরদস্তিমূলক widowhood practice বিলোপের কাঠামো প্রস্তাব করা হয়।

Bill উত্থাপন এবং আইন পাস হওয়া এক নয়। সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বর্তমান গবেষণায় Bill-টি আইনে পরিণত হওয়ার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই একে কেবল প্রস্তাবিত legislative initiative হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।

COVID-19: সংকট বেড়েছে, কিন্তু সংখ্যা দ্বিগুণের প্রমাণ নেই

COVID-19 মহামারি বহু নারীকে নতুনভাবে বৈধব্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে আগে থেকেই বিধবা নারীদের আয়, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, পেনশন, সামাজিক সহায়তা এবং মানসিক সুস্থতার সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

তবে বৈশ্বিক বিধবা নারীর মোট সংখ্যা মহামারিতে দ্বিগুণ হয়েছে, এমন নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। মানবিক ক্ষতির গুরুত্ব বোঝাতে অসমর্থিত বড় সংখ্যা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। নথিভুক্ত বাস্তবতাই যথেষ্ট গুরুতর।

২৩ জুন: করুণার নয়, অধিকারের দিন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২১ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে Resolution A/RES/65/189 গ্রহণ করে ২৩ জুনকে International Widows’ Day হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১১ সালে জাতিসংঘ পর্যায়ে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হয়।

এই দিনটি বিধবা নারীর প্রতি করুণা প্রদর্শনের আয়োজন নয়। এটি উত্তরাধিকার, সম্পত্তি, নিরাপদ বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন, ব্যাংকিং, কাজ, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সামনে আনার দিন।

উৎস: United Nations General Assembly Resolution A/RES/65/189; United Nations International Widows’ Day।

বর্তমান গবেষণার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

১. প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বিধবা নারীর সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের অধিকার বাস্তবে কার্যকর করা।

২. পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

৩. পোশাক, খাবার, অলংকার ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নারীর নিজের হাতে রাখা।

৪. পুনর্বিবাহ করা, নতুন সম্পর্ক গড়া অথবা একা থাকার সিদ্ধান্তকে সমানভাবে সম্মান করা।

৫. শিশু-বৈধব্য প্রতিরোধে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং কিশোরীদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

৬. ধর্মীয় বা পারিবারিক আচার স্বেচ্ছামূলক কি না, তা নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক আচরণ প্রতিরোধ করা।

৭. আশ্রয়কেন্দ্রকে স্থায়ী নির্বাসন নয়, স্বাধীনতা ও অধিকার পুনরুদ্ধারের সহায়ক ব্যবস্থা করা।

৮. বিধবা ও single women-কে নিয়ে নীতি তৈরিতে তাঁদের নিজস্ব কণ্ঠ ও নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেলের গবেষণা-নোট

মূল লেখকের মানবিক আখ্যান, সামাজিক ক্ষোভ, বিদ্যাসাগর, খাদ্য ও পোশাকের বিধিনিষেধ এবং মহারাষ্ট্রের পরিবর্তনের উদ্যোগ সংরক্ষণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক ও ভারতীয় পরিসংখ্যান, COVID-19, বৃন্দাবন, ধর্মীয় পাঠের প্রেক্ষাপট, ১৮৫৬ সালের আইন, আধুনিক ভারতীয় succession law, International Widows’ Day এবং অধিকারভিত্তিক পদক্ষেপগুলো বর্তমান গবেষণার ভিত্তিতে সংশোধিত বা সংযোজিত। এই সংযোজনগুলো মূল লেখকের নামে নতুন নীতিগত দাবি হিসেবে নয়, সম্পাদকীয় গবেষণা-সংযোজন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

শেষ কথা

একজন নারীর স্বামী মারা গেলে তাঁর জীবনে গভীর শোক আসে। কিন্তু সেই মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর রং, খাবার, সম্পত্তি, উৎসব, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎও কেন মারা যাবে?

কেউ শোকের সময়ে সাদা পোশাক পরতে চাইলে পরবেন। কেউ রঙিন শাড়ি পরতে চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। কেউ পুনর্বিবাহ করবেন, কেউ করবেন না। কেউ ধর্মীয় আশ্রয়ে থাকবেন, কেউ নিজের বাড়িতে স্বাধীন জীবন গড়বেন। সিদ্ধান্তটি সমাজ, পরিবার বা মৃত স্বামীর আত্মীয়ের নয়। সিদ্ধান্তটি তাঁর।

বৈধব্য কোনো নারীর অপরাধ নয়, তাঁর চরিত্রের পরিচয় নয় এবং তাঁর জীবনের সমাপ্তিও নয়। অশুভ যদি কিছু থাকে, তবে তা হলো এমন একটি সামাজিক দৃষ্টি, যা একজন শোকাহত মানুষের জীবন থেকে মর্যাদা ও স্বাধীনতা কেড়ে নেয়।

লেখক, প্রকাশনা ও অধিকার-তথ্য

মূল লেখক: শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত

মূল শিরোনাম: বৈধব্য: বিষণ্ণ অশুভ, অকল্যাণকর এক অস্তিত্ব

মূল প্রকাশনা: দ্য ব্যাকস্পেস জার্নাল

প্রথম প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২২

Archive captures: ২৩ জুন ও ৫ আগস্ট ২০২২

মূল প্রকাশনার ঠিকানা: দ্য ব্যাকস্পেস জার্নালের মূল পৃষ্ঠা

বর্তমান সংস্করণ: মূল নিবন্ধের ভিত্তিতে গবেষণা-সমৃদ্ধ পুনর্গঠিত সংস্করণ

গবেষণা, তথ্য যাচাই ও পুনর্গঠন: অভিযাত্রী সম্পাদনা প্যানেল

বর্তমান প্রকাশনা ও কপিরাইট অধিকার: অভিযাত্রী

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

১. United Nations General Assembly. International Widows’ Day, Resolution A/RES/65/189. গৃহীত: ২১ ডিসেম্বর ২০১০। https://digitallibrary.un.org/record/699035UN Digital Library

২. United Nations. International Widows’ Day. বৈশ্বিক পরিস্থিতি, দারিদ্র্য, সম্পত্তি, সহিংসতা ও সামাজিক সুরক্ষা। https://www.un.org/en/observances/widows-dayমূল উৎস

৩. UN Women. Explainer: What You Should Know About Widowhood. ২১ জুন ২০২১। https://www.unwomen.org/en/news/stories/2021/6/explainer-what-you-should-know-about-widowhoodমূল প্রকাশনা

৪. House of Lords Library. International Widows’ Day. ১১ জুন ২০১৯; global estimate-এর source genealogy ও alternative estimate। https://researchbriefings.files.parliament.uk/documents/LLN-2019-0073/LLN-2019-0073.pdfপূর্ণ briefing

৫. Census of India. Census Data and Marital Status Tables. https://censusindia.gov.in/census.website/en/dataসরকারি উপাত্তভান্ডার

৬. Press Information Bureau, Government of India. A Ray of Hope for Widows. ৭ জুন ২০১৬; Census 2011-ভিত্তিক বিশ্লেষণ। https://pib.gov.in/newsite/printrelease.aspx?relid=146020সরকারি প্রকাশনা

৭. Government of Bangladesh, Ministry of Law. The Hindu Widow’s Re-marriage Act, 1856. Act No. XV of 1856। https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-9.html?hl=1সরকারি আইনভান্ডার

৮. India Code, Government of India. The Hindu Succession Act, 1956. Sections 8–10, 14 এবং Schedule। Official Act PDF

৯. Jha, Ganganatha, translator. Manusmriti with the Commentary of Medhatithi. ১৯২০; Discourse V, verses ১৫৬–১৬০। Editionভেদে verse numbering পরিবর্তনযোগ্য। অনলাইন edition index

১০. National Commission for Women, India. Study on Widows at Vrindavan. ২০০৯–১০। https://cdn.ncw.gov.in/wp-content/uploads/2025/01/WidowsAtVrindavanReport.pdfপূর্ণ প্রতিবেদন

১১. The Times of India. Maharashtra Village Bans Customs, Gives Widows a Second Shot at Life. ৯ মে ২০২২। https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolhapur/kolhapur-village-bans-regressive-widow-customs/articleshow/91426332.cmsস্বাধীন প্রতিবেদন

১২. Loksatta. Herwad Village Bans Regressive Widow Customs. ২০ মে ২০২২। https://www.loksatta.com/kolhapur/herwad-village-in-kolhapur-district-bans-regressive-widow-customs-zws-70-2935977/স্বাধীন প্রতিবেদন

১৩. Lok Sabha, Parliament of India. The Protection of Rights of Widows and Single Women and Abolishment of Widowhood Practices Bill, 2022. Private Member’s Bill No. 161 of 2022; as introduced। উত্থাপিত Bill-এর মূল পাঠ

১৪. Gangopadhyay, Sunil. সেই সময়; English translation: Those Days: A Novel. Penguin, ২০০০। https://books.google.com/books/about/Those_Days.html?id=65r0AwAAQBAJবইয়ের প্রকাশনা রেকর্ড

১৫. Hamilton-Mehta Productions. Water. Written and directed by Deepa Mehta, ২০০৫। http://www.hamiltonmehta.com/waterOfficial film page

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখজনক দুঃখজনক 0
চমৎকার চমৎকার 0
শ্রীমতী স্মৃতি দত্ত আমি স্মৃতি দত্ত। আদালতের পেশাগত জগৎ থেকে সাহিত্য ও সংগীতের সৃজনশীল পরিসর পর্যন্ত আমার পথচলা বিস্তৃত। পেশায় অ্যাডভোকেট হলেও লেখালেখিই আমার ভাবনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশের সবচেয়ে আপন মাধ্যম। ছোটগল্প, অণুগল্প, জীবনী, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ভ্রমণ নিয়ে লিখতে ভালোবাসি। কখনো একজন স্মরণীয় মানুষের জীবন আমাকে আকর্ষণ করে, কখনো একটি চলচ্চিত্র, আবার কখনো সংসারের খুব সাধারণ একটি সম্পর্কের মধ্যেই আমি গল্প খুঁজে পাই। আমি বঙ্গীয় সাহিত্যের সদস্য এবং কীবোর্ড বাজাতে ভালোবাসি। পাশাপাশি অ্যামওয়ে-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘কেমিস্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল ও টি.ভি শো’ এবং ‘লেনিন সাহেবের সাথে দেখা’। মানুষের জীবন, সময় ও স্মৃতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই।